খুঁজুন
, ,

চট্টগ্রামে দশ লক্ষ গাছ রোপন করা হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 29 April, 2025, 4:20 pm
চট্টগ্রামে দশ লক্ষ গাছ রোপন করা হবে: মেয়র

১৯৯১ সালের ভয়াল ২৯ এপ্রিলের ঘূর্ণিঝড় ‘ মেরি এন’ স্মরণে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় চট্টগ্রাম উপকূলীয় অঞ্চলে যে ভয়াবহ তান্ডব ঘটিয়েছে তা এখনো স্বজনহারা মানুষ ভুলতে পারেনি। ওই সময়ের ঘূর্ণিঝড় ছিলো ভয়াল এক ট্রাজেডি।

মেয়র বলেন, ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা পেতে আমাদের টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই। একই সাথে আমাদেরকে প্রচুর বৃক্ষ রোপন করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এ লক্ষ্যে মেয়র শহরের ৪১টি ওয়ার্ডে ১০ লাখ চারা রোপন করা হবে বলে জানান। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহ তান্ডবের চিত্র প্রদশনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসবকথা বলেন।

তিনি বলেন, ওই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে আমি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কাজ করেছি। ঘূর্ণিঝড়ে স্বজনহারানো মানুষগুলো ঘরবাড়ির পাশাপাশি খাদ্য সংকটে ভুগছিল। আমরা উপকূল অঞ্চলের বাঁশখালী, আনোয়ারা, শহরের মধ্যে গতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে সেই করুণ দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই আগামীতে উপকূল রক্ষায় অবশ্যই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চিত্র প্রদর্শনীতে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী উপকমিটির আহবায়ক গোলাম মাওলা মুরাদ, আলোকচিত্রী সাংবাদিক শিশির বড়ুয়া ও রূপম চক্রবর্তী, দৈনিক দিনকালের ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল বিজনেস বাংলাদেশ ব্যুরো চীফ জাহাঙ্গীর আলম, শাহাদাত চৌধুরী, এম এ হোসাইন, সাইফি আনোয়ার আজিম প্রমুখ।

প্রদর্শনীতে মোট ৫০টি ছবি প্রদর্শিত হয়। এসব ছবিতে ৯১ এর ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা ফুটে উঠে।

‘কাকঁডার ভোজ’ শিরোনামে প্রদর্শিত একটি ছবির বর্ণনা দিতে গিয়ে আলোকচিত্রী শিশির বডুয়া বলেন, একটি লাশকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে লাল কাকঁডার দল পুরোপুরি নিঃশেষ করতে দেখেছি। সেই বীভৎস চিত্র ধারণ করেছি আমার ক্যামেরায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৯১ এর ভয়াবহতার চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করেছিলাম। সেই স্মৃতিগুলো চোখে ভাসলে এখনো কষ্ট পাই। তিনি দুর্লভ এই ছবিগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবি জানান।

Feb2
Feb2

সরকার পারছে না, এখন দোষ দিয়ে লাভ নেই : বন্যা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 6:49 pm
সরকার পারছে না, এখন দোষ দিয়ে লাভ নেই : বন্যা প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দোভাষী বাজার এলাকায় তিনি এই ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

ত্রাণ বিতরণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাঙ্গে আলাপকালে দেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। দেশের মানুষের এই দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, যে কারণেই হোক, সরকার পারছে না। এখন দোষ দিয়ে লাভ নেই, মূল জিনিস হচ্ছে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সামর্থ্যবান ও ছাত্র সমাজসহ জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বাজেট নিয়ে বারবার কথা বলছি। কক্সবাজার, পার্বত্য অঞ্চল ও চট্টগ্রামে যখনই বৃষ্টি শুরু হয়, আমরা বিষয়টি নিয়ে সংসদে সোচ্চার হয়েছি। ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রী তখন সংসদে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থার কথা বললেও, বর্তমানে খোদ প্রধানমন্ত্রী নিজেই স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তায় নাখোশ বলে নিউজে দেখা যাচ্ছে। আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকরী উদ্যোগ নেবে।’

আনোয়ারার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের বেহাল দশা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতার তীব্র সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় হুইপ বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা আগে থেকেই এখানে কাজ করছেন। আমরা এসে দেখলাম, দীর্ঘ ৫–৭ দিন ধরে এখানে কয়েকশো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ স্থানীয় এমপি কিংবা প্রশাসনের কাউকে এখানে দেখা যায়নি। মানুষ কোনো ত্রাণও পায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, বেড়িবাঁধের সমস্যার কারণেই বছরের পর বছর ধরে এই কৃত্রিম বন্যা ও জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বেড়িবাঁধের নামে বরাদ্দকৃত কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। তবে এবার বাজেটে বেড়িবাঁধের জন্য যে টাকা রাখা হয়েছে, তার একটা টাকাও আমরা দুর্নীতি বা লুটপাট হতে দেব না। সংসদে আমরা এই বেড়িবাঁধের কথা শক্তভাবে তুলব, যাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে দ্রুত বাঁধের কাজ শেষ করা হয়।’

চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এনসিপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি জানান, আনোয়ারা শেষে তারা বাঁশখালীসহ বন্যাদুর্গত অন্যান্য জেলাগুলোতেও নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি যেকোনো প্রয়োজনে এনসিপির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন– ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি প্রমুখ।

‘ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 6:11 pm
‘ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেছেন, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। দুর্গত এলাকায় আমাদের উদ্যোগে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব সার্বক্ষণিক বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর রাখছে।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, সরকারের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরাও সমন্বিতভাবে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে মানবিকতা, সহযোগিতা ও ঐক্যের মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।

এসময় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান মাহফুজ, আহমেদ মুন্না, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর যুবদল নেতা মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম শহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 12 July, 2026, 5:57 pm
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত মানবিক নীতির আলোকে সরকারের সব প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধসহ অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

রোববার (১২ জুলাই) নগরের চান্দগাঁও সিএন্ডবি, মোহরা ও দক্ষিণ কাট্টলি এলাকার বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবেন। জনগণের যেকোনো দুর্যোগে জনপ্রতিনিধিরা সবসময় মানুষের পাশে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন। জলাবদ্ধতা ও বন্যাজনিত দুর্ভোগ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্য ও জরুরি সেবার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

পরে প্রতিমন্ত্রী ও উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার, চাল, ডাল, তেল, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ ও সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।