ফটিকছড়ির দাঁতমারা
ইউনিয়ন পরিষদের হলরুম যেন যুবদল নেতার ‘অস্থায়ী কার্যালয়’
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলারর দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের হলরুম থানা যুবদল নেতা একরামুল হক একরামের ‘অস্থায়ী কার্যালয়ে’ পরিণত হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে নিয়মিতভাবে সরকারী অফিসের হলরুম ব্যবহার দলীয় কর্মসূচি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সর্বশেষ ১৭ অক্টোবর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় পরিষদের হলরুম ব্যবহার করে দাঁতমারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের নবীন কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনা সভা করেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার আলমগীর সমর্থিত ইউনিয়ন ছাত্রদলের একাংশ। এ আলোচনা সভাঢ প্রধান অতিথি ছিলেন ভূজপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক একরাম।
ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরীর দেওয়ার এক ফেসবুক পোস্টে দেখা যায়, শুক্রবার অফিস বন্ধের দিন ইউনিয়ন পরিষদের তালাবদ্ধ হলরুম খুলে সেখানে থাকা ইউপি সদস্যদের চেয়ারে বসে নবীন ছাত্রদল কর্মীদের নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনা করছেন থানা যুবদল নেতা একরামুল হক একরাম। এমনকি এ যুবদল নেতাকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের চেয়ারে বসতেও দেখা যায়। এ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর অনেককে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়।
তবে হলরুম ব্যবহার করার পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) অঞ্জন চৌধুরী। দায়িত্বরত পরিষদের চৌকিদার আব্দুস সালাম বলেন, ‘আজকে বন্ধের দিন তাই আমি একটু বাড়িতে গেছিলাম। সেখান থেকে একরামের ছেলেরা (ছাত্রদল কর্মী) ফোন করে আমাকে জরুরীভিত্তিতে ডেকে এনে অনেকটা জোর করে অফিস খুলে তারা মেম্বারদের চেয়ারে বসে মিটিং করেন।’
ভূজপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক একরাম বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আজকে আমরা কোনো বৈঠক করিনি। ছবিগুলো পুরানো হতে পারে বলে ফোন কেটে দিলেনও আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় পরিষদের হলরুম ব্যবহার করে সেখানে নবীন ছাত্রদের নিয়ে বৈঠক করার কথা স্বীকার করেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী।
ভূজপুর থানা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল আমীন আজাদ বলেন, ‘সাংগঠনিক কার্যক্রমের জন্য দলীয় কার্যালয় রয়েছে। সরকারী অফিস- আদালত ব্যবহার করে সাংগঠনিক বৈঠক করতে হবে কেন? বিষয়টি জেনেছি, দলীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও দাঁতমারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। অনুমতি না নিয়ে পরিষদ ব্যবহার করে দলীয় কর্মকান্ড করার বিধান নেই।’


আপনার মতামত লিখুন