খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা আরজেএ’র ‘বান্দরবান ভ্রমণ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা আরজেএ’র ‘বান্দরবান ভ্রমণ

বার্ষিক পিকনিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনদিন দুই রাতের বান্দরবান ভ্রমণ-সফলতার সাথেই সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (আরজেএ)।

রোমাঞ্চকর পিকনিকের পরিকল্পনায় মুগ্ধ সাংবাদিকরা। মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি, ঝর্ণার শীতলতা এবং আদিবাসী সংস্কৃতি উপভোগ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়েছে সংগঠনটির একঝাক গণমাধ্যমকর্মী।

গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের শুরুতেই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা দেয় সদস্যবৃন্দ। দুপুর সাড়ে ১২টায় বান্দরবান শহরের বাস স্টেশনে পৌঁছে হালকা নাস্তা করে সাংবাদিকদের বহর ছুটে যায় বালাঘাটা বাজারের দিকে। সেখানে আগে থেকেই আয়োজকরা ঠিক করে রাখেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজের পুরো ভবন। ভবনে পৌঁছে যে যার পছন্দ মতো রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সবাই ফ্রেশ হতে হতে দৈনিক আইনবার্তার বান্দরবান প্রতিনিধি সাংবাদিক কাজী জুয়েল দুটি জিপ গাড়ি নিয়ে রেস্ট হাউজের সামনে এসে হাজির। বিশ্রামের আর সময় নেই, এবার শুধু ছুটে চলা। এরপর, রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষ করে নিলাচল ও প্রান্তিক লেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে সবাই।

প্রান্তিক লেকের শান্ত এবং নিরিবিলি পরিবেশে সাংবাদিকরা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ পান। আর অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মনোরম পরিবেশের জন্য বিখ্যাত নিলাচল, ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। সেই সময়ের সৌন্দর্য, মেঘে ঢাকা পাহাড়, শান্ত জলাশয় এবং সবুজের মাঝে ঘুরে বেড়ানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

এদিনের ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় সদস্যরা রেষ্ট হাউজে ফিরে এসে দিনটি শেষ করেন। সেখানে রাতে একদিকে চলে ঘরোয়া পরিবেশে রান্নার আয়োজন। অন্যদিকে সবাই একত্রিত হয়ে আলোচনা ও মনোজ্ঞ সময় কাটান। এরইমধ্যে সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে খোঁজ খবর নিয়েছেন ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক হোছাইন জিসান।

এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সাংবাদিক সংগঠন আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “এ ধরনের প্রকৃতি ভ্রমণ আমাদের কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে। বান্দরবানের অপূর্ব সৌন্দর্য আমাদের অনেক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।” পিকনিকের প্রথম দিনটি ছিল শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটিয়ে একযোগভাবে সম্পর্ক গড়ার এক অমূল্য সুযোগ।

প্রথম দিনটির সফলতার পর, দ্বিতীয় দিন সকাল শুরু হয় একটি সুস্বাদু নাস্তায়। এরপর, সংগঠনের সদস্যরা জিপ ভাড়া করে বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্থান নীলাগিরির উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ ছোঁয়ার স্থান নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে এসে থামে গাড়ি। এর পর দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিক সংগঠনটির সদস্যরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যান। সেখানকার অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ি অঞ্চল এবং সবুজের ছায়ায় ঘুরে বেড়ানো এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। দুপুরে সেখানকার স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে, সদস্যরা আবার বান্দরবান শহরে ফিরে আসেন। আসার পথে তাদের বহনকারী জিপ গাড়িটি থামে শৈলপ্রপাতের দর্শনীয় স্থানে। শৈলপ্রপাত ঝর্ণা-র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও শান্ত পরিবেশ সকলের মনকে আরও গভীর প্রশান্তি দিয়েছে। তাছাড়া সেখানে পাহাড়ি আদিবাসিদের ছোট্ট মার্কেট ঘুরে যে যার পছন্দমতো বাজার করার সুযোগ পেয়েছে। একইদিন বান্দরবান শহরে যখন গাড়ি দাঁড়ায় তখন সন্ধ্যা ৭টা। বান্দরবানের অভিজাত রিসোর্ট মেঘদূত এ আবারও এক জাঁকজমকপূর্ণ ভোজনের আয়োজন করা হয়।

এসময় আরজেএ নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বান্দরবান সেনা জোন এনসিও মঞ্জুরুল ইসলাম ও সোহান। এরই মধ্যে নেতৃবৃন্দের সাথে চা চক্রের আগ্রহ প্রকাশ করে গাড়ি পাঠিয়েছিলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান খান । পরে তাঁর অফিস ও বাসায় ২ দফা চলে চা আড্ডা ও ফটো সেশন। রাত ৯টার মধ্যে আবারও রেষ্ট হাউজে ফেরা এবং আগের দিনের মতোই হরেক রকম পদের ঘরোয়া রান্নায় হাত ও জিপ চেটে খাওয়া দাওয়া। সবশেষে সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ-আড্ডায় মেতে ওঠে।

পরদিন ভ্রমনের শেষ দিন শনিবার সকালে নাস্তা করে দুপুর ১২টায় বাসে করে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দ্যেশে যাত্রা। এভাবেই প্রকৃতির মাঝে কাটানো দুটো দিন এবং একে অপরের সাথে সময় কাটিয়ে সবাই সত্যিই নবোদ্যম ও সজীব হয়ে ফিরে আসে।

এ বিষয়ে আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহের পেছনে ছুটতে ছুটতে অনেক সময়ই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এমন একটি ভ্রমণ আমাদের সকলকে একত্রিত করে, একে অপরের সাথে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ দেয় এবং আমাদের মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।” এভাবে, এই তিন দিনের ভ্রমণটি শুধু একটি প্রকৃতিভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল সাংবাদিকদের জন্য একটি পরিপূর্ণ রিফ্রেশমেন্ট, যেখানে প্রকৃতি, বন্ধুত্ব এবং আনন্দের সম্মিলন ঘটেছিল।

সংগঠনের সভাপতি দৈনিক সকালের সময়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টুর নেতৃত্বে তিনদিনের বান্দরবান ভ্রমণে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন, সাংবাদিক নাছির উদ্দিন রকি, এম আর আমিন, সেলিম চৌধুরী, ফয়েজ রেজা, শেখ মোরশেদ আলম, রাজীব সেন প্রিন্স, আব্দুল মতিন চৌধুরী রিপন, মোস্তফা জাহেদ, মো. আলমগীর, জাহাঙ্গীর আলম, মো. এরশাদ, রাকিব উদ্দিন, হাসান সৈকত, পরিতোষ বড়ুয়া রানা, গাজী গোফরান, আনিসুর রহমান ও মো. তৈয়ব চৌধুরী।

বান্দরবানের সাংবাদিক কাজী জুয়েল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আরজেএ’র সদস্যদের সময় দিয়েছেন।আরজেএ তাঁর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

Feb2

ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ফের বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক, রং নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি

বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউনিফর্মের রঙ নিয়ে বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষাপটে আবারও পুরোনো ঘরানার রঙে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুলিশের পোশাকে এখন থেকে গাঢ় নীল এবং হালকা অলিভ বা জলপাই রঙের সংমিশ্রণ দেখা যাবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখা থেকে এই পরিবর্তনের সপক্ষে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধনের একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, ইতিপূর্বে শার্টের রঙ লোহার মতো এবং প্যান্টের রঙ কফি নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এই রঙ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের মাঝেও এটি নিয়ে নেতিবাচক আলোচনা শুরু হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুনরায় রঙ নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

পরিবর্তিত নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রঙ হবে হালকা অলিভ বা জলপাই। অন্যদিকে এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি এবং র‍্যাব বাদে পুলিশের অন্যান্য সকল ইউনিটের জন্য শার্টের রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে গাঢ় নীল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রঙ হবে খাকি (টিসি টুইল)। এই নতুন রূপরেখা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি বিধিমালা সংশোধনের খসড়া ইতিমধ্যই চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, পুলিশের এই ইউনিফর্ম পরিবর্তনের ফলে সরকারের ওপর অতিরিক্ত কোনো আর্থিক চাপ পড়বে না। যেহেতু ইউনিফর্মগুলো নিয়মিত সরবরাহ ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রদান করা হয়, তাই বর্তমান বাজেটের মধ্যেই এই সমন্বয় করা সম্ভব হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন পোশাকের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। মূলত বাহিনীর সদস্যদের সন্তুষ্টি এবং পেশাগত গাম্ভীর্য বজায় রাখতেই এই রঙ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
সংসদে নারী আসনে জামায়াতের ৮, এনসিপিসহ বাকিদের ৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নিজেদের মনোনীত প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। দলীয় আসন সংখ্যার অনুপাতে জোটটি মোট ১৩টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তালিকাটি প্রকাশ করেন।

জামায়াতের আট নারী যাচ্ছেন সংসদে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে যাচ্ছেন দুজন। এ ছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একজন এবং জুলাই শহীদ পরিবারের একজনকে নারী আসনের সংসদ সদস্য করা হচ্ছে এই জোট থেকে।

প্রকাশিত তালিকায় রয়েছেন— নুরুন্নিসা সিদ্দীকা (সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), মারজিয়া বেগম (সহকারী সেক্রেটারি, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগ), এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী (আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সেক্রেটারি), নাজমুন নাহার নীলু (প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি বিভাগীয় সেক্রেটারি), অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান (কেন্দ্রীয় ইউনিট সদস্য ও সাবেক সেক্রেটারি, সিলেট মহানগরী), সাজেদা সামাদ (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বগুড়া অঞ্চল পরিচালিকা), শামছুন্নাহার বেগম (কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা), ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ (কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, নারী অধিকার আন্দোলন) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। মনিরা শারমিন (কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক) ও ডা. মাহমুদা আলম মিতু (কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব) এনসিপি। ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান (সভাপতি, জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা হাকিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং রোকেয়া বেগম (জুলাই শহীদ জাবির ইব্রাহীমের মা)।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১–দলীয় ঐক্য ৭৭টি আসনে জয়লাভ করে। সেই অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে জামায়াত জোট ১৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি জোট ৩৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে। দলের পক্ষ থেকে মনোনীত প্রার্থীদের এরই মধ্যে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো জুলাই বিপ্লবে শহীদ শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে মনোনয়ন দেওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ৬ বছর বয়সী শিশু জাবির। তার মায়ের এই মনোনয়নকে জোটের পক্ষ থেকে একটি সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় হওয়ায় আজ রাতেই সব শরিক দল চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
সবাই মিলে কাজ করলে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছি। সবাই মিলে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। খাল খনন করতে পারলে বন্যার সময় মানুষ, সম্পদ, গবাদিপশু ও ফসল রক্ষা করা যাবে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে বগুড়ার বাগবাড়ী নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে চৌকিদহ খালটা কাটলাম। এখানে যদি কোনো মুরুব্বি থাকেন- যাদের বয়স ৬০-৭০ এর বেশি, তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, এই খালটা আমার আব্বা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে কেটেছিলেন। এই খালটা আমরা কাটলাম, প্রায় এক কিলোমিটার মতো লম্বা। এই খালটা কাটার ফলে বর্ষার সময় অতিবৃষ্টিতে আশেপাশে যে পানি উঠে, তা এখানে জমা হবে। আবার শুকনা মৌসুমে যখন পানি পাওয়া যায় না, তখন এই খালে পানি থাকলে কৃষকরা তাদের জমিতে চাষাবাদের জন্য পানি পাবে। অর্থাৎ এলাকার মানুষের উপকার হবে।

স্থানীয়দের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চলুন আমরা এই খালটা পুনঃখনন করি, পানি ফিরিয়ে আনি। খালের দুই পাশে গাছ লাগাই। খালের মধ্যে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটাও দেখা হবে- যাতে এলাকার বেকার তরুণরা কাজ পায়। মা-বোনেরাও পাশে শাকসবজি চাষ করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে মানুষ যেমন পানির কষ্ট পাচ্ছে, তেমনি বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ধরে রাখা যাচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনের সময় পানি পাওয়া যায় না। তাই খাল খনন জরুরি।

তিনি বলেন, আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। এই খাল কাটাসহ যেসব কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা যেন সফল হয়-সেজন্য দোয়া করবেন। এটা তো নিজের বাড়ি, ঘরের লোকজন। কয়েকদিন পর আবার আসবো ইনশাআল্লাহ।

এর আগে দুপুর ২টায় নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে বাগবাড়ীর জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। পরে বিকেল ৩টায় শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ মাঠে উপকারভোগীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেন।

বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে নশিপুরে অবস্থিত চৌকিরদহ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে পৌঁছালে খালের দুই পাড়ে অবস্থান নেওয়া হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

খাল খনন কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক বাড়িতে যান। সেখানে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।