খুঁজুন
শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের বিপুল জনগোষ্ঠী পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত : সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৯, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের বিপুল জনগোষ্ঠী পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত : সুজন

-আলম-সুজন

অনিয়ম দূর্নীতি ও চিকিৎসা বেনিয়াদের হাত থেকে জনগনের স্বাস্থ্য সেবা রক্ষা করার আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ (২ অক্টোবর) বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবীর এর সাথে তাঁর দফতরে এক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী। জনসংখ্যার দিক থেকে ঢাকার পরেই চট্টগ্রামের অবস্থান। সে কারনেই জীবন ও জীবিকার তাগিদে বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর বসবাস এই চট্টগ্রামে।

কিন্তু এই বিপুল জনগোষ্ঠী পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনই ধারন ক্ষমতার অধিক রোগী ভর্তি হন। সিট স্বল্পতার কারণে অধিকাংশ রোগীকে মেডিকেলের ফ্লোরে কিংবা বারান্দায় চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। সরকার নিয়মিত যন্ত্রপাতি ও ওষুধপথ্যের সরবরাহ দিয়ে যাচ্ছে। আছে চিকিৎসক, নার্স, আয়াসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুধু নেই জনগনের কাংখিত চিকিৎসাসেবা।

তিনি আরো বলেন, প্রাইভেট হাসপাতালগুলো চিকিৎসা সেবার নামে রোগীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত রোগীদের যাচ্ছেতাই লুটতরাজ করছে। নগরীর বিভিন্ন অলি গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা ক্লিনিকগুলোর উপযুক্ততা কিংবা প্রয়োজনীয় সংখ্যক যন্ত্রপাতি আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। ক্লিনিকগুলোর বিভিন্ন প্যাথলজী পরীক্ষার রেইট এবং রুমের ভাড়া প্রকাশ্যে প্রদর্শন করতে হবে। তাছাড়া রোগী ভর্তি হওয়ার পূর্বেই রোগীর আনুসাঙ্গিক খরচ সম্পর্কে একটা পূর্ব ধারনা দিতে হবে। দেখা যাচ্ছে যে, রোগীর বিলের কোন প্রকার ধারনা ছাড়াই রোগীকে ক্লিনিকে ভর্তি করা হচ্ছে পরবর্তীতে বিশাল অংকের একটা বিল রোগীকে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে যা নিয়ে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগীর এবং রোগীর আত্নীয় স্বজনদের সাথে বাদানুবাদ লেগেই থাকে। হরহামেশাই একই রকম পরীক্ষা একেক ক্লিনিকে একেক রকম রিপোর্ট দিচ্ছে যা রোগীদের সাথে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।

এছাড়াও শুক্রবার এবং শনিবার মেডিকেলে কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া যায় না ফলতঃ এই দুইদিন রোগীরা আতংকিত অবস্থায় থাকে।

তিনি ক্লিনিক মালিকদেরকে কমপক্ষে মাসে দুইদিন বহিঃবিভাগে দুঃস্থ ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিও’র একটি অংশ দরিদ্র রোগীদের জন্য বরাদ্ধ রাখার আহবান জানান।

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন চট্টগ্রামের জনসংখ্যা ইতিমধ্যে ৫০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এতো বিপুল জনগোষ্ঠীর তুলনায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত নাজুক।

তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য প্রকল্পের মতো নগরীর প্রতি থানা অথবা দুই থানার কেন্দ্রস্থলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।

তিনি বন্দরের হাসপাতালেও সাধারণ রোগীদের জন্য ২৫ শতাংশ সিট বরাদ্ধ রাখার দাবী জানান।

সুজন স্বাস্থ্য পরিচালকের দফতর থেকেই বেসরকারী ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি ডাঃ লিয়াকত আলীর সাথে ফোনে কথা বলে জনগনের এসব দুরবস্থার কথা অবহিত করেন এবং বেসরকারী ক্লিনিক মালিক সমিতির সাথেও উপরোক্ত বিষয়ে মতবিনিময়ের আগ্রহ প্রকাশ করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে প্রতিটি ক্লিনিকের সামনে প্রতীকি অনশন পালন করা হবে বলে জানান সুজন।

এছাড়া প্রতিটি ক্লিনিকে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়েছে কিনা সেটিও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর দফতরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যাচাই করা হবে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ক্লিনিক্যাল এবং প্যাথলজীক্যাল বর্জ অপসারনের আধুনিক কোন ব্যবস্থা এখানে নেই। যার ফলে ক্লিনিক্যাল এবং প্যাথলজীক্যাল বর্জগুলো যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে সারা শহরে রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে।

তিনি অতিসত্বর সিটি কর্পোরেশনের সাথে আলাপ আলোচনা করে ইনডোর এবং আউটডোর বর্জ্য অপসারনে একটি সমন্বিত আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য পরিচালক (স্বাস্থ্য) এর প্রতি আহবান জানান।

চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবীর নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে তাঁর দফতরে মতবিনিময় করতে আসায় নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান।

তিনি নাগরিক উদ্যোগের প্রতিটি দাবীর সাথে সহমত প্রকাশ করেন এবং এসব দাবী বাস্তবসম্মত বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় জনগনকে সুলভে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে প্রয়াস চলমান রয়েছে সে প্রয়াসে নাগরিক উদ্যোগের প্রতিটি সদস্যকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, দেশের এতো বিপুল পরিমান জনগোষ্ঠীর দ্বারে দ্বারে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করেছেন তা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জকে ধারণ করে আমরাও দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি। তবে হ্যাঁ এতো বিপুল পরিমান রোগী সাধারণকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে গিয়ে হয়তো কিছু কিছু অব্যস্থাপনা হতে পারে। আমাদেরও লোকবলের সংকট রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের সর্বাত্নক চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি নাগরিক উদ্যোগের দাবীগুলো নিয়ে মন্ত্রী, সরকারী বেসরকারী হাসপাতাল, প্রাইভেট ক্লিনিক মালিক এবং ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ আব্দুস সালাম, সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোঃ শফিকুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল সুকুমার দত্ত, সাইদুর রহমান চৌধুরী, সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, মোঃ শাহজাহান, সোলেমান সুমন, সমীর মহাজন লিটন, সাইফুল্লাহ আনছারী, স্বরূপ দত্ত রাজু, হাসান মোঃ মুরাদ, রাজীব হাসান রাজন, রকিবুল আলম সাজ্জী, মাহফুজ চৌধুরী, সরওয়ার্দী এলিন, মনিরুল হক মুন্না, আজম আলী জুয়েল প্রমূখ।

 

Feb2

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও লড়াই। বাংলাদেশের সামনে বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন হবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্বে ভারত বাংলাদেশের অপরাজেয় পথচলায় ধাক্কা দেয় ৩-০ গোলের জয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া দেখালেও সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পিটার বাটলারের দল। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসাবে। তার বিশ্বাস, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই কৌশল রপ্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য আগেও দেখিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভারতেরও লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।

একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষা। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা শেষ বাঁশির। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি। কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি।

শনিবার (৬ জুন) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা প্রদান করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ভারত কর্তৃক ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হলে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে উক্ত ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে এবং বিজিবি সেখানে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করায়। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বিজিবি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এছাড়া নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্বে জড়ো করে রাখা ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিজিবি উক্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করছে যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা

হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা রুখতে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে যৌথ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

তবে এই হামলার ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দিন আগে হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে এই উত্তেজনা দেখা দিল। এতে দুই দেশের মধ্যে থাকা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

তবে বিমান বন্দরে এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর) ভুলের কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সেন্টকম অবশ্য ইরানের এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে কুয়েতের ওই বিমানবন্দরে এই হামলা চালিয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন পুরোপুরি স্থবির এবং যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি যখন আলোর মুখ দেখছিল না, ঠিক তখন আবার এই হামলার ঘটনা ঘটল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়।

গত এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, তা প্রত্যয়িত করা এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগপর্যন্ত এই বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি বহাল থাকবে।