খুঁজুন
, ,

হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 17 April, 2026, 9:28 pm
হরমুজ খুললেও ইরানের বন্দর অবরোধ থাকবে: ট্রাম্প

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান উন্মুক্ত করে দিলেও দেশটির ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পৃথক দুটি পোস্টে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি এখন ব্যবসা এবং জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ইরানের সাথে আমাদের যাবতীয় লেনদেন বা চুক্তি শতভাগ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে বহাল থাকবে।’

তবে এই সমঝোতা প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুত শেষ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, চুক্তির অধিকাংশ পয়েন্ট বা বিষয় ইতোমধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেন, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রতি সম্মান জানিয়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হয়েছে। লেবাননে ১০ দিনের এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীন সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে।

উল্লেখ্য, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ছিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত। গতকাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেবাননে এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। যদিও সমুদ্রপথটি উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বস্তি ফিরেছে, তবে ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় দুই দেশের মধ্যকার চূড়ান্ত সমঝোতা এখন সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Feb2
Feb2

স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস জিতলেন উনাই সিমন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:41 am
স্পেনকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে গোল্ডেন গ্লাভস জিতলেন উনাই সিমন

পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। এতেই বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার তথা গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন তিনি।

পুরো বিশ্বকাপে আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন ২৯ বছর বয়সী উনাই সিমন। সাতটি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখেছেন তিনি। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের শার্ল দে কেতেলারের গোলই ছিল টুর্নামেন্টে তার বিপক্ষে একমাত্র গোল।

আর্সেনালের গোলরক্ষক ডেভিড রায়াকে পেছনে ফেলে স্পেনের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে আস্থা অর্জন করেছিলেন উনাই সিমন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের সেই সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না পেলেও এক্সট্রা টাইমের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেসের গোলে জয় পেয়েছে স্প্যানিশরা।

টানা দুই গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:31 am
টানা দুই গোল্ডেন বুট জিতে এমবাপ্পের ইতিহাস

বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে না পারলেও ব্যক্তিগত অর্জনে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জিতে টানা দুই আসরে এই কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার হয়েছেন ফরাসি তারকা।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে। এবার যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১০ গোল করে আবারও সবার ওপরে থেকে পুরস্কারটি নিজের করে নেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে। বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করলে এমবাপ্পেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মেসির। তবে ১-০ গোলে হেরে শিরোপাও হারায় আর্জেন্টিনা, আর গোলশূন্য থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেন ৮ গোল নিয়ে।

এমবাপ্পে চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে সেনেগাল ও ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন। শেষ ষোলোতে সুইডেনের বিপক্ষে আরও দুটি গোল যোগ করেন। এরপর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ ষোলোতে জয়সূচক পেনাল্টি, কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে একটি গোল এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজের গোলসংখ্যা ১০-এ নিয়ে যান।

এই কীর্তির মাধ্যমে ১৯৭০ সালে পশ্চিম জার্মানির কিংবদন্তি গার্ড মুলারের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক আসরে ১০ বা তার বেশি গোল করার নজিরও গড়লেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপের এক আসরে তার চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন কেবল ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন (১৩ গোল, ১৯৫৮ সাল) এবং হাঙ্গেরির শানদর কচিশ (১১ গোল, ১৯৫৪ সাল)।

এছাড়া ২২ গোল নিয়ে পুরুষদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন এমবাপ্পে। তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে গেছেন। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর এমবাপ্পে বলেন, ‘বিশ্বকাপে এত গোল করলে অবশ্যই সেটা আপনাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যায়। কিন্তু আমি গোল্ডেন বুটের বদলে ফাইনালে খেলতে চাইতাম। অবসর নেয়ার পর হয়তো এই অর্জন আমার উত্তরাধিকারকে আরও সমৃদ্ধ করবে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেটাই আমার ভাবনার বিষয় নয়।’

এদিকে বিশ্বকাপজয়ী স্পেন ব্যক্তিগত পুরস্কারেও দাপট দেখিয়েছে। দলের অধিনায়ক রদ্রি টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ জিতেছেন। অন্যদিকে গোল্ডেন বুটের তালিকায় এমবাপ্পের (১০) পর রয়েছেন মেসি (৮), জুড বেলিংহ্যাম ও আর্লিং হলান্ড (৭), আর ছয় গোল করে তালিকায় আছেন উসমান দেম্বেলে ও হ্যারি কেইন।

আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 20 July, 2026, 5:19 am
আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ: বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

বল দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও গোলের দেখা পচ্ছিলো না স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো গোল না হওয়ায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। সেখানে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতলো স্পেন।

এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। এতে দীর্ঘ ১৬ বছর পর নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুললো স্প্যানিশরা।

ম্যাচ শুরুর কয়েক মিনিটেই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় স্পেন। ম্যাচের ৫ মিনিটেই ভালো সুযোগ তৈরি করে তারা। ইয়ামাল বক্সে ক্রস বাড়ানোর চেষ্টা করেন এবং বলটি ডিফ্লেক্ট হয়ে ওলমোর কাছে চলে যায়। ওলমো দারুণভাবে বলটি আবার তার দিকেই বাড়িয়ে দেন। ইয়ামাল বলটি নিয়ন্ত্রণে নেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় বলটি জালে জড়াতে পারেনি!

ম্যাচের সময় যত বেড়েছে ততই ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ৩টি শট নিয়ে ২টা লক্ষ্যে রেখেছে স্প্যানিশরা। তবে আর্জেন্টিনা কোনো শটই নিতে পারেনি।

৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই মিনিট পর ইনজুরির লক্ষণ নিয়ে তিনি নিকোলাস ওতামেন্দির বদলি হন। একই সময়ে কুকুরেয়ার দারুণ একটি প্রচেষ্টা ডানপাশের পোস্টের সামনে দিয়ে মাঠের বাইরে যায়।

প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল পজেশনে রেখেছিল স্পেন। মাত্র ৩৫ শতাংশ আর্জেন্টিনা। পাসেও দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন। আর্জেন্টিনার ১৫৫ নিখুঁত পাসের বিপরীতে তাদের ৩১৩!

প্রথমার্ধের মতো দ্বিতীয়ার্ধেও দাপট দেখিয়েছে স্পেন। বেশ কিছু আক্রমণ করে। তবে তা রুখে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ম্যাচের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটের সময় বেপরোয়া ট্যাকল করে স্প্যানিশ খেলোয়াড়কে ফাউল করলে এনজোকে ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান। এর ফলে সঙ্গে সঙ্গেই লাল কার্ডে বহিষ্কার হন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।

অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে বল জালে জড়ান নিকো উইলিয়ামস। তবে তা ফাউলের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে ১০৬ মিনিটে ঠিকই গোল আদায় করে নেয় স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের অ্যাসিস্টে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফেরান তোরেস।

এরপর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। বেশ কিছু আক্রমণ করেও ব্যর্থ হয় তারা। এতে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন স্পেনের ফুটবলাররা।