খুঁজুন
বুধবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাখে ভক্তের আগমনে মুখরিত মাইজভান্ডার দরবার শরীফ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৪, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
লাখে ভক্তের আগমনে মুখরিত মাইজভান্ডার দরবার শরীফ

চলরে মন ত্বরায় যায় বিলম্বের আর সময় নাই, গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারী স্কুল খুলেছে….. একতারা, দোতারা, হারমোনি, তবলার তালে তালে কনকণে শীত উপেক্ষা করে মাইজভান্ডারে আশেক-ভক্তের ঢল নেমেছে। আশেক, ভক্ত, অনুরক্তরা আসছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে। সাথে সবুজ পতাকা ও ব্যানারে তরিক্বতের বিভিন্ন বানী। আল্লাহ, রাসুল (দ.) ও মাইজভান্ডারী তরিক্বতের শ্লোগান। সাথে স্বীয় পীর মুরশীদের দরবারে গরু, ছাগল, মহিষ, উঠ, গয়াল সহ আরো কত কি…..।

মাইজভান্ডারী দরবার শরীফের আধ্যাতিক সরাপতের প্রতিষ্ঠাতা গাউছুল আজম হযরত মাওলানা শাহসূফী সৈয়দ আহমদ উলাহ মাইজভান্ডারী (ক.) ১১৮তম বার্ষিক ওরশ শরীফ বুধবার (মহান ১০ মাঘ)। গত ২-৩দিন পূর্ব থেকে দেশ-বিদেশের লাখো ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে মাইজভান্ডার শরীফে।

বুধবার রাত ১২টা ১ মিনিটে আনজুমানে মোত্তাবেইনে গাউছে মাইজভান্ডারী শাহ এমদাদীয়া মঞ্জিলের শাজ্জাদানশীন শাহসূফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), দরবারে-গাউছিয়া আহমদিয়া মনজিলের সাজ্জাদানশীন ডা. সৈয়দ দিদারুল হক মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), সাজ্জাদানশীন সৈয়দ শহিদুল হক মাইজঅবন্ডারী (ম.জিআ), মাইজভান্ডার গাউছিয়া হক মনজিলের সাজ্জাদানশীন সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ), সৈয়দ মুনিরুল হক মাইজভান্ডারী (র.) শাহজাদাদ্বয় মুন্তাজেম সাজ্জাদানশীন সৈয়দ আহমদ হোসাইন শাহরিয়ার মাইজভান্ডারী (মজি.আ) এবং সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল মাইজভান্ডারী (ম.জি.আ) এর আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে ওরশের আনুষ্টানিকতা শেষ হবে। এ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন ও ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

পটভূমি:
সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ী ১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচার মানসে চট্টগ্রামে আগমন করে পটিয়া থানার কাঞ্চননগরে বসতি স্থাপন করেন। তারই বংশধর মাওলানা সৈয়দ মতিউলাহর সৈয়দ মতিউলাহর পবিত্র ঔরসে ১৮২৬ সালে, হিজরী ১২৪৪, ১২৩৩ বাংলা ১ মাঘ, বুধবার জোহরের সময় হযরত শাহ সুফী সৈয়দ আহমদ উলাহ মাইজভান্ডারী (কঃ) জন্ম গ্রহন করেন। ১২৬০ হিজরিতে তিনি উচ্চশিক্ষার্থে কলকাতা গমন, ১২৬৮ হিজরিতে কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসার শেষ পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে পাস করেন এবং হাদিস, তাফসির, ফেকাহ ইত্যাদি শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন। ১২৬৯ হিজরিতে যশোর জেলায় কাজী (বিচারক) পদে যোগদান করেন। ১২৭০ হিজরিতে সেই কাজী পদ থেকে পদত্যাগ করে কলকাতার মুন্সি বু-আলী মাদ্রাসায় প্রধান মোদাররেস পদে যোগদান করেন। তার পীর গাউছুল আজম মহিউদ্দীন আবদুল কাদের জীলানীর (রহ.) বংশধর শেখ সৈয়দ আবু শাহমা মুহাম্মদ ছালেহ আল কাদেরী লাহোরী (রহ.) এর নিদের্শে ১৮৫৭ সালে নিজ গ্রাম মাইজভান্ডারে ফিরে আসেন।

কিছুদিনের মধ্যেই তার কামালিয়তের কথা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঐশী-প্রেম পিপাসু সাধক ও দোয়া প্রত্যাশীদের ভিড়ে এই সাধকের পবিত্র বাসগৃহ আধ্যাত্মিক দরবারে পরিণত হয়। লোকসমাজে পরিচিতি পায় মাইজভান্ডার দরবার শরিফ হিসেবে। তিনি একমাত্র বাঙ্গালী সূফী সাধক। যিনি বাংলার জমিনে স্বতন্ত্র এক তরিকা প্রতিষ্টা করেন। যার নাম মাইজভান্ডারী তরিকা। ৭৯ বছর বয়সে ১৯০৬ ক্রিস্টাব্দে ১০ মাঘ সোমবার রাতে ইহধাম ত্যাগ করেন এ মহান সুফি সাধক। তার ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ৮, ৯ ও ১০ মাঘ ৩ দিনব্যাপী ওরশ শরিফ অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশ-বিদেশের লাখ-লাখ আশেক-ভক্তের সমাগম ঘটে।

মঙ্গলবার মাইজভান্ডার শরীফ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের ন্যায় ১০মাঘ মাইজভান্ডার শরীফের ওরশ উপলক্ষ্য করে মাইজভান্ডারের ৩/৪ মাইল এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। এতে কৃষি ব্যবহার্য্য পণ্য, কুঁটির শিল্প উৎপাদিত পণ্য, গ্রামীণ গৃহস্থালী সামগ্রী, ডালা, কুলা দা, বটি, বেলুণ, কাঠের পিড়া, মোড়া, পিটা তৈরীর বিভিন্ন চাচ, চুড়ি, বাশি খেলনা, মোলা-ওড়া ইত্যাদিবেশ বিকিনিকি হচ্ছে।

এদিকে ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষ্যে ফটিকছড়ি উপজেলা ও থানা প্রশাসন ব্যাপক আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনের প্রস্তুতি নিয়েছে। ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক সমন্বয় সভায় গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর মাজার ও মাইজভান্ডার শরীফ এলাকায় ক্লোজ-সার্কিট ক্যামরার মাধ্যমে সার্বক্ষনিক নজরদারি করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন রাখা, নাজিরহাট নতুন রাস্তার মাতায়, ফটিকছড়ি সদরে ও নানুপুর লায়লা-কবির কলেজ মাঠে যানবাহন পার্কিং, স্ব স্ব মনজিলের ব্যবস্থাপনায় লাইটিং করা, মাইজভান্ডার পুকুর আবর্জনা মুক্ত রাখা, প্রয়োজনীয় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, স্ব-স্ব মনজিলের পোষাক পরা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, মহিলাদের চলাচলের স্থানে মহিলা সেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, আযানের সময় সকল প্রকাল মাইকিং বন্ধ রাখা, নির্দিষ্ঠ সময়ের পরে গরু-মহিষ হাদিয়া প্রবেশ বন্ধ রাখা, পর্যাপ্ত পরিমানে ভ্রাম্যমান স্যানিটেশন ব্যবস্থা করা, গুরুত্বপূর্ণ সিধান্তের জন্য একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাসহ সব সবস্থানে পুলিশি টহল জোরদারকরা, সকল প্রকার যোগাযোগের জন্য একটি তথ্য কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দরবারে গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের শাহজাদা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইনন সোহেল মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে শরীফে বংলাদেশের প্রত্যন্ত
অঞ্চল ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বার্মা, ইরাক, ইরান, তুরষ্ক সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও ধর্মপ্রাণ মুসলমান সহ লাখো সুফী ভক্ত-আশেকগণের সমাগম ঘটে। আমরা ১০দিন ব্যাপী হযরতের মানবিক গুনাবলীর সমন্বয়ে মানবিক ও সামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছি।

শাহ এমদাদীয়ার নায়েবে শাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভান্ডারী জানান, গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর ওরশে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা লাখো ভক্তের সুবিধাত্বে থাকা-খাওয়া, প্রাথমিক চিকিৎসা, নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য লাইটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.)র জীবনী, শান-মান সম্ভলিত বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশের ব্যবস্থা হয়েছে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, ১০মাঘ ওরশ উপলক্ষে পূলিশ ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আইন- শৃংখলা রক্ষায় থানা পুলিশ-র‌্যাব-আনসার ও দুই সহস্রাদিক বিশেষ সেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

উল্লেখ্য, মাইজভান্ডারের প্রতিটি মনজিল এবছর ১
মাঘ থেকে ১০ দিন ব্যাপী মাইজভান্ডারী তরিকার মানবিক শিক্ষা, চিকিৎসা সেবা, সামাজিক কর্মকান্ড, এবাদতবন্দেগী, মাইজভান্ডারী সেমা মাহফিলসহ ব্যাপক আয়োজন করেছে।

Feb2

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনলাইনের মাধ্যমে কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন। পরে টাঙ্গাইলের ১৫ জন কৃষক-কৃষানির মধ্যে এই কার্ড ও ফলজ গাছ বিতরণ করা হয়।

টাঙ্গাইলের প্রথম কৃষক হিসেবে কৃষক কার্ড পান সদর উপজেলার বড়রিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবু কায়সার।

প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে প্রথম কৃষক কার্ড পাওয়া মোহাম্মদ আবু কায়সার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে কৃষক কার্ড পেয়ে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। কৃষক কার্ড দিয়ে সব সুযোগ-সুবিধা পাব। এখন আমরা এদেশের একজন গর্বিত কৃষক। কৃষক কার্ড পেয়ে আমি খুবই খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

চারুকলার বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রায়’ নতুন বছরকে বরণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
চারুকলার বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রায়’ নতুন বছরকে বরণ

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ। বাংলা সন ১৪৩৩ বরণ করে নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদ আয়োজন করেছে বর্ণাঢ্য ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এবারের শোভাযাত্রার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে এই শোভাযাত্রা শুরু হয়। পরে শাহবাগ থানার সামনে থেকে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদের সামনে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৯টা ৩ মিনিটে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং এর ঠিক তিন মিনিট পরেই বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে শোভাযাত্রাটি বের হয়।

শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছাড়াও অংশ নিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

শোভাযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের উপচেপড়া ভিড়ে পুরো এলাকা এক আনন্দঘন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের উত্তর গেট থেকে বের হয়ে শাহবাগ থানার সামনে দিয়ে ইউটার্ন নিয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি হয়ে দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে।

এরপর বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে ঘুরে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে এটি শেষ হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এবারের উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাস্ক বা মুখোশ পরা নিষিদ্ধ থাকায় অংশগ্রহণকারীরা চারুকলার তৈরি মুখোশগুলো হাতে নিয়ে প্রদর্শন করেন।

এবারের শোভাযাত্রায় বাংলার লোক-ঐতিহ্য ও সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মেলবন্ধনে পাঁচটি প্রধান মোটিফ বা প্রতীক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ‘মোরগ’ মোটিফটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে গণতন্ত্রের নবযাত্রাকে স্বাগত জানাতে মোরগকে নতুন ভোর ও জাগরণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম শেখ এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, একটি দীর্ঘ দুঃশাসনের পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যে নতুন সূর্যের উদয় হয়েছে, মোরগের ডাকে সেই শুভক্ষণকেই উদযাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাও ফুটে উঠেছে এই প্রতীকে।

সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে শোভাযাত্রায় রাখা হয়েছে আরও চারটি মোটিফ। বাউল শিল্পীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা ও লোকজ সংগীতের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এবং সাংস্কৃতিক শিকড়কে তুলে ধরতে আনা হয়েছে বিশালাকৃতির ‘দোতারা’।

শান্তি ও সহাবস্থানের বৈশ্বিক ডাক দিতে রাখা হয়েছে ‘পায়রা’। এ ছাড়া লোকশিল্পের আভিজাত্য ও শক্তির প্রতীক হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে নির্মিত হয়েছে ‘কাঠের হাতি’ এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত ‘টেপা ঘোড়া’ শোভাযাত্রাকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।

এবারের পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় মুখোশ পড়া নিষিদ্ধ থাকায় চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করতে দেখা যায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের। শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে ছিল পুলিশের সুসজ্জিত ১২টি ঘোড়ার বহর।

এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীর হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের বাজানো ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গানের সুরে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা।

শোভাযাত্রা শেষে টিএসসি প্রাঙ্গণে লোকজ সংস্কৃতির গান ও নৃত্যের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষের মূল অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘটে। চারুকলার এই বর্ণিল আয়োজন কেবল আনন্দ উৎসব নয়, বরং অন্ধকার ভেদ করে আলোর পথে ফেরার এক বলিষ্ঠ সংকল্পে রূপ নেয় এবারের পহেলা বৈশাখে।

চট্টগ্রামে বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ষবরণ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
চট্টগ্রামে বৈশাখী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বর্ষবরণ শুরু

নতুন বছরের প্রথম সূর্য উঠতেই উৎসবের রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সকাল বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ। বৈশাখের সকাল ঘিরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। আনন্দ-উচ্ছ্বাস আর বর্ণিল আয়োজনে চলছে বর্ষবরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শোভাযাত্রায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। এতে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এদিকে নগরের ডিসি হিল, সিআরবি শিরিষতলা, শহীদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বৈশাখকে বরণ করতে লাল-সাদা পোশাকে সেজে পরিবার-পরিজন নিয়ে বের হন নগরবাসী।

শোভাযাত্রা শেষে ডিসি হিল ও আশপাশ এলাকায় শুরু হবে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একই সময়ে সিআরবি শিরিষতলায়ও চলবে গান, নৃত্য ও লোকজ আয়োজন।

এদিকে, কাজীর দেউড়ি থেকে ডিসি হিল পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে আঁকা বৈশাখী আলপনা নগরবাসীর নজর কেড়েছে। রঙিন এ সজ্জা উৎসবের আমেজ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পরিবার নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সংস্কৃতিকর্মী সাদিকুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারি ও রমজানের জন্য কয়েকবছর পয়লা বৈশাখে বিভিন্ন আয়োজনে ভাটা ছিল। তাই এই বছর বর্ষবরণ নিয়ে সবার আগ্রহ বেশি। পরিবার নিয়ে শোভাযাত্রায় এসে ভালো লাগছে।

বর্ষবরণের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিশেষ করে ডিসি হিল ও সিআরবি এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে নগরবাসী যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে আনন্দ উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।