খুঁজুন
সোমবার, ৯ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ জরুরি: ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ জরুরি: ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক কোর্ট হিল। প্রশাসনিক ও ঐতিহ্যিক গুরুত্বে বহুদিন ধরেই এটি শহরের একটি পরিচিত কেন্দ্র। সেই কোর্ট হিলেই দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের বহু পুরোনো স্মারক—জিরো পয়েন্ট। দীর্ঘদিনের অবহেলায় জীর্ণ হয়ে পড়া এই স্থাপনাটি নতুন রূপে আবারও ফিরে পেল তার ঐতিহাসিক মর্যাদা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে সংস্কার শেষে শনিবার (৭ মার্চ ২০২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী এই জিরো পয়েন্ট।

সংস্কারকৃত জিরো পয়েন্ট উদ্বোধন করার সময় তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি।

জেলা প্রশাসক বলেন, “একটি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যই মূলত তার সংস্কৃতির শেকড়কে নির্ধারণ করে। আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাস কেমন, আমাদের সংস্কৃতি কতটা প্রাচীন—এসবই এই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। একই সঙ্গে এটি আগামী প্রজন্মের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়।”

তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর কোর্ট হিল এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে জিরো পয়েন্টের জীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থা তাঁর নজরে আসে। পরে এর ইতিহাস অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই চট্টগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু চিহ্নিত করার জন্য এখানে একটি স্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছিল, যা পরবর্তীকালে ‘জিরো পয়েন্ট’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

জেলা প্রশাসক বলেন, “চট্টগ্রাম আমাদের দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এটি হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি। যদি আমরা চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাস দেখি, তাহলে দেখতে পাই ১৮৬০ সালে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় দুটি জেটির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের যাত্রা শুরু হয়। সেখান থেকেই এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের বিস্তার ঘটে।”

তিনি আরও বলেন, সে সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বিভিন্ন স্থানের দূরত্ব ও পরিমাপ নির্ধারণের সুবিধার্থে ব্রিটিশ সরকার একটি কেন্দ্র বা নির্দিষ্ট বিন্দু স্থাপন করে, যা পরবর্তীকালে জিরো পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত হয়।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, নব্বইয়ের দশকে জিরো পয়েন্টের বর্তমান কাঠামোটি প্রথমবার নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সীমিত পরিসরে কিছু সংস্কার কাজ হলেও স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নান্দনিকতা ধরে রাখতে বড় পরিসরে সংস্কারের প্রয়োজন ছিল।

জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জিরো পয়েন্টের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনুধাবন করে এর সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেন। তাঁর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে স্থাপনাটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন, পরিচ্ছন্ন এবং দর্শনার্থী ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। সংস্কার শেষে নতুন নান্দনিক অবয়বে জিরো পয়েন্ট এখন চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং নগর সৌন্দর্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ঐতিহ্য আমাদেরই সংরক্ষণ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখা প্রয়োজন। সেই ভাবনা থেকেই আমরা জিরো পয়েন্টকে নতুনভাবে পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ সংরক্ষণ এবং নগরের সৌন্দর্যবর্ধনে জেলা প্রশাসকের এই উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Feb2

তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ

জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) এক বার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানি তেল বিপণনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো হতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা যায়। ফলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় প্রধান স্থাপনাসহ প্রধান প্রধান ডিপোগুলোতে অর্থাৎ খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়।

দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো কেপিআইভুক্ত স্থাপনা হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর উল্লিখিত স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা, খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

পোশাকের গায়ে ডাবল স্টিকার, জেন্টেল পার্ককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
পোশাকের গায়ে ডাবল স্টিকার, জেন্টেল পার্ককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে চারটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

সোমবার (৯ মার্চ) পরিচালিত এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ।

অভিযানে দেখা যায়, পোশাকের গায়ে ডাবল স্টিকার লাগিয়ে দাম বাড়িয়ে বিক্রি করার অভিযোগে ‘জেন্টেল পার্ক’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক নিজেদের উৎপাদিত বলে বিক্রি করায় ‘শৈল্পিক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিষিদ্ধ ও অননুমোদিত প্রসাধনী বিক্রির দায়ে ‘ইন্টার লিঙ্ক কসমেটিক’কে ৫ হাজার টাকা এবং একই অপরাধে ‘আর বি কালেকশন’কে আরও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সময় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

জ্বালানি তেলে অনিয়ম রোধে ডিসিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেলে অনিয়ম রোধে ডিসিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি রোধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সোমবার (৯ মার্চ) এ নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ।

চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধের লক্ষ্যে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি, খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধ ও পাচাররোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে অনুরোধ জানানো হলো।

তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ডিসিদের নির্দেশনা প্রদান করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।