খুঁজুন
, ,

ব্যাংক থেকে এখনও শত শত কোটি টাকা তুলছে এস আলম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 22 August, 2024, 10:30 am
ব্যাংক থেকে এখনও শত শত কোটি টাকা তুলছে এস আলম

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোর ঋণ ছাড়ে বিধিনিষেধের মধ্যে কৌশলে টাকা বের করে নিচ্ছে গ্রুপটি। নিয়ন্ত্রণ হারানোর শেষ সময়ে ভেঙে ভেঙে এক কোটি বা তার কম অঙ্কের পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

কেবল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) খাতুনগঞ্জ শাখায় এক হাজার ১১৩ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে, এ রকম একটি প্রতিষ্ঠানের নামে গতকাল বুধবার ১৬টি পে অর্ডারের মাধ্যমে ১৫ কোটি ১ লাখ টাকা বের করে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ।

এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলম মাসুদের জামাতার প্রতিষ্ঠান ইউনিটেক্স এলপি গ্যাসের নামে সোমবার অগ্রণী ব্যাংকে চেক দিয়ে বের করে নেয় ৫০ কোটি টাকা। বিধিনিষেধের মধ্যেই এভাবে এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা বের করা হচ্ছে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সহায়তায় এমন এক সময়ে এভাবে টাকা বের করা হচ্ছে, যখন অনেক আমানতকারী অর্থ পেতে হিশিম খাচ্ছেন।

জানা গেছে, নামে-বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ২ লাখ কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়ে বড় অংশই পাচার করেছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে অন্তত ৭৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে গ্রুপটি। এসআইবিএল থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণ ১৫ থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকার মতো। জনতা ব্যাংকের রয়েছে ১৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এছাড়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ঋণের বড় অংশের সুবিধাভোগী এস আলম গ্রুপ। এর বাইরেও বিভিন্ন ব্যাংকে তার বড় অঙ্কের ঋণ রয়েছে।

মূলত ভোগ্যপণ্য ব্যবসার আড়ালে নন-ফান্ডেড দায়কে ফান্ডেড ঋণে পরিণত করার মাধ্যমে অর্থ বের করা হয়। ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহায়তায় সব ধরনের নির্দেশনা অমান্য করে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের নামে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখায় এক হাজার ১১৩ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। এর মধ্যে ফান্ডেড ৩৭৫ কোটি টাকা। বাকি ৭৩৮ কোটি টাকা নন-ফান্ডেড। মাত্র ৩৪৩ কোটি টাকা সীমার বিপরীতে বিপুল অঙ্কের এ ঋণ দিয়েছে ব্যাংকটি। গতকাল দুটি এলসির বিপরীতে সৃষ্ট বিলের মাধ্যমে ১৫ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৪ টাকা বের করা হয় ১৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে।

মূলত ব্যাংকটির চলতি হিসাবে ঘাটতি থাকায় অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে চেক নগদায়ন করতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার কারণে ঘাটতিতে থাকা ব্যাংক এক কোটি টাকার বেশি চেক নিচ্ছে না। এ কারণে ১৬টি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এ অর্থ বের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ এসআইবিএলের চেয়ারম্যান। তাঁর মালিকানাধীন ইউনিটেক্স এলপি গ্যাসের নামে গত ১৯ আগস্ট ৫০ কোটি টাকা বের করা হয়। অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিটি ৯০ লাখ টাকা চেক জমা দিয়ে এ অর্থ বের করা হয়েছে। এভাবে প্রতিদিনই বিপুল অঙ্কের অর্থ বের করে নিচ্ছে গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

এসআইবিএলের একজন কর্মকর্তা বলেন, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শেষ সময়ে এভাবে টাকা বের করে নিচ্ছে। ব্যাংকের এমডি, ডিএমডিসহ ঊর্ধ্বতন সবাই তাদের নিজস্ব লোক হওয়ায় বেশির ভাগ ঘটনা অধস্তনরা জানতেই পারছেন না। এ অবস্থার অবসান ঘটাতে দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ দরকার।

তিনি বলেন, আমানতকারীরা আস্থাহীনতার কারণে প্রতিদিন প্রচুর আমানত ভেঙে ফেলছেন। এস আলম গ্রুপ এমনিতেই প্রচুর টাকা বের করে নিচ্ছে। এরকম অবস্থায় আরও টাকা বের করে নিলে ব্যাংক বাঁচবে কী করে।

জানা গেছে, শুধু যে এসআইবিএল থেকে টাকা বের করা হচ্ছে তা না। গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণে থাকা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক থেকে নানা কৌশলে ঋণের নামে টাকা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। মূলত এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিনিয়োগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ শাখার ব্যবস্থাপকরা এস আলম ঘনিষ্ঠ। এখনও দূর থেকে এস আলম গ্রুপের দেওয়া নির্দেশনার আলোকেই এসব ব্যাংক পরিচালিত হচ্ছে।

কেবল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের কর্মীরা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এরই মধ্যে এস আলম ঘনিষ্ঠ ৬ ডিএমডিসহ ৮ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এস আলমের সহযোগী অন্যরা ভয়ে আর ব্যাংকে ঢুকতে পারছেন না। গত ৬ ও ৭ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার মাধ্যমে ৮৪৮ কোটি টাকা বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় গ্রুপটি।

সরকার পরিবর্তনের পর এস আলম ঘনিষ্ঠরা গা-ঢাকা দিয়েছেন। এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ৬ ব্যাংকের ঋণ বিতরণে গত ১৯ আগস্ট বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ব্যাংক কৃষি, চলতি মূলধন, সিএমএসএমই, প্রণোদনা প্যাকেজ এবং নিজ ব্যাংকে রক্ষিত এফডিআরের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা দিতে পারবে। এলসি খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ নগদ মার্জিন নিতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা সীমাতিরিক্ত বকেয়া স্থিতির নগদ আদায় ছাড়া বিদ্যমান বিনিয়োগ সুবিধা দেওয়া যাবে না। এর আগে গত ১৬ আগস্ট এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোর চলতি হিসাব ঘাটতি থাকা অবস্থায় যেন অন্য ব্যাংক এক কোটি টাকার বেশি চেক নগদায়ন না করে সে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া গ্রুপটির শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই বিপুল অঙ্কের টাকা বের করছে গ্রুপটি।

Feb2
Feb2

বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 7 September, 2026, 3:38 pm
বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন আবার চালুর উদ্যোগ, বৈঠক ৮ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে বার্ষিক বৈঠকে আলোচনা হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী বৈঠকে তিনটি ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের সূত্র বলছে, দুই দেশ সম্মত হলে আগামী মাস থেকেই বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোর চলাচল শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা রুটে নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাবও দেবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে পরিচালনার আগ্রহের কথা জানাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের এ বৈঠকটি আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (ইন্টার-গভর্নমেন্টাল রেলওয়ে মিটিং— আইজিআরএম) নামে পরিচিত। এবার ঢাকার রেলভবনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকের জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েরও আগ্রহ রয়েছে। তবে ট্রেন তিনটির চলাচল শুরুর ক্ষেত্রে শুধু দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের সম্মতি যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মতামত প্রয়োজন হবে। মঙ্গলবারের বৈঠকে এসব মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায় থেকেই আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আইজিআরএম বৈঠকটি প্রতিবছর বাংলাদেশ ও ভারতে পালাক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের ২০ থেকে ২২ জানুয়ারি ভারতের নয়াদিল্লিতে। কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর এবার ঢাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়ে। ১৬ জুলাই মৈত্রী এক্সপ্রেসের চলাচল স্থগিত করা হয়। পরে ১৯ জুলাই থেকে মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী— তিনটি ট্রেনের চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর চলাচল আর স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আইজিআরএম বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস বর্তমানে ঢাকা ও কলকাতার মধ্যে চলাচল করে। বন্ধন এক্সপ্রেসের রুট খুলনা-কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা-নিউ জলপাইগুড়ি। এসব ট্রেন পুনরায় চালুর পাশাপাশি রাজশাহী-কলকাতা রুটে নতুন ট্রেন চালুর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃদেশীয় রেল যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না : রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 6 September, 2026, 9:32 pm
ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত-সংঘর্ষ চাই না : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে বলবো— আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু সংঘাতে কখনো জড়াবেন না।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব নির্বাচনী প্রচারণায় এসেছিলেন। তিনি আপনাদের সামনে কতগুলো কথা দিয়েছিলেন। আমরা যে দাবিগুলো রেখেছিলাম, তার মধ্যে ছিল আমাদের একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি হয়ে গেছে, ভাইস চ্যান্সেলর বসে আছেন, সামনে এখন শিক্ষক নেবে। জমির টাকা দেওয়া হয়ে গেছে। কালকে ইনশাআল্লাহ আমরা সেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। সেখানে আপনাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া, উচ্চশিক্ষা লাভ করতে পারবে। এখানে মেডিকেল কলেজের কথা বলেছিলাম, আমাদের মনে আছে। আপনাদের মেডিকেল কলেজ হয়েছে, জায়গাও ঠিক হয়ে গেছে, আগামী বছর থেকে ইনশাআল্লাহ ছাত্রভর্তি শুরু হবে। আমাদের ভূল্লী ও রুহিয়ার দুইটা আলাদা উপজেলা করার দাবি ছিল আপনাদের, দুটোই হয়ে গেছে, ইউএনও যোগ দিয়েছেন এবং কাজ শুরু হয়ে গেছে।

বিমানবন্দর ও শিল্পায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিমানবন্দর আপনারা চাইছিলেন, আমি রাজি হয়েছি আপনাদের কথায়। বিমানবন্দর হলে আমাদের সাধারণ মানুষ খুব একটা উপকৃত হবে তা নয়, কিন্তু যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করবেন তাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিমানবন্দরটাকে যদি চালু করতে হয়, ভবিষ্যতে টিকিয়ে রাখতে হয়, তাহলে আমাদের এখানে কলকারখানা বাড়াতে হবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কলকারখানা, ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি একদম নেই। মানুষের কাজ নেই। এই কাজের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। সরকারে আসার পরপরই আমরা এখানে অর্থ উপদেষ্টাকে নিয়ে এসেছিলাম, তিনি পুরো জায়গাটা দেখেছেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীও এসেছিলেন, তিনিও সব ঘুরে দেখেছেন। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য কিছু বিনিয়োগকারীকে এখানে নিয়ে আসতে সক্ষম হব।

চীনের সঙ্গে সহযোগিতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা এখানে চীনের রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে এসেছিলাম। এই স্টেডিয়ামে তিনি প্রায় ছয় হাজার শিশুকে স্কুলব্যাগ দিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে দশজন ছাত্র ও পাঁচজন শিক্ষককে চীনে ঘুরিয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা আশা করছি, এখানে কলকারখানা তৈরির জন্য চীন থেকেও বিশেষজ্ঞরা আসবেন।

রাজনৈতিক সহনশীলতার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ খুব নির্ঝঞ্ঝাট। এখানে মামলা-মোকদ্দমা সবচেয়ে কম হয় এবং সবাই নির্ঝঞ্ঝাট থাকতে চায়। আমরা এই অবস্থাটা রাখতে চাই। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে কোনো সংঘাত, কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে বলব, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, মতবাদ প্রচার করবেন, কিন্তু কখনো সংঘাতে জড়াবেন না। অতীতে আমরা দেখেছি, ঠাকুরগাঁওয়ে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষদের ওপর কী অকথ্য নির্যাতন হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, শত শত-হাজার হাজার মিথ্যা মামলায় আমাদের শ্রমিক-কৃষকদের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সেই সময়টা পার হয়ে এসেছি।

তিনি আরও বলেন, প্রিয় ঠাকুরগাঁওবাসী, আমি সেসব কথা বলে আপনাদের ভারাক্রান্ত করতে চাই না। আমরা অনেক ত্যাগ ও রক্তপাতের বিনিময়ে আজ এখানে এসেছি। কিছুক্ষণ আগে দেখলেন, কয়েকজন মহিলা এসে সহযোগিতা নিয়ে গেলেন, তাদের সকলেরই সন্তান এই সংগ্রামে নিহত হয়েছে। এ রকম মৃত্যু, এই রক্তপাত আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা যে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রকে আমরা রক্ষা করতে চাই। আমরা বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই একটা সমঝোতার রাজনীতি দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই না যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানের মধ্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হয়। আমরা দেখতে চাই সবাই একসঙ্গে একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজেদের অধিকার নিয়ে বসবাস করুক।

মঞ্চে উপস্থিত অন্য দুই রাজনৈতিক নেতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আজ দুলু সাহেব আছেন, তার জেলা লালমনিরহাট, তিনি সেখানে চমৎকার একটা পরিবেশ তৈরি করেছেন। আমাদের পাশের জেলার মন্ত্রী ফরহাদ আজাদ সাহেবও আছেন, তিনিও পঞ্চগড়কে একটি আলোকিত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। আমার অনুরোধ থাকবে, কোনো হানাহানি নয়, আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই আমরা রাজনীতি করব। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সহিষ্ণুতা।

মন্ত্রী থাকাকালে নেওয়া উদ্যোগের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম, তখন এই এলাকায় মাদরাসা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭২ কোটি টাকার সহযোগিতা করা হয়েছে।

দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে আনন্দ সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 6 September, 2026, 7:38 pm
দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে চট্টগ্রামে আনন্দ সমাবেশ

বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী আদর্শের’ মুখপাত্র দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসের উদ্যোগে পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি পিআরইউ’র আহ্বায়ক ও দৈনিক দিনকাল ব্যুরো চীফ হাসান মুকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত।

উক্ত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বিনিময়, আনন্দ সুধী সমাবেশ ও সংস্কৃতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ‌ অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আব্দুস সাত্তার, আব্দুল হালিম শাহ আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদুল আলম চৌধুরী রাসেল, শওকত আজম খাজা, সাবেক কমিশনার নিয়াজ মোহাম্মদ খাঁন, মহানগর যুবদল সভাপতি মোশারফ হোসেন দীপ্তি, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সাংবাদিক নেতা মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, সাংবাদিক নেতা সালেহ নোমান, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুল ইসলাম, গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহ , ডা: এসএম সারোয়ার আলম, আবু সালেহ, ফজলুল হক সুমন, মামুনুর রশিদ শিপন, সাইফুল ইসলাম টুটুল, জসীম উদ্দীন চৌধুরী, তানভীর মল্লিক, মিয়া মোহাম্মদ হারুন, মহানগর যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক ও লেখক জহিরুল ইসলাম জহির, স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য’ ও জিয়া স্মৃতি পাঠাগার চট্টগ্রামের সহ- প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন খাঁন, ড্যাব নেতা ডাক্তার এস এম রিয়াসাদ সাহাবুদ্দিন, ডাক্তার ইফতেখার আদনান, ডাক্তার মেহেদী হাসান, ডাক্তার সৈয়দ মোঃ হোসেন ফাহাদ, ডাক্তার মাইমুন রিদোয়ান চৌধুরী, ডাক্তার সামিউল, এস এম শাহরিয়ার জিয়া, ডাক্তার হাসিবুল হাবিব, ডাক্তার সামেদ আহাম্মেদ, সাইফুল ইসলাম ইমন, ডাক্তার সাজিদ রোহান, মোঃ মুশফিকুর রহমান, শাহেদ হাওলাদার, সাবেক কাউন্সিলর জেসমিন খাঁনম, বেগম খালেদা বোরহান, জিন্নাতুন নিছা জিনিয়া, সেলিম উদ্দিন রাসেল, শাহেদুল ইসলাম, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, বেগম শামসুন নাহার বাবুল, জসীম উদ্দীন সাগর, হাফেজ মোঃ কামাল উদ্দিন, লায়ন সালাউদ্দিন আলী, মিম ইসলাম, সানজিদা ইসলাম, খোরশেদ আলম কে আলম, হামিদুল হক চৌধুরী, মোছাঃ নাসরিন, মইনুদ্দিন খাঁন রাজিব, আসিফ চৌধুরী লিমন, সৌরভ প্রিয় পাল, এ্যাব নেতা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম, সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম, দিদারুল ইসলাম, মোহাম্মদ কলিম উল্লাহ, ইমরান হোসেন, সৈয়দ সাফওয়ান আলী, সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য সচিব ইমরান এমি, সূফিবাদী ঐক্য ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা নুর মোহাম্মদ রানা, মোরশেদ রনী, কাজী সরোয়ার মঞ্জু, ফরহাদুল ইসলাম, জাহেদ চৌধুরী, এএফ রুমী, এডভোকেট রেজাউল, ইকবাল হায়দার, দীপক চৌধুরী কালু, সাজু দাস, টিটু মহাজন, জাভেদ ওমর, সাংবাদিক নেতা সাইফুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, ইসমাইল ইমন, কামরুল কুতুবী, শফিউল শামু, মেহেদী হাসান রায়হান, জাহেদ হোসেন ইফতি, মোঃ সালাউদ্দিন, নাহিদা নাজু, এস. বি‌‌ সুমী, ইকবাল পিন্টু, রিফাত চৌধুরী লিজা, আলমগীর, মোঃ মামুন, কুতুব উদ্দিন নয়ন, শাহাদাত হোসেন সাজ্জাদ, সত্যজিৎ বড়ুয়ার রুপু, বোরহানুল হক, এস এম তৈয়ব, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম জাহেদ, সালেহ আহাম্মদ খোকন, নজরুল ইসলাম, জুলাই যোদ্ধা রিদওয়ান সিদ্দিকী, কাজী সাকলাইন মোস্তফা, ইলিয়াস আকাশ, মুহাম্মদ সারোয়ার, মীর মোহাম্মদ মোবারক হোসেন, মোঃ রুবেল, শরিফুল ইসলাম আবীর, মঞ্জরুল আলম, মো: রাকিব, জাহিদুল ইসলাম আরাফাত সহ- পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি পিআর ইউ’র নেতৃবৃন্দ।

 

৪১ বছর পর্দাপন অনুষ্ঠানে নেতৃবৃন্দ বলেন, আজ একটি আনন্দ ও গৌরবের দিন। আজ দৈনিক দিনকাল তার গৌরবময় পথচলার ৪১ বছর পূর্ণ করেছে। এই দীর্ঘ পথচলায় পত্রিকাটি বাংলাদেশের সংবাদপত্রের জগতে একটি পরিচিত নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ৪১ বছর শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি চার দশকেরও বেশি সময়ের শ্রম, নিষ্ঠা, সাহস, প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই এবং পাঠকের ভালোবাসার প্রতিফলন।

একটি সংবাদপত্রের মূল শক্তি হলো সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রতি তার অঙ্গীকার। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের ধরন ও প্রযুক্তি বদলেছে, পাঠকের প্রত্যাশা বদলেছে; কিন্তু মানুষের জানার অধিকার, সত্য জানার আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার প্রয়োজন কখনো বদলায়নি। সেই দায়িত্বকে সামনে রেখে দিনকাল-এর পথচলা আরও সমৃদ্ধ হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আজকের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের সঙ্গে যুক্ত সকল ব্যক্তি, সাংবাদিক, সম্পাদক, লেখক, কর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের। যাঁদের শ্রম ও অবদানে দিনকাল আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে, তাঁদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের সামনে নানা চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার, ভুয়া তথ্যের প্রবাহ এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই যুগে একটি সংবাদপত্রের জন্য বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী দিনের দিনকালকে আরও আধুনিক, অনুসন্ধানী, জনবান্ধব এবং প্রযুক্তিনির্ভর সংবাদমাধ্যম হিসেবে এগিয়ে যেতে হবে।