খুঁজুন
, ,

লাখে ভক্তের আগমনে মুখরিত মাইজভান্ডার দরবার শরীফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 23 January, 2024, 5:17 pm
লাখে ভক্তের আগমনে মুখরিত মাইজভান্ডার দরবার শরীফ

চলরে মন ত্বরায় যায় বিলম্বের আর সময় নাই, গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী স্কুল খুলেছে….. একতারা, দোতারা, হারমোনি, তবলার তালে তালে কনকণে শীত উপেক্ষা করে মাইজভান্ডারে আশেক-ভক্তের ঢল নেমেছে। আশেক, ভক্ত, অনুরক্তরা আসছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। সাথে সবুজ পতাকা ও ব্যানারে তরিক্বতের বিভিন্ন বানী। আল্লাহ, রাসুল (দ.) ও মাইজভান্ডারী তরিক্বতের শ্লোগান। সাথে স্বীয় পীর মুরশীদের দরবারে গরু, ছাগল, মহিষ, উঠ, গয়াল সহ আরো কত কি…..।

মাইজভান্ডারী দরবার শরীফের আধ্যাতিক সরাপতের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উলাহ মাইজভান্ডারী (ক.) ১১৮তম বার্ষিক ওরশ শরীফ বুধবার (মহান ১০ মাঘ)। গত ২-৩দিন পূর্ব থেকে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাইজভান্ডার শরীফে।

বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে আনজুমানে মোত্তাবেইনে গাউছে মাইজভান্ডারী শাহ এমদাদীয়া মঞ্জিলের শাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), দরবারে-গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলের সাজ্জাদানশীন ডা. সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), সাজ্জাদানশীন সৈয়দ শহিদুল হক মাইজঅবন্ডারী (ম.জিআ), মাইজভান্ডার গাউছিয়া হক মনজিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (র.) শাহজাদাদ্বয় মুন্তাজেম সাজ্জাদানশীন সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভান্ডারী (মজি.আ) এবং সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ) এর আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে ওরশের আনুষ্টানিকতা শেষ হবে। এ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

পটভূমি:
সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ী ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করে পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স্থাপন করেন। তারই বংশধর মাওলানা সৈয়দ মতিউলাহর সৈয়দ মতিউলাহর পবিত্র ঔরসে ১৮২৬ সালে, হিজরী ১২৪৪, ১২৩৩ বাংলা ১ মাঘ, বুধবার জোহরের সময় হযরত শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উলাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) জন্ম গ্রহন করেন। ১২৬০ হিজরিতে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে কলকাতা গমন, ১২৬৮ হিজরিতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন এবং হাদিস, তাফসির, ফেকাহ ইত্যাদি শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১২৬৯ হিজরিতে যশোর জেলায় কাজী (বিচারক) পদে যোগদান করেন। ১২৭০ হিজরিতে সেই কাজী পদ থেকে পদত্যাগ করে কলকাতার মুন্সি বু-আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেস পদে যোগদান করেন। তার পীর গাউছুল আজম মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জীলানীর (রহ.) বংশধর শেখ সৈয়দ আবু শাহমা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রহ.) এর নিদের্শে ১৮৫৭ সালে নিজ গ্রাম মাইজভান্ডারে ফিরে আসেন।

কিছুদিনের মধ্যেই তার কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী-প্রেম পিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশীদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। লোকসমাজে পরিচিতি পায় মাইজভান্ডার দরবার শরিফ হিসেবে। তিনি একমাত্র বাঙ্গালী সূফী সাধক। যিনি বাংলার জমিনে স্বতন্ত্র এক তরিকা প্রতিষ্টা করেন। যার নাম মাইজভান্ডারী তরিকা। ৭৯ বছর বয়সে ১৯০৬ ক্রিস্টাব্দে ১০ মাঘ সোমবার রাতে ইহধাম ত্যাগ করেন এ মহান সুফি সাধক। তার ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৮, ৯ ও ১০ মাঘ ৩ দিনব্যাপী ওরশ শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের লাখ-লাখ আশেক-ভক্তের সমাগম ঘটে।

মঙ্গলবার মাইজভান্ডার শরীফ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় ১০মাঘ মাইজভান্ডার শরীফের ওরশ উপলক্ষ্য করে মাইজভান্ডারের ৩/৪ মাইল এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। এতে কৃষি ব্যবহার্য্য পণ্য, কুঁটির শিল্প উৎপাদিত পণ্য, গ্রামীণ গৃহস্থালী সামগ্রী, ডালা, কুলা দা, বটি, বেলুণ, কাঠের পিড়া, মোড়া, পিটা তৈরীর বিভিন্ন চাচ, চুড়ি, বাশি খেলনা, মোলা-ওড়া ইত্যাদিবেশ বিকিনিকি হচ্ছে।

এদিকে ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা ও থানা প্রশাসন ব্যাপক আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর মাজার ও মাইজভান্ডার শরীফ এলাকায় ক্লোজ-সার্কিট ক্যামরার মাধ্যমে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন রাখা, নাজিরহাট নতুন রাস্তার মাতায়, ফটিকছড়ি সদরে ও নানুপুর লায়লা-কবির কলেজ মাঠে যানবাহন পার্কিং, স্ব স্ব মনজিলের ব্যবস্থাপনায় লাইটিং করা, মাইজভান্ডার পুকুর আবর্জনা মুক্ত রাখা, প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, স্ব-স্ব মনজিলের পোষাক পরা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, মহিলাদের চলাচলের স্থানে মহিলা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, আযানের সময় সকল প্রকাল মাইকিং বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ঠ সময়ের পরে গরু-মহিষ হাদিয়া প্রবেশ বন্ধ রাখা, পর্যাপ্ত পরিমানে ভ্রাম্যমান স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা, গুরুত্বপূর্ণ সিধান্তের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ সব সবস্থানে পুলিশি টহল জোরদারকরা, সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য একটি তথ্য কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দরবারে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের শাহজাদা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইনন সোহেল মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে শরীফে বংলাদেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চল ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা, ইরাক, ইরান, তুরষ্ক সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও ধর্মপ্রাণ মুসলমান সহ লাখো সুফী ভক্ত-আশেকগণের সমাগম ঘটে। আমরা ১০দিন ব্যাপী হযরতের মানবিক গুনাবলীর সমন্বয়ে মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছি।

শাহ এমদাদীয়ার নায়েবে শাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো ভক্তের সুবিধাত্বে থাকা-খাওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)র জীবনী, শান-মান সম্ভলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যবস্থা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষে পূলিশ ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইন- শৃংখলা রক্ষায় থানা পুলিশ-র‌্যাব-আনসার ও দুই সহস্রাদিক বিশেষ সেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

উল্লেখ্য, মাইজভান্ডারের প্রতিটি মনজিল এবছর ১
মাঘ থেকে ১০ দিন ব্যাপী মাইজভান্ডারী তরিকার মানবিক শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক কর্মকান্ড, এবাদতবন্দেগী, মাইজভান্ডারী সেমা মাহফিলসহ ব্যাপক আয়োজন করেছে।

Feb2
Feb2

জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 6:40 pm
জার্মানির এইচকেজি-থ্রি রাইফেল নিয়ে কৌতূহল

চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া জার্মানির তৈরি সামরিক গ্রেডের একটি এইচকেজি-থ্রি সিরিজের রাইফেল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি বেশ পুরনো। তেমন সক্রিয়ও নয়। তবুও এ ধরনের ভারী সামরিক অস্ত্র আন্ডারওয়ার্ল্ডে আরও থাকার সম্ভাবনা ভাবিয়ে তুলেছে গোয়েন্দাদের।

মিয়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের ধারণা, আগ্নেয়াস্ত্রটি মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির কাছ থেকে সীমান্তপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে পারে। র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানেরও ধারণা অস্ত্রটি বেশ কয়েকবছর আগে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে এসেছে।

দেশীয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে কাজ করা একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারের (এএসপি) তথ্য, ২০১১ সালে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়ুয়ার কাছ থেকে জার্মানির তৈরি এইচকেজি-থ্রি রাইফেল উদ্ধার হয়েছিল। গত ১৫ বছরে এ ধরনের অস্ত্র আর দেখা যায়নি। উদ্ধারের তথ্যও নেই।

পুলিশের এ কর্মকর্তার ধারণা, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া রাইফেলটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সশস্ত্র গ্রুপ অথবা রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হতে পারে। তাদের কাছ থেকে সেটি অপরাধ জগতের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের হাতে পৌঁছতে পারে।

গত ২৪ জুন সকালে র‌্যাব চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার হাজীরপুল ফেদা পুকুর পাড় থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় অস্ত্রটি উদ্ধার করে। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক এএসপি এ আর এম মোজাফফর হোসেন বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, বাট ও ম্যাগাজিনবিহীন অবস্থায় অস্ত্রটি জলিল নামে এক ব্যক্তির সীমানা প্রাচীর দেওয়া খালি জায়গায় পড়ে ছিল। গোপন তথ্যে সেটি উদ্ধারের পর চান্দগাঁও থানায় জমা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে করা মামলাটির তদন্তভার র‌্যাব নিয়েছে বলে জানালেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

জার্মানির হেকলার অ্যান্ড কক কোম্পানি যুদ্ধকালীন রাইফেল হিসেবে ১৯৫০ এর দশকে আগ্নেয়াস্ত্রটি তৈরি করে। অতি মাত্রায় ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ও নিখুঁত নিশানার জন্য এটি বিশেষভাবে পরিচিত। শক্তিশালী অস্ত্রটি প্রতি মিনিটে ৫০০ থেকে ৬০০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়তে সক্ষম। প্রায় এক কিলোমিটার দূরের নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম রাইফেলটি স্নাইপার বা মেশিনগানের মতোও কাজ করতে পারে। ইফেক্টিভ রেঞ্জের জন্য এটি প্রায় ৭০টি দেশের সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে বলে তথ্য মিলেছে।

তবে দক্ষিণ এশিয়ায় রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী এই অস্ত্র ব্যবহার করে না বলে জানালেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এমদাদুল ইসলাম। বললেন, ‘ভারত, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, পাকিস্তান কোথাও এই অস্ত্রের সচরাচর ব্যবহার নেই। চীনের তৈরি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু বোরের যেসব অস্ত্র আমাদের দেশের বিভিন্ন বাহিনী ব্যবহার করে সেগুলোর চেয়ে জি-থ্রি রাইফেল বেশি মারাত্মক নয়। স্নাইপার হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে স্নাইপার এখন আরও বিভিন্ন সোর্সে ব্যবহার হয়।’

‘তাহলে এটা নিয়ে এত কৌতূহল কেন? যে অস্ত্রের ব্যবহার উপমহাদেশে নেই, এই অঞ্চলে নেই হঠাৎ করে সেটা পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের কারণে কৌতূহলটা তৈরি হয়েছে। এটা কোত্থেকে আসল, কীভাবে আসল, কারা এখানে সরবরাহ করল, কৌতূহল থাকাটা খুব স্বাভাবিক।’- বলেন এমদাদুল ইসলাম।

র‌্যাব কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বললেন, ‘আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলোয় জি-থ্রি রাইফেল তৈরিও হয় না। ব্যবহারও হয় না। বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কারখানায় একসময় জি-থ্রি রাইফেল তৈরি হতো। পরে এর ব্যবহার কমানো হয়েছে। আমরা যে রাইফেলটি পেয়েছি সেটি এর থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমরা কেউই এই ক্যালিবারের অস্ত্র ব্যবহার করি না। সরকারিভাবেও আমদানি হয় না।’ বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তপথ প্রায় ২৭০ কিলোমিটারের। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপসহ ৮০ শতাংশ এলাকা দেড় বছর ধরে দেশটির বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে।

মায়ানমারের বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সাবেক হেড অব মিশন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলামের বিশ্লেষণ, ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর জান্তা বাহিনী রাখাইনে পণ্য আসার অভ্যন্তরীণ তিনটি পথ ব্লক করে দিয়েছে। এর ফলে আরাকান আর্মি শুধু অর্থ ও নিত্যপণ্যের মারাত্মক সংকটে ভুগছে। মিয়ানমারের কায়িন স্টেট থেকে চিন স্টেট হয়ে আরাকান আর্মির কাছে এ ধরনের অস্ত্র পৌঁছে। টাকার জন্য তারা এখন বেপরোয়া হয়ে গেছে। এজন্য সীমান্ত পার করে অস্ত্রগুলো এ দেশের কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে বিক্রি করেছে বলে ধারণা করছি।’

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এল এবং এর পেছনে কোনো দেশীয় সংঘবদ্ধ চক্র বা আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কী না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ত্রটির উৎস, ব্যাচ নম্বর এবং এর মালিকানা চিহ্নিত করার কাজ চলছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা হাফিজুরের ভাষ্য, ‘পৃথিবীর সব দেশের সীমান্ত দিয়ে স্মাগলিং হয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও আমাদের সীমান্ত পুরোপুরি চোরাচালানমুক্ত নয়। সীমান্তপথ দিয়ে কোনোভাবে অস্ত্রটি এখানে এসেছে।’

সিএমপি ও জেলা পুলিশে কাজ করা অবসরপ্রাপ্ত এক এএসপি বললেন, ‘রেঞ্জ বেশি। হেভি আর্মস। এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সশস্ত্র গ্রুপগুলো এই অস্ত্র খুব বেশি ব্যবহার করতো। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের কাছেও এমন অস্ত্র ছিল। আর দেশের ভেতরে আন্ডারওয়ার্ল্ডেও এর ব্যবহার ছিল। সীমান্তপথ দিয়েই এটা এসেছে। এটা মোটামুটি নিশ্চিত বলা যায়।’

এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি, গ্যাস সরবরাহ কমে অর্ধেক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 6:20 pm
এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি, গ্যাস সরবরাহ কমে অর্ধেক

কক্সবাজারের মহেশখালীর একটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এতে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্রে জানা গেছে, দেশে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তর করে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। দেশে এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। এর মধ্যে দুটি টার্মিনাল থেকে ১০০ থেকে ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছিল। হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ ৬০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে গেছে। এতে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে।

দেশে প্রতিদিন সরবরাহ করা মোট গ্যাসের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। ফলে এলএনজির সরবরাহ কমে গেলে গ্যাসের সংকট বেড়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। অনেক এলাকায় রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার গ্রাহকেরা চাপে পড়েছে। শিল্পও চাহিদামতো গ্যাস পাবে না। কমতে পারে গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনও।

এদিকে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাসের আওতাধীন এলাকার সব শ্রেণির গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের তীব্র স্বল্পচাপ বিরাজ করবে।

সিলিমপুর আবাসিকের ভেতর দিয়ে সড়ক নয়, বিকল্প রুটের প্রস্তাব সিডিএর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 3:43 pm
সিলিমপুর আবাসিকের ভেতর দিয়ে সড়ক নয়, বিকল্প রুটের প্রস্তাব সিডিএর

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তাবিত কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও কানেক্টিং সড়কের মধ্যে দুটি সিলিমপুর আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে প্লট মালিকদের মতামতের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীকে বিকল্প রুট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সিলিমপুর আবাসিক এলাকায় প্লট মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রস্তাবিত সড়কের স্থান পরিদর্শন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। এ সময় তিনি সম্ভাব্য রুটগুলো ঘুরে দেখেন এবং মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করেন।

সিডিএ সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুর একটি স্পর্শকাতর এলাকা। ওই এলাকার সঙ্গে একটি শান্ত ও সংরক্ষিত আবাসিক এলাকার সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হলে আবাসিকের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে স্থানীয় প্লট মালিকদের মতামত নিয়ে বিকল্প স্থানে সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সড়কটি মূল আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে করার সুযোগ নেই।

তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খালের পাড় ধরে সাময়িকভাবে একটি অস্থায়ী পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। স্থায়ীভাবে আবাসিক এলাকার ভেতর দিয়ে সড়ক নির্মাণ না করাই ভালো। প্লট মালিকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে বিকল্প স্থান দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বিকল্প রুটের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণের পর তারা সিডিএকে হালনাগাদ অগ্রগতি জানাবে।

সভায় দীর্ঘদিনের গ্যাস ও পানি সংকট নিরসনের আশ্বাসও দেন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দ্রুত পানির সংযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ওয়াসা দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এলাকার সব নাগরিক দুর্ভোগ দূর করা হবে।

এ সময় সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সিলিমপুর আবাসিক এলাকার প্লট মালিক সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।