খুঁজুন
শুক্রবার, ৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে ট্রেনে নিরাপত্তাকর্মীর গুলিতে পুলিশসহ নিহত ৪

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ জুলাই, ২০২৩, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ভারতে ট্রেনে নিরাপত্তাকর্মীর গুলিতে পুলিশসহ নিহত ৪

ভারতে ট্রেনে নিরাপত্তাকর্মীর গুলিতে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন সাধারণ যাত্রী এবং অন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তা। অন্যদিকে অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মী ভারতের রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা আরপিএফ-এর কনস্টেবল।

সোমবার (৩১ জুলাই) সকালে জয়পুর থেকে মুম্বাইগামী এক্সপ্রেস ট্রেনে এই ঘটনা ঘটে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে মহারাষ্ট্রের পালঘর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ট্রেনে চারজনকে গুলি করে হত্যা করেছে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএএফ) একজন সদস্য। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক বলে জানানো হয়েছে।

রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের বরাত দিয়ে ভারতীয বার্তাসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, ‘জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেনের (১২৯৫৬) ভেতরে গুলি চালানোর ঘটনায় এক এএসআই-সহ চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাটি ডিসিপি উত্তর জিআরপিকে জানানো হয়েছে।’

এনডিটিভি বলছে, অভিযুক্ত ওই আরপিএফ কনস্টেবলের নাম চেতন কুমার চৌধুরী। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে নিজের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে গুলি চালিয়ে তার এক আরপিএফ সহকর্মী এসকর্ট ডিউটি ​​ইনচার্জ এএসআই টিকা রাম মীনা এবং ট্রেনের অন্য তিন যাত্রীকে হত্যা করেন তিনি। ট্রেনটি জয়পুর থেকে মুম্বাইয়ে যাচ্ছিল। অভিযুক্তকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আরেক সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, তার সিনিয়রকে হত্যা করার পর অভিযুক্ত ওই কনস্টেবল অন্য একটি বগিতে গিয়ে তিন যাত্রীকে গুলি করে হত্যা করে। সোমবার ভোর ৫টার দিকে দহিসার এবং মীরা রোড স্টেশনের মধ্যবর্তী জায়গায় চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে।

ভারতের পশ্চিম রেলওয়ে জানিয়েছে, পালঘর স্টেশন অতিক্রম করার পরে আরপিএফ কনস্টেবল চেতন কুমার চৌধুরী চলন্ত জয়পুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ভেতরে গুলি চালায় এবং চারজনকে হত্যা করার পর দহিসার স্টেশনের কাছে ট্রেন থেকে লাফ দেয়। তবে সরকারি রেল পুলিশ ও আরপিএফ কর্মকর্তাদের সহায়তায় মীরা রোডে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এএনআই’র এক টুইটে দেখা যাচ্ছে, ট্রেনটি মুম্বাই সেন্ট্রাল স্টেশনে এসে পৌঁছেছে এবং ট্রেনটির বগির গায়ে, জানলার কাচে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে, ঠিক কী কারণে এই কাণ্ড ঘটালেন ওই আরপিএফ জওয়ান, তা এখনও জানা যায়নি।

Feb2

শাক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ মেয়ে রেশমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
শাক বিক্রেতার গুলিবিদ্ধ মেয়ে রেশমাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটলেন মানবিক ডিসি জাহিদ

আইসিইউর দরজার সামনে তখন নীরব আতঙ্ক। ভেতরে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ১২ বছরের এক শিশু। চোখের নিচ দিয়ে ঢুকে যাওয়া গুলি তার মস্তিষ্কের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পাশে কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবার। হাসপাতালের করিডোরজুড়ে উৎকণ্ঠা আর অসহায় অপেক্ষা।

ঠিক এমন সময় সেখানে উপস্থিত হন সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, কোনো প্রটোকল নয়—একজন প্রশাসক নয়, যেন একজন অভিভাবক হিসেবেই তিনি ছুটে যান গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমা আক্তারের শয্যার পাশে।

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন রৌফাবাদ শহীদ মিনার গলি এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার
রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে ৫ থেকে ৬ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী যুবক হাসান ওরফে রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে হাসান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আর সেই গোলাগুলির শিকার হয় পথচারী নিরীহ শিশু রেশমা আক্তার। পরিবারের জন্য পান আনতে বাসা থেকে বের হয়েছিল সে।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে আজ শুক্রবার (৮ মে) হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক। আইসিইউতে থাকা শিশুটির শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। নিজে হাতে রেশমার সিটি স্ক্যান রিপোর্টও দেখেন।

চিকিৎসকেরা তাকে জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। গুলিটি চোখের ভেতর দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কে মারাত্মক ক্ষতি করেছে। কথাগুলো শুনে দৃশ্যত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জেলা প্রশাসক।

হাসপাতালে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রেশমার মায়ের কান্না শুনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন জেলা প্রশাসক। পরে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি জানতে পেরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

তবে সেখানে গিয়ে শুধু সহানুভূতি প্রকাশ করেই থেমে থাকেননি তিনি। চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, শিশুটির চিকিৎসায় যেন কোনো ধরনের অবহেলা না হয়। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, “একজন নিরীহ শিশুর এভাবে সন্ত্রাসের শিকার হওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। এই ঘটনা মানবিকভাবে আমাদের সবাইকে নাড়া দিয়েছে। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমি নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। এটি অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির একটি ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।”

চট্টগ্রামে সন্ত্রাস ও অস্ত্রধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি বলেন,“যেভাবে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধীদের বিতাড়িত করে একসময়কার অপরাধের অভয়ারণ্যকে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, ঠিক একইভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রেশমার পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, শিশুটির বাবা মোঃ রিয়াজ আহমেদ একজন প্রতিবন্ধী ও অত্যন্ত অসহায় মানুষ। পান বিক্রি করে তিনি পাঁচ সন্তানের সংসার চালান। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু রেশমার জন্য জেলা প্রশাসকের ব্যস্ততা সেখানেই শেষ হয়নি। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি জানামাত্র জেলা প্রশাসক নিজেই ফোন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীনকে।

তিনি অনুরোধ জানান, শিশুটিকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করে জরুরি অপারেশনের ব্যবস্থা করতে।

একই সঙ্গে রেশমার ভাই মো. এজাজ হোসেনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সে থাকায় ফোন রিসিভ করতে না পারলেও পরে জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার তাকে ফোন করে জানান, ডিসি ইতিমধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং রেশমার চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, “জেলা প্রশাসক নিজেও হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য। তিনি বিভিন্ন সময় দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য ফোন করে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসার অনুরোধ করেন। আজও রেশমার সুচিকিৎসার জন্য ফোন করেছেন। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শিশুটির চিকিৎসা করব।”

রেশমার ভাই মো. এজাজ হোসেন বলেন, “একজন জেলা প্রশাসক ছুটির দিনেও আমাদের মতো সাধারণ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরাসরি হাসপাতালে এসেছেন। শুধু আর্থিক সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি, পরে আবার ফোন করে চিকিৎসার খোঁজ নিয়েছেন। তিনি সত্যিই একজন মানবিক জেলা প্রশাসক।”

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় জেলা প্রশাসকের পদ সাধারণত ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবেই বেশি পরিচিত। তবে চট্টগ্রামের এই ঘটনায় উঠে এসেছে ভিন্ন এক চিত্র—একজন প্রশাসক, যিনি আহত এক শিশুর শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে শুধু দায়িত্বই পালন করেননি, মানবিকতারও পরিচয় দিয়েছেন।

রক্তাক্ত রেশমার হাসপাতালের বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে হয়তো তিনি একটি শিশুর জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। কিন্তু অন্তত এই বার্তাটি তিনি দিয়েছেন—রাষ্ট্রের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।

শান্তর রেকর্ড সেঞ্চুরি ও মুমিনুলের আক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
শান্তর রেকর্ড সেঞ্চুরি ও মুমিনুলের আক্ষেপ

মিরপুরে দিনের শুরুতে পাকিস্তানি বোলারদের দাপটে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চাপের মুখে দলের কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের বোলারদের শাসন করে তুলে নেন রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখেছে মিরপুর। মুমিনুল হকের মৌন হাহাকারে ছেয়ে গেছে ভক্তদের মন। ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

শান্তর রেকর্ডের উল্লাস, মুমিনুলের নার্ভাস নাইনটিজের আক্ষেপ এবং মুশফিকুর রহিমের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের নামে লিখেছে টাইগাররা। দিনশেষে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলেছে বাংলাদেশ দল।

শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ। ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ১৯ বলে মাত্র ৮ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। তাকে আউট করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পাকিস্তানি বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।

কিছুক্ষণ পরে আউট হন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামও। হাসান আলীর করা বলে সালমান আলী আঘার হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৩০ বলে ১৩ রান।

মাত্র ৩১ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে খানিকটা চাপেই পড়ে বাংলাদেশ। এমতাবস্থায় সামনে থেকে লিড দিতে থাকেন দলনেতা নাজমুল হাসান শান্ত। আর তার সঙ্গে আপনতালে খেলতে থাকেন মুমিনুল হকও। পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করে যাওয়া এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ১৭০ রানের জুটি।

মাত্র ১২৯ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। সর্বশেষ ৮ ইনিংসে তার শতকের সংখ্যা ৪, অর্থাৎ সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতেই তিনি ছুঁয়েছেন ম্যাজিক ফিগার। আবার অধিনায়ক হিসেবেও এটি ছিল শান্তর পঞ্চম সেঞ্চুরি। তাতেই লেখেন ইতিহাস। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন হিসেবে মাত্র ১৭ ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি শতকের মালিক এখন শান্ত। ৩৪ ম্যাচে চার সেঞ্চুরিতে পেছনে পড়ে যান মুশফিক।

অবশ্য সেঞ্চুরি পূরণের পর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি শান্ত। আউট হওয়ার আগে করেন ১০১ রান। ১৩০ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১২টি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।

এদিকে চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৭৫ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল হক। ফিফটি পূরণের পর সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি। কিন্তু নার্ভাস নাইনটিজে থামেন মুমিনুল। নোমান আলী করা বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ৯১ রানে থামে তার ইনিংস। অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি। তাতে কোনো লাভ হয়নি। ২০০ বলে খেলা মুমিনুলের এই ইনিংসটি ১০টি চারে সাজানো।

এরপর লিটন কুমার দাসকে নিয়ে দিনের শেষ পর্যন্ত খেলে যান মুশফিকুর রহিম। ১০৪ বলে ছয়টি চারে ৪৮ রান করে অপরাজিত আছেন তিনি। আর ৩৫ বল খেলে ৮ রান করে প্রথম দিন শেষ করেছেন লিটন।

পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলী, নোমান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাস।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, শপথ নেবেন কাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, শপথ নেবেন কাল

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। কাল শনিবার (৯ মে) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন।

নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে আজ শুক্রবার কলকাতায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দলের বৈঠক হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করেন বিজেপির সাবেক রাজ্য প্রধান দিলীপ ঘোষ। এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তাকে বৈঠকের প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখা হয়। আর উপ-পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চড়ন মাঝি।

শুভেন্দুকে সংসদীয় দলের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা ব্যানার্জির ১৫ বছরের শাসনামলের সমাপ্তি ঘটেছে।

গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোটগ্রহণ হয়। এরপর ৪ মে ভোটগণনা হয়। এতে সেখানকার ২৯৪টি আসনের মধ্যে একক দল হিসেবে ২০৭টি আসনে জয় পায় বিজেপি।

শুভেন্দু অধিকারী নিজে এক সময় মমতার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতি করতেন এবং ওই দলের মন্ত্রীও ছিলেন। এছাড়া মমতার সঙ্গে তার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে তিনি তৃণমূল ছেড়ে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিতে যোগ দেন।

তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জিকে নন্দিগ্রাম আসন থেকে হারান। আর এবার হারিয়েছেন ভবানিপুর থেকে। সেখানে মমতার চেয়ে ১৫ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। এই ভবানিপুর মমতার দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল।

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও নিয়োগ দেবে। গত দুই দশকে সেখানে কাউকে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।