খুঁজুন
, ,

হামের ছোবলে দিশেহারা দেশ : শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে বিপন্ন শৈশব!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 30 March, 2026, 9:15 am
হামের ছোবলে দিশেহারা দেশ : শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে বিপন্ন শৈশব!

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ মহামারির রূপ ধারণ করছে। রাজধানীসহ সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হঠাৎ রোগীর চাপে হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে, রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত কয়েক দিনে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আইসিইউ ও পিআইসিইউর তীব্র সংকটের কারণে অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিগত কয়েক দিন ধরে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে সেখানে ৩৭ জন আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে এক শিশু।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। অনেক রোগীরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রয়োজন হলেও আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কাউকেই আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিইউ ও পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দেওয়া হলেও কবে নাগাদ সুযোগ মিলবে— তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকেরা।

দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে, যা মহামারির আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে ৩৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় একজন মারা গেছে

কুষ্টিয়া থেকে আসা মো. রিন্টু হোসেন তার নয় মাসের মেয়ে রাফিয়াকে নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে রাজশাহীর একটি বেসরকারি মেডিকেলে হার্টের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ছিল। হঠাৎ করে চার দিন আগে জ্বর ও শরীরে ফোসকা পড়ায় তারা রোগীকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার পর তারা জানতে পারেন মেয়ের হাম হয়েছে।

রিন্টু বলেন, ‘আমার ধারণা রাজশাহীর ওই মেডিকেল থেকেই আমার মেয়ের শরীরে হাম ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ আমাদের বেডের পাশেই হামে আক্রান্ত এক রোগী ভর্তি ছিল।’

এদিকে, কিশোরগঞ্জ থেকে শফিকুল ইসলাম সাড়ে তিন মাস বয়সী শিশু আবু হুরাইরাকে নিয়ে শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে আসেন। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই শিশুটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে পিআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সংবাদ শোনার পর শফিকুল ইসলাম দিশেহারা হয়ে শিশু হাসপাতালসহ আশেপাশের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ খোঁজেন।

শিশু হাসপাতালে পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দিতে গেলে তার সিরিয়াল পড়ে ৩৬ নম্বরে। কবে নাগাদ সিরিয়াল অনুযায়ী আইসিইউ পাওয়া যাবে— তা বলতে পারছেন না কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। এদিকে, রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

গাজীপুর থেকে ছয় মাসের শিশু আয়মানকে নিয়ে আসা মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার জ্বর ও বমি নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর এখানে জানানো হয় যে, বাচ্চার হাম হয়েছে। পরে তাকে এই ইউনিটে ভর্তি দেওয়া হয়। গত তিন দিন ধরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা পিআইসিইউর কথা বলেন।’

ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। অনেক রোগীরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রয়োজন হলেও আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কাউকেই আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিইউ ও পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দেওয়া হলেও কবে নাগাদ সুযোগ মিলবে— তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকেরা

তিনি বলেন, ‘পিআইসিইউ খোঁজ করলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, হঠাৎ করে হামের সংক্রমণ বাড়ায় আলাদা ইউনিট করা হলেও এখনও আইসিইউ বা পিআইসিইউর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি জানান, পরে ঢাকা মেডিকেলে খোঁজ নিলে সেখানে পিআইসিইউ পাওয়া গেলেও রোগীর কেস স্টাডি দেখে তা বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, এ রোগীকে পিআইসিইউতে নিলে অন্য রোগীদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পরবর্তীতে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে খোঁজ নিলে সেখান থেকেও জানানো হয়, তাদের বেডে আরও গুরুতর রোগী রয়েছে। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করেই হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের কর্তব্যরত একাধিক চিকিৎসক জানান, প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বর্তমানে ভর্তি থাকা অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। হামে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি ১৩ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। এছাড়া, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে, যাদের এখনও টিকা নেওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা জানান, টিকা না নেওয়া এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। পোস্ট-মিজেলস নিউমোনিয়ার রোগী এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন গত আট বছরে অনেকেই হামের টিকা নেয়নি, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তিনি নতুন করে টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন যে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং কোভিডের মতো টিকাদানের হার ধরে রাখতে না পারলে হাম মোকাবিলা করা কঠিন হবে

তাদের মতে, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর জটিলতায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। এসব রোগীকে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।’

শিশু সংক্রামক রোগ ও কমিউনিটি শিশুস্বাস্থ্য ইউনিটের ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘বিগত বছরের তুলনায় এবার হামের সংক্রমণ অনেক বেশি। এটি ধীরে ধীরে মহামারির আকার ধারণ করছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে একটি ইউনিট চালু করেছি, তবে আইসিইউ ও পিআইসিইউ দিতে পারছি না। কারণ, হামের রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইসিইউ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সরকার প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশনসহ আইসিইউ ও পিআইসিইউর যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে এ সেবা চালু করতে পারব।’

তিনি জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দিতে হয়। এটি এতটাই সংক্রামক যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৮ জন পর্যন্ত মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশেষ করে নয় ও ১৫ মাস বয়সী যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই বছর বিশ্বজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে একটি বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যার কারণে অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে
অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম

হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ হিসেবে ডা. জিয়া বলেন, ‘২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই বছর বিশ্বজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে একটি বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যার কারণে অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।’

এর আগে, রোববার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ দিনে হামের প্রবণতা বেড়েছে। গত আট বছর অনেকেই হামের টিকা নেয়নি। এ কারণে প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে, সংকট মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা কেনা হচ্ছে।’

Feb2
Feb2

সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 3:04 pm
সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সব সৃষ্টি থেকে উপকার ভোগ করতে হলে, মানুষ হিসেবে আমাদের অবশ্যই কিছু দায়িত্ব এবং কর্তব্য রয়েছে। যথানিয়মে সব সৃষ্টির যত্ন এবং পরিচর্যা করা মানব সমাজের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রমাণিত সত্য, বাস্তুতন্ত্র বা ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানব সমাজের সম্পর্ক গভীর এবং অবিচ্ছেদ্য। বাস্তুতন্ত্রের নিরাপদ লালন এবং বিকাশের সঙ্গে মানব সমাজের নিরাপদ বেড়ে ওঠা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, আজকের এই পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন, এটি কিন্তু বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ বলেই আমি মনে করি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা নিয়ে নতুন করে বেশি কিছু বলার নেই। বৃক্ষরোপণ কিংবা সবুজায়নের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত। আপনার-আমার-আমাদের আগামী প্রজন্মের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্যই সবুজায়ন জরুরি। একটি সন্তান পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে, আসুন আমরা একটি করে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি, স্মরণীয় করে রাখি। একজন নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠুক। এভাবেই এগিয়ে যাক সবুজায়নের জন্য সামাজিক আন্দোলন।

তারেক রহমান বলেন, সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠন অসম্ভব নয়।

বর্তমান সরকার পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে ইচ্ছেমতো গাছ রোপণ করলেই উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। বরং কোন পরিবেশে, কোন প্রকারের মাটিতে, কি ধরনের আবহাওয়ায়, কোন প্রজাতির গাছ রোপণ করা দরকার, এগুলো-পরীক্ষা নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যেমন ইউক্যালিপটাস কিংবা আকাশমণি প্রজাতির গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে, কিন্তু এ ধরনের গাছ আমাদের পরিবেশের জন্য কতটা উপযোগী সেটি অবশ্যই গবেষণার দাবি রাখে।

তিনি বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ যেমন ওষুধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয়, বনজ, ফলদ, অর্থকরী এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপিত গাছ নিরাপদে বেড়ে উঠছে কিনা কিংবা বেড়ে উঠতে পারছে কিনা, সেটি নিশ্চিত করা তার চেয়েও বেশি জরুরি। আর যুগ যুগ ধরে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের অংশ হয়ে যাওয়া, বিদ্যমান গাছগুলোকে কেটে না ফেলে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি আশা করি, বনবিভাগ সেটি নিশ্চিত করবে। সরকার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত-এটি এখন আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কার বিষয় নয়। বরং এটিই এখন আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ কিংবা দাবদাহ, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি সর্বোপরি জন জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে কোনো আলাদা খাত হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে, সেটি শুধুমাত্র কৃষকদের জন্য বছর জুড়ে কৃষি সেচ সুবিধাই নিশ্চিত করবে না, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার ক্ষেত্রেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশের উন্নয়ন শুধুমাত্র বৃক্ষরোপণ কিংবা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না। রাজধানীসহ বিশেষ করে সারাদেশের সব নগর বন্দর এবং শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে। একইসঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং রিডিউস-রিইউজ-রিসাইকেল এই থ্রিআরএস নীতিকে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে আনতে হলে এটি শুধুমাত্র নগর প্রশাসন কিংবা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন ছোট বড় প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ। প্রতিটি নাগরিকের প্রতি উদাত্ত আহ্বান, অনুগ্রহ করে যেখানে সেখানে বর্জ্য কিংবা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না।

ঘরে কিংবা বাইরে সবসময় সব বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলুন। নিজে সুস্থ থাকুন-নিজের পরিবারের জন্যও পরিবেশ সুন্দর রাখুন বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 12:27 pm
কক্সবাজার ও বান্দরবানে পাহাড়ধসে ৭ জনের মৃত্যু

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের চকরিয়া ও বান্দরবানের লামায় পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৭ জন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে চকরিয়া উপজেলার মছনিয়া কাটা এলাকায় বসতঘরের ওপর পাহাড়ধসে মাটি চাপা পড়ে একই পরিবারের দুই শিশু মারা যাওয়ার তথ্য দিয়েছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া আজ ভোরে চকরিয়ার পার্শ্ববর্তী বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া-পাগলির ঝিরি এলাকায় পৃথক দুই ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

চকরিয়ার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম জানা যায়নি। ভোরবেলায় মছনিয়াকাটা এলাকায় একটি বসতঘরে পাহাড়ধসে দুই শিশুসহ তাদের মা চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তাদের মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

অন্যদিকে বান্দারবানের লামায় আজিজনগরে একটি ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন এবং অপর ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী মারা গেছেন।

মৃত পাঁচজন হলেন- মিশনপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) ও তাদের ছেলে মোহাম্মদ সোলেমান (৫)। অপর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ জুয়েল (৩৪) ও স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫) মাটিচাপা পড়ে মারা যান।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে পাহাড়ধসের পর এলাকার মানুষের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন, লামার আজিজনগরে পৃথক দুই ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 9 July, 2026, 11:51 am
সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বহাল, গেজেট ও শপথে বাধা নেই

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে বাধা নেই বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে আদালত এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ. এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন। জামায়াতের প্রার্থী নুরুল আমিনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর অংশ নেন। তবে নির্বাচনে তার ফলাফল প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে স্থগিত রয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল হয়। এ নিয়ে নির্বাচনের আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট করেন সারোয়ার আলমগীর। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে সারোয়ার আলমগীরকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতে এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দিতে নির্দেশ দেন।

তবে হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে তিনি এ আবেদন করেন। লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি আদেশ দেন আপিল বিভাগ। তাতে বলা হয়, যদি সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে বিজয়ী হন, তবে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনের ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) এ-সংক্রান্ত আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

লিভ টু আপিল মঞ্জুরের পর গত ৩১ মার্চ নিয়মিত আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী। ওই আপিলের ওপর শুনানি শেষে ১৬ জুন আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আপিল নিষ্পত্তি করে দেওয়া আদেশে আপিল বিভাগ দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের দেওয়া আদেশ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সারোয়ার আলমগীরের নির্বাচনী ফলাফল (যতটুকু তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) প্রকাশ স্থগিত থাকবে।

আপিল বিভাগের আদেশের পর রিটটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ২১ জুন হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।