খুঁজুন
, ,

জনগণের ক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারের ক্ষমতা কমানোই গণতন্ত্র: আমীর খসরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 22 December, 2025, 6:35 pm
জনগণের ক্ষমতা বাড়িয়ে সরকারের ক্ষমতা কমানোই গণতন্ত্র: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রকৃত গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে জনগণের ক্ষমতা বাড়ানো এবং সরকারের ক্ষমতা কমানো।আগামী দিনে বিএনপি রাষ্ট্র.পরিচালনায় এলে ব্যবসার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করে এমন সব আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ‘ব্রোকারিজ’ প্রথা উপড়ে ফেলা হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে।

তিনি সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে হোটেল রেডিসন ব্লু’র মেজবান হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরামের উদ্যোগে ব্যবসা বাণিজ্য অর্থনীতি ও বিনিয়োগ নিয়ে আয়োজিত “বাণিজ্য সংলাপ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সংলাপে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে সাধারণ নাগরিক বা ব্যবসায়ীদের ফিজিক্যাল কন্টাক্ট (সরাসরি যোগাযোগ) যতো কমবে, দুর্নীতি ততোই হ্রাস পাবে। আমরা এমন এক ব্যবস্থা করতে চাই যেখানে আমদানিকৃত মালপত্র ছাড় করতে কাস্টমস অফিসারের মর্জির ওপর নির্ভর করতে হবে না। উন্নত বিশ্বের মতো স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সব পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। তিনি বিদেশে কোনো অফিসে না গিয়ে ঘরে বসেই সব সার্টিফিকেট বা অনুমোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

দেশের গ্রামীণ অর্থনীতি নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সাবেক এই বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের গ্রামের কামার কুমার বা শীতলপাটি শিল্পীদের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে হবে। অ্যামাজন বা আন্তর্জাতিক বাজারে যেন তারা পণ্য বিক্রি করতে পারে, সে জন্য ডিজাইনার সাপোর্ট ও ঋণের ব্যবস্থা করা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং শহরমুখী মানুষের ঢল কমবে।

রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের রেমিট্যান্স ২৫ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। কিন্তু সঠিক পলিসি এবং যুব সমাজকে আইটি সেক্টরে (কল সেন্টার, মাইক্রোসফট বা অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করার উপযোগী) দক্ষ করে তুলতে পারলে এই আয় ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

পুঁজিবাজার ও ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি দেশের ভঙ্গুর পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, দেশের ক্যাপিটাল মার্কেট ধ্বংস হয়ে গেছে। জিডিপির তুলনায় আমাদের মার্কেট খুবই ছোট। আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের সাথে আমাদের কথা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু তার আগে আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাপিটাল মার্কেট ও ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ছাড়া ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, এসইসি বা বিটিআরসি’র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্বের সাথে পরিচালনা করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমরা কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’। চুরির আইন দিয়ে নয়, বরং সিস্টেমের পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা অনিয়ম বন্ধ করতে চাই।

বক্তব্য শেষে তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। তিনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যবসায়ীদের নির্ভয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

পরে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তারেক রহমান নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রেখে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছেন। এটা হচ্ছে বড় সফলতা। একজন নেতা বিদেশে থেকে এতবড় ভূমিকা পালন করতে পারেন এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সবচেয়ে বড় কাজ বিএনপিকে শুধু ঐক্যব্ধ রাখেননি। বিএনপিকে একটি শক্তিশালী দলে পরিণত করেছেন।বিএনপির নেতাকর্মীরা জলে পুড়ে খাটি সোনায় পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে কেবল দলের নয় দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা চাকরি হারিয়েছে, ব্যবসা হারিয়েছে, অনেকে পঙ্গু হয়েছে। আগামী দিনের যে রাজনীতি সেখানে বাংলাদেশের মানুষের যাতে রাজনীতি হয় সেটা আমাদের দেখতে হবে।

নির্বাচন পিছিয়ে যাবে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন পেছাবে না। কেউ নিজের স্বার্থে পেছাতে চাইলে বাংলাদেশেরন মানুষ সেটা মেনে নেবে না। তবে একটা গোষ্ঠী যারা নির্বাচন চায়না তাদের সম্পর্কে তো জনগণের এই সন্দেহ আছে। নির্বাচন না হলে দেশের মানুষ দেশের মালিকানা ফিরিয়ে না পেলে নির্বাচিত সংসদ না থাকলে যারা লাভবান হবে মনে করছে তাদের সম্পর্কে জনগণের সন্দেহ রয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বানিজ্য সংলাপে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ব্যবসায়ী নেতা সরওয়ার জামান নিজাম, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম, সংলাপে অংশ নেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম, পিএইচপি গ্রুপের পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি সেলিম রহমান, প্যাসিফিক জিন্সের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, আন্তঃ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কপিল উদ্দিন, বিজিএপিএমইএ’র সভাপতি মো. শহীদ উল্লাহ, শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের পরিচালক আমীরুল হক, খাতুনগন্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর আবদুস সালাম, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান, সেন্ট্রাল প্লাজা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তহিনুর আলম টিটু, মাদার স্টীল লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাষ্টার আবুল কাশেম, বিএনও লুব্রুকেন্টের পরিচালক সালাউদ্দিন ইউছুপ, সিএনজি ফিলিং স্টেশন সমিতির যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর আলম, জুনিয়র চেম্বারের সভাপতি জোনায়েদ আহমেদ রাহাত, ফার্নিচার প্রস্তুত কারক সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান, রাঙ্গামাটি চেম্বারের সভাপতি এড. মামুনুর রশীদ, চাঁদপুর চেম্বারের পরিচালক মানিকুর রহমান, বান্দরবান চেম্বারের সদস্য জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

Feb2
Feb2

দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:53 pm
দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব: ডা. শাহাদাত

দুর্যোগকবলিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোকে সর্বোচ্চ মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। কোনো পরিবার যেন কষ্টে না থাকে, সে লক্ষ্যেই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নগরবাসীর যেকোনো দুর্যোগে চসিক সবসময় পাশে থাকবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে নগরীর পূর্ব বাকলিয়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৪০০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, ঘরবাড়ির ক্ষতি মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এই ঢেউটিন সহায়তা কেবল একটি বস্তুগত উপহার নয়, এটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই পুনর্নির্মাণের এক আন্তরিক প্রচেষ্টা। চসিক প্রতিটি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছানোর কার্যক্রম জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলাই চসিকের লক্ষ্য। কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ বিতরণ নয়, বরং স্থায়ী পুনর্বাসনের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দ্রুত পুনর্বাসন এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি কর্পোরেশন নিরলসভাবে কাজ করছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। চসিকের একা চেষ্টা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা ও সহযোগিতা ছাড়া বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। আমাদের খাল নালা পরিষ্কার রাখা এবং যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলার বিষয়ে নগরবাসীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

মেয়র বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ৪০০টি সুবিধাভোগী পরিবারের হাতে ঢেউটিন তুলে দেন এবং স্থানীয় এলাকার সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

হাজী মো. ইউসুফ ফাউন্ডেশনের সভাপতি হাজী মো. ওসমান গনির সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা সাইফুল ইসলাম নিরব ও আবদুল কাদেরের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শামসুল আলম, মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নুরুল আলম রাজু, আনোয়ার হোসেন লিপু, কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকির হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক মো. মহিউদ্দিনসহ চসিকের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 10:46 pm
বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়তে সরকারি দপ্তরে একযোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী শনিবার জেলার সব সরকারি দপ্তর ও সরকারি আবাসনে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা হবে। প্রতিটি দপ্তরকে পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে হবে। ভালো উদ্যোগের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকবে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক সভা ও সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। সভার প্রতিপাদ্য ছিল—‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি জেলাকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তোলা। এ জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচলিত দায়িত্ব পালনের গণ্ডি পেরিয়ে উদ্যোগী হতে হবে। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুধু একদিনের কর্মসূচি নয়; এটিকে সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে।

তিনি জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরুর আগে ও পরে প্রতিটি দপ্তরকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে জমা দিতে হবে। এগুলো মূল্যায়ন করে সেরা উদ্যোগগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে এবং কার্যক্রমের অগ্রগতি সরকারের উচ্চপর্যায়েও জানানো হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, ছাদ ও প্রাঙ্গণ থেকে অপসারণ করা বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা সেগুলো সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হবে।
দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবর্তন আসবে না

বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, সমাজে নিজের দায়িত্ব অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি সরকারি দপ্তরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জব্দ বা বাজেয়াপ্ত যানবাহন ও অন্যান্য মালামাল দ্রুত বিধি অনুযায়ী নিষ্পত্তিরও তাগিদ দেন।

স্বচ্ছ পানিতেও জন্মায় এডিসের লার্ভা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষাকালে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিও এডিস মশার প্রজননের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। ফেলে রাখা ডাবের খোসা, মিনারেল ওয়াটারের বোতল কিংবা ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা জন্মাতে পারে। তাই ছাদ, ছাদবাগান ও ভবনের আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।

সিভিল সার্জনের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরে ২২৯ জন এবং উপজেলা পর্যায়ে ২৪১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। জুলাই মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। উপজেলা পর্যায়ে এ বছর দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

মেয়র নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা, পানি জমে থাকা কিংবা ডেঙ্গুর সম্ভাব্য প্রজননস্থলের তথ্য ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে আহ্বান জানান।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী (অব.) বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংগৃহীত বর্জ্য নির্ধারিত ডাম্পিং স্থানে বা গাড়ি প্রবেশ করতে পারে—এমন খোলা জায়গায় রাখতে হবে। পরে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সেগুলো সংগ্রহ করবে। যেসব ভবনের ছাদে পানি জমে থাকে, সেখানে প্রয়োজন হলে বিটিআই প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, সরকারি দপ্তর ও আবাসনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত হচ্ছে কি না, জেলা পুলিশ তা পর্যবেক্ষণ করবে। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানও কর্মসূচি বাস্তবায়নে পুলিশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় সমাজসেবা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক ভবঘুরে ও আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসকও নগরের উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী মানুষের পরিচয় যাচাই করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

আগামী ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য চট্টগ্রাম সফরকে সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, এই উদ্যোগ কোনো বিশেষ সফরকে কেন্দ্র করে নয়; এটি চট্টগ্রামের স্থায়ী নাগরিক সংস্কৃতিতে পরিণত করাই প্রশাসনের লক্ষ্য।

দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 21 July, 2026, 8:21 pm
দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।