খুঁজুন
, ,

হামের ছোবলে দিশেহারা দেশ : শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে বিপন্ন শৈশব!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 30 March, 2026, 9:15 am
হামের ছোবলে দিশেহারা দেশ : শিশু হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে বিপন্ন শৈশব!

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ মহামারির রূপ ধারণ করছে। রাজধানীসহ সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। হঠাৎ রোগীর চাপে হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে, রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত কয়েক দিনে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আইসিইউ ও পিআইসিইউর তীব্র সংকটের কারণে অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎপরতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

রোববার (২৯ মার্চ) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিগত কয়েক দিন ধরে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে সেখানে ৩৭ জন আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে এক শিশু।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। অনেক রোগীরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রয়োজন হলেও আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কাউকেই আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিইউ ও পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দেওয়া হলেও কবে নাগাদ সুযোগ মিলবে— তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকেরা।

দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ ভয়াবহভাবে বাড়ছে, যা মহামারির আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। বর্তমানে ৩৭ জন শিশু ভর্তি রয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় একজন মারা গেছে

কুষ্টিয়া থেকে আসা মো. রিন্টু হোসেন তার নয় মাসের মেয়ে রাফিয়াকে নিয়ে গতকাল বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছেন। এর আগে রাজশাহীর একটি বেসরকারি মেডিকেলে হার্টের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি ছিল। হঠাৎ করে চার দিন আগে জ্বর ও শরীরে ফোসকা পড়ায় তারা রোগীকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার পর তারা জানতে পারেন মেয়ের হাম হয়েছে।

রিন্টু বলেন, ‘আমার ধারণা রাজশাহীর ওই মেডিকেল থেকেই আমার মেয়ের শরীরে হাম ছড়িয়ে পড়েছে, কারণ আমাদের বেডের পাশেই হামে আক্রান্ত এক রোগী ভর্তি ছিল।’

এদিকে, কিশোরগঞ্জ থেকে শফিকুল ইসলাম সাড়ে তিন মাস বয়সী শিশু আবু হুরাইরাকে নিয়ে শনিবার বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে আসেন। রোববার (২৯ মার্চ) সকাল থেকেই শিশুটির অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে পিআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ সংবাদ শোনার পর শফিকুল ইসলাম দিশেহারা হয়ে শিশু হাসপাতালসহ আশেপাশের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ খোঁজেন।

শিশু হাসপাতালে পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দিতে গেলে তার সিরিয়াল পড়ে ৩৬ নম্বরে। কবে নাগাদ সিরিয়াল অনুযায়ী আইসিইউ পাওয়া যাবে— তা বলতে পারছেন না কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা। এদিকে, রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

গাজীপুর থেকে ছয় মাসের শিশু আয়মানকে নিয়ে আসা মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ‘গত মঙ্গলবার জ্বর ও বমি নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর এখানে জানানো হয় যে, বাচ্চার হাম হয়েছে। পরে তাকে এই ইউনিটে ভর্তি দেওয়া হয়। গত তিন দিন ধরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা পিআইসিইউর কথা বলেন।’

ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। অনেক রোগীরই ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) প্রয়োজন হলেও আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় কাউকেই আইসিইউ সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আইসিইউ ও পিআইসিইউর জন্য সিরিয়াল দেওয়া হলেও কবে নাগাদ সুযোগ মিলবে— তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না চিকিৎসকেরা

তিনি বলেন, ‘পিআইসিইউ খোঁজ করলে হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, হঠাৎ করে হামের সংক্রমণ বাড়ায় আলাদা ইউনিট করা হলেও এখনও আইসিইউ বা পিআইসিইউর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি জানান, পরে ঢাকা মেডিকেলে খোঁজ নিলে সেখানে পিআইসিইউ পাওয়া গেলেও রোগীর কেস স্টাডি দেখে তা বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, এ রোগীকে পিআইসিইউতে নিলে অন্য রোগীদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পরবর্তীতে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে খোঁজ নিলে সেখান থেকেও জানানো হয়, তাদের বেডে আরও গুরুতর রোগী রয়েছে। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করেই হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের কর্তব্যরত একাধিক চিকিৎসক জানান, প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। বর্তমানে ভর্তি থাকা অধিকাংশ শিশুর বয়স নয় মাসের কম। হামে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি ১৩ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। এছাড়া, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ বাড়ছে, যাদের এখনও টিকা নেওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে।

চিকিৎসকেরা জানান, টিকা না নেওয়া এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়ছে। পোস্ট-মিজেলস নিউমোনিয়ার রোগী এখন বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়সী শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন গত আট বছরে অনেকেই হামের টিকা নেয়নি, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তিনি নতুন করে টিকা কেনার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন যে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে এবং কোভিডের মতো টিকাদানের হার ধরে রাখতে না পারলে হাম মোকাবিলা করা কঠিন হবে

তাদের মতে, ‘হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। হাঁচি-কাশি, কথা বলা বা সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর জটিলতায় ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, চোখ ও মস্তিষ্কে প্রদাহ হতে পারে। এসব রোগীকে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।’

শিশু সংক্রামক রোগ ও কমিউনিটি শিশুস্বাস্থ্য ইউনিটের ইনচার্জ অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘বিগত বছরের তুলনায় এবার হামের সংক্রমণ অনেক বেশি। এটি ধীরে ধীরে মহামারির আকার ধারণ করছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে একটি ইউনিট চালু করেছি, তবে আইসিইউ ও পিআইসিইউ দিতে পারছি না। কারণ, হামের রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা আইসিইউ ব্যবস্থা প্রয়োজন। সরকার প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশনসহ আইসিইউ ও পিআইসিইউর যন্ত্রপাতি সরবরাহ করলে আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে এ সেবা চালু করতে পারব।’

তিনি জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের সম্পূর্ণ আলাদা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা দিতে হয়। এটি এতটাই সংক্রামক যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে ১৮ জন পর্যন্ত মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশেষ করে নয় ও ১৫ মাস বয়সী যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই বছর বিশ্বজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে একটি বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যার কারণে অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে। সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে
অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম

হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণ হিসেবে ডা. জিয়া বলেন, ‘২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই বছর বিশ্বজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ফলে একটি বড় গ্যাপ তৈরি হয়েছে, যার কারণে অনেক শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘সরকার যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।’

এর আগে, রোববার সকালে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত ১৫ দিনে হামের প্রবণতা বেড়েছে। গত আট বছর অনেকেই হামের টিকা নেয়নি। এ কারণে প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। তবে, সংকট মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে টিকা কেনা হচ্ছে।’

Feb2
Feb2

সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 2:50 pm
সাইকেল চালানো সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাইকেল চালানো শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি সুস্থ থাকার অন্যতম কার্যকর উপায়। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাইকেল চালানোর জন্য নিরাপদ ও নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা নাগরিকদের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ।

তিনি শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কে (ভিআইপি রোড) বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য, পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সাইকেল ট্র্যাক নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অনুষ্ঠানে নগরবাসীর হাঁটাচলা, শরীরচর্চা ও বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

এসময় আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের এই সাইকেল ট্র্যাক কেবল শুরু। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন, যাতে মানুষ শরীরচর্চা, বিনোদন ও দৈনন্দিন চলাচলের জন্য এসব সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়, এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গাগুলোতে হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য একটি গর্বের অর্জন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরও নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিকদের জন্য সাইক্লিং ও হাঁটার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ ও উৎসাহ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে পেরে তিনি আনন্দিত।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে বড় সড়কের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক উন্নয়নেও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর সুবিধা ও সবুজায়ন করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।

নগরীর উন্নয়ন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মেয়র বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে যেন অবৈধ দখল, স্থাপনা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সে জন্য চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

মেয়র আরও জানান, বিমানবন্দর সড়ক থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ভারী যানবাহনের চাপ সামলানো এবং সড়কের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 9 October, 2026, 11:05 am
সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ (​শুক্রবার) সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 9:45 pm
জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নের এক বিশেষ সভা অদ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চট্টগ্রামস্থ একটি রেস্টুরেন্ট’র হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর মল্লিকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেকেএ এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ সেলিম।

সভায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নাল কমিটি গঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বিশেষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শাহেদ-কে চট্টগ্রাম রিজিয়নের নতুন চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

বরণ অনুষ্ঠানে জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ-কে জেকেএ-এর টাই পরিয়ে দেন এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস ব্যাজ পরিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল, পিআরইউর সদস্য সচিব ইমরান এমি, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সেলিম উদ্দিন রাসেল, জাফর আহমেদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, আতিকুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, রাশেদুল কলিম, শাবাব ইয়াজদানী, মঞ্জুর আলম মঞ্জুসহ কারাতের খেলোয়াড় বৃন্দ।

সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।