খুঁজুন
, ,

মির্জা ফখরুলরা যে উন্নয়ন-অগ্রগতির বিরোধী সেটির প্রমাণ ব্রিকসে যোগদানে বিরোধীতা : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 July, 2023, 3:33 pm
মির্জা ফখরুলরা যে উন্নয়ন-অগ্রগতির বিরোধী সেটির প্রমাণ ব্রিকসে যোগদানে বিরোধীতা : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা যে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির বিরোধী সেটির প্রমাণ হচ্ছে অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে যোগদানের বিরোধিতা করে তিনি সুবিধাবাদী পদক্ষেপ বলেছেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।

তিনি বলেন, গতকাল একটি জনপ্রিয় টেলিভিশনে মির্জা ফখরুল সাহেবের একটি সাক্ষাৎকার আমি শুনছিলাম। তিনি সেখানে বলেছেন তারা ভিন্ন মাত্রার আন্দোলন শুরু করেছেন এবং গত এক বছর ধরে তারা কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নন। এটি ওনার মুখের কথা এবং রেকর্ডেড। তার মানে হচ্ছে, আগে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন – এটি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন তার বক্তব্যের মাধ্যমেই।

শনিবার (১ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজী পুকুর লেনস্থ বাসভবনে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়শেষে একটি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল গত একবছর ধরে তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে যোগদান আমাদের জন্য শুভকর নয় এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ব্রিকস হচ্ছে পৃথিবীর উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর একটি জোট। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, সাউথ আফ্রিকা আছে এই জোটে। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো পৃথিবীর উদীয়মান অর্থনীতির শক্তি। সেই শক্তিকে সবাই সমীহ করে। বাংলাদেশ যোগ দেয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে তা নয়, বাংলাদেশ যেহেতু উদীয়মান অর্থনীতির দেশ, এজন্য তারা বাংলাদেশকে ব্রিকসে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে। এটি বাংলাদেশের জন্য মর্যাদার ও সম্মানের। এটির মাধ্যমে ব্রিকসও স্বীকার করে নিয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উদীয়মান অর্থনীতির দেশ। সেখানে যোগ দিলে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সুবিধা হবে।

তিনি বলেন, একবছর ধরে বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নয় বলে মির্জা ফখরুল যে কথা বলেছেন সেটিও সঠিক নয়। আপনারা দেখেছেন গত কয়েক মাসের মধ্যে তারা বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, গাড়ি-ঘোড়া ভাঙচুর করেছে, ঢাকায় দোতলা বাসে আগুন দিয়েছে, চট্টগ্রামের জামালখানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালসহ ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্তদের ছবি ভাংচুর করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব যতই বলুক না কেন, ওনারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই আছেন। তবে উনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বীকার করে নিয়েছেন ওনারা আগে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্যেই ছিলেন।
আগামী নির্বাচন কোন্ পদ্ধতিতে হবে এবং নির্বাচন নিয়ে চীন, ভারত ও আমেরিকার সক্রিয়তা বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হয় না। বিএনপি যখন সরকারে ছিল তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সরকারের অধীনেই করেছিল। এখানেই বিএনপি গুলিয়ে ফেলেছে। সরকার যেটি দায়িত্বে থাকবে তারা শুধু নির্বাচন কমিশনকে ফ্যাসিলেট করবে। বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা যতই দাবি দিক না কেন, সংবিধানের এক চুলও ব্যত্যয় হবে না। এই দাবি তারা ২০১৪ সালের নির্বাচন থেকে দিয়ে আসছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তারা একই দাবি করেছিল।

তিনি বলেন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জাপানসহ পৃথিবীর অন্যান্য সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় ঠিক সেভাবেই আমাদের দেশে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। সেখানে যেভাবে চলতি সরকার দায়িত্ব পালন করে ঠিক একইভাবে আমাদের দেশেও বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে এবং তখন সরকারের শুধু রুটিন কাজ থাকে। নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তর-অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোর বদলি থেকে শুরু করে সবকিছুই নির্বাচন কমিশনের হাতে ন্যস্ত থাকে।

এবার অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে, ঈদযাত্রাও নির্ঝঞ্জাট ছিল উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, গতবারের চেয়ে এবার প্রায় ১ লাখ বেশি গবাদিপশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। এ বছর মোট ১ কোটি ৪১ হাজার ৮১২টি গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। গবাদিপশুর সংখ্যা গতবছর ছিল ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩ টি। আর এবছর কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার। সবমিলিয়ে এবছর অত্যন্ত ভালো ঈদ উদযাপিত হয়েছে, বিশেষ করে শেষের দিকে গবাদিপশুর দামও কম ছিল।

তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে আমাদের সরকার নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রেক্ষিতে এভাবে মানুষের পক্ষে ঈদ উদযাপন করা সম্ভবপর হয়েছে। আজকে দেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে সেটির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে মানুষের কোরবানি করার সামর্থ্য বেড়েছে। সেই কারণে গত বছরের তুলনায় বেশি কোরবানি হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবরা গত তিনদিন ধরে গলা ফাটিয়ে ফেলছে দেশের মানুষ এবার কষ্টে আছে। দেশের মানুষ যদি কষ্টে থাকে তাহলে গতবারের চেয়ে ১ লাখ বেশি গবাদি পশু কোরবানি হলো কিভাবে – প্রশ্ন রাখেন তথ্যমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে একটি পক্ষ আছে রাত বারোটার পরে টেলিভিশনের পর্দা গরম করে। অবশ্য, তাদের মধ্যে সবাই নয়, বিএনপি এবং তার মিত্ররা দেশে কোন উন্নয়ন দেখতে পায় না। তারা দোতারাও নয়, একতারার সুরে সবসময় বলে বেড়াচ্ছে দেশের মানুষ ভালো নাই। আসলে উনারা ভালো নাই, কিন্তু দেশের মানুষ ভালো আছে।

চীন ইউএস ও ভারতের যে সক্রিয়তা আমরা দেখছি এবিষয়টি আপনারা কিভাবে দেখছেন – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেখুন যে সমস্ত দেশ ভূ-রাজনীতির সাথে যুক্ত তারা কি করছে সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়, সেটি আমাদের জিজ্ঞাসাও নয়। নির্বাচন আমাদের দেশে হবে, আমাদের ভোটাররা নির্বাচনের সময় কাকে ভোট দিবে সেটি তারাই ঠিক করবে। সুতরাং তারা কি করছে সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তাও নেই মাথা-ব্যাথা নেই।

এসময় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ এমপি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:35 pm
বন্যা-পাহাড়ধসে কক্সবাজারে ২৬ প্রাণহানি, দুর্বিষহ লাখো মানুষের জীবন

টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে গত ৭ দিন ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা কক্সবাজারের প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ। গত রোববার (৫ জুলাই) থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত এ জেলায় পানিতে ডুবে এবং পাহাড়ধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সর্বশেষ শুক্রবার দুপুরে, চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নে বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পথে নৌকাডুবিতে রসুলাবাদ এলাকার আবদুল মালেকের মেয়ে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণার (১২) মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঝর্ণার দুই বোনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে মাইজ কাকারা এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারায় স্থানীয় সোলতান আহমদের ২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ওয়াকিম।

একই দিন সকালে বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে চকরিয়া থেকে বিভক্ত হয় নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের চরপাড়া এলাকার আরিফুল ইসলামের ছেলে পুষ্পর (৩) এর মৃত্যু হয়। এছাড়া একইদিন ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি চাপা পড়ে মারা যায় একটি পরিবারের দুই শিশু। কক্সবাজার সদর উপজেলা, পেকুয়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫ জন রোহিঙ্গাসহ আরও ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় ১০টি উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের অন্তত ১৫০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া ও ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান শহর থেকে পানি নামতে শুরু করায় মাতামুহুরি নদীর পানিও বেড়েছে। তাই চকরিয়া ও পেকুয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার (মাতামুহুরীর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বলেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে এক লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া দুর্গতদের শুকনো খাবারসহ জরুরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত এবং পানি দ্রুত নামাতে স্লুইস গেটগুলো সচল রাখতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে বলে জানান তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, সরকারি হিসেবে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন যার মধ্যে ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে ১৪ হাজার ৬১ জন।

এছাড়া তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০০ টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার নগদ টাকা। ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করেছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবদুল হান্নান বলেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত জেলায় গত ৬ দিনে ৭শ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি এবং নতুন করে পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে সমুদ্রবন্দর ও উপকূলীয় এলাকার জন্য স্থানীয় সতর্ক সংকেত নম্বর ৩ বহাল রয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান।

ধসে পড়েছে সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 12:09 pm
ধসে পড়েছে সেতু, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বান্দরবান সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকায় টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যার পানির প্রবল স্রোতে একটি সেতু ধসে পড়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে পানির তীব্র স্রোতের মুখে দুধপুকুরিয়া-পদুয়া এলাকার সেতুটি ধসে পড়ে। ফলে সড়কটিতে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দুই পাশের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু ধসে পড়ায় কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা ও নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

খবর পেয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 11 July, 2026, 6:47 am
৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।