খুঁজুন
, ,

দক্ষিণ কোরিয়াকে চমকে দিয়ে প্রথমবার নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 9:52 am
দক্ষিণ কোরিয়াকে চমকে দিয়ে প্রথমবার নকআউটে দক্ষিণ আফ্রিকা

হার দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল মেক্সিকো। দ্বিতীয় ম্যাচে ড্র। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়াকে চমকে দিয়ে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল দক্ষিণ আফ্রিকা। বুধবার মেক্সিকোর গুয়াদালুপেতে ১-০ গোলে জিতেছে বাফানা বাফানারা।

শেপাং মোরেমির ক্রসে ৬৩তম মিনিটে থাপেলো মাসেকো গোল করেন। ওই এক গোলেই জিতেছে তারা এবং এ গ্রুপে মেক্সিকোর পেছনে থেকে শেষ ৩২ এ দক্ষিণ আফ্রিকা।

ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গেলউডে আগামী রোববার নকআউটের ম্যাচ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। বি গ্রুপের রানার্সআপ কানাডার মুখোমুখি হবে তারা।

১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ সালে বিশ্বকাপে খেললেও দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপ পর্বের বাধা পার করতে পারেনি। এবারের আসরে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হার দিয়ে শুরু। তবে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে শেষ দিকের গোলে ১-১ ব্যবধানে ড্র করেছিল তারা। মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার পেছনে থেকে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল দলটি। কিন্তু তায়েগিউক ওয়ারিয়র্সকে চমকে দিলো তারা।

দক্ষিণ কোরিয়া চেকদের বিপক্ষে পেছনে থেকেও ২-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল এবং মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে যায়।

২০০২ সালের নকআউটে ওঠা প্রথম এশিয়ান দল ছিল দক্ষিণ কোরিয়া। ওইবার চতুর্থ স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেছিল তারা। এরপর ২০০২ ও ২০১০ সালে গ্রুপের বাধা পেরিয়ে শেষ ষোলোতে থেকে যায় কোরিয়ানরা।

Feb2

গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 10:02 am
গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর তিনে তিন

চেক রিপাবলিককে উড়িয়ে দিলো মেক্সিকো। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশটি গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে। তিন গোলের সবগুলো দ্বিতীয়ার্ধে দিয়েছে তারা। মেক্সিকো সিটিতে ৩-০ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা।

মাতেও শাভেজ, জুলিয়ান কুইনোনেস ও আলভারো ফিদালগোর গোলে মেক্সিকো তিন ম্যাচে তৃতীয় জয় পেয়েছে। তাতে এ গ্রুপ থেকে বিদায় নিতে হলো চেকদের।

চেকদের হয়ে একটি প্রচেষ্টা গোলবারের পাশ দিয়ে মারেন ডেনিস ভিসিনস্কি। তবে মেক্সিকো সিটিতে প্রথমার্ধে এমন সুযোগ খুব কমই এসেছে। আগেই গ্রুপের এক নম্বর জায়গা নিশ্চিত করা মেক্সিকো বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নেমেছিল। প্রথম শট নিতে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছিল ৩৬ মিনিট। বক্সের প্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের ওভারহেড কিক গোলবারের পাশ দিয়ে যায়।

ডেভিড দোদেরা ও কুইনোনেস দূর পাল্লার শট বারের ওপর দিয়ে যায়। হোর্হে সানচেজের শটে প্রথম সেভ করেন চেক গোলকিপার মাতেজ কোভার।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ায় মেক্সিকো। এক ঘণ্টার আগেই ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে তারা। দল ভালো অবস্থানে থাকার পর মেক্সিকো ৪০ বছর বয়সী কিপার গুইলেরমো ওচোয়াকে চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেন। স্টপেজ টাইমে মেক্সিকো আরেকটি গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় তাদের। এ গ্রুপের চ্যাম্পিয়নরা আগামী ১ জুলাই শেষ ৩২ এর ম্যাচ খেলবে তৃতীয় সেরা একটি দলের সঙ্গে।

দু’বার পিছিয়ে পড়েও হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নকআউটে মরক্কো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 9:26 am
দু’বার পিছিয়ে পড়েও হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে নকআউটে মরক্কো

প্রথমার্ধে মরক্কোর কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে হাইতি। যেন কোনো অঘটন ঘটতে চলছিল। তবে দু’বার পিছিয়ে পড়ে সমতা টানার পর বদলি নামা দুই খেলোয়াড়ের গোলে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে ফিরছে মরক্কো। আশরাফ হাকিমি-ইসমাইল সাইবারিদের গোলে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে ‘অ্যাটলাস লায়ন’রা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করল।

কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো এদিন দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, ৫২ বছর পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফেরা হাইতি দারুণ লড়াই করে প্রথমবার পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। যদিও সবদিক থেকেই ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ছিল হাকিমি-দিয়াজদের। ৭০ শতাংশ পজেশনের পাশাপাশি তাদের ২২ শটের ১১টিই লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে কেবল দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে হাইতি।

ম্যাচের দশম মিনিটেই চমক দেখিয়ে এগিয়ে যায় হাইতি। ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে গোলের দেখা পায় দলটি। লেনি জোসেফ নিকটবর্তী পোস্টে ব্যাক-হিল ফ্লিক করে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে পরাস্ত করেন। এর মাধ্যমে ১৯৭৪ আসরের পর বিশ্বকাপে হাইতির প্রথম গোলদাতা হলেন লেনি। সর্বশেষ আসরে দেশটির হয়ে গোল করেছিলেন ইমানুয়েল স্যানন।

সমতায় ফেরার জন্য মরক্কো একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং ৩৯তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির কাছ থেকে। বিলাল আল খানুসের ডিফ্লেক্টেড ক্রসে হাইতির গোলরক্ষক জনি প্ল্যাসাইড হাত ছোঁয়াতে সক্ষম হলেও বল পুরোপুরি ঠেকাতে পারেননি। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে হাকিমি বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান মরক্কোকে।

তারা যখন আরও গোলের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আবারও লিড নেয় হাইতি। ৪৩তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে উপরের কোণা দিয়ে জাল কাঁপান উইলসন ইসিডর। তবে রোমাঞ্চকর প্রথমার্ধের শেষেও বাকি ছিল আরেকটি গোল। যোগ করা সময়ে হাকিমির ক্রস থেকে বল জালে জড়ান ইসমায়েল সাইবারি। বিশ্বকাপে তার তৃতীয় গোলে বিরতিতে যাওয়ার আগে ২-২ সমতা ফেরায় মরক্কো।

ম্যাচের ৭৮তম মিনিটে সৌফিয়ান রাহিমির শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে মরক্কো ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর ৮৯তম মিনিটে গেসিম ইয়াসিন গোল করে সম্ভাব্য অঘটনের সব আশঙ্কার অবসান ঘটান। মরক্কোর শেষ দুই গোলদাতাই বদলি নেমেছিলেন। ৪-২ ব্যবধানে জয়ের পরও গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের পেছনে দ্বিতীয় হয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করে মরক্কো। গ্রুপের অন্য ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ৩-০ গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছে।

নেইমারের ফেরার ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো ব্রাজিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 25 June, 2026, 9:12 am
নেইমারের ফেরার ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো ব্রাজিল

নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রকে পেতে ৭৮১ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্রাজিলকে। চোটজর্জর এই তারকার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি অবশ্য তিনি মাঠে নামার আগেই রাঙিয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ম্যাথিউস কুনহা। যাতে ভর করে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নকআউট রাউন্ডে উঠল ব্রাজিল।

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই দ্বিগুণ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল স্কটল্যান্ড। বিরতির পর তারা ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। তবে কিছুতেই গোলের দেখা পাচ্ছিল না স্কটিশরা। গোললাইন থেকে একাধিক বল ফেরত পাঠিয়ে তাদের হতাশ করেছেন অ্যালিসন বেকার। এরই মাঝে ৬০ উল্টো তাদের আবারও পিছিয়ে দিলেন কুনহা। ম্যাচে ব্রুনো গুইমারেসের দ্বিতীয় অ্যাসিস্টে তিনি আসরের তৃতীয় গোলটি করলেন।

যথারীতি গোলের পর সার্ফারদের মতো উত্তাল ঢেউয়ে ভারসাম্য রক্ষার সেই উদযাপন কলেন কুনহা। সেই নাচে যোগ দিলেন লুকাস পাকেতা, আর গ্যালারিতে মাতোয়ারা পুরো হলুদ শিবির। অনেকদিন ধরে নম্বর নাইন খুঁজে ফেরা ব্রাজিল যেন উপযুক্ত ব্যক্তিকে পেয়ে গেল এবারের বিশ্বকাপে। আগের ম্যাচে কুনহা হাইতির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন।

এর আগে ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্কটল্যান্ড সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনার দুর্বলতায় ‍সুযোগটা বলতে গেলে উপহার হিসেবেই তিনি পেয়েছিলেন। স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে কাটিয়ে যা ঠাণ্ডা মাথায় তিনি জালে জড়ান। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিয়ুস। তার উদ্দেশে ক্রস বাড়িয়ে ছিলেন গুইমারেস। লাফিয়ে সেটিকে জালে পৌঁছে চলতি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোল পেলেন ভিনি। এরপর নাচলেন কর্নার ফ্ল্যাগ ধরে।

আরও বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট না করলে ব্রাজিলের জয়ের ব্যবধানটা বাড়তে পারত। তবে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবরের পর নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠায় সেই আক্ষেপ আর থাকার কথা নয় সেলেসাওদের। এ ছাড়া দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিলের রক্ষণে একের পর হানা দেওয়া স্কটল্যান্ডকে রুখে দিতে দুর্দান্ত সব সেভ করেছেন ব্রাজিল গোলরক্ষক অ্যালিসন। বিশেষ করে স্কটিশ প্রধান তারকা স্কট ম্যাকটোমিনের একাধিক প্রচেষ্টা ছিল অনবদ্য।

ব্রাজিল প্রথমার্ধে পজেশনে পিছিয়ে থাকলেও, দ্বিতীয়ার্ধে তারা বলের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ দখলে নিয়েছে। পাশাপাশি গোলের জন্য ২১টি শট নিয়ে ৮টিই লক্ষ্যে ছিল আনচেলত্তির শিষ্যদের। বিপরীতে স্কটল্যান্ড ৯ শটের ৫টি লক্ষ্যে রাখতে পারে। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল শীর্ষে এবং স্কটল্যান্ড ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থেকে শেষ করল।