খুঁজুন
, ,

শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবিরের জয়জয়কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 10 September, 2025, 7:26 am
শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবিরের জয়জয়কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) এবং জিএস পদে এস এম ফরহাদ ও এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান জয়ের পথে রয়েছেন। এবার কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৮ ভোটকেন্দ্রের ১৮টি হলের ফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) সর্বমোট ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৫৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৮১ ভোট।

ফলাফল ঘোষণা করা হলগুলো হলো- শামসুন্নাহার হল, মুহসীন হল, এফ রহমান হল, রোকেয়া হল, এসএম হল, জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, শহীদুল্লাহ হল, কার্জন হল, ফজলুল হক মুসলিম হল, অমর একুশে হল ও সুফিয়া কামাল হল, জসিম উদ্দীন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সূর্যসেন হল, কুয়েত মৈত্রী হল।

কোন কেন্দ্রে কে কত ভোট পেলেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্র

শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব ও কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম ৭৪২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আবিদুল ইসলাম ২২৭; উমামা ফাতেমা ২২৩; শামীম হোসেন ৩৩৭; আবদুল কাদের ৬৪ এবং বিন ইয়ামিন মোল্লা ১২ ভোট পেয়েছেন। জিএস প্রার্থীদের মধ্যে এস এম ফরহাদ ৫৯৫ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া মেঘ মল্লার বসু ৩১২; আবু বাকের মজুমদার ৯৩; তানভীর বারী হামীম ২২৯ ভোট পেয়েছেন।

কুয়েত মৈত্রী হলে ভিপি প্রার্থী সাদেক কায়েম ৬২৬ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২১০ ভোট। এছাড়া উমামা ফাতেমা ২২৬; শামীম হোসেন ২৩৩; আবদুল কাদের ৪৭; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ভোট পেয়েছেন। এই হলে জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া মেঘ মল্লার বসু ২৭৫; তানভীর বারী হামীম ১৭৯ এবং আবু বাকের মজুমদার ৬৪ ভোট পেয়েছেন।

উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র

এই কেন্দ্রে চারটি হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছেন। হলগুলো হলো- কবি জসীম উদদীন হল, সূর্যসেন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল।

জসিম উদ্দীন হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬৪৭ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১৮৭ ভোট। এছাড়া উমামা ৬২; আবদুল কাদের ৫৫; শামীম হোসেন ৯৪ এবং বিন ইয়ামিন মোল্লা ৪ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৪০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া তানভীর বারী হামীম ২৫৫; মেঘ মল্লার বসু ৮১; আবু বাকের মজুমদার ৬৭ ভোট পেয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪৮ ভোট। এছাড়া উমামা ফাতেমা ১৫১; আবদুল কাদের ৭০; শামীম হোসেন ১৩১ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৪৪ ভোট, তানভীর বারী হামীম ৩৩৪ ভোট এবং মেঘ মল্লার বসু ১৭৬ ভোট পেয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৮৪২ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২৩৮; উমামা ফাতেমা ৬৯; আবদুল কাদের ৬৭; বিন ইয়ামিন মোল্লা ১১ এবং শামীম হোসেন ১২২ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৬৮৩; মেঘ মল্লার বসু ১২৪; আবু বাকের মজুমদার ৮১ এবং তানভীর বারী হামীম ৩০৭ ভোট পেয়েছেন।

সূর্যসেন হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৭৬৯ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২১০; উমামা ফাতেমা ৬৪; আবদুল কাদের ৬৪ এবং শামীম হোসেন ১২১ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৬৮ ভোট পেয়েছেন। আরাফাত চৌধুরী ১৬৪; মেঘ মল্লার বসু ১০৮; আবু বাকের মজুমদার ৬৬ এবং তানভীর বারী হামীম ২৮৫ ভোট পেয়েছেন।

সিনেট ভবন ভোটকেন্দ্র

তিনটি হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দেন। হলগুলো হলো- স্যার এএফ রহমান হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও বিজয় একাত্তর হল।

এএফ রহমান হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬০২ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম ১৮৬; উমামা ফাতেমা ৭৯; আবদুল কাদের ৯১ ও শামীম হোসেন ১২২ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৮৮ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়ার মেঘ মল্লার বসু ১৫৭ ; আবু বাকের মজুমদার ৫৪ ও তানভীর বারী হামীম ২৪৫ ভোট পেয়েছেন।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬৩৩ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২২১; শামীম হোসেন ১২৩, আবদুল কাদের ৭০ ও উমামা ফাতেমা ৫৬ ভোট পেয়েছেন। এই হলে জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫০১ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া তানভীর বারী হামীম ২৫৮; আরাফাত চৌধুরী ১৫৬; মেঘ মল্লার বসু ১০৬ এবং আবু বাকের মজুমদার ৭৫ ভোট পেয়েছেন।

বিজয় একাত্তর হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৯৯১ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২৭৮; শামীম হোসেন ১৯১; উমামা ফাতেমা ১০৪; আবদুল কাদের ৯৫ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৭৭৯ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া তানভীর বারী হামীম ৪৪২; মেঘ মল্লার বসু ১৪৫ ও আরাফাত চৌধুরী ১৯৪ ভোট পেয়েছেন।

টিএসসি ভোটকেন্দ্র

শুধু রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ফল ঘোষণায় দেখা যায়, রোকেয়া হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১৪৭২। এ ছাড়া উমামা ফাতেমা ৬১৪; আবিদুল ইসলাম ৫৭৫; শামীম হোসেন ৬৮৪ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১১২০ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আরাফাত চৌধুরী ৬৬৪; মেঘ মল্লার বসু ৭৮০, তানভীর বারী হামীম ৪৪৭ ও আবু বাকের মজুমদার ২৪১ ভোট পেয়েছেন।

শারীরিক শিক্ষা ভোটকেন্দ্র

জগন্নাথ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

জগন্নাথ হলের ভোট গণনায় দেখা যায় ডাকসুর ভিপি পদে ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ১২৭৬ ভোট পেয়েছেন। শিবিরের সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১০ ভোট। এছাড়া উমামা ফাতেমা ২৭৮; আবদুল কাদের ২১; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৫; শামীম হোসেন ১৭১ ও তাসনিম আফরোজ ইমি ১১ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে মেঘ মল্লার বসু ১১৭০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া এসএম ফরহাদ ৫; তানভীর বারী হামিম ৩৯৮; আরাফাত চৌধুরী ১৬৯ ও আবু বাকের মজুমদার ২৭ ভোট পেয়েছেন।

জহুরুল হক হলের ভোট গণনায় দেখা যায়, ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৮৯৬, আবিদুল ইসলাম ৩১৪; উমামা ফাতেমা ৯৬; আবদুল কাদের ৮৭; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ও শামীম হোসেন ১৯৪ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৬৭০ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া তানভীর বারী হামীম ৪০৯; মেঘ মল্লার বসু ১৪০; আরাফাত চৌধুরী ২২০ ও আবু বাকের মজুমদার ৮৯ ভোট পেয়েছেন।

সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলে ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৩০৩ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আবিদুল ইসলাম ১১০; উমামা ফাতেমা ৩৪; আবদুল কাদের ২১; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ও শামীম হোসেন ৫০ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আরাফাত চৌধুরী ৬৬; মেঘ মল্লার বসু ৪১; তানভীর বারী হামীম ১২৪ ও আবু বাকের মজুমদার ১৮ ভোট পেয়েছেন।

ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোট কেন্দ্র

শুধু শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ঘোষণা অনুযায়ী এই কেন্দ্রে ডাকসুর ভিপি পদে শিবিরের আবু সাদিক কায়েম ১১১৪ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ৪৩৪; উমামা ফাতেমা ৪০৩; শামীম হোসেন ৪১২; আবদুল কাদের ৫৯ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ৪ ভোট পেয়েছেন। এই কেন্দ্রে জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৮১৪; মেঘ মল্লার বসু ৫১৭; আবু বাকের মজুমদার ১৩২ ও তানভীর বারী হামীম ৩১২ ভোট পেয়েছেন।

কার্জন হল কেন্দ্র

অমর একুশে হল, ফজলুল হক হল ও শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

অমর একুশে হলের ফলাফলে ডাকসুর ভিপি পদে আবু সাদিক কায়েম ৬৪৪, আবিদুল ইসলাম ১৪১; উমামা ফাতেমা ৯০; শামীম হোসেন ১১১; আবদুল কাদের ৩৬ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ১ ভোট পেয়েছেন। একই হলে জিএস পদে এস এম ফরহাদ ৪৬৬; মেঘ মল্লার বসু ৮৬; আবু বাকের মজুমদার ১৪৭ ও তানভির বারী হামিম ১৮০ ভোট পেয়েছেন।

ফজলুল হক হলের ফলাফলে ডাকসুর ভিপি পদে আবু সাদিক কায়েম ৮৪১, আবিদুল ইসলাম ১৮১; উমামা ফাতেমা ১৫৩; শামীম হোসেন ১৪১; আবদুল কাদের ৪৭ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ভোট পেয়েছেন। একই হলে জিএস পদে এস এম ফরহাদ ৫৮৯; মেঘ মল্লার বসু ৯৯; আবু বাকের মজুমদার ৩৪১ ও তানভির বারী হামিম ২২৮ ভোট পেয়েছেন।

শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরাও ভোট দিয়েছেন। এই হলের ফল অনুযায়ী ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৯৬৬; আবিদুল ইসলাম ১৯৯; উমামা ফাতেমা ১৪০; শামীম হোসেন ১৬১; আবদুল কাদের ৫৬ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ভোট পেয়েছেন। একই হলে জিএস পদে এস এম ফরহাদ ৭৭৩; মেঘ মল্লার বসু ১২৫; আবু বাকের মজুমদার ২৪১ ও তানভির বারী হামিম ২৪৯ ভোট পেয়েছেন।

ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্র

শুধু সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। এই হলে ডাকসুর ভিপি পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১ হাজার ২৭০ ভোট। তার পরে আছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা, তিনি পেয়েছেন ৫৪৭ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন ৪৮৫; ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম ৪২৩ ভোট পেয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন ৫৫ ভোট। জিএস পদে শিবিরের এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ৯৬৪ ভোট। তার পরে রয়েছেন প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের মেঘমল্লার বসু, তিনি পেয়েছেন ৫০৭ ভোট। এছাড়া আরাফাত চৌধুরী ৪৯৮ ভোট; ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামীম ৪০২ ভোট ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ২১৬ ভোট।

প্রসঙ্গত, এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন। আর ১৮টি হল সংসদে নির্বাচন হবে ১৩টি করে পদে। হল সংসদের ২৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১ হাজার ৩৫ জন।

ডাকসুতে এবার মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ আর ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ জন। এবারের নির্বাচনে ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন পদে ছাত্রী ৬২ জন। এছাড়া প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটে লড়েছেন এক হাজার ৩৫ জন।

Feb2
Feb2

জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর ট্রাইব্যুনালে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 12:01 pm
জিয়া হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর ট্রাইব্যুনালে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আলোচিত আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এদিন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে আজ হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোসহ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে প্রসিকিউশন।

এর আগে, ২১ জুলাই জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন।

উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গত ২১ জুলাই দিন ধার্য ছিল। ওই দিন আরও দুই মাস সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু মোজাফফরের সঙ্গে তার যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় নতুন তারিখ দেননি আদালত। এজন্য তাকেও আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 23 July, 2026, 12:11 am
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলকে জামায়াত থেকে বহিষ্কার

নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পাঠানো এক বিবৃতিতে এটি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর মিন্টু রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ঘটনার বিষয়ে আলোচনা হয়। দলের সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 22 July, 2026, 11:19 pm
অবহেলায় কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না:শামীম

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতাল ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় হাসপাতালটিকে দেশের একটি মডেল স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে হাসপাতাল বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট ও জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের চেয়ারম্যান মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে হাসপাতালটি আবারও কার্যক্রমে গতি পেয়েছে। এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে উন্নত সেবার পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটিকে দেশের অন্যতম মডেল মাতৃসদন হাসপাতালে পরিণত করা হবে। এ জন্য পরিচালনা কমিটি, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, কোনো চিকিৎসক, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর অবহেলার কারণে যেন কোনো মা বা রোগীর ক্ষতি না হয়। মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। তাই রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একজন নার্সের আন্তরিক সেবাও অনেক সময় রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চিকিৎসক থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মীর দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।

যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে শামীম বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় তারা যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নিরলস কাজ করেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। একই ধরনের নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে হাসপাতালের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করলে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার একটি বড় অর্জন। এর ফলে হাসপাতালের আর্থিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ঘোষণা দিয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক বলেন, সপ্তাহে অন্তত দুই দিন তিনি হাসপাতালে এসে চিকিৎসক, কর্মকর্তা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। হাসপাতালের সমস্যা, প্রয়োজন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। হাসপাতালকে কীভাবে আরও আধুনিক, কার্যকর ও জনবান্ধব করা যায়, সে বিষয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হবে। সবার সহযোগিতা ও আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালকে দেশের একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে।

জেমিসন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির ভাইস চেয়ারপার্সন মো.আছিফ চৌধুরী সভাপতিত্বে ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো.জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির জাহাঙ্গীর আলম বাবর, রায়হানুল আনোয়ার রাহী, ডা: তাসলিম চৌধুরী, জেমিসন হাসপাতালের চীফ মেডিকেল অফিসার ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: নাজ সোহানী সুলতানা, নার্সিং ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মর্জিনা আক্তার, ডা. মিছবাহ উদ্দিন ও ইউনিট লেভেল অফিসার জিয়াউল হক জিয়াসহ প্রমুখ