খুঁজুন
শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করল “আমরাই কিংবদন্তী ফাউন্ডেশন”

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
দুই হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করল “আমরাই কিংবদন্তী ফাউন্ডেশন”

এসএসসি ২০০০ ও এইচএসসি ২০০২ সালে উত্তীর্ণ সাবেক শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত “আমরাই কিংবদন্তী ফাউন্ডেশন” এর পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদ ঊল আজহা উদযাপন করতে গিয়ে শুক্রবার (৩০ জুন) ঈদের ২য় দিন সন্ধ্যায় ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির প্রয়াস থেকে নগরীর ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতাল, শ্যামলী ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এর রোগী ও স্বজনদের মাঝে প্রায় ৬০০ প্যাকেট খাবার বিতরণ করা হয়। খাবার হিসাবে গরুর গোশতের তেহেরী ও মোরগ পোলাও বিতরণ করা হয়।

এর আগে কোরবানী করতে না পারা ঢাকা এবং ঢাকার বাহিরের প্রায় ৫০টি পরিবারের জন্য ঈদ উপহার হিসাবে নগদ অর্থ প্রেরণ করা হয় ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে।

মূলত সাময়িক অসুবিধা গ্রস্থ ও অসহায়/ হঠাৎ করে বিপদের সম্মুখীন হয়ে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত মানুষের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্যই এই আয়োজন। খাবার বিতরণ কার্যক্রম আমরাই কিংবদন্তী ফাউন্ডেশন এর ধারাবাহিক কার্যক্রম, বিশেষ করে ঈদ উপলক্ষে বিতরণ কার্যক্রমটি বিগত ৪ বছর ধরে এবং ক্ষুদ্র প্রয়াসে পাশে আছি স্লোগানে প্রতি শুক্রবার করে খাবার বিতরণ কার্যক্রম বিগত ৩ বছর ধরে চলমান আছে।

২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতাল, শ্যামলী’তে খাবার বিতরণ কালীন “আমরাই কিংবদন্তী ফাউন্ডেশন” এর স্বেচ্ছাসেবী’রা ছাড়া ও হাসপাতাল এর সহকারী পরিচালক, ডাঃ আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

“মানবতার কল্যাণে কিংবদন্তী সবখানে” এই নীতিতে ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম চলমান আছে।

চলমান প্রোগ্রাম গুলো এসএসসি ২০০০ ও এইচএসসি ২০০২ ব্যাচের সদস্য বন্ধুসহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট শুভানুধ্যায়ীদের আর্থিক অনুদানে পরিচালিত হয়ে আসছে।

আমরাই কিংবদন্তী ফাউন্ডেশন আগেও সামাজিক দায়বদ্ধতা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছিল; তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে; বন্যায় ত্রান বিতরণ, কোভিড-১৯ কালীন বিনামূল্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ, দেশ জুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিতকরণ, ফ্রি হেলথ ক্যাম্প, অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ ও খাবার বিতরণ, বৃদ্ধাশ্রমে চিকিৎসা ও খাবার সরবরাহ এবং রক্তদান কর্মসূচীসহ বিবিধ কার্যক্রম।

এখানে উল্লেখ্য যে; “আমরাই কিংবদন্তী ফাউন্ডেশন” এসএসসি ২০০০ ও এইচএসসি ২০০২ সালের প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যৌথ মূলধনী কোম্পানী ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর হতে নিবন্ধিত হয়। এছাড়া ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ “এসএসসি ২০০০ ও এইচএসসি ২০০২ (আমরাই কিংবদন্তী)” ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে যাত্রা শুরু করে, যার বর্তমানে সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪৯০০০ হাজার।

Feb2

মুজাফরাবাদ: রক্তে লেখা ৩ মে, স্মৃতিতে অমর এক গণহত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
মুজাফরাবাদ: রক্তে লেখা ৩ মে, স্মৃতিতে অমর এক গণহত্যা

রাজীব সেন প্রিন্স : ১৯৭১ সালের ৩ মে। দিনটি ছিল সোমবার। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মুজাফরাবাদ গ্রামে নেমে এসেছিল ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় সকাল।

ভোরের আলো ফোটার আগেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, এদেশীয় দালালদের সহযোগিতায়, চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুরো গ্রাম। এরপর শুরু হয় নির্মমতা, যা আজও শিউরে ওঠার মতো।

অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, নির্যাতন-কোনো বর্বরতাই বাদ রাখেনি পাকিস্তানি সেনারা। দিনভর চলে হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন আর ধ্বংসের উন্মত্ততা। আলবদর-রাজাকারদের প্রত্যক্ষ মদদে গ্রামের নারী-পুরুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

পরে সাড়ে তিনশ’রও বেশি বাঙালি হিন্দুকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। শিশু, বৃদ্ধ, মা, মেয়ে-কেউ রেহাই পায়নি সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড থেকে।

এই গণহত্যায় নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত আড়াইশরও বেশি নাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও বড় ছিল সেই দিনের ক্ষত। অসংখ্য নারী নির্যাতন, লাঞ্ছনা ও ধর্ষণের শিকার হন।

লোকলজ্জা, সামাজিক অবহেলা আর মানসিক যন্ত্রণায় অনেকেই গ্রাম ছেড়ে চলে যান। কেউ আশ্রয় নেন ভারতে, কেউ বেছে নেন আত্মহননের পথ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে অন্তত তিনজন বীরাঙ্গনা নারীর কথা, যাঁদের মধ্যে দুজন পরবর্তীতে লোকচক্ষুর আড়ালে ভারতে চলে যান।

৩ মে’র সেই গণহত্যা শুধু শত শত প্রাণই কেড়ে নেয়নি; ধ্বংস করে দিয়েছিল একটি সমৃদ্ধ জনপদের স্বপ্ন, নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামো।

পরবর্তীতে স্থানীয় রাজাকার ও আলবদরদের নিয়মিত আক্রমণে মুজাফরাবাদ গ্রাম প্রায় সম্পূর্ণরূপে জনশূন্য হয়ে পড়ে।

প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ত্রিপুরায় আশ্রয় নেন। আবার অনেকে অস্ত্র হাতে যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধফেরত মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীরা ফিরে আসেন নিজেদের ভিটেমাটিতে। স্বজন হারানোর গভীর বেদনা বুকে নিয়েও তারা নতুন করে গড়ে তোলেন মুজাফরাবাদ।

ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শুরু হয় নতুন স্বপ্নের পথচলা। আর সেই পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে আছে ১৯৭১ সালের ৩ মে’র আত্মত্যাগ।

দীর্ঘদিন স্থানীয়দের দাবির পর মুজাফরাবাদে নির্মিত হয়েছে শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ। প্রতি বছর এখানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, স্মরণসভা ও নানা আয়োজনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তবুও গ্রামজুড়ে আজও যেন বিরাজ করে এক নিঃশব্দ শোক, এক অমলিন বেদনা।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাহী সংগঠন মুজাফরাবাদ সমন্বয় ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে এই গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

তাদের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও আগামীকাল রবিবার (৩রা মে) মুজাফরাবাদ কেন্দ্রীয় শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ প্রাঙ্গণে পটিয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পালিত হবে মুজাফরাবাদ গণহত্যা দিবস ২০২৬।

অনুষ্ঠানসূচিতে রয়েছে শহীদদের স্মরণে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার, স্মৃতি সৌধে পুষ্প শ্রদ্ধাঞ্জলি, স্মরণসভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটিয়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ এনামুল হক এনাম। সম্মানিত অতিথি থাকবেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, ১৭ নং খরনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মফজল আহমদ চৌধুরী, পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা নেতৃবৃন্দ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়ের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সমন্বয় সভাপতি ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব সেন এবং সমন্বয় সাধারণ সম্পাদক কাজল কর।

স্মরণসভার সঞ্চালনা করবেন সমন্বয়ের অর্থ সম্পাদক রাজীব সেন এবং শিক্ষক সুমন চক্রবর্তী।

৩রা মে গণহত্যা দিবস উদযাপন পরিষদ ২০২৬-এর আহ্বায়ক বাবু প্রদীপ কর, সদস্য সচিব বাবু দেবাশীষ দে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু নিউটন বিশ্বাস সংগঠনের সদস্য, এলাকাবাসী ও সর্বস্তরের জনসাধারণকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মুজাফরাবাদ শুধু একটি গ্রামের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক রক্তাক্ত স্মারক।

৩ মে আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে কত অগণিত প্রাণ, কত অশ্রু আর কত ত্যাগ জড়িয়ে আছে। শহীদদের এই আত্মদান আমাদের চিরকাল প্রেরণা জোগাবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি দেবে।

ঈদে বাসে বাড়তি ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: মালিক সমিতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
ঈদে বাসে বাড়তি ভাড়া নিলেই ব্যবস্থা: মালিক সমিতি

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি (বিএসপিএমএস)।

কোনো অবস্থাতেই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি আদায় করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২ মে) রাজধানীর রমনার ইউনিক হাইটসে সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহাম্মদ। সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলমের সঞ্চালনায় সভায় কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরশেদুল আলম কাদেরী এবং অতিরিক্ত মহাসচিব এ এস এম আহমেদ খোকনসহ ৭৯ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সব জেলা শাখা ও ইউনিটগুলোতে সরকার নির্ধারিত বাসভাড়া মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না।

গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যানে প্রিজাম্পটিভ আয়কর (এআইটি) দ্বিগুণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মালিকরা। একই সঙ্গে টায়ার-টিউবসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান। বর্ধিত আয়কর প্রত্যাহার এবং যন্ত্রাংশের দাম কমানোর বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমিতি।

পরিবহন মালিকদের এই সভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাস মালিক সমিতির নেতারা জানান, শনিবারের সভায় সারা দেশে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাঙ্কলরি চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি উপ-কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কমিটি যানজট ও দুর্ঘটনা নিরসনসহ পরিবহন খাতের সমস্যাগুলো কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে সমাধানে কাজ করবে। সমিতিকে আরও শক্তিশালী করতে সব বৈধ সংগঠনকে এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে সভার মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো নিরসনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নবদিগন্তের সূচনা, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
নবদিগন্তের সূচনা, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আর পাঁচটা দিনের থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের আজকের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সুনসান স্টেডিয়াম যেন হঠাৎই জেগে উঠেছে। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠে খুদে ক্রীড়াবিদদের চমকপ্রদ ক্রীড়া প্রদর্শনী; নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক পাহারা আর সংবাদকর্মীদের অবিরাম ব্যস্ততা। সব আয়োজন এক উপলক্ষ্য ঘিরে—নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা।

আজ বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।

শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।

আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি–কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে এসেছেন তারা।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।

আজ সিলেটে গণমাধ্যমকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যেমনটা বলছিলেন, নির্বাচনের আগেই ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল স্পোর্টস। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সরকার ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।

উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বললেন, ‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাহিরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।”

প্রসঙ্গত, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।

পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।

ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।

রেজিস্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-২৬ এপ্রিল ডেডলাইন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আট ইভেন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন, মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। সেখানে ৭ হাজার ৯৬৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।