খুঁজুন
, ,

শুভ জন্মদিন মোজার্ট অব মাদ্রাজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 6 January, 2020, 3:33 pm
শুভ জন্মদিন মোজার্ট অব মাদ্রাজ

সুরের এক বিস্ময়কর জাদুকরের নাম এ আর রহমান। সংগীতের কোন নির্দিষ্ট ধারায় তাঁকে ফেলা যায় না। তাঁর গান যুগযুগ ধরে শ্রোতাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আজ ৬ জানুয়ারি ভারতীয় এ সঙ্গীতশিল্পীর ৫৩তম জন্মদিন।

১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) এক শৈব হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পারিবারিক নাম ছিল এ এস দিলীপ কুমার, ধর্মান্তরের পর নাম রাখা হয় আল্লাহ রাখা রহমান, সংক্ষেপে এ আর রহমান। সাংসারিক জীবনে তার সহধর্মিনীর নাম সায়রা বানু। রহমান-বানু দম্পতির ঘরে রয়েছে তিন সন্তান খাদিজাহ, রহিমা ও আমান। এ আর রহমানের বাবা আর কে শেখর মুধালিয়ার ছিলেন মালায়ালাম মুভির একজন মিউজিক কম্পোজার ও কন্ডাক্টর। তার মায়ের নাম ছিল কস্তুরি (মুসলিম হওয়ার পরে তার নাম হয় করিমা বেগম)।

মাত্র ছয় বছর বয়সে পিয়ানো হাতে নেন রহমান। তাঁর নয় বছর বয়সে বাবা মারা গেলে গোটা পরিবার আর্থিক টানাপোড়েনে পড়ে। সংগীতের যন্ত্রপাতি ভাড়া দিয়ে সংসার চলত তাঁদের।

সত্তরের দশকে মাদ্রাজের বিশিষ্ট সংগীতগুরু ছিলেন মাষ্টার ধনরাজ। বাবার বন্ধু বলেই তাঁর কাছে কিছুকাল গানের তালিম নেন রহমান। মাত্র ১১ বছর বয়সে কিবোর্ড বাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন সেসময়ের প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ইলিয়ারাজার সঙ্গে। রহমানের বন্ধুরাও ছিল সব গানপাগল। বন্ধু শিবমনি, জন অ্যান্থনি ও রাজাকে নিয়ে ‘রুটস’নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন।

সাধারণ শ্রোতাদের পাশাপাশি ব্যকরণ জানা শ্রোতারাও আচ্ছন্ন হন রহমানের গান শুনে। ব্যকরণ জানা শ্রোতাদের কাছে তিনি এক জটিল ধাঁধা। সান্তানা থেকে সুফিয়ানা অর্থাৎ হিন্দুস্তানি সুরের সঙ্গে পশ্চিমা সুর এমনকি জাপানি পেন্টাটনিক সুরের অদ্ভুত সমন্বয় ফুটে ওঠে তাঁর গানে।

রহমান তার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু করেন টিভি বিজ্ঞাপন এর মিউজিক করে। তিনি ৫ বছরে ৩০০ এরও বেশি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল করেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি নিজের স্টুডিও চালু করেন।

কিছু বিজ্ঞাপনের অ্যাওয়ার্ড ফাংশন এর মাধ্যমে পরিচালক মণি রত্নম এর সাথে পরিচয় হয় রহমানের। নিজের কিছু বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল রত্নম কে শোনান। রত্নম তাঁর কাজ খুব পছন্দ করেন এবং তাঁর পরিচালিত ‘রোজা’ ছবির সংগীতের দায়িত্ব দেন। রোজা ছবির অবিস্মরণীয় সাফল্যের পর রহমানকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মোজার্ট অব মাদ্রাজ এ আর রহমান

গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানকে অনেকেই ভালবেসে মোজার্ট অব মাদ্রাজ নামে ডাকেন। তার জীবনের অন্যতম অর্জন আসে ২০০৯ সালে। ওই বছর ৮১তম অস্কার আসরে ড্যানি বয়েলের আলোচিত সিনেমা ‘স্লামডগ মিলিনিয়র’র মিউজিক কম্পোজার হিসেবে সেরা অরিজিনাল মিউজিক স্কোর ও সেরা অরিজিনাল সং ‘জয় হো’র জন্য ডাবল অস্কার জেতেন।

এ আর রহমানের সঙ্গীত কৌশল বলিউডকে দিয়েছে নতুন ধরনের সাঙ্গীতিক অভিজ্ঞতা। তারই স্বীকৃতিতে মণি রত্নমের ‘রোজা’ সিনেমার দুটি গান জিতেছিল দুটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। জিতেছেন একটি বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব, চারটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কার। এ ছাড়া ২০০৯ সালে টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে বিশ্বের সেরা ১০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম স্থান পায়। ২০১০ সালে রাষ্ট্রীয় উপাধি ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করেন। সম্প্রতি ব্রিটেনভিত্তিক একটি ম্যাগাজিন তাকে ‘টুমরোস মিউজিক আইকন’ উপাধি দিয়েছে।

বিস্ময়কর এ আর রহমানের যে কোনো কম্পোজিশন বের হওয়ার আগেই সুপারহিট। তার প্রতিটি গানই একটি স্বতন্ত্র শিল্প। সাধারণ স্রোতারা তাঁর সুরে যেমন মুগ্ধ, তেমনি মুগ্ধ যারা গানের ব্যকরণ জানেন-তারাও। গানের ব্যকরণ জানা সুধীজনের কাছে রহমান আজও এক ধাঁধা। তাঁর সুরে যেমন তামিল আমেজ থাকে, তেমনি হিন্দুস্থানী ঘরাণায় তাঁর দখল বিস্ময়কর। তাঁর কম্পোজিশনে পশ্চিমা সুর তো আছেই, সেই সঙ্গে জাপানি পেন্টাটনিক সুর উঁকি দেয়। পাঞ্জাবি সুফি পপ থেকে শুরু করে তাঁর কম্পোজিশনে বাংলার বাউল সুরের প্রয়োগে রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যেতে হয়। এ সব মিলিয়ে এ আর রহমান এক অতলান্ত সাঙ্গীতিক বিস্ময়।

প্লে ব্যাক বা চলচ্চিত্রে গান গেয়ে এ আর রহমান এর আত্মপ্রকাশ বম্বে (তামিল, ১৯৯৫) ছবিতে। এর আগে তিনি অনেক গানে কোরাস এ কন্ঠ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম কোন গানে পূর্নাঙ্গ ভূমিকা পালন করেন বম্বে সিনেমার হাম্মা হাম্মা গানটিতে। মুভি বোম্বের (১৯৯৫) তু হি রে.. গানটি এবং বোম্বে থিম মিউজিক ট্র্যাকটি এ তার অনন্য দু’টি সৃষ্টি। তার সেরা অধিকাংশ ট্র্যাক বা মুভিই প্রথমে তামিল ভাষায় করা, যা পরে হিন্দিতে ডাব করা হয়েছে। সেই ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তিনি তামিল, তেলেগু, হিন্দি, মালায়ালাম, মারাঠি, কানাড়া, ম্যান্ডারিন ও ইংরেজি ভাষায় উপহার দিয়েছেন দুই শতাধিকেরও (ডাবিং ও সিঙ্গেলসহ) বেশি অ্যালবাম। ১৯৯৭ সালের ১৫ আগস্ট তার কন্ঠে প্রথম অ্যালবাম বের হয় বন্দে মাতরম শিরোনামে সনি মিউজিক কোম্পানির পক্ষ থেকে। বন্দে মাতরম মাইলস্টোন অ্যালবামটি শুধু ইন্ডিয়াতে তখন বিক্রি হয়েছিল ১.২ কোটি পিস! ১৯৯৯ সালে জার্মানির মিউনিখে কনসার্টে মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে পারফর্ম করেছেন তিনি।

২০০২-এ বিশ্ববিখ্যাত কম্পোজার অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রিলিজ দেন তার প্রথম স্টেজ প্রডাকশন বোম্বে ড্রিমস। ২০০৭ সালে তাজমহলকে দ্য নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স-এ স্থান পাইয়ে দেয়ার জন্য প্রমোশন হিসেবে ওয়ান লাভ গানটি ৬টি ভাষায় রিলিজ দেন।

তার মিউজিক করা উল্লেখ করার মতো হিন্দি মুভিগুলো হলো বোম্বে (১৯৯৫), রঙ্গিলা (১৯৯৫), দিল সে.. (১৯৯৮), তাল (১৯৯৯), লগান (২০০১), সাথিয়া (২০০২), রাঙ্গ দে বাসন্তী (২০০৬), গুরু (২০০৭), যোধা আকবর (২০০৮), জানে তু… ইয়া জানে না (২০০৮), স্লামডগ মিলিয়নেয়ার (২০০৮), ইয়ুভরাজ (২০০৮), গজনি (২০০৮), দিল্লি-৬ (২০০৯) ইত্যাদি।

কম্পোজিশনের পাশাপাশি তিনি একজন অসাধারণ ভোকালিস্টও; হাইপিচ, স্পিরিচুয়ালিটি তার কণ্ঠের অনন্য বৈশিষ্ট্য। এ আর রহমানের কণ্ঠের প্রথম গান মুভি বোম্বের (১৯৯৫) হাম্মা হাম্মা। তবে বন্দে মাতরাম (বন্দে মাতরাম), লুকা ছুপি (রাঙ্গ দে বাসন্তী), তেরে বিনা (গুরু), খাজা মেরে খাজা (যোধা আকবর), ও… সয়া (স্লামডগ মিলিয়নেয়ার), রেহনা তু (দিল্লি-৬) ইত্যাদি ট্র্যাকগুলোকে তার ভোকাল মাস্টার পিস বলা যেতে পারে।

তিনিই একমাত্র ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ান, যার অ্যালবাম বিশ্বজুড়ে ২০ কোটি কপির চেয়েও বেশি বিক্রি হয়েছে।

Feb2
Feb2

নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়: বিএনপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 5:09 pm
নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়: বিএনপি

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হবে। নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে নির্বাচন ভবনে পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে এসে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ওপর বিএনপির কোনো সমর্থন থাকবে কি না সে বিষয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ চেয়েছে, এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন নির্দলীয়।

নির্বাচন কে করবে, না করবে এটা আদালত ও ইসির বিষয়। অন্য রাজনৈতিক দল কী বললো সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন মাহবুবের রহমান শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 1:45 pm
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন মাহবুবের রহমান শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

রোববার (১৯ জুলাই) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২ক(১) অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অথবা পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এর ধারা ৮২ক(৩) অনুযায়ী তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

বিধি অনুযায়ী তিনি ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

সরকারের আগাম পদক্ষেপে বন্যায় কম ক্ষতি হয়েছে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 1:29 pm
সরকারের আগাম পদক্ষেপে বন্যায় কম ক্ষতি হয়েছে: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন সরকারের আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের কথা চিন্তা করে আজ থেকে সরকারের বিশেষ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালু হয়েছে। এতে স্বল্প মূল্যে হতদরিদ্র মানুষ খাদ্য সহায়তা পাবে।

রবিবার (১৯ জুলাই) খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় বন্যা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তা অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান সকল জনগোষ্ঠীকে রংধনুর বাংলাদেশ গড়তে চাই বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

পার্বত্য মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেইনবো জাতি গঠনে যে স্বপ্ন দেখছেন তাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে।’

এসময় তিনি জেলার মহালছড়ির চোংড়াছড়ি, পাকুজ্জাছড়ি, মাইসছড়িতে বন্যা দুর্গত মানুষের মাঝে জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেন।

এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা ও জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ার সাদাত, বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।