খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে চুলায় থাকছে না গ্যাস, লোডশেডিংয়েও নাকাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 24 October, 2023, 9:45 am
চট্টগ্রামে চুলায় থাকছে না গ্যাস, লোডশেডিংয়েও নাকাল

গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে উভয় সংকটে চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। সময়ে সময়ে চুলায় থাকছে না গ্যাস। এতে বাসাবাড়িতে রান্নায় পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়েও নাকাল নাগরিকরা। ২৪ ঘণ্টাই ঘন ঘন যাওয়া-আসা করছে বিদ্যুৎ।

যোগাযোগ করলে গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা বলছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আবার ফার্নেস অয়েলনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও কমে গেছে উৎপাদন। তবে চাহিদা দিয়েও ফার্নেস অয়েল নিচ্ছে না পিডিবি- এমন অভিযোগ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)।

লোডশেডিংয়ের মতো বিদ্যুতের উৎপাদন সরবরাহের তথ্য নিয়েও ইঁদুর-বিড়াল খেলছেন পিডিবির কর্মকর্তারা। চট্টগ্রামে এ বিষয়ে কথা হলে পিডিবি দক্ষিণাঞ্চল বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল সোমবার (২৩ অক্টোবর) বলেন, ‘সারাদেশে কেন্দ্রীয়ভাবে বিদ্যুতের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নির্ধারণ করা লোড অনুযায়ী দেশের প্রত্যেকটি এরিয়া বিদ্যুৎ পায়। শুধু ন্যাশনাল গ্রিড থেকে কম পাওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই চট্টগ্রামে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে ৭০-৮০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, গ্যাসের সংকট রয়েছে। এ কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন কিছুটা কম। গত দু-তিন দিন ধরে লোডশেডিং হচ্ছে।

তবে লোডশেডিংয়ের বিষয়টি মানতে নারাজ পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) এস এম ওয়াজেদ আলী সরদার। তিনি বলেন, ‘দেশের কোথাও লোডশেডিং হচ্ছে না।’

তবে চট্টগ্রামের কর্মকর্তাদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বড় এলাকা। এখানে বিদ্যুতের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে আমাদের নোটিশে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা চট্টগ্রামে লোড বাড়িয়ে দিচ্ছি।’

বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের কিছুটা সংকট রয়েছে। যে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছুটা প্রভাব পড়ছে। তারপরেও অন্য বিকল্প জ্বালানির সোর্স থেকে নিয়ে আমরা সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রেখেছি।’

আগ্রাবাদের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম টিটু বলেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে আমাদের বাসায় গ্যাস ছিল না। দুপুরের পরেও ছিল না। বিকেলে এসেছে। রাইস কুকারে রান্না করে খেতে হয়েছে।

বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারা শিরীন বলেন, দিনে কয়েকবার করে বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা করে। মাসের পর মাস এমন হচ্ছে। রোববার সন্ধ্যায় এক ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না। কাউকে অভিযোগ করেও কাজ হয় না।

পিডিবির তথ্যমতে, আমদানি করা ভারতীয় তিনটিসহ দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে ২৪ হাজার ৫৯৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কথা রয়েছে। সবশেষ গত ২২ অক্টোবর সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি ১৫৯ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পিক আওয়ারে ১১ হাজার ২৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

এর বাইরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে ভারতের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আমদানি করা ১৬৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ত্রিপুরা থেকে ১১৬ মেগাওয়াট, ভেড়ামারা এইচভিডিসি (হাই ভোল্টেজ ডাইরেক্ট কারেন্ট) দিয়ে ৮৫১ মেগাওয়াট এবং ঝাড়কান্দ আদানি পাওয়ার থেকে ৭১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হয়েছে দেশের জাতীয় গ্রিডে।

গত ২১ অক্টোবর সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি ১৫৯ বিদ্যুৎকেন্দ্রে পিক আওয়ারে ১১ হাজার ৭৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এর বাইরে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয় ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৭৮ মেগাওয়াট।

তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর চট্টগ্রামের ৩ হাজার ১৫৭ মেগাওয়াট সক্ষমতার ২২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে পিক আওয়ারে ১৫শ ৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছে। ওইদিন এস আলম গ্রুপের এস এস পাওয়ার থেকে যুক্ত হয়েছে ৪শ মেগাওয়াট। ২১ অক্টোবর চট্টগ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদিত হয় ১৬শ ৪৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এর মধ্যে এস এস পাওয়ার থেকে যুক্ত হয় ৬২০ মেগাওয়াট।

চট্টগ্রামের ২২টি প্ল্যান্টের মধ্যে এই দুদিন ফার্নেস অয়েল সংকটের কারণে ১৩টিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হয়েছে। এর মধ্যে ২২ অক্টোবর ফার্নেস অয়েল সংকটে শিকলবাহা ১০৫ মেগাওয়াট বারাকা পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৭ মেগাওয়াট, হাটহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টে ৫৮ মেগাওয়াট, দোহাজারী কালিয়াইশ ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টে ২৯ মেগাওয়াট, জুলধা একর্ন পাওয়ারের ১০০ মেগাওয়াটের তিনটি প্ল্যান্টে ১২ মেগাওয়াট করে, ১১০ মেগাওয়াট কর্ণফুলী পাওয়ার প্ল্যান্টে ১৬ মেগাওয়াট, ১১৬ মেগাওয়াটের আনলিমা এনার্জিতে ৪৭ মেগাওয়াট এবং মীরসরাই ১৬৩ মেগাওয়াটের প্ল্যান্টে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

তাছাড়া গ্যাস সংকটে বন্ধ রয়েছে ৪২০ মেগাওয়াট রাউজান বিদ্যুৎকেন্দ্র। বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতায় চট্টগ্রামের শিকলবাহা ১৫০ মেগাওয়াট ডুয়েল ফুয়েল পাওয়ার প্ল্যান্টও বন্ধ। তবে চালু রয়েছে গ্যাসনির্ভর ২২৫ মেগাওয়াট শিকলবাহা রিসাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্ট।

এদিকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বলছে, চাহিদা দিয়েও ফার্নেস অয়েল নিচ্ছে না পিডিবি। বিপিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘অক্টোবর মাসের জন্য পিডিবির পক্ষ থেকে এক লাখ ৩৯ হাজার ৪৫০ টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেওয়া হয়। পিডিবির চাহিদা পূরণের জন্য ডলার সংকটের মধ্যেও ফার্নেস অয়েল সংগ্রহে রেখেছে বিপিসি। কিন্তু ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা থেকে মাত্র ৬২ হাজার ৫শ টন ফার্নেস অয়েল নিয়েছে পিডিবি।

ফার্নেস অয়েল সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হলেও বিষয়টি মানতে চাননি পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) এস এম ওয়াজেদ আলী সরদার। তিনি বলেন, ‘আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করছি। এক সোর্সে উৎপাদন কম হলে অন্য সোর্স থেকে নিয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক রেখেছি।’

তবে চাহিদা দিয়েও বিপিসি থেকে ফার্নেস অয়েল সরবরাহ না নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

অন্যদিকে গ্যাসের অভাবেও নাকাল হতে হচ্ছে চট্টগ্রামের লোকজনদের। লাইনের গ্যাস না থাকলেও সিলিন্ডারের এলপি গ্যাস দিয়ে অনেক মানুষ রান্নাবান্নার কাজ সারছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন কমে গেছে। বছরের ব্যবধানে প্রায় দুই থেকে তিনশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন কমে যাওয়ার তথ্য দিয়েছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, গত ২২ অক্টোবর ২ হাজার ৬৯২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করেছে পেট্রোবাংলা। এরমধ্যে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২ হাজার ৯১ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৬০১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পায় পেট্রোবাংলা। চট্টগ্রামের জন্য কর্ণফুলী গ্যাসকে দেওয়া হয় ২৭৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বর্তমানে দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে ২ হাজার ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) বলছে, বর্তমানে সারাদেশে গ্যাসের চাহিদা৪ হাজার ২শ মিলিয়ন ঘনফুট।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেজিডিসিএলে ৬ লাখ ২ হাজার ৩৮৫ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, চারটি সার কারখানা, ১ হাজার ১৮৭টি শিল্প সংযোগ, ২০৫টি ক্যাপটিভ পাওয়ার, ২ হাজার ৯১১টি বাণিজ্যিক সংযোগ, দুটি চা-বাগান, ৭০টি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন এবং গৃহস্থালি সংযোগ রয়েছে ৫ লাখ ৯৮ হাজার একটি। বর্তমানে ৬০ হাজার গ্রাহক প্রিপেইড সুবিধার আওতায় রয়েছেন। বর্তমানে আরও এক লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের প্রকল্প চলমান। এরপর আরও চার লাখ ৩৮ হাজার একজন আবাসিক গ্রাহক প্রিপেইড মিটারের বাইরে রয়েছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস) প্রকৌশলী মো. শফিউল আজম খান বলেন, ‘এখন গ্যাসের সংকট রয়েছে। আমাদের ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস হলে সবগুলো সমন্বয় করে চালিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু এখন চাহিদা মোতাবেক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। এখন সার কারখানা দুটিতে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা কমানো হয়েছে।

গৃহস্থালি গ্রাহকদের গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গ্যাসের চাপ কমে গেলে এমনিতেই আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস কম পান। চাপ বাড়লে স্বাভাবিক হয়ে যায়।’

Feb2
Feb2

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 2:51 pm
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান মেয়র ডা. শাহাদাতের

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, নগরীকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হলে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মশার বংশবিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোড়ের শান্তিনগর এলাকায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামে ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পানির পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ারসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।

তিনি বলেন, মশক নিধন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি। শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে উদ্যোগী হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

মেয়র বলেন, নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব কার্যক্রমের সুফল পেতে হলে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাকলিয়ায় আয়োজিত এ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগরবাসীর সম্মিলিত অংশগ্রহণে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিমুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ খোরশেদ আলম, ইসমাইল বাবুল, মোহাম্মদ সেকান্দর, আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ ইমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের, আরিফুল ইসলাম ডিউক, নাসরিন আক্তার প্রমুখ।

৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 1:05 pm
৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চলছে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে।

শনিবার কল্পলোক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারকাজের উদ্বোধন এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কল্পলোক মডেল মসজিদ চত্বর মাঠ প্রাঙ্গণে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আমি অঙ্গীকার করেছিলাম, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) এবং হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বেশ কয়েকটি মাঠ উন্নয়ন করে খেলার উপযোগী করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নগরীর অন্যান্য ওয়ার্ডেও নতুন খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

খেলাধুলার সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন গঠনের অন্যতম হাতিয়ার। শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ।”

তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব। আমাদের লক্ষ্য, খেলাধুলার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ চট্টগ্রাম গড়ে তোলা।”

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি (১ম পর্যায়)-এর সভাপতি এম. আব্দু শুক্কুর সভাপতিত্ব করেন। এতে মুখ্য উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন লিপু, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা কল্পলোক আবাসিক এলাকার খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা বলেন, মাঠ ও পার্কের উন্নয়ন এলাকার শিশু-কিশোর, তরুণ এবং সাধারণ বাসিন্দাদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বাড়াবে। পাশাপাশি এসব উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

কল্পলোকের খেলার মাঠ ও পার্ক সংস্কারের এ উদ্যোগ নগরীতে পরিকল্পিত উন্মুক্ত স্থান সম্প্রসারণ এবং নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির (১ম পর্যায়) সভাপতি এম. এ. শুক্কুরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আবদুল্লাহ আল হারুন, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক, আমির হক ও মোহাম্মদ আবুল হোসাইন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আলী আকবর।

ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 10 October, 2026, 7:04 am
ভারতের দেওয়া ২৫০ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে জিতল ক্যারিবীয়রা

লক্ষ্য ২৫০ রান। ১৮ ওভার শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৪০। ভারতের বিপক্ষে রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টিতে জয় পেতে শেষ দুই ওভারে ক্যারিবীয়দের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০ রান। একই ব্যবধান ছিল সেঞ্চুরি থেকেও দূরত্বে থাকা অধিনায়ক শাই হোপের। অক্ষর প্যাটেলের করা ১৯তম ওভারের প্রথম ও তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতানোর পাশাপাশি শতকও পূর্ণ করেন তিনি।

অক্ষরের ওভারের প্রথম বলটি ডিপ মিডউইকেট দিয়ে সীমানাছাড়া করেন হোপ। পরের বলটি এক্সট্রা কাভারে ঠেলে দিলেও রান নেননি ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। তৃতীয় বলে ওয়াইড লং অন দিয়ে ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি ও জয়—দুটিই একসঙ্গে উদ্‌যাপন করেন তিনি। মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করা হোপের দুর্দান্ত ইনিংসে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে ক্যারিবীয়রা। আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়া করে জয়ের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের লক্ষ্য অতিক্রম করার ঘটনা।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ডের ম্যাচেও ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়ানে সেই রেকর্ড গড়েছিল তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৫৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে ম্যাচটি জিতেছিল স্বাগতিকেরা।

রাঁচিতে আজকের ম্যাচের শুরুতে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের এমন দাপুটে জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি। ভারতের পেসার মায়াঙ্ক যাদব প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ক্যারিবীয়দের স্কোর ৫ রানে ২ উইকেটে নামিয়ে দেন। এরপর রোভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ২৭ বলে ৫৩ রানের জুটি গড়েন হোপ। পাওয়েল ১৩ বলে ২৪ রান করে ফিরলে ক্রিজে আসেন শেরফান রাদারফোর্ড।

রাদারফোর্ডকে নিয়ে পরের ৯ ওভারে ১২০ রান যোগ করেন হোপ। ৩৭ বলে ৭টি ছক্কায় ৮৪ রান করে রাদারফোর্ড যখন আউট হন, তখনও জয়ের জন্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রয়োজন ছিল ৩৫ বলে ৭২ রান।

সেই চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হোপ। রোমারিও শেফার্ডের সঙ্গে তাঁর জুটিতে মাত্র ২৬ বলে আসে ৭৪ রান। শেফার্ডও ছিলেন আক্রমণাত্মক; ১৩ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাঁর ৪৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৬টি চার ও ৯টি ছক্কায়। এর আগে গত বছর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন এই ক্যারিবীয় অধিনায়ক।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৪৯ রান তোলে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন ওপেনার সঞ্জু স্যামসন। ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন তিনি।

এ ছাড়া তিলক বর্মা ১৮ বলে অপরাজিত ৪৪, ঈশান কিষান ২২ বলে ৪৩ এবং অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ১৮ বলে ৪০ রান করেন। ভারতের বড় সংগ্রহও শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি হোপের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের সামনে।