খুঁজুন
বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতি শিকার হতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৯ মে) তেজগাঁও ভূমি ভবনে ৩ দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা যেখানে ভূমি সেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না।আমরা এমন একটি পরিবেশ চাই যেখানে জনগণকে দুর্নীতি কিংবা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

সরকারপ্রধান বলেন, দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকীকরণ করে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে সারাদেশে ভূমি সেবা মেলা আয়োজন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ ও আধুনিকীকরণ করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি উল্লেখ করেছিলাম। তারই ধারাবাহিকতায় ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকর করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভূমি জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর করা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও খুব সম্ভবত তত বেশি সহজ হয়ে যায়। জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমি-জমা সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকাংশেই লাগব হবে। একই সঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম কমবে। চলমান এই ভূমিসেবা মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কেও আরও সচেতন করবে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মাথাপিছু জমির পরিমাণও কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা, মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বাড়ছে। একইসঙ্গে অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তিও নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ভূমিসেবা মেলার আয়োজনের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে আরও একটি নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করতে যাচ্ছে। এভাবে সরকার পর্যায়ক্রমে একের পর এক নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। কারণ দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ শাসন-শোষণের যাতাকলে পৃষ্ঠ দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চান। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, জমি বা ভূমি শুধু এক টুকরো সম্পদই নয় বরং মানুষের জীবনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতে ভিত্তি।

তিনি বলেন, জমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দৌড়গোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। ভূমি মন্ত্রণালয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে এই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তি নির্ভর এবং নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকশই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

Feb2

এক শয্যায় ৩ শিশু, চট্টগ্রামে পিআইসিইউ ও হাই ফ্লো ক্যানুলার ভয়াবহ সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
এক শয্যায় ৩ শিশু, চট্টগ্রামে পিআইসিইউ ও হাই ফ্লো ক্যানুলার ভয়াবহ সংকট

বান্দরবানের আলীকদম থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এসেছেন হারুনুর রশীদ। তার দেড়বছরের সন্তান হাম ওয়ার্ডে ১১দিন ধরে চিকিৎসাধীন। চোখেমুখে উৎকণ্ঠা নিয়ে মেডিকেলের নিচতলায় হাম ওয়ার্ডের সামনে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ভেতরে তার সন্তান ও তার স্ত্রী।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে তার সাথে কথা বলে গণমাধ্যম। হামের চিকিৎসা নিয়ে তার অভিযোগের শেষ নেই। তিনি জানান, তার সন্তান ১১ দিন ধরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। হাম ওয়ার্ডে প্রতিটি শয্যায় ২ থেকে ৩ জন শিশুকে রাখা হচ্ছে। ছেলের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে হলেও গাদাগাদি করে রাখায় হামের সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত তিনি।

পেশায় রাজমিস্ত্রী হারুন বলেন, হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। এখানে অক্সিজেন পাওয়া যায় না। কালকে অক্সিজেনের অভাবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওয়ার্ডের এক বেডে ৩ থেকে ৪ শিশুকে রাখা হয়েছে। এখান থেকেও রোগ ছড়াতে পারে। ওষুধও বাইরের থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার শুধু ওষুধ কিনতে হয়েছে। তবুও কিছু করার নেই।

তার পাশেই ছিলেন নোয়াখালীর বাসিন্দা নয়ন। তার দুই শিশু হাম ওয়ার্ডে ভর্তি। তিনি বলেন, এখানে (হাম ওয়ার্ড) ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। উপরে শিশু ওয়ার্ডে ডাক্তার-নার্সেরা আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে। এখানে তেমন সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

হারুন ও নয়নের জবানিতেই চট্টগ্রাম মেডিকেলে হাম চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে।

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হামের প্রকোপের মধ্যে চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। শয্যা, পিআইসিইউ ও হাই ফ্লো নজল ক্যানুলার ঘাটতির মধ্যেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওষুধ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের চাপ পড়ছে রোগীর স্বজনদের ওপর।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য বিভাগটিতে ২০টি পিআইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি শয্যা হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। বাকি ৫টি শয্যায় অন্যান্য রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে।

তবে, হাম সংক্রমণ বাড়ায় বর্তমানে শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ সংকটাপন্ন শিশু পিআইসিইউ সেবার অপেক্ষায় রয়েছে। হাসপাতালের নিচতলার ১ নম্বর ক্যাজুয়ালটির ৫০ শয্যার পৃথক ব্লকে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু সেখানে প্রতিনিয়তই ভর্তি থাকছে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী। ফলে একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

এ ছাড়া হাম পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা প্রয়োজন হচ্ছে। পিআইসিইউ শয্যা সংকটে অসহায় পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

হাই ফ্লো নজল ক্যানুলা সংকটে সোমবার (১৮ মে) সুরাইয়া আলম নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল ছাড়া বাকি সরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ না থাকায় রোগীর চাপ বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কোভিড ব্লকে ৮ শয্যার হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালেও ৬ শয্যার পৃথক ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের পরীক্ষাগার না থাকায় রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ইউনিট ঘুরে দেখা যায়, ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৮০ শিশু। অনেক শয্যাতেই তিন থেকে চারজন পর্যন্ত রোগীকে রাখা হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন তাদের মায়েরাও। ফলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ওয়ার্ডজুড়ে গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, বর্তমানে পিআইসিইউ, হাই ফ্লো নজল ক্যানুলা ও শয্যার সংকট রয়েছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়েই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা কাউকে ফেরত দিচ্ছি না। সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হাসপাতালের ২০ শয্যার শিশু আইসিইউর মধ্যে মাত্র ১০টি সরকারি। বাকি শয্যাগুলো পরিচালিত হচ্ছে অনুদানের ভিত্তিতে। এছাড়া পুরো হাসপাতালে হাই-ফ্লো মেশিন রয়েছে ৪১টি। সীমিত সম্পদ নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

নেইমারকে নিয়েই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
নেইমারকে নিয়েই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

বিশ্বকাপে নেইমার থাকবেন কি থাকবেন না—গত কয়েক মাস ধরে ফুটবল দুনিয়ার অলিগলিতে এর চেয়ে বড় কোনো ‘সাসপেন্স’ সম্ভবত ছিল না। চোট, অস্ত্রোপচার, ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াই আর মাঠের বাইরের হাজারো গুঞ্জন পেরিয়ে অবশেষে যবনিকা নামল সেই নাটকের।

রিও ডি জেনিরোর ‘মিউজিয়াম অব টুমরো’তে আজ সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ২৬ জনের চূড়ান্ত তালিকা পড়লেন, সেখানে সবচেয়ে কাঙ্খিত নামটা তাঁরই ছিল। অবশেষে আনচেলত্তির কন্ঠে উচ্চারিত হলো সেই নাম—নেইমার জুনিয়র।

হ্যাঁ, নন্দিত এবং কখনো কখনো নিন্দিত এই মহাতারকাকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছে ব্রাজিল। দল ঘোষণার জমকালো অনুষ্ঠানে যখন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের নাম উচ্চারণ করলেন আনচেলত্তি, করতালির গর্জনে মুখরিত হয়ে উঠল চারপাশ। মিলনায়তন জুড়ে বয়ে গেল আনন্দের সুনামি।

বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ডকে দলের ডাকার আগে কোচ আনচেলত্তিও কম পরীক্ষা নেননি। ২০২৩ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে হাঁটুতে চোট পাওয়ার পর থেকে নেইমার ছিলেন জাতীয় দলের রাডারের বাইরে। চোট আর ফর্মহীনতার দোলাচলে গত মার্চে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও তাকে বাইরে রেখেছিলেন ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। তাঁর ফিটনেস নিয়ে কোচের মনে ছিল একরাশ সংশয়।

সৌদি আরবের চোটজর্জর অধ্যায় চুকিয়ে গত জানুয়ারিতে নেইমার ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। আর সেখানেই যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পান। চেনা আঙিনায় নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করেই আদায় করে নিলেন আনচেলত্তির ‘ছাড়পত্র’। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপের পর এবার ক্যারিয়ারের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল)।

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা জয়ের মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলরক্ষক: আলিসন, এদেরসন ও ওয়েভারটন।

রক্ষণভাগ: অ্যালেক্স সান্দ্রো, ব্রেমার, দানিলো, ডি. সান্তোস, মাগালিয়ায়েস, ইবানিজ, লিও পেরেইরা, মার্কিনহোস ও ওয়েসলি।

মধ্যমাঠ: ব্রুনো গিমারায়েস, কাজেমিরো, দানিলো, ফাবিনহো ও পাকেতা।

আক্রমণভাগ: এন্দ্রিক, মার্তিনেল্লি, ইগর থিয়াগো, লুইজ হেনরিকে, মাথেউস কুনহা, নেইমার জুনিয়র, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা ও রায়ান।

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে ২ কিশোরের বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৫

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে ২ কিশোরের বন্দুক হামলা, হামলাকারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগো শহরের একটি ইসলামিক সেন্টারের মসজিদে বন্দুক হামলা চালিয়েছে ২ জন কিশোর। তাদের গুলিতে ওই ইসলামিক সেন্টারের একজন নিরাপত্তাকর্মীসহ ৩ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।

হামলাকারী ২ কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, তারা নিজেরাই নিজেদের বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মেক্সিকোর সীমান্ত ঘেঁষা শহর স্যান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারটি মূলত একটি ইসলামি স্কুল। যে মসজিদে হামলা হয়েছে, সেটি ওই ইসলামি স্কুলের অংশ এবং স্যান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদ।

গতকাল সোমাবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে ঘটেছে এই হামলা। সে সময় স্কুলটিতে ক্লাস ও অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রম চলছিল। হামলায় স্কুলের কোনো শিশু হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্যান ডিয়েগোর শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা স্কট ওয়াল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ঠিক কী কারণে এই হামলা ঘটল— সে সম্পর্কে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মুসলিমদের প্রতি ঘৃণাপূর্ণ মনোভাবই এ হামলার কারণ।

হামলার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকাজ চালানোর জন্য মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।

ইসলামিক সেন্টারের যে ৩ জন নিহত হয়েছেন, তারা সবাই মসজিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মসজিদ থেকে খানিকটা দূরে একটি গাড়ি থেকে হামলাকারী ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের এক জনের বয়স ১৭, আরেক জনের ১৯। এক সংবাদ সম্মেলনে স্কট ওয়াল এ প্রসঙ্গে বলেন, “প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আমাদের ধারণা, হামলার পর নিজেদের বন্দুকের গুলিতে আত্মহত্যা করেছে তারা।”

আর কয়েক দিন পরেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব ঈদুল আজহা। তার আগেই ঘটল এই হামলা।

স্যান ডিয়েগোর সেই মসজিদের ইমাম তাহা হাসান রয়টার্সকে বলেন, “আমরা এর আগে কখনও এ ধরনের ট্র্যাজেডির মধ্যে দিয়ে যাইনি। উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করা খুবই ভয়ানক একটি ব্যাপার।”