খুঁজুন
, ,

ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 3 April, 2026, 11:48 pm
ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে ভারতকে হারায় তারা। পঞ্চম শটে আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভানের গোলে বাংলাদেশের শিরোপা নিশ্চিত হয়।

নির্ধারিত সময়ের মতো টাইব্রেকারেও অনেক নাটকীয়তা হয়েছে। টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শট সেভ করেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।

বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল। এ সময় ভারতের গোলরক্ষক চোটের কারণে সময়ক্ষেপণ করেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর পোস্টে দাঁড়ালে স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লাগে। তখন চার শট শেষে স্কোরলাইন ৩-৩।

দুই দলের শেষ শটটি তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারতের হয়ে এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলার শট নিতে আসেন। তার নেওয়া শট পোস্টের অনেক উপর দিয়ে যায়। বাংলাদেশ শেষ শটে গোল করলেই চ্যাম্পিয়ন। এমন সমীকরণে শেষ শট নেন আমেরিকান প্রবাসী রোনান। অনেক চাপের মধ্যে থেকেও তিনি শট পোস্ট রেখে গোল করেন। মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সমর্থকদের উল্লাস। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন আবার সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশের প্রাধান্য বেশি থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের আক্রমণ বেশি ছিল। বল দখল ও আক্রমণ বেশি করলেও বাংলাদেশের রক্ষণ বা গোলরক্ষক মাহিনকে খুব বেশি ভয় ধরাতে পারেনি। পক্ষান্তরে বাংলাদেশও কাউন্টারে কয়েকটি আক্রমণ করেছে।

রোনানের ভাই ডেকলানকে দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিট পর নামানো হয়। ডেকলান তার প্রান্ত দিয়ে কয়েকটি আক্রমণ করেন। শেষ মুহূর্তে দূর থেকে ভাই রোনানকে দারুণ বল দিয়েছিলেন। ভারতের ডিফেন্স ভেদ করে রোনান বল পেয়ে শট করলেও গোলরক্ষক এগিয়ে আসায় তার গায়ে লাগে।

মালদ্বীপের মালেতে লড়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। শুক্রবার ছুটির দিন মালে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশি প্রবাসীরা গ্যালারিতে সমর্থন জানাতে গেছেন। বাংলাদেশ ও ভারত দুই দল একই গ্রুপে ছিল। তাই একে অন্যকে বেশ ভালোভাবে চেনে। বাংলাদেশের আমেরিকান ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানকে তাই ভারত বেশ কড়া পাহাড়ায় রেখেছে। এরপরও রোনান তার দক্ষতা দেখিয়ে বেশ কয়েকটি শট নিয়েছেন।

দুই দলই গোলের জন্য চেষ্টা করেছে। দুই দলই একাধিক গোলের সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন একাধিকবার পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। দুই বার বল গ্রিপে না নিতে পারলেও বিপদ আসেনি। বাংলাদেশ বক্সের আশেপাশে অনেকবার বল নিলেও কাঙ্খিত গোল আদায় করতে পারেনি।

Feb2
Feb2

স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস জিতলেন উনাই সিমন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:41 am
স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস জিতলেন উনাই সিমন

পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। এতেই বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার তথা গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন তিনি।

পুরো বিশ্বকাপে আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন ২৯ বছর বয়সী উনাই সিমন। সাতটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের শার্ল দে কেতেলারের গোলই ছিল টুর্নামেন্টে তার বিপক্ষে একমাত্র গোল।

আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পেছনে ফেলে স্পেনের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে আস্থা অর্জন করেছিলেন উনাই সিমন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না পেলেও এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের গোলে জয় পেয়েছে স্প্যানিশরা।

টানা দুই গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:31 am
টানা দুই গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জিতে টানা দুই আসরে এই কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার হয়েছেন ফরাসি তারকা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে আবারও সবার ওপরে থেকে পুরস্কারটি নিজের করে নেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। তবে ১-০ গোলে হেরে শিরোপাও হারায় আর্জেন্টিনা, আর গোলশূন্য থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেন ৮ গোল নিয়ে।

এমবাপ্পে চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। শেষ ষোলোতে সুইডেনের বিপক্ষে আরও দুটি গোল যোগ করেন। এরপর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে জয়সূচক পেনাল্টি, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে একটি গোল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান।

এই কীর্তির মাধ্যমে ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক আসরে ১০ বা তার বেশি গোল করার নজিরও গড়লেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের এক আসরে তার চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন কেবল ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন (১৩ গোল, ১৯৫৮ সাল) এবং হাঙ্গেরির শানদর কচিশ (১১ গোল, ১৯৫৪ সাল)।

এছাড়া ২২ গোল নিয়ে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন এমবাপ্পে। তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেছেন। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর এমবাপ্পে বলেন, ‘বিশ্বকাপে এত গোল করলে অবশ্যই সেটা আপনাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমি গোল্ডেন বুটের বদলে ফাইনালে খেলতে চাইতাম। অবসর নেয়ার পর হয়তো এই অর্জন আমার উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করবে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেটাই আমার ভাবনার বিষয় নয়।’

এদিকে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ব্যক্তিগত পুরস্কারেও দাপট দেখিয়েছে। দলের অধিনায়ক রদ্রি টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন। অন্যদিকে গোল্ডেন বুটের তালিকায় এমবাপ্পের (১০) পর রয়েছেন মেসি (৮), জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হলান্ড (৭), আর ছয় গোল করে তালিকায় আছেন উসমান দেম্বেলে ও হ্যারি কেইন।

আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:19 am
আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পচ্ছিলো না স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। সেখানে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো স্পেন।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। এতে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো স্প্যানিশরা।

ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিটেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় স্পেন। ম্যাচের ৫ মিনিটেই ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ইয়ামাল বক্সে ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং বলটি ডিফ্লেক্ট হয়ে ওলমোর কাছে চলে যায়। ওলমো দারুণভাবে বলটি আবার তার দিকেই বাড়িয়ে দেন। ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় বলটি জালে জড়াতে পারেনি!

ম্যাচের সময় যত বেড়েছে ততই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ৩টি শট নিয়ে ২টা লক্ষ্যে রেখেছে স্প্যানিশরা। তবে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি।

৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির লক্ষণ নিয়ে তিনি নিকোলাস ওতামেন্দির বদলি হন। একই সময়ে কুকুরেয়ার দারুণ একটি প্রচেষ্টা ডানপাশের পোস্টের সামনে দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।

প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল পজেশনে রেখেছিল স্পেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ আর্জেন্টিনা। পাসেও দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার ১৫৫ নিখুঁত পাসের বিপরীতে তাদের ৩১৩!

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখিয়েছে স্পেন। বেশ কিছু আক্রমণ করে। তবে তা রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটের সময় বেপরোয়া ট্যাকল করে স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে ফাউল করলে এনজোকে ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। এর ফলে সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ডে বহিষ্কার হন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে বল জালে জড়ান নিকো উইলিয়ামস। তবে তা ফাউলের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে ১০৬ মিনিটে ঠিকই গোল আদায় করে নেয় স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।

এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। বেশ কিছু আক্রমণ করেও ব্যর্থ হয় তারা। এতে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন স্পেনের ফুটবলাররা।