খুঁজুন
, ,

সাজেকে কমেনি হামের প্রকোপ: চিকিৎসা সেবায় ‘আশিকা’র ভিন্নধর্মী উদ্যোগ(ভিডিও)

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 30 April, 2020, 12:11 pm
সাজেকে কমেনি হামের প্রকোপ: চিকিৎসা সেবায় ‘আশিকা’র ভিন্নধর্মী উদ্যোগ(ভিডিও)

রাঙামাটি প্রতিনিধি::রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেকে কমেনি হামের প্রকোপ। নতুন করে সাজেকের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আরো একশ জনের বেশি হামে আক্রান্ত হয়েছে।

স্থানীয় কার্বারী (পাড়া প্রধান), বেসরকারি চিকিৎসক এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই এমন খবর মিলছে।

গত মঙ্গলবার ও বুধবার সরেজমিনে সাজেক ইউনয়নের শিজকছড়া, হাউজপাড়া, সুরুংনালা, মাচলং, উজোবাজার এবং ভূইয়োছড়ি ঘুরে কমপক্ষে ৩৫টি দরিদ্র পরিবারের শিশুকে হামে আক্রান্ত দেখা গেছে। তবে কোথাও গত এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোন চিকিৎসাকর্মীর দেখা না পাওয়ার অভিযোগও আছে মানুষের মুখে মুখে। চরম খাদ্য সংকটে থাকা নি:স্ব মানুষগুলোর অসহায়ত্ব চোখেমুুখে ফুটে উঠলেও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা।

তাঁদের বক্তব্য হলো নতুন করে হামে আক্রান্ত হবার তথ্য যেমন নেই, তেমনি মাঠে প্রতিনিয়তই কাজ করছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা।
এমন বাগাড়ম্বরের ফাঁদে পড়ে সাজেকের হাম পরিস্থিতি আরো বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকার সব শ্রেণির বাসিন্দারা।

সুরুংনালা এলাকার সমাজকর্মী বিজয় কেতন চাকমা জানান, সরকারি-বেসরকারি কর্তপক্ষের কাছে সাজেক মানে ‘রুইলুই পর্যটন’। ওখানে উঠলে পাহাড়-প্রকৃতি দেখা যায়, মানুষের কষ্ট দেখা যায় না। তাই এখানকার মানুষের অভাব-অসুস্থতা জানতে হলে রুইলুই পাহাড় থেকে নেমে চারপাশে হাঁটতে হবে।

উজোবাজারের ফার্মেসি মালিক পুতুল চাকমা বলেন, চলতি মাসের শুরু থেকে রাঙামাটি থেকে ‘আশিকা ডেভলপমেন্ট এসোসিয়েটস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়োগকৃত স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র-পরামর্শের পাশাপাশি পরিবারপিছু নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করছে।

উন্নয়নকর্মী সুমিত চাকমা’র মতে সরকারি সেবার অপ্রতুলতা কাটিয়ে উঠতে ‘আশিকা’র প্রতি সাজেকের মানুষের আস্থা বেড়েছে।

ইউপি সদস্য সুশীলা চাকমা ও হীরানন্দ ত্রিপুরা বলেন, সাজেক ইউনিয়নটি ফেনী জেলার সমান আয়তনের। বেশিরভাগ এলাকা দুর্গম এবং দারিদ্র্যপ্রবণ। গ্রীস্ম ও বর্ষাকাল মানেই এখানে খাদ্য সংকটের মৌসুম। এই সময়টাতে ‘আশিকা’র মতো এনজিওরা বেশি বেশি এগিয়ে আসলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে ‘আশিকা’

হাম রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘আশিকা ডেভেপমেন্ট এসোসিয়েটস’- এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিমল চাকমা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ঔষুধ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যকর্মীরা। গত একমাসে ইউকে এইড ও স্টর্ট ফান্ড বাংলাদেশ-এর সহায়তায় সাজেকের দুর্গম কাইচ্ছা পাড়া, অরুণপাড়া, শিয়ালদা, ভূইয়োছড়ি, শিজকছড়া, দাড়িপাড়া, সুরুংনালা এলাকায় ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প, কাউন্সেলিং, বিনামূল্যে ঔষধ এবং নগদ সহায়তা প্রদান অব্যাহত আছে।

তিনি জানান, সাজেক ইউনিয়নের অধিকাংশ স্থায়ী বাসিন্দাই জুমজীবি এবং দিনমজুর। বছরের এই সময়টাতে পুরো এলাকাজুড়ে খাদ্য ও কাজের সংকট সৃষ্টি হয়। সরকার-বেসরকারিভাবে স্বল্পমূল্যের রেশনিং চালু করা গেলে মানুষের জীবন ও জীবিকা স্থায়িত্বশীল হবে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন চাকমা, সাজেক এলাকায় নতুন করে মাচলংয়ে ৬৪ জন, সুরুনং নালায় ২৮ জন, গঙ্গারাম ও ভাইবোন ছড়ায় ৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃখলা বাহিনীকে আক্রান্তদের তালিকা দেয়া হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে তার কাছে এখনো কোন তথ্য আসেনি।

ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন আরো জানান, দুর্গম এলাকায় ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে সবার আগে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় বিজিবিও সহযোগিতা প্রদান করেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না আসলে পরিস্থিতি আরো খারপা হতে পারতো।

‘আশিকা ডেভলপমেন্ট এসোসিয়েটস’-এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা জানান, ২০১৭ সালে সাজেক এলাকায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছিলো। তাঁর আগেও ‘ইঁদুর বন্যা’র কবলে পড়ে ব্যাপক ফসলহানির মুখে মানুষ সাজেক ছেড়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছিল। এলাকাটির অধিকাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুযোগবঞ্চিত। অভাব-অশিক্ষায় মানবেতর জীবনযাপন করেন।

তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার রেশ টেনে বলেন, জিও-এনজিও ক্লোজলি দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করলেই ওখানে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে। আর তখনিই মানুষের অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো পূরণে অগ্রগতি মিলবে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার নতুন করে হামে আক্রান্ত রোগীর কোন তথ্য নেই দাবি করে বলেন, মাঠে স্বাস্থ্য কর্মীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও এলাকা পরিদর্শন করে নির্দেশনা দেবেন।

রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ চাকমা জানান, তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। সেনাবাহিনী-বিজিবিও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। নতুন করে আক্রান্তের তথ্য নিশ্চিত হওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলে এলাকার মানুষ বেশি উপকৃত হবেন বলেও মত ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে সাজেক ইউনিয়ন এলাকায় হামের প্রার্দূভাব দেখা দেয়। এতে ৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তখন আক্রান্ত হয়েছিলে বয়স্ক ও শিশুসহ দুশতাধিক আক্রান্ত হয়েছে। এখন চলতি মাসের শেষদিক থেকে আবারো নতুন করে আক্রান্তের খবর মিলছে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/প্রদীপ

Feb2
Feb2

চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:56 pm
চট্টগ্রামে ডিবি অফিসের সামনেই ইয়াবার হাট, হাটের রাজা ইয়াবা সম্রাট জয়, জড়িত গোয়েন্দা পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি::চট্টগ্রামের মুনছুরাবাদে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের কার্যালয়ের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে, চট্টগ্রামের ইয়াবা সম্রাট নামে খ্যাত জয় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে প্রকাশ্যে ইয়াবাসহ নানা নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি করে । প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক জাত দ্রব্য বিক্রি হয় কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী রেশন স্টোর ও পুলিশের ব্র্যাক থেকেও ইয়াবা সাপ্লাই করে জয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জয় এর এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সাথে কিছু অসাধু গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য জড়িত । ফলে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে জয়।

‎অনুসন্ধানে জানাযায়, গনি আহামদের ছেলে জাবেদ ওরফে জয়, কাজীর দেউড়ি ২ নং গলির বাসিন্দা হলেও বর্তমানে বাকলিয়া থানার বলির হাট এলাকায় বসবাস করে।

সুত্র জানায়, ডিবি পুলিশের কনেস্টেবল আজাদ, রবিউল,  হানিফ, সঞ্জয়, আব্দুর রহিম, ইয়াবা সম্রাট জাবেদ ওরফে জয় এর সহযোগী বলে জানা গেছে।

‎এছাড়া কর্ণফুলী ক্লাব থেকে রূপসা বেকারী পর্যন্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ জয়কে ডিবি অফিসার হিসাবে চিনে ও জানে, অনেকেই আবার জয়কে জয় স্যার বলে সম্বোধন করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিবি পুলিশের কয়েকজন সদস্য বলেন, আইনের লোকেরা যখন বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ে তখন কিছুই বলার থাকে না। পুলিশের ব্র্যাকে মাদক দ্রব্য রেখে গোয়েন্দা পুলিশের অফিসের সামনে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে চট্টগ্রামের চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী মিস্ত্রী পাড়ার বিপ্লব ও বউ বাজারে ডাইল নুরুকে নিয়ে জয় যে মাদকের হাট বসায় তা মেনে নেওয়ার নয়। গোয়েন্দা পুলিশের যে সদস্যরা জয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই কোটি কোটি টাকার মালিক তাদের টাকার দাপটে আমরা অসহায়। খোদ উর্ধ্বতনরাও টাকার কাছে জিম্মি বলে মনে হয়।

‎নেশাগ্রস্থ অবস্থায় জয় যখন পুলিশ ব্র্যাকে শুয়ে থাকে তখনও কিছুই বলার থাকেনা। সন্ধ্যা হলে নগরীর চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা আসে কর্ণফুলী ক্লাবের মাঠে ।

‎সিএমপিতে দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রামের বাকলিয়ার মাদক সম্ম্রাট ইছহাক, সোবহান, ও পাহারতলীর মাদক সম্ম্রাট টেক্সি জসিম আলমগীর ও কদম তলীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ি আলো সহ আরো অসংখ্য মাদক ব্যবসায়ীর নিকট মাদক ও ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রয় করে আসছে।

ক্লাবের ভিতরে মাঠে চেয়ার নিয়ে বসে থাকে, জয় , ডাইল নুরু ও ইয়াবা সম্রাট বিপ্লব। পার্টি আসলে ব্র্যাক থেকে মাদক দ্রব্য নিয়ে আসে অসাধু পুলিশ সদস্যরা।

‎এই বিষয়ে জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। একবার বলেন আমি ফার্নিচার ব্যবসায়ী, আবার বলেন আমি এইসব ছেড়ে দিয়েছি। আবার অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বলেন, আমি জানি কে এইসব আমার ব্যাপারে বলেছে। আপনার খবর নিয়ে দেখবো আপনি কে ?

‎মাদকের ব্যাপারে সারাদেশের প্রসাশন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষনা করলেও সিএমপি গোয়েন্দা কার্যালয়ের সামনে এমন কান্ডকে ভাবিয়ে তোলে সচেতন মহলকে।

‎এই বিষয়ে ডিসি (ডিবি উত্তর) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 9:29 pm
সিএমপিতে একসঙ্গে ৫ থানার ওসি রদবদল

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পাঁচ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একই আদেশে কয়েকজন ওসিকে বদলি এবং বিভিন্ন ইউনিট থেকে নতুন কর্মকর্তাদের থানায় পদায়ন করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ রদবদলের তথ্য জানানো হয়।

আদেশ অনুযায়ী, কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক নুর আহমদকে কর্ণফুলী থানার ওসি, সিটিএসবির মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে খুলশী থানার ওসি এবং কর্ণফুলী থানার বর্তমান ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিনকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ডিবি বন্দর জোনের পুলিশ পরিদর্শক মো. জয়নাল আবেদীন মন্ডলকে হালিশহর থানার ওসি এবং খুলশী থানার বর্তমান ওসি মোজাম্মেল হককে পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পাঁচলাইশ মডেল থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে বদলি করে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিএসবির মোহাম্মদ একরাম উল্লাহকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

সিএমপির জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 23 August, 2026, 8:20 pm
পাহাড়ে ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান ভূমি ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করে সরকার ঘোষিত ‘রেইনবো নেশন’ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষতার বিকাশ ঘটিয়ে তাদের সুনাগরিক ও মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

আজ রোববার রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণ সনদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ও নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে প্রতিমন্ত্রী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা- কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অধিকার নিশ্চিত করার বৃহৎ দর্শন নিয়ে ১৯৭৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই স্বপ্ন ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নির্বিশেষে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দিতে হবে।

তরুণদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ফ্রিল্যান্সিংসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে যেন তারা ঘরে বসেই উপার্জন করতে পারেন এবং এই আয়কে সরকার করমুক্ত ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে উন্নয়ন বোর্ডকে নতুন নতুন স্কিম গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সরকার জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়ে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে যেন জনগণকে সেবার জন্য বারবার অফিসে আসতে না হয়, বরং সেবা পৌঁছে যায় মানুষের দোরগোড়ায়। এসডিজি অর্জনে মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন বোর্ডকে সমন্বিত পরিবারের মতো কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি বোর্ডের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা, পেনশন সুবিধার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ এবং পাড়া কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা যৌক্তিক পর্যায়ে উন্নীত করতে ডিপিপি (DPP) সংশোধনের আশ্বাস দেন।

দিনব্যাপী সফরকালে প্রতিমন্ত্রী ৫০ জন নারীকে সেলাই মেশিন ও ২৫০টি স্কুলে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের ওয়াচ টাওয়ার, জেলা পরিষদের ই-লার্নিং সেন্টার এবং খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়কে মহাপুরম খালের ওপর ব্রিজের উদ্বোধন করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবালসহ সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।