খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হামের ছোবলে দিশেহারা দেশ : শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে বিপন্ন শৈশব!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
হামের ছোবলে দিশেহারা দেশ : শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে বিপন্ন শৈশব!

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ মহামারির রূপ ধারণ করছে। রাজধানীসহ সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হঠাৎ রোগীর চাপে হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে, রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত কয়েক দিনে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আইসিইউ ও পিআইসিইউর তীব্র সংকটের কারণে অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিগত কয়েক দিন ধরে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে সেখানে ৩৭ জন আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে এক শিশু।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। অনেক রোগীরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রয়োজন হলেও আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কাউকেই আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিইউ ও পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দেওয়া হলেও কবে নাগাদ সুযোগ মিলবে— তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকেরা।

দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে, যা মহামারির আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে ৩৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় একজন মারা গেছে

কুষ্টিয়া থেকে আসা মো. রিন্টু হোসেন তার নয় মাসের মেয়ে রাফিয়াকে নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে রাজশাহীর একটি বেসরকারি মেডিকেলে হার্টের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ছিল। হঠাৎ করে চার দিন আগে জ্বর ও শরীরে ফোসকা পড়ায় তারা রোগীকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার পর তারা জানতে পারেন মেয়ের হাম হয়েছে।

রিন্টু বলেন, ‘আমার ধারণা রাজশাহীর ওই মেডিকেল থেকেই আমার মেয়ের শরীরে হাম ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ আমাদের বেডের পাশেই হামে আক্রান্ত এক রোগী ভর্তি ছিল।’

এদিকে, কিশোরগঞ্জ থেকে শফিকুল ইসলাম সাড়ে তিন মাস বয়সী শিশু আবু হুরাইরাকে নিয়ে শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে আসেন। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই শিশুটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে পিআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সংবাদ শোনার পর শফিকুল ইসলাম দিশেহারা হয়ে শিশু হাসপাতালসহ আশেপাশের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ খোঁজেন।

শিশু হাসপাতালে পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দিতে গেলে তার সিরিয়াল পড়ে ৩৬ নম্বরে। কবে নাগাদ সিরিয়াল অনুযায়ী আইসিইউ পাওয়া যাবে— তা বলতে পারছেন না কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। এদিকে, রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

গাজীপুর থেকে ছয় মাসের শিশু আয়মানকে নিয়ে আসা মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার জ্বর ও বমি নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর এখানে জানানো হয় যে, বাচ্চার হাম হয়েছে। পরে তাকে এই ইউনিটে ভর্তি দেওয়া হয়। গত তিন দিন ধরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা পিআইসিইউর কথা বলেন।’

ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। অনেক রোগীরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রয়োজন হলেও আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কাউকেই আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিইউ ও পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দেওয়া হলেও কবে নাগাদ সুযোগ মিলবে— তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকেরা

তিনি বলেন, ‘পিআইসিইউ খোঁজ করলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, হঠাৎ করে হামের সংক্রমণ বাড়ায় আলাদা ইউনিট করা হলেও এখনও আইসিইউ বা পিআইসিইউর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি জানান, পরে ঢাকা মেডিকেলে খোঁজ নিলে সেখানে পিআইসিইউ পাওয়া গেলেও রোগীর কেস স্টাডি দেখে তা বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, এ রোগীকে পিআইসিইউতে নিলে অন্য রোগীদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পরবর্তীতে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে খোঁজ নিলে সেখান থেকেও জানানো হয়, তাদের বেডে আরও গুরুতর রোগী রয়েছে। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করেই হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের কর্তব্যরত একাধিক চিকিৎসক জানান, প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বর্তমানে ভর্তি থাকা অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। হামে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি ১৩ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। এছাড়া, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে, যাদের এখনও টিকা নেওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা জানান, টিকা না নেওয়া এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। পোস্ট-মিজেলস নিউমোনিয়ার রোগী এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন গত আট বছরে অনেকেই হামের টিকা নেয়নি, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তিনি নতুন করে টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন যে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং কোভিডের মতো টিকাদানের হার ধরে রাখতে না পারলে হাম মোকাবিলা করা কঠিন হবে

তাদের মতে, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর জটিলতায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। এসব রোগীকে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।’

শিশু সংক্রামক রোগ ও কমিউনিটি শিশুস্বাস্থ্য ইউনিটের ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘বিগত বছরের তুলনায় এবার হামের সংক্রমণ অনেক বেশি। এটি ধীরে ধীরে মহামারির আকার ধারণ করছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে একটি ইউনিট চালু করেছি, তবে আইসিইউ ও পিআইসিইউ দিতে পারছি না। কারণ, হামের রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইসিইউ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সরকার প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশনসহ আইসিইউ ও পিআইসিইউর যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে এ সেবা চালু করতে পারব।’

তিনি জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দিতে হয়। এটি এতটাই সংক্রামক যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৮ জন পর্যন্ত মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশেষ করে নয় ও ১৫ মাস বয়সী যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই বছর বিশ্বজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে একটি বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যার কারণে অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে
অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম

হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ হিসেবে ডা. জিয়া বলেন, ‘২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই বছর বিশ্বজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে একটি বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যার কারণে অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।’

এর আগে, রোববার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ দিনে হামের প্রবণতা বেড়েছে। গত আট বছর অনেকেই হামের টিকা নেয়নি। এ কারণে প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে, সংকট মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা কেনা হচ্ছে।’

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’