খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না: রিয়াজ হায়দার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না: রিয়াজ হায়দার

মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুর্নীতিবাজ ও নব্য-রাজাকারদের সামাজিকভাবে প্রতিরোধের জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ও পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস’ উপলক্ষে এক সম্মাননা সমাবেশে এই আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক ভিত্তিমূলের বিরুদ্ধে যে রকম পাকিস্তানি দালাল রাজাকার আলবদর আলশামসদের তৎপরতা ছিল ঠিক তেমনিভাবে স্বাধীন বাংলাদেশেও এখন উন্নয়ন, প্রগতি ও কল্যাণের পথের বিরুদ্ধে নব্য রাজাকার ও দুর্নীতিবাজদের প্রতাপ রয়েছে। নতুন প্রজন্মকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য রিয়াজ হায়দার চৌধুরী আরো বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন কখনোই প্রকৃত বাস্তবায়ন হবে না । আর সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষা খাতে আরো বেশি সংস্কার প্রয়োজন। ‘
বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্ট-চট্টগ্রাম ও মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে এই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দিবস ’ পালিত হয়।

গতকাল ১৬ জানুয়ারি ঢাকা – চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দিবস পালিত হয়।

এই দিবস পালন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধকালীন কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডার সহ প্রচারের আড়ালে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন প্রজন্ম কর্তৃক ফুলেল সম্মাননা জানানো হয়। পরে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতিও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে।

অনুষ্ঠানটিতে নতুন প্রজন্মের আদর্শিক সারথি হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, জাতির পিতার পরে তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কাজটুকু করে গেছেন।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডাঃ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নঈম উদ্দিন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা গবেষক আবু সাঈদ সরদার, ফাহিম উদ্দিন আহমেদ, শহীদ জায়া মুশতারী শফী, মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদ নুরুল আলম মন্টু, মো হারিস আহমদ, অধ্যাপক মো শফিউল বশর, মহসীন খান, আহমদ নাসিরউদ্দিন, দেওয়ান মাকসুদ আহমেদ, ফজল আহমদ, মহিউদ্দিন রাশেদ, আবদুল মান্নান মাস্টার, রেজাউল করিম কুসুম, মো আবু হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম রাজু, অরুন দাস, মনসুরুর রহমান, করিম আবদুল্লাহ, জয়ন্তী লালা, খলিলুল্লাহ সর্দার, স্বপন লালা, মো আবু তাহের, মহিউদ্দিন শাহ আলম নিপু, মিনু রানী দাস, হারুনুর রশিদ ভুইয়া, আনোয়ার খান, মুন্সি মিয়া মো শাহআলম, আবুল কাসেম, হাবিবুল্লাহ বাহার প্রমুখ।

বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ফাহিমউদ্দিন আহমদ, মহসীন খান, অধ্যাপক মো শফিউল বশর প্রমুখ মুক্তিযোদ্ধা। নতুন প্রজন্ম ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সাবেক প্যানেল মেয়র রেখা আলম চৌধুরী, অধ্যাপক স্বরূপ আনন্দ রায়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রুবা আহসান, ভাস্কর চৌধুরী, মশিউর রহমান খান, জসিমউদ্দিন মোবারক, শহীদুল্লাহ রিপন, ডা. আর কে রুবেল, রুমানা শফি, ডা. মুনির আজাদ, সুজিত ঘোষ , জয়নুদ্দিন জয়, সুচিত্রা গুহ টুম্পা, ব্যান্ড শিল্পী ইকবাল , রেজাউল করিম, আবদুরল্লাহ মামুন, কাজী রাজেশ ইমরান, মো রফিক, সুর্বণা খান, মুক্তা জামান, নাসিমা, সাইমুন নাহার প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গবন্ধু এই দিনে(১৬ জানুয়ারি,১৯৭২) ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তিনি , রাষ্ট্রপতি, দল ও সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তাদেও নিয়ে তিনি শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছিলেন। সরকারি বেসরকারি সব অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছিল। দেশ ব্যাপী সকল প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই দিবসটি যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করেছিল । পরে অজানা কারণে এই দিবসটি আর পালিত হয়নি। ‘মুজিব বর্ষে’ এসে এই দিবসটি আবার চালু করার দাবি রইলো।

তিনি বলেন, শুধু মাত্র বঙ্গবন্ধু আর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই যথেষ্ট নয়। বঙ্গবন্ধু ও যোদ্ধাদের স্বপ্নের বাঙলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রের সব স্থরে বাংলা চালু, একমুখী গণমুখী, প্রাথমিক অবৈতনিক বাধ্যতামুলক শিক্ষার প্রচলন, সর্বোচ্চ শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামুলক করা, দুর্নীতি রোধে জবাবদিহীমুলক প্রশাসন সৃষ্টি , অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য কাজ করতে হবে।

শহীদ জায়া মুশতারি শফি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলা ভাষা অবহেলিত হবে এটা মেনে নেয়া যায় না । বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সকল মুক্তিযোদ্ধাকে এক হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

Feb2

নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান

একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, এসএসএফ যখন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক পার্থক্য। বর্তমানে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা ও ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ‘এসএসএফ’-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তরুণ বেলা থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে বর্তমানে প্রতিদিন-প্রতি সময় আমি এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। তবে এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।

এসএসএফের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী নিজের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতে চান বলে উল্লেখ করে বলেন, সেটি হলো, সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। সুতরাং, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকার প্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আপনারা জানেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমি আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। ফলে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে হয়তো দক্ষতা এবং নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা যথাসম্ভব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন, আপনাদেরকে ধন্যবাদ।

সরকার প্রধান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল। এ ধরণের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা, অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফকে তাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি, এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু এবং সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফের কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।

তারেক রহমান বলেন, কিছুক্ষণ আগেই আমি এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছি। উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছি। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন এবং নিজেদের পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

২০০২ সালের পর এসএসএফের রেড বুক সময়ের চাহিদানুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক এবং সময়োপযোগী করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি এবং কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। আপনাদের জন্য রেড বুকে উল্লেখিত নির্দেশনাসমূহ যথাযথভাবে অনুসরণ করা অবশ্য জরুরি। তবে রেড বুকের নির্দেশনার পাশাপাশি সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নেরও সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফের মতো বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। সুতরাং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য সকল নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। আমি মনে করি, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, আরও একটি বিষয়ে আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, অবশ্যই আপনারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকবেন। গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে এসএসএফ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন।

পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পটিয়ায় মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার: প্রতিবেশীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

আবদুল্লাহ আল নোমান পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. জায়হানের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড়ে যৌথ অভিযানে ডিবি ও থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।

পুলিশ জানায়, তাদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে অপহৃত শিশুর পরিবারের শয়নকক্ষের বিছানায় একটি হাতে লেখা মুক্তিপণের চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে শিশুটিকে ফেরত পেতে ৩০ মিনিটের মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের একজনের আনলক করা মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়েছিল। ঘটনাটি জানার পর পুলিশ চিরকুটটি আলামত হিসেবে জব্দ করে তদন্ত শুরু করে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়হান। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে প্রথমে পরিবারের ধারণা ছিল, সে পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুকুরে তল্লাশি চালিয়েও কোনো সন্ধান না মেলায় পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। একই সময়ে উদ্ধার হয় মুক্তিপণের সেই চিঠি।

নিহত শিশুর স্বজনদের অভিযোগ, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবেশীরাই শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তরাই পরিবারের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার নাটকও করেছিল।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ভোরে অভিযান চালিয়ে বাড়ির পাশের ডোবা সংলগ্ন স্থান থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
উজবেকিস্তানকে বিশ্বমঞ্চ চেনাল কলম্বিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপে প্রথমবার চমক দেখানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল উজবেকিস্তান। তবে নবাগতদের সেই রঙিন স্বপ্নকে লাতিন আমেরিকার মাঠের কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিল কলম্বিয়া। উজবেক ডিফেন্সের সব প্রতিরোধ ভেঙে ৩-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা লাতিন ছন্দে আক্রমণ চালাতে থাকে কলম্বিয়া। এরপরও প্রথম গোলে র জন্য ৪০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের। এসময় গোল করে দলকে লিড এনে দেন ড্যানিয়াল মুনোজ। লুইস দিয়াজের দেওয়া পাসে গোলটি করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ ব্যবধানে।

ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ বাড়াতে থাকে উজবেকিস্তান। সেই সুবাদে ৬০তম মিনিটে আসে সমতাসূচক গোলটি। গোলটি করেন আববোসবেক ফয়জুললভ।

কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা দলটির। এরপর উজবেকিস্তানের জালে আরও দুবার বল পাঠায় কলম্বিয়া। ৬৫তম মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন লুইস দিয়াজ। আর ম্যাচের একদম অন্তিম মুহূর্তে ব্যবধান ৩-০ করেন জেমিনটন ক্যাম্পাজ।

এই জয়ের ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করল কলম্বিয়া। সর্বোচ্চ তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান তাদের। আর টেবিলের তলানিতে রয়েছে উজবেকিস্তান।