খুঁজুন
, ,

শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবিরের জয়জয়কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 10 September, 2025, 7:26 am
শীর্ষ তিন পদে ছাত্রশিবিরের জয়জয়কার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) এবং জিএস পদে এস এম ফরহাদ ও এজিএস পদে মহিউদ্দিন খান জয়ের পথে রয়েছেন। এবার কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৮ ভোটকেন্দ্রের ১৮টি হলের ফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম) সর্বমোট ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মো. আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৫৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৮৯ ভোট। আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৮১ ভোট।

ফলাফল ঘোষণা করা হলগুলো হলো- শামসুন্নাহার হল, মুহসীন হল, এফ রহমান হল, রোকেয়া হল, এসএম হল, জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, শহীদুল্লাহ হল, কার্জন হল, ফজলুল হক মুসলিম হল, অমর একুশে হল ও সুফিয়া কামাল হল, জসিম উদ্দীন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, সূর্যসেন হল, কুয়েত মৈত্রী হল।

কোন কেন্দ্রে কে কত ভোট পেলেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্র

শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব ও কুয়েত মৈত্রী হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব হলে ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম ৭৪২ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আবিদুল ইসলাম ২২৭; উমামা ফাতেমা ২২৩; শামীম হোসেন ৩৩৭; আবদুল কাদের ৬৪ এবং বিন ইয়ামিন মোল্লা ১২ ভোট পেয়েছেন। জিএস প্রার্থীদের মধ্যে এস এম ফরহাদ ৫৯৫ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া মেঘ মল্লার বসু ৩১২; আবু বাকের মজুমদার ৯৩; তানভীর বারী হামীম ২২৯ ভোট পেয়েছেন।

কুয়েত মৈত্রী হলে ভিপি প্রার্থী সাদেক কায়েম ৬২৬ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২১০ ভোট। এছাড়া উমামা ফাতেমা ২২৬; শামীম হোসেন ২৩৩; আবদুল কাদের ৪৭; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ভোট পেয়েছেন। এই হলে জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া মেঘ মল্লার বসু ২৭৫; তানভীর বারী হামীম ১৭৯ এবং আবু বাকের মজুমদার ৬৪ ভোট পেয়েছেন।

উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র

এই কেন্দ্রে চারটি হলের শিক্ষার্থীরা ভোট দিয়েছেন। হলগুলো হলো- কবি জসীম উদদীন হল, সূর্যসেন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল।

জসিম উদ্দীন হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬৪৭ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১৮৭ ভোট। এছাড়া উমামা ৬২; আবদুল কাদের ৫৫; শামীম হোসেন ৯৪ এবং বিন ইয়ামিন মোল্লা ৪ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৪০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া তানভীর বারী হামীম ২৫৫; মেঘ মল্লার বসু ৮১; আবু বাকের মজুমদার ৬৭ ভোট পেয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪৮ ভোট। এছাড়া উমামা ফাতেমা ১৫১; আবদুল কাদের ৭০; শামীম হোসেন ১৩১ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৪৪ ভোট, তানভীর বারী হামীম ৩৩৪ ভোট এবং মেঘ মল্লার বসু ১৭৬ ভোট পেয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৮৪২ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২৩৮; উমামা ফাতেমা ৬৯; আবদুল কাদের ৬৭; বিন ইয়ামিন মোল্লা ১১ এবং শামীম হোসেন ১২২ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৬৮৩; মেঘ মল্লার বসু ১২৪; আবু বাকের মজুমদার ৮১ এবং তানভীর বারী হামীম ৩০৭ ভোট পেয়েছেন।

সূর্যসেন হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৭৬৯ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২১০; উমামা ফাতেমা ৬৪; আবদুল কাদের ৬৪ এবং শামীম হোসেন ১২১ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৬৮ ভোট পেয়েছেন। আরাফাত চৌধুরী ১৬৪; মেঘ মল্লার বসু ১০৮; আবু বাকের মজুমদার ৬৬ এবং তানভীর বারী হামীম ২৮৫ ভোট পেয়েছেন।

সিনেট ভবন ভোটকেন্দ্র

তিনটি হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দেন। হলগুলো হলো- স্যার এএফ রহমান হল, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ও বিজয় একাত্তর হল।

এএফ রহমান হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬০২ ভোট পেয়েছেন। আবিদুল ইসলাম ১৮৬; উমামা ফাতেমা ৭৯; আবদুল কাদের ৯১ ও শামীম হোসেন ১২২ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫৮৮ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়ার মেঘ মল্লার বসু ১৫৭ ; আবু বাকের মজুমদার ৫৪ ও তানভীর বারী হামীম ২৪৫ ভোট পেয়েছেন।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৬৩৩ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২২১; শামীম হোসেন ১২৩, আবদুল কাদের ৭০ ও উমামা ফাতেমা ৫৬ ভোট পেয়েছেন। এই হলে জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৫০১ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া তানভীর বারী হামীম ২৫৮; আরাফাত চৌধুরী ১৫৬; মেঘ মল্লার বসু ১০৬ এবং আবু বাকের মজুমদার ৭৫ ভোট পেয়েছেন।

বিজয় একাত্তর হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৯৯১ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ২৭৮; শামীম হোসেন ১৯১; উমামা ফাতেমা ১০৪; আবদুল কাদের ৯৫ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৭৭৯ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া তানভীর বারী হামীম ৪৪২; মেঘ মল্লার বসু ১৪৫ ও আরাফাত চৌধুরী ১৯৪ ভোট পেয়েছেন।

টিএসসি ভোটকেন্দ্র

শুধু রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ফল ঘোষণায় দেখা যায়, রোকেয়া হলে ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১৪৭২। এ ছাড়া উমামা ফাতেমা ৬১৪; আবিদুল ইসলাম ৫৭৫; শামীম হোসেন ৬৮৪ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এস এম ফরহাদ ১১২০ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আরাফাত চৌধুরী ৬৬৪; মেঘ মল্লার বসু ৭৮০, তানভীর বারী হামীম ৪৪৭ ও আবু বাকের মজুমদার ২৪১ ভোট পেয়েছেন।

শারীরিক শিক্ষা ভোটকেন্দ্র

জগন্নাথ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

জগন্নাথ হলের ভোট গণনায় দেখা যায় ডাকসুর ভিপি পদে ছাত্রদলের প্যানেলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ১২৭৬ ভোট পেয়েছেন। শিবিরের সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১০ ভোট। এছাড়া উমামা ফাতেমা ২৭৮; আবদুল কাদের ২১; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৫; শামীম হোসেন ১৭১ ও তাসনিম আফরোজ ইমি ১১ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে মেঘ মল্লার বসু ১১৭০ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া এসএম ফরহাদ ৫; তানভীর বারী হামিম ৩৯৮; আরাফাত চৌধুরী ১৬৯ ও আবু বাকের মজুমদার ২৭ ভোট পেয়েছেন।

জহুরুল হক হলের ভোট গণনায় দেখা যায়, ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৮৯৬, আবিদুল ইসলাম ৩১৪; উমামা ফাতেমা ৯৬; আবদুল কাদের ৮৭; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ও শামীম হোসেন ১৯৪ ভোট পেয়েছেন। জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৬৭০ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া তানভীর বারী হামীম ৪০৯; মেঘ মল্লার বসু ১৪০; আরাফাত চৌধুরী ২২০ ও আবু বাকের মজুমদার ৮৯ ভোট পেয়েছেন।

সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হলে ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৩০৩ ভোট পেয়েছেন। এছাড়া আবিদুল ইসলাম ১১০; উমামা ফাতেমা ৩৪; আবদুল কাদের ২১; বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ও শামীম হোসেন ৫০ ভোট পেয়েছেন। এই হলে ডাকসুর জিএস পদে এসএম ফরহাদ ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আরাফাত চৌধুরী ৬৬; মেঘ মল্লার বসু ৪১; তানভীর বারী হামীম ১২৪ ও আবু বাকের মজুমদার ১৮ ভোট পেয়েছেন।

ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোট কেন্দ্র

শুধু শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। ঘোষণা অনুযায়ী এই কেন্দ্রে ডাকসুর ভিপি পদে শিবিরের আবু সাদিক কায়েম ১১১৪ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া আবিদুল ইসলাম ৪৩৪; উমামা ফাতেমা ৪০৩; শামীম হোসেন ৪১২; আবদুল কাদের ৫৯ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ৪ ভোট পেয়েছেন। এই কেন্দ্রে জিএস পদে এসএম ফরহাদ ৮১৪; মেঘ মল্লার বসু ৫১৭; আবু বাকের মজুমদার ১৩২ ও তানভীর বারী হামীম ৩১২ ভোট পেয়েছেন।

কার্জন হল কেন্দ্র

অমর একুশে হল, ফজলুল হক হল ও শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন।

অমর একুশে হলের ফলাফলে ডাকসুর ভিপি পদে আবু সাদিক কায়েম ৬৪৪, আবিদুল ইসলাম ১৪১; উমামা ফাতেমা ৯০; শামীম হোসেন ১১১; আবদুল কাদের ৩৬ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ১ ভোট পেয়েছেন। একই হলে জিএস পদে এস এম ফরহাদ ৪৬৬; মেঘ মল্লার বসু ৮৬; আবু বাকের মজুমদার ১৪৭ ও তানভির বারী হামিম ১৮০ ভোট পেয়েছেন।

ফজলুল হক হলের ফলাফলে ডাকসুর ভিপি পদে আবু সাদিক কায়েম ৮৪১, আবিদুল ইসলাম ১৮১; উমামা ফাতেমা ১৫৩; শামীম হোসেন ১৪১; আবদুল কাদের ৪৭ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ভোট পেয়েছেন। একই হলে জিএস পদে এস এম ফরহাদ ৫৮৯; মেঘ মল্লার বসু ৯৯; আবু বাকের মজুমদার ৩৪১ ও তানভির বারী হামিম ২২৮ ভোট পেয়েছেন।

শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরাও ভোট দিয়েছেন। এই হলের ফল অনুযায়ী ডাকসুর ভিপি পদে সাদিক কায়েম ৯৬৬; আবিদুল ইসলাম ১৯৯; উমামা ফাতেমা ১৪০; শামীম হোসেন ১৬১; আবদুল কাদের ৫৬ ও বিন ইয়ামিন মোল্লা ৬ ভোট পেয়েছেন। একই হলে জিএস পদে এস এম ফরহাদ ৭৭৩; মেঘ মল্লার বসু ১২৫; আবু বাকের মজুমদার ২৪১ ও তানভির বারী হামিম ২৪৯ ভোট পেয়েছেন।

ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্র

শুধু সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। এই হলে ডাকসুর ভিপি পদে শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১ হাজার ২৭০ ভোট। তার পরে আছেন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের উমামা ফাতেমা, তিনি পেয়েছেন ৫৪৭ ভোট। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন ৪৮৫; ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম ৪২৩ ভোট পেয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের পেয়েছেন ৫৫ ভোট। জিএস পদে শিবিরের এস এম ফরহাদ পেয়েছেন ৯৬৪ ভোট। তার পরে রয়েছেন প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের মেঘমল্লার বসু, তিনি পেয়েছেন ৫০৭ ভোট। এছাড়া আরাফাত চৌধুরী ৪৯৮ ভোট; ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামীম ৪০২ ভোট ও বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী জোটের আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ২১৬ ভোট।

প্রসঙ্গত, এবার ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৪৭১ জন। আর ১৮টি হল সংসদে নির্বাচন হবে ১৩টি করে পদে। হল সংসদের ২৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১ হাজার ৩৫ জন।

ডাকসুতে এবার মোট ভোটার ৩৯ হাজার ৮৭৪। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ আর ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার ২০ হাজার ৯১৫ জন। এবারের নির্বাচনে ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন পদে ছাত্রী ৬২ জন। এছাড়া প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটে লড়েছেন এক হাজার ৩৫ জন।

Feb2
Feb2

বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 9:58 pm
বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

ইতালির ভেনিসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তবে সেখানে বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর হামলা করেছিল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিষয়টি জানিয়েছেন বাঁধন নিজেই।

পোস্ট দিয়ে বাঁধন লিখেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিতে আমাদের বাসায় এসেছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবির সাহেব। তার এই আন্তরিকতা, সৌজন্য এবং দায়িত্বশীলতার জন্য আমি গভীরভাবে সম্মানিত ও কৃতজ্ঞ।’

তার কথায়, ‘এই কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি আমার আস্থাকেও আরও দৃঢ় করেছে। আমি বিশ্বাস করি, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’

তিনি বলেন, ‘ইতালিতে সাম্প্রতিক কঠিন সময়ে বাংলাদেশ সরকার, মাননীয় সরকার প্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ বিভাগ এবং দেশে-বিদেশে যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমার ও আমার পরিবারের খোঁজ নিয়েছেন এবং মানবিক সহায়তা ও সমর্থন দিয়েছেন আমি সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘এই অভিজ্ঞতা আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য, সাহস এবং মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ। মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না।’

শেষে বলেন, ‘আজ আমরা আবারও দেখেছি, মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:40 pm
দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শহরের জলাধার পুনরুদ্ধার জরুরি: এরশাদ উল্লাহ

একসময় চট্টগ্রাম নগরের অলিগলিতে ছড়িয়ে ছিল পুকুর, দিঘি, ডোবা ও জলাধার। নগর যত বেড়েছে, ততই সংকুচিত হয়েছে এসব প্রাকৃতিক জলভূমি। কোথাও উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও দোকান-গুদাম, কোথাও গড়ে উঠেছে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। এতে শুধু দেশীয় মাছের আবাসস্থলই হারায়নি, বৃষ্টির পানি ধারণ ও ভূগর্ভে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও ক্রমে দুর্বল হয়েছে। এমন বাস্তবতায় চট্টগ্রামের একটি শতবর্ষী ঐতিহাসিক জলাধারে মাছের পোনা অবমুক্ত করে জলজ জীববৈচিত্র্য ও নগরের জলাধার সংরক্ষণের গুরুত্ব সামনে আনল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার ঐতিহাসিক আগ্রাবাদ ডেবায় এ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি আয়োজন করে মহানগর বিএনপি।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য ও জীবিকার সঙ্গে মৎস্যসম্পদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশীয় মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির একটি বার্তা দেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সারাদেশে খাল খননসহ নদী-নালা দখলমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা গেলে দেশীয় মাছের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকাও আরও সমৃদ্ধ হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নাজিমুর রহমান বলেন, নদী, খাল-বিল ও জলাশয় দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণে পরিকল্পিতভাবে পোনা অবমুক্তকরণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার সারাদেশে নদী-নালা ও খাল পুনঃখনন এবং দখলমুক্ত করার মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের এই পোনা অবমুক্তকরণ। নদী ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কর্মসূচিতে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, নিয়াজ মোহাম্মদ খান, শওকত আজম খাজা ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মহানগর বিএনপির সদস্য নুরুদ্দীন হোসেন নুরু, আবু মুসা ও জাফর আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক হাজী নুরুল হক, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া, মো. জাফর, সাইদুর রহমান, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, তৈয়ব চৌধুরী, মো. শাহজাহান ও সেকান্দর সুমনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 15 September, 2026, 7:24 pm
স্বার্থের চর্চা ভুলে বিবেকের চর্চা করুন: ডিসি জাহিদ

সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, অন্যের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করলেও নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। এই অবস্থার পরিবর্তন প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকেই শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার পটিয়ায় এক অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক, সুধীজন ও উপকারভোগীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এমন একটা সময় পার করছি, যখন মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভয়াবহ অবক্ষয় হচ্ছে। আমরা বিবেকের চর্চা থেকে দূরে সরে এসেছি। আমাদের চিন্তাভাবনা এখন নিজের স্বার্থের চর্চাকে ঘিরে।’

মানুষ অন্যের কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সময় নিজের প্রাপ্তির বিষয়ে সচেতন থাকলেও অন্যকে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই দায়িত্ববোধ অনেক সময় দেখা যায় না বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, সেবা যিনি দিচ্ছেন এবং যিনি নিচ্ছেন, দুজনই একই সমাজের অংশ। তাই অন্যকে দোষারোপ না করে প্রত্যেককে নিজের দায়িত্ব নিয়ে ভাবতে হবে।

‘করিম কী করল, রহিম কী করল—সেটা না ভেবে আমার কী করা উচিত, সেটি যদি আমি ভাবি, তাহলে পরিবর্তন হবে,’ বলেন তিনি।

মানুষের মধ্যে পারস্পরিক মমত্ববোধ কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিজের স্বার্থের বাইরে সমাজ ও মানুষের প্রতিও মায়া ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ৪০ কেজি ওজনের একটি বস্তা তুলতে কষ্ট হলেও ৬০ কেজি ওজনের নিজের সন্তানকে কোলে নিতে সেই কষ্ট অনুভূত হয় না। কারণ, সন্তানের প্রতি মায়া আছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারি দপ্তরে গেলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন—এমন আস্থা এখনো পুরোপুরি তৈরি করা যায়নি। শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মানসিকতা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ‘গভীরভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা শুধু রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে বেতন নেন না উল্লেখ করে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে তাঁরা ও তাঁদের পরিবার সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা পান। তাই সমাজ ও মানুষের প্রতিও তাঁদের দায়িত্ব রয়েছে। একজন কর্মকর্তা তাঁর কর্মক্ষেত্রে নতুন কী যোগ করলেন এবং তাঁর কাজে সমাজ ও দেশ কীভাবে উপকৃত হলো, সেটিও ভাবতে হবে।

সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে আসা মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কারও সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আইনের মধ্যে যতটুকু করা সম্ভব, তা করতে হবে। সমাধান সম্ভব না হলেও সেবাপ্রত্যাশীর কথা শুনে তাঁকে সঠিক পরামর্শ দিতে হবে।

সরকারি প্রকল্পে অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; সেই প্রকল্প সমাজ ও মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘কোনো অর্থের যেন অপচয় না হয়। প্রতিটি চালের হিসাব আমরা চাই। প্রত্যেক জায়গায় সততা ও স্বচ্ছতা দেখতে চাই।’

পদ ও দায়িত্ব স্থায়ী নয়—এ কথা মনে করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, একসময় চাকরি শেষ হবে, চেয়ারও থাকবে না। তখন যেন আফসোস করতে না হয় যে দায়িত্বে থাকার সময় মানুষের জন্য আরও কিছু করা যেত।

তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না। তরুণদের মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করার পাশাপাশি সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠছেন কি না, সমাজের জন্য কাজ করছেন কি না এবং মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ তৈরি হচ্ছে কি না—সেটিও দেখতে হবে।

সন্তান ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরও অনেক মা-বাবার পাশে কেউ থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন তাঁদের বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হচ্ছে, সেটিও সমাজকে ভাবতে হবে। পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নতুন প্রজন্মের সামনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে হবে। শুধু ভালো হওয়ার উপদেশ না দিয়ে নিজেদের আচরণের মধ্য দিয়েও সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের ধরে নিয়ে এলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। পরিবার ও সমাজে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

অভিভাবকদের নিজেদের আচরণেও পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি রাত ১২টায় ফিরবেন আর বলবেন, আমার সন্তান সন্ধ্যা ৬টায় ফিরবে—এটা কি হয়? আপনাকে পরিবর্তন হতে হবে, আমাকে পরিবর্তন হতে হবে।’

বক্তব্যে ইসলামী ব্যাংক ও এস আলমের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গও তোলেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, মানবিক বিবেচনায় তাঁদের কথা শোনা হয়েছে এবং বিষয়টি যথাযথ পর্যায়ে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় করণীয় নিয়ে চেষ্টা করা হবে।

তবে দাবি আদায়ে আইন লঙ্ঘন বা সড়ক বন্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি না করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চাকরি হারানো ব্যক্তিদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন।

পটিয়াকে ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে এটি বড় একটি এলাকা। স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, সেগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু একে অন্যকে দায়ী করে সমাজের পরিবর্তন হবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

‘আমরা সমাজের চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করে আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ, একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে আপনি-আমি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করবে,’ বলেন জাহিদুল ইসলাম।