খুঁজুন
, ,

শুভ জন্মদিন মোজার্ট অব মাদ্রাজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 6 January, 2020, 3:33 pm
শুভ জন্মদিন মোজার্ট অব মাদ্রাজ

সুরের এক বিস্ময়কর জাদুকরের নাম এ আর রহমান। সংগীতের কোন নির্দিষ্ট ধারায় তাঁকে ফেলা যায় না। তাঁর গান যুগযুগ ধরে শ্রোতাদের আচ্ছন্ন করে রেখেছে। আজ ৬ জানুয়ারি ভারতীয় এ সঙ্গীতশিল্পীর ৫৩তম জন্মদিন।

১৯৬৭ সালের ৬ জানুয়ারি মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) এক শৈব হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পারিবারিক নাম ছিল এ এস দিলীপ কুমার, ধর্মান্তরের পর নাম রাখা হয় আল্লাহ রাখা রহমান, সংক্ষেপে এ আর রহমান। সাংসারিক জীবনে তার সহধর্মিনীর নাম সায়রা বানু। রহমান-বানু দম্পতির ঘরে রয়েছে তিন সন্তান খাদিজাহ, রহিমা ও আমান। এ আর রহমানের বাবা আর কে শেখর মুধালিয়ার ছিলেন মালায়ালাম মুভির একজন মিউজিক কম্পোজার ও কন্ডাক্টর। তার মায়ের নাম ছিল কস্তুরি (মুসলিম হওয়ার পরে তার নাম হয় করিমা বেগম)।

মাত্র ছয় বছর বয়সে পিয়ানো হাতে নেন রহমান। তাঁর নয় বছর বয়সে বাবা মারা গেলে গোটা পরিবার আর্থিক টানাপোড়েনে পড়ে। সংগীতের যন্ত্রপাতি ভাড়া দিয়ে সংসার চলত তাঁদের।

সত্তরের দশকে মাদ্রাজের বিশিষ্ট সংগীতগুরু ছিলেন মাষ্টার ধনরাজ। বাবার বন্ধু বলেই তাঁর কাছে কিছুকাল গানের তালিম নেন রহমান। মাত্র ১১ বছর বয়সে কিবোর্ড বাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন সেসময়ের প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক ইলিয়ারাজার সঙ্গে। রহমানের বন্ধুরাও ছিল সব গানপাগল। বন্ধু শিবমনি, জন অ্যান্থনি ও রাজাকে নিয়ে ‘রুটস’নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন।

সাধারণ শ্রোতাদের পাশাপাশি ব্যকরণ জানা শ্রোতারাও আচ্ছন্ন হন রহমানের গান শুনে। ব্যকরণ জানা শ্রোতাদের কাছে তিনি এক জটিল ধাঁধা। সান্তানা থেকে সুফিয়ানা অর্থাৎ হিন্দুস্তানি সুরের সঙ্গে পশ্চিমা সুর এমনকি জাপানি পেন্টাটনিক সুরের অদ্ভুত সমন্বয় ফুটে ওঠে তাঁর গানে।

রহমান তার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু করেন টিভি বিজ্ঞাপন এর মিউজিক করে। তিনি ৫ বছরে ৩০০ এরও বেশি বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল করেছেন। ১৯৮৯ সালে তিনি নিজের স্টুডিও চালু করেন।

কিছু বিজ্ঞাপনের অ্যাওয়ার্ড ফাংশন এর মাধ্যমে পরিচালক মণি রত্নম এর সাথে পরিচয় হয় রহমানের। নিজের কিছু বিজ্ঞাপনের জিঙ্গেল রত্নম কে শোনান। রত্নম তাঁর কাজ খুব পছন্দ করেন এবং তাঁর পরিচালিত ‘রোজা’ ছবির সংগীতের দায়িত্ব দেন। রোজা ছবির অবিস্মরণীয় সাফল্যের পর রহমানকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

মোজার্ট অব মাদ্রাজ এ আর রহমান

গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক এ আর রহমানকে অনেকেই ভালবেসে মোজার্ট অব মাদ্রাজ নামে ডাকেন। তার জীবনের অন্যতম অর্জন আসে ২০০৯ সালে। ওই বছর ৮১তম অস্কার আসরে ড্যানি বয়েলের আলোচিত সিনেমা ‘স্লামডগ মিলিনিয়র’র মিউজিক কম্পোজার হিসেবে সেরা অরিজিনাল মিউজিক স্কোর ও সেরা অরিজিনাল সং ‘জয় হো’র জন্য ডাবল অস্কার জেতেন।

এ আর রহমানের সঙ্গীত কৌশল বলিউডকে দিয়েছে নতুন ধরনের সাঙ্গীতিক অভিজ্ঞতা। তারই স্বীকৃতিতে মণি রত্নমের ‘রোজা’ সিনেমার দুটি গান জিতেছিল দুটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। জিতেছেন একটি বাফটা, গোল্ডেন গ্লোব, চারটি ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কার। এ ছাড়া ২০০৯ সালে টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে বিশ্বের সেরা ১০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তার নাম স্থান পায়। ২০১০ সালে রাষ্ট্রীয় উপাধি ‘পদ্মভূষণ’ অর্জন করেন। সম্প্রতি ব্রিটেনভিত্তিক একটি ম্যাগাজিন তাকে ‘টুমরোস মিউজিক আইকন’ উপাধি দিয়েছে।

বিস্ময়কর এ আর রহমানের যে কোনো কম্পোজিশন বের হওয়ার আগেই সুপারহিট। তার প্রতিটি গানই একটি স্বতন্ত্র শিল্প। সাধারণ স্রোতারা তাঁর সুরে যেমন মুগ্ধ, তেমনি মুগ্ধ যারা গানের ব্যকরণ জানেন-তারাও। গানের ব্যকরণ জানা সুধীজনের কাছে রহমান আজও এক ধাঁধা। তাঁর সুরে যেমন তামিল আমেজ থাকে, তেমনি হিন্দুস্থানী ঘরাণায় তাঁর দখল বিস্ময়কর। তাঁর কম্পোজিশনে পশ্চিমা সুর তো আছেই, সেই সঙ্গে জাপানি পেন্টাটনিক সুর উঁকি দেয়। পাঞ্জাবি সুফি পপ থেকে শুরু করে তাঁর কম্পোজিশনে বাংলার বাউল সুরের প্রয়োগে রীতিমতো বিস্মিত হয়ে যেতে হয়। এ সব মিলিয়ে এ আর রহমান এক অতলান্ত সাঙ্গীতিক বিস্ময়।

প্লে ব্যাক বা চলচ্চিত্রে গান গেয়ে এ আর রহমান এর আত্মপ্রকাশ বম্বে (তামিল, ১৯৯৫) ছবিতে। এর আগে তিনি অনেক গানে কোরাস এ কন্ঠ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম কোন গানে পূর্নাঙ্গ ভূমিকা পালন করেন বম্বে সিনেমার হাম্মা হাম্মা গানটিতে। মুভি বোম্বের (১৯৯৫) তু হি রে.. গানটি এবং বোম্বে থিম মিউজিক ট্র্যাকটি এ তার অনন্য দু’টি সৃষ্টি। তার সেরা অধিকাংশ ট্র্যাক বা মুভিই প্রথমে তামিল ভাষায় করা, যা পরে হিন্দিতে ডাব করা হয়েছে। সেই ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৯ পর্যন্ত তিনি তামিল, তেলেগু, হিন্দি, মালায়ালাম, মারাঠি, কানাড়া, ম্যান্ডারিন ও ইংরেজি ভাষায় উপহার দিয়েছেন দুই শতাধিকেরও (ডাবিং ও সিঙ্গেলসহ) বেশি অ্যালবাম। ১৯৯৭ সালের ১৫ আগস্ট তার কন্ঠে প্রথম অ্যালবাম বের হয় বন্দে মাতরম শিরোনামে সনি মিউজিক কোম্পানির পক্ষ থেকে। বন্দে মাতরম মাইলস্টোন অ্যালবামটি শুধু ইন্ডিয়াতে তখন বিক্রি হয়েছিল ১.২ কোটি পিস! ১৯৯৯ সালে জার্মানির মিউনিখে কনসার্টে মাইকেল জ্যাকসনের সঙ্গে পারফর্ম করেছেন তিনি।

২০০২-এ বিশ্ববিখ্যাত কম্পোজার অ্যান্ড্রু লয়েড ওয়েবারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রিলিজ দেন তার প্রথম স্টেজ প্রডাকশন বোম্বে ড্রিমস। ২০০৭ সালে তাজমহলকে দ্য নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স-এ স্থান পাইয়ে দেয়ার জন্য প্রমোশন হিসেবে ওয়ান লাভ গানটি ৬টি ভাষায় রিলিজ দেন।

তার মিউজিক করা উল্লেখ করার মতো হিন্দি মুভিগুলো হলো বোম্বে (১৯৯৫), রঙ্গিলা (১৯৯৫), দিল সে.. (১৯৯৮), তাল (১৯৯৯), লগান (২০০১), সাথিয়া (২০০২), রাঙ্গ দে বাসন্তী (২০০৬), গুরু (২০০৭), যোধা আকবর (২০০৮), জানে তু… ইয়া জানে না (২০০৮), স্লামডগ মিলিয়নেয়ার (২০০৮), ইয়ুভরাজ (২০০৮), গজনি (২০০৮), দিল্লি-৬ (২০০৯) ইত্যাদি।

কম্পোজিশনের পাশাপাশি তিনি একজন অসাধারণ ভোকালিস্টও; হাইপিচ, স্পিরিচুয়ালিটি তার কণ্ঠের অনন্য বৈশিষ্ট্য। এ আর রহমানের কণ্ঠের প্রথম গান মুভি বোম্বের (১৯৯৫) হাম্মা হাম্মা। তবে বন্দে মাতরাম (বন্দে মাতরাম), লুকা ছুপি (রাঙ্গ দে বাসন্তী), তেরে বিনা (গুরু), খাজা মেরে খাজা (যোধা আকবর), ও… সয়া (স্লামডগ মিলিয়নেয়ার), রেহনা তু (দিল্লি-৬) ইত্যাদি ট্র্যাকগুলোকে তার ভোকাল মাস্টার পিস বলা যেতে পারে।

তিনিই একমাত্র ইন্ডিয়ান মিউজিশিয়ান, যার অ্যালবাম বিশ্বজুড়ে ২০ কোটি কপির চেয়েও বেশি বিক্রি হয়েছে।

Feb2
Feb2

খানাখন্দে বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সাত মাসে প্রাণ গেল ৩৭ জনের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 10:37 am
খানাখন্দে বিপর্যস্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সাত মাসে প্রাণ গেল ৩৭ জনের

দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের ২৭ কিলোমিটার এখন যেন খানাখন্দ আর দুর্ঘটনার করিডোর। টানা বৃষ্টিতে কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, কোথাও গর্তে জমে আছে পানি। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণও। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সংস্কারকাজ চলমান থাকার কথা বললেও মহাসড়কের এমন বেহাল চিত্রই ফুটে উঠেছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের ফেনীর নতুন সমিতি বাজার থেকে মুহুরীগঞ্জ, কসকা থেকে লেমুয়া সেতু এবং লেমুয়া সেতু থেকে লালপোল পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে এখনো রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ।

বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো ডুবে থাকায় হিমশিম খেতে হচ্ছে চালকদের। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও ছোট যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছেন। গর্ত এড়াতে গিয়ে অনেক চালক হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছেন, এতে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের শঙ্কা বেড়েছে। মহাসড়ক সংস্কারে মুহুরী সেতু থেকে কসকা পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে ইট ও কার্পেটিং করেছে সড়ক বিভাগ। কিন্তু ভরাট করা অংশগুলো সমতল না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মহাসড়কে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি পরিবহনের চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দিয়ে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় প্রায়ই যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে সময় লাগছে বেশি। পাশাপাশি বাড়ছে জ্বালানি ব্যয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, নারী, শিশু ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।

চালক ও যাত্রীদের অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বিশেষ করে ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে। এরপর সাময়িক মেরামত করা হলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে বছর ঘুরে আবারও একই দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সরেজমিনে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, সংস্কারে সড়ক বিভাগের কাজের গতি ধীর। সড়ক সংস্কারে কোথাও ইট ও কার্পেটিং করে সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

রেজাউল করিম নামে এক বাসচালক বলেন, বারৈয়ারহাট থেকে মহিপাল পর্যন্ত আসতে এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। খানাখন্দের কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সাবধানে না চালালে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেশি।

সায়েম চৌধুরী নামে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, সড়কে দুই-একটা গর্ত হলে সমস্যা ছিল না। মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনজুড়েই ছোট-বড় গর্ত। অনেক জায়গায় পানি জমে থাকায় বোঝাই যায় না। মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে সড়কটি।

এ প্রসঙ্গে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ফেনী জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান দারা বলেন, সড়কে চলাচলরত গাড়ি চালকদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এছাড়া ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও গাড়িতে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের কারণে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ফেনীর আয়তনের তুলনায় সড়কে যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের যথাযথ নজরদারি থাকলে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হত।

সাত মাসে মহাসড়কে ঝরল ৩৭ প্রাণ

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ, শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছেন। এই পরিসংখ্যান কেবল পুলিশের। এর বাইরেও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। গত সাত মাসে মহাসড়কের সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫টি মামলা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, সার্ভিস লেনের অভাব, চালকদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা এবং বর্ষাকালে মহাসড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি-এসব কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।

ফাজিলপুর হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মহাসড়কের ফাজিলপুর অংশে দুর্ঘটনায় ১১টি মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৯ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।

মহিপাল হাইওয়ে পুলিশের তথ্যমতে, একই সময়ে তাদের আওতাধীন অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪টি মামলা হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৮ জন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম বলেন, বেপরোয়া গতি ও সার্ভিস লেন না থাকাই দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। সার্ভিস লেন থাকলে ছোট যানবাহনগুলো আলাদা পথে চলাচল করতে পারত। এছাড়া বৃষ্টিতে মহাসড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং যানজটও তৈরি হয়।

মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই বেপরোয়া গতির কারণে ঘটে। পাশাপাশি অনেক চালক একদিনে শারীরিক সক্ষমতার চেয়ে বেশি সময় গাড়ি চালান। দীর্ঘসময় গাড়ি চালানোর ফলে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

তিনি বলেন, মহিপাল হাইওয়ে এলাকার যেসব স্থানে বর্ষায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছিল, সেগুলোর বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে। এতে ওই অংশে দুর্ঘটনার শঙ্কা এখন অনেকটাই কমেছে।

যা বলছে সড়ক বিভাগ

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। বৃষ্টি না হলে আগামী দুই দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে সংস্কারকাজের ধীরগতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো যানবাহনকে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে সংস্কার করা হয়েছে এবং বাকি অংশেও সংস্কারকাজ চলছে। আগামী দুই দিন বৃষ্টি না হলে সংস্কারকাজ পুরোপুরি শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনেই মূলত সমস্যা বেশি হয়। কারণ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ এই লেনেই বেশি থাকে। টানা বৃষ্টির সময় ভারী যানবাহনের চলাচলের কারণেই গর্তের সৃষ্টি হয়। তবে চট্টগ্রামমুখী লেনে তুলনামূলকভাবে সমস্যা কম।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এমবাপের, গোল্ডেন বুটেও এগিয়ে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:55 am
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড এমবাপের, গোল্ডেন বুটেও এগিয়ে

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ১২ বছর সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার দখলে ছিল। সেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ায় এবার ইঁদুর-বিড়াল দৌড় চলছে। লিওনেল মেসির ফাইনাল বাকি থাকায় সেই দৌড় এখনও শেষ হয়নি। তবে বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোল ও গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন কিলিয়ান এমবাপে।

গতকাল (শনিবার) দিবাগত রাতে ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি ছিল অনেকটাই নিয়মরক্ষার। বিশ্বকাপের নিরিখে এই ম্যাচের গুরুত্ব থাকলেও, উভয় দলই ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারছিল না। তাদের আক্ষেপ নিয়ে মায়ামি স্টেডিয়ামে গড়ায় বল। যেখানে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকে ৬-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের তৃতীয় হয়েছে।

ম্যাচের ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্টে জোড়া গোল করেন এমবাপে। যার সুবাদে মেসিকে (৩৩ ম্যাচে ২১ গোল) টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের (২২ ম্যাচে) মালিক এখন ফরাসি এই তারকা, যা তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও সবার ওপরে তুলে দিয়েছে। চলতি আসরে এখন পর্যন্ত মেসির গোল ৮ এবং অ্যাসিস্ট ৪টি। অ্যাসিস্টের হিসাবে আর্জেন্টাইন মহাতারকা এগিয়েই ছিলেন।

ফ্রান্সের ম্যাচ বাকি থাকায় নিশ্চিন্তও থাকতে পারছিলেন না মেসি। ফলে ব্যক্তিগত অর্জনের লড়াইয়ে তারও নজর ছিল ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ম্যাচে। তার চেয়ে অ্যাসিস্টে (৩) পিছিয়ে ছিলেন এমবাপে। সেই সংখ্যাটি আর বাড়াতে না পারলেও, এমবাপে জোড়া গোল করে আসরে নিজের স্কোরটা নিয়ে গেলেন ১০টিতে। বিশ্বের মাত্র চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক আসরে ন্যূনতম ১০ গোল করলেন এমবাপে।

এক আসরে সর্বোচ্চ ১৩ গোলের বিশ্বরেকর্ড আছে ফরাসি কিংবদন্তি জাস্টিন ফন্টেইনের, ১৯৭০ বিশ্বকাপে তিনি ওই কীর্তি গড়েন। এ ছাড়া হাঙ্গেরির স্যান্ডর কোচসিচ ১৯৫৪ আসরে ১১ এবং জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলার ১৯৭০ আসরে ১০ গোল করেন। বিশ্বকাপে ন্যূনতম ১০ গোলের সেই এলিট লিস্টে নিজের নাম লেখালেন এমবাপে।

ট্রেনে ফেলে যাওয়া স্বর্ণ-টাকা ফিরিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ড গার্ড

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 19 July, 2026, 9:34 am
ট্রেনে ফেলে যাওয়া স্বর্ণ-টাকা ফিরিয়ে দিলেন স্টুয়ার্ড গার্ড

ট্রেনে ময়লার ঝুড়িতে যাত্রীর ফেলে যাওয়া স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে প্রশংসায় বাসছেন স্টুয়ার্ড গার্ড মোশারফ হোসেন।

বুধবার (১৫ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি ট্রেনে এই স্বর্ণের চেইন ও টাকা ফেলে যান যাত্রী।

স্টুয়ার্ড গার্ড মোশারফ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাউতলী এলাকা বাসিন্দা। তার এই সততা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে তিনি প্রশংসায় ভাসছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়ে অনেকেই প্রশংসা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেলস্টেশনে মোশারফ হোসেন বলেন, অন্যের জিনিস আমি কেন রাখবো। এটা ফিরিয়ে দিতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত এবং অনেক ভালো লেগেছে। চাকরি জীবনে প্রায় ২০ বছর, এই ২০ বছরে এই নিয়ে কয়েকবার যাত্রীর ফেলে যাওয়া মূল্যবান জিনিস ফিরিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, গত বুধবার রাতে আম খেয়ে আমের খোসাগুলো কেবিনের ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে গিয়ে দেখি, একটি পলিথিনে মোড়ানো অনেকগুলো জর্দার কৌটা। আমি এগুলো জর্দা মনে করে নিজের কাছে রেখে দিই। পরে আমার মোবাইলে একটি কল আসে এবং অপর প্রান্ত থেকে একজন বলেন যে, তার কিছু মালামাল হারিয়ে গেছে। তখন আমি তার কাছে জানতে চাই কী জিনিস হারিয়েছে। তিনি বলেন, স্বর্ণের চেইন ও কিছু টাকা। তখন তাকে বলি, এসব তো কেবিনে নেই। পরে তিনি জানান, পলিথিনে মোড়ানো জর্দার কৌটার ভেতরেই চেইন ও টাকা রাখা আছে। এরপর আমার কাছে রাখা জর্দার কৌটাটি খুলে দেখি, তার ভেতরে প্রায় দুই ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন ও দুই হাজার টাকা। পরে আমি ওই যাত্রীকে ফোন করে জানাই যে, জিনিসগুলো আমার কাছে নিরাপদেই আছে।

মোশারফ হোসেন বলেন, পরে রাতে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা নিশীতা ট্রেন ভৈরববাজার স্টেশনে এলে যাত্রীর স্বজনের কাছে স্বর্ণের চেইন ও টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।