স্থগিতাদেশ অমান্য ভূমি অফিসের
আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খতিয়ান জারি
ওয়ারিশকে না জানিয়ে ভূমি বিক্রি
আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার এলাকায় বিতর্কিত জায়গার অবৈধ নামজারি অভিযোগ উঠেছে। বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিএস খতিয়ান করেছেন বলে প্রত্যক্ষ প্রমাণ মিলেছে। এমন দাবি ক্ষতিগ্রস্ত মামলার বাদি আবদুল মোমেন গংদের। গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম আদালতের ১ম যুগ্ম জেলা জজ নামজারি মামলা নং ২৪৭২/২০২২ এর যাবতীয় কার্যক্রমে স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়ার পরও এমন ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে, ক্রেতা নগরীর পূর্ব মাদারবাড়ীস্থ মাঝিরঘাট সংলগ্ন কালাম টাওয়ারের মুহাম্মদ সাইফুল আলম। গত ১৭ আগস্ট বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি একটি বিএস খতিয়ান ইস্যু করেছেন। অভিযোগ উঠেছে সরকারী কমিশনার মোহাম্মদ আতিকুর রহমানকে মোটা অঙ্কে প্রভাবিত করেছেন স্বাথার্ন্বেষী মুহাম্মদ সাইফুল আলম।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, উক্ত ভূমির বিরোধ নিস্পত্তির জন্য চট্টগ্রাম আদালতের যুগ্ম জেলা জজ এর ১ম আদালতে অগ্র ক্রয়ের মিছ মামলা (নং—২৪২/২২) দায়ের করা হয় আবদুল মোমেন ও আবদুল মতিনের পক্ষ থেকে। আদালত গত ১৮ জুলাই এই মামলায় মুহাম্মদ সাইফুল আলম গংদের বিরুদ্ধে স্থিতাবস্থার আদেশ দিয়েছেন। স্থিতাবস্থার বিষয়টি সহকারী কমিশনারকে ২৭ জুলাই মামলার বাদী আবদুল মোমেন আবেদনের মাধ্যমে জানিয়েছেন। স্থগিতাদেশ জেনেও সহকারী কমিশনার নামজারী মামলা ২৪৭২/২০২২ এ খতিয়ান ইস্যু করেছেন গত ১৭ আগস্ট। এতে ভোগান্তীর মাত্রা বেড়ে গেল ক্ষতিগ্রস্থদের।
এ ব্যাপারে বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার(ভূমি) জামিউল হিকমা সময়ের কাগজকে বলেন, আমি যোগদানের পর এমন ঘটনা ঘটেনি। আদালতের স্থগিতাদেশ অমান্য করে এর আগে যদি কোন খতিয়ান সৃজন করা হয় তা অবৈধ হবে। খতিয়ান খারিজের আবেদন করা হলে তা আবার বাতিল হবে।
চট্টগ্রামের সদর সাব-রেজিষ্ট্রার দফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮মে এবং ১৯ মে’২০২২ বটতলী মৌজার ৬৬২/২ ও ৬৬২/৩ নং খতিয়ানের বিপরীতে দলিল নং-৭৯১১, ৭৯১২ ও ৭৯১৩ রেজিস্ট্রী হয়েছে। বন্টননামা ছাড়াই প্রায় ৯ গন্প ৩ কস্টক জমি মুহাম্মদ সাইফুল আলম গং, আজিজুল ইসলাম গং ও সাইদুল আলম চৌধুরী এই তিনটি দলিলে ভূমি রেজিস্ট্রি নিয়েছেন। এতে অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৩ ধারা অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে।

বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর দফতর সুত্রে জানা গেছে, উক্ত ভূমির নামজারি ও জমাভাগের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন ভূমি মালিকরা। সে অনুযায়ী ২৪৭১/২২,২৪৭২/২২ ও ২৪৭৩/২২ নামজারি মামলা দায়ের হয়। নিধার্রিত দিনগুলোতে দীর্ঘ শুনানী শেষে অত্র দফতরের নাজির প্রবাল দে ও সহাকারী কমিশনার মোহাম্মদ আতিকুর রহমান নামজারী মোকদ্দমা নিস্পত্তিতে গত ১৭ আগস্ট খতিয়ান নং— ২৩৫৬, ২৩৫৭ ও ২৩৫৮ সৃজন করেছেন।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আবদুল মোমেন সময়ের কাগজকে বলেন, আমি জাহানারা ম্যানসন, ৬৯ কেবি আব্দুল আজিজ সড়কের বেগম জাহানারা প্রকাশ মৃত জাহানারা বেগমের ভ্রাতুস্পুত্র। আমার ফুফুর কোন ছেলে না থাকার কারণে আমরাও ওই ভূমির ওয়ারিশ। ভূমির নামজারির আগেই চট্টগ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে স্থগিতাদেশ নেওয়া হলেও আইনের তোয়াক্কা করেননি সহকারী কমিশনার।
২৪ ঘণ্টা/জেআর


আপনার মতামত লিখুন