খুঁজুন
, ,

মামলা হলেও গ্রেপ্তার হননি পুলিশের দুজন, ধরাছোঁয়ার বাইরে ওসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Tuesday, 16 June, 2026, 9:18 am
মামলা হলেও গ্রেপ্তার হননি পুলিশের দুজন, ধরাছোঁয়ার বাইরে ওসি

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় মামলা হলেও এখনো গ্রেপ্তার হননি মামলার দুই আসামি পুলিশের দুজন। ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা খুলশী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান রয়েছেন একেবারে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় একজন আসামিকে আটক দেখানো হলেও বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগে থানায় মামলা হলে সাধারণত তদন্তকারী সংস্থা আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযোগের গুরুত্ব, মামলার ধারা এবং তদন্তের স্বার্থে আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে। আবার কোনো আসামি চাইলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করতে পারেন। কিন্তু নাঈম হাসানকে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও হেনস্তার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এই দুই প্রক্রিয়ার কোনোটিই দেখা যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা নিজেদের বাহিনীর সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। শুধু বিভাগীয় তদন্তের কথা বলে বিষয়টি সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। অথচ ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, এটি শুধু শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নয়; বরং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ।

ঘটনার শুরু হয় শুক্রবার রাতে। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফিরছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। রাতে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তার বহনকারী সিএনজিটি থামায় কয়েকজন ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। খুলশী থানার তৎকালীন ওসি আরিফুর রহমানের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সোর্স ওই অভিযানে অংশ নেন। বিমানবন্দরে থাকা একটি সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজি থামানো হয়। ওই সিএনজিতে থাকা নাঈমকে প্রথমে সন্দেহ করা হয়। পরে পরিচয় জানালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

নাঈমের অভিযোগ, তাকে ডিবি পরিচয় দিয়ে গাড়ি থেকে নামানো হয়। পরে জোর করে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। বাধা দিলে তাকে মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্ত করলেও পুলিশ সদস্যরা তাকে ছেড়ে দেননি। ঘটনাস্থলে থাকা এসআই শফিকুল ইসলামসহ পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি এক সোর্সও নাঈমকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি ওসি আরিফুর রহমানকে জানানো হলে তার নির্দেশেই নাঈমকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

থানায় নেওয়ার পরও নাঈম নিজের পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরও তাকে হয়রানি করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল ও পরিচালক ইসরাফিল খসরুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন নাঈম। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। অভিযোগে মারধর, অপহরণের চেষ্টা ও বেআইনিভাবে আটকে রাখার বিষয় উল্লেখ করা হয়। মামলার পর অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় সিএমপি। এছাড়া এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল প্রত্যাহার করা হয়। তবে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি।

এছাড়া ঘটনার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযোগ ওঠা ওসি আরিফুর রহমানকে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নাঈম নিজে এবং তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, নাঈমকে থানায় নেওয়ার নির্দেশ ও পরবর্তী হেনস্তার ঘটনায় ওসির ভূমিকা ছিল। তবে ওসি আরিফুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি। এসআই শফিকসহ তার টিম নাঈমকে থানায় নিয়ে আসার পর তিনি জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ছেড়ে দেন। তার অনুমতি ছাড়া অভিযানে যাওয়ায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈমের বাসায় গিয়ে বলেন, পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) বলেন, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তরা সাসপেন্ড হয়েছে। এটি ডিপার্টমেন্টের বিষয়। ডিপার্টমেন্ট ও আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান খান বলেন, পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কোনো ফৌজদারি মামলার বিকল্প হতে পারে না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকের মতোই ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হলে আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার আসামি হন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। শুধু প্রত্যাহার বা বিভাগীয় তদন্ত করে বিষয়টি শেষ করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, এখানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো— যাদের বিরুদ্ধে মারধর ও বেআইনি আটকের অভিযোগ আনা হয়েছে, তাদের একজনকে আটক করা হলেও অন্যরা এখনো বাইরে রয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয় যে, একই বাহিনীর সদস্য হওয়ায় কেউ কেউ বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। ওসির বিরুদ্ধে যদি তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। তাকে শুধু দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, বরং এটি একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।