খুঁজুন
, ,

গাড়ির চাকা চলছে না, চুলায় আগুন জ্বলছে না, অচল প্রায় কারখানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 6:33 pm
গাড়ির চাকা চলছে না, চুলায় আগুন জ্বলছে না, অচল প্রায় কারখানা

চট্টগ্রাম নগরে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে টানা ছয় ঘণ্টা গ্যাসের ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সিএনজি অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ মঞ্জুর (৪০)। ফিরিঙ্গী বাজার থেকে ট্রাফিকের দীর্ঘ সারি অতিক্রম করে যখন কর্ণফুলী প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের দিকে এগোচ্ছিলেন, আশা ছিল দ্রুত গ্যাস নিয়ে ট্রিপে বের হবেন। কিন্তু শত শত গাড়ির সেই দীর্ঘ লাইন ইঞ্চি পরিমাণও নড়ছে না।

গাড়ির ছাদে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের সঙ্গে মনখারাপের সুর মিলিয়ে মঞ্জুর আক্ষেপ করে বলেন, সকাল ৬টায় এসে লাইনে দাঁড়াইছি। এখন দুপুর ১২টা বাজে। শুরুতে নাকি অল্প গ্যাস ছিল, এখন চাপ একেবারেই নাই, পাম্পও বন্ধ। দিনটাই শেষ, কীভাবে গাড়ি চালাব জানি না।

গত কয়েক দিন ধরে পুরো চট্টগ্রাম নগরের পথঘাট, শিল্পাঞ্চল আর রান্নাঘরে গ্যাসের জন্য হাহাকারের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, মঞ্জুর যেন তারই প্রতীক। একদিকে গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিবহন ও শিল্পকারখানা, অন্যদিকে দফায় দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল অবস্থা বন্দরনগরীর বাসিন্দাদের।

পথেই কাটছে পুরো দিন, সুযোগ নিচ্ছেন চালকেরা!

নগরের কোতোয়ালী, জিইসি মোড় কিংবা কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোর চিত্র হুবহু এক। দিন গড়িয়ে রাত নামলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিনিবাসের লাইন শেষ হয় না।

স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ বা প্রেসার মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চাপ যখনই সামান্য বাড়ে, তখনই পাম্প চালু করা হয়, আবার কমে গেলে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।

সড়কে এই জটলা আর জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ গণপরিবহন এখন গ্যারেজে বসা। আর এই সুযোগটাকেই হাতিয়ার বানিয়েছেন একশ্রেণীর চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর ব্যস্ততম মোড়গুলোতে যানবাহন না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রীরা। কোনো মতে কোনো সিএনজি অটোরিকশা কিংবা রিকশার দেখা মিললেও গুনতে হচ্ছে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া।

এনজিওতে কর্মরত মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (৪০) বলেন, সকাল ১০টায় অফিসে পৌঁছানোর কথা, অথচ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা নেই। যেগুলো আসছে, সেগুলোতে ওঠার মতো অবস্থা নেই, মানুষ দরজায় ঝুলছে। বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করতে গেলাম, কিন্তু অন্য দিনে যেখানে বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া হতো, চালকেরা সরাসরি এখন ৩০০ টাকা দাবি করছেন। এই সুযোগসন্ধানী চালকদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।

নগরের মুরাদপুর থেকে কোতোয়ালি যাচ্ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা ও অভিভাবক শারমিন সুলতানা। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাকে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না, আর যে দু-একটা খালি গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, ভাড়া শুনে মনে হচ্ছে আমরা কোনো দূরপাল্লার বাসে উঠছি। গ্যাস নাই বুঝলাম, কিন্তু তার দায় কেন সাধারণ মানুষকে এভাবে বাড়তি ভাড়া গুনে মেটাতে হবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

কোতোয়ালি এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (৫০) বলেন, ব্যবসার মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছি। চালক মোড় ঘুরতেই দ্বিগুণ ভাড়া চেয়ে বসলেন। প্রতিবাদ করায় চালক বললেন, ভাই, সাত ঘণ্টা পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে যে সময় নষ্ট করেছি, সেই টাকা কে দেবে?

নগরের ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস চালক মো. হেলাল উদ্দীনের গলায় ক্ষোভ আর আক্ষেপ দুটোই স্পষ্ট। এই চালক বলেন, দেখেন, গ্যাসের দাম তো নতুন করে বাড়ে নাই। আমরাও বাড়তি টাকা পেতে চাই না। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি ট্রিপ দেওয়ার আগে সাত থেকে আট ঘণ্টা পাম্পে বসে থাকতে হয়। যে সময়ে তিন থেকে চারটা ট্রিপ দিতে পারতাম, সেই সময়টা পাম্পের লাইনে গেলে পেটে তো টান পড়ে। গাড়ি চালিয়ে ডাল-ভাত তো খাওয়া লাগবে, নাকি।

একই সুরে কথা বললেন আরেক অটোরিকশাচালক মো. জামশেদ আলম। স্বাভাবিক সময়ে ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যে আয় হতো, এখন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গ্যাসের পেছনেই চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

রান্নাঘর থেকে কারখানা, সর্বত্রই ‘হাঁসফাঁস’ অবস্থা!

জ্বালানি সংকটের ঢেউ কেবল সড়কের চাকা থামিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, তা আছড়ে পড়েছে সাধারণ রান্নাঘর থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বৃহৎ শিল্পাঞ্চলগুলোতেও।

নগরের আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা আয়শা আক্তার বলেন, সকাল হলেই মনে হয় রান্নাঘরের সব প্রাণ উবে যায়। নিভু নিভু করে চুলা জ্বলে, কখনো একদমই থাকে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হয়। তার ওপর দিনে ১০ বারের বেশি বিদ্যুৎ যায়। একবার গেলে দুই ঘণ্টার আগে আসার নাম নেই। আমরা তো একপ্রকার হাঁপিয়ে উঠেছি।

অন্য এলাকাগুলোর অবস্থাও ভিন্ন নয়। মুরাদপুরের গৃহিণী কুলসম আক্তার জানান, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সিলিন্ডারের এই নতুন খরচ পুরো সংসারের বাজেটে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত শিল্পকারখানাগুলো এখন গভীর মন্দার মুখোমুখি। চট্টগ্রাম অঞ্চলে রড উৎপাদন কারখানা, পোশাক শিল্প, জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড এবং স্টিল স্ট্রাকচার কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে ৪০ শতাংশে।

দেশের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন সেনগুপ্ত বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরে বলেন, গত প্রায় বিশ দিন ধরে আমরা কাঙ্ক্ষিত হারে গ্যাস পাচ্ছি না। সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে কারখানা পুরোপুরি চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশও পূরণ করা যাচ্ছিল না, যার কারণে বিপুল লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকলে কারখানা চালু রাখা একরকম অসম্ভব।

উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও করুণ। রাউজান ও আনোয়ারা এলাকার একাধিক ২১০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দৈনিক ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে বিদ্যুতের এক নজিরবিহীন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন বিভাগের জেনারেল ম্যানজার উত্তম চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ৪ মার্চ থেকে প্রায় ৫ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেজিডিসিএল থেকে যে পরিমাণ গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে কারখানা চালু রাখা বরাবরই অসম্ভব। কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘায়িত হলে দেশের কৃষি খাতে সার সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন এই হঠাৎ বিপর্যয়?

চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাসের সিংহভাগ চাহিদাই নির্ভর করে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনালের ওপর। দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সরবরাহ দিয়ে চট্টগ্রামের এই সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামোগত চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ এবং দেশের ‘সামিট গ্রুপ’ পরিচালিত দুটি ভাসমান টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে গত ২১ জুলাই। সেদিন মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’র ভাসমান টার্মিনালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক সচল হয়। তবে চাপ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

এক সংকট কাটিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয় দ্বিতীয় সংকট, প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজিবাহী নতুন কার্গো জাহাজ এলেও, তা টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত বা সেটআপ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরের প্রচণ্ড উত্তাল পরিস্থিতির কারণে পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ অন্তত ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। কার্গো সেটআপের কাজ আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। সাগর কিছুটা শান্ত হলে এক-দুই দিনের মধ্যে এর সমাধান হতে পারে।

চাহিদা ও বরাদ্দের বিশাল ফারাক!

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা ও যোগানের মাঝে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক প্রকৃত গ্যাসের চাহিদা সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে স্বাভাবিক সময়ে বরাদ্দ মিলত মাত্র ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। সাম্প্রতিক সংকটের কারণে এই সরবরাহ আরও কমে দাঁড়িয়েছে দিনে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তির হিসাব মেলালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪৫ দশমিক ৭১ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সংযোগ বজায় রাখতে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে যতক্ষণ না সরবরাহ বাড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন।

সমাধান কোন পথে?

জাতীয় স্তরে গ্যাসের দৈনিক মোট চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দেশের সবকটি ক্ষেত্র মিলে সরবরাহ করা সম্ভব হয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট। যার একটি বিশাল অংশ, প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। মহেশখালীর সামিট টার্মিনাল একা কিছুটা অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার চেষ্টা করলেও, তা চাহিদার তুলনায় সাগরে এক ফোঁটা পানির মতো।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, সমুদ্রের আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং আমদানি করা এলএনজি খালাস প্রক্রিয়া পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি থেকে চট্টগ্রামের মানুষের তাৎক্ষণিক মুক্তির সম্ভাবনা কম।

Feb2
Feb2

মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 11:16 pm
মানুষের পকেট কেটে নেওয়া বিএনপি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—এই দুই দল মিলে দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ভারতের দালালি করেছে, অন্যদিকে বিএনপি মানুষের পকেট কেটে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে। এই নষ্ট রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে আসতে হবে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্মানিত নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে যে সংস্কারের আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচন ঘিরে পুনরায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যদি পেশিশক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কালো টাকার খেলা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের বক্তব্যের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। অভিযোগ করে তিনি বলেন, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লন্ডনের শীর্ষ দফতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিরোধী দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সারাদেশে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে পকেট কাটা, বালি ও মাটি উত্তোলন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের উৎসব চলছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আমাদের ১ হাজার ৪০০ ভাই জীবন দিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। পকেটে টাকা না থাকলেও বা পায়ে ছিঁড়ে যাওয়া স্যান্ডেল থাকলেও আমরা আদর্শ বিক্রি করব না এবং কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতিতে নাম লেখাব না।

তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, নারী, আলেম ও সাধারণ মানুষ যে অভূতপূর্ব একতা দেখিয়েছিল, সেই সার্বজনীন শক্তির মাধ্যমে আগামীতে যেকোনো রাজনৈতিক অপশক্তি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ. এম. মুন্না চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জুবাইরুল আলম মানিক, জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল ইসলামসহ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা এবং সহযোগী সংগঠন ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, নারীশক্তি ও শ্রমিকশক্তির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 11:09 pm
জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মামলায় জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ব্যাপক যাত্রীদের চাপের কারণে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মদিনা থেকে আগত একটি ফ্লাইটের (বিজি-৩৩৮) লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে এলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া ও মারধরের হুমকি দেন। এমনকি তিনি বিমান মন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করেন।

আরও বলা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গীরা সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ শুরু করলে নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেজর আখতারুজ্জামান তাকেও গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া তিনি সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলে দেন এবং বিমান বাংলাদেশ প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন।

উল্লেখ্য, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকে একাধিকবার বহিষ্কৃত হন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। পরে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 2 October, 2026, 10:14 pm
বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ২০০৬ সাল থেকে তিনি নিজ মালিকানাধীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগে তিনি বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। পরে যুক্তরাজ্যের বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা ও লন্ডনসহ বিভিন্ন জায়গায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণও নেন তিনি।

সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল— তিন মাধ্যমেই সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছিল খালিদীর। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।

২০১৭ সালে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কারে বিশেষ সম্মাননা পান তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ডিজিটাল বাংলাদেশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

দেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশেও তৌফিক ইমরোজ খালিদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ নতুন ব্যবস্থাপনায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নামে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজকে ইন্টারনেটে বাংলাদেশের প্রথম সার্বক্ষণিক সংবাদ প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, “দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’

রাষ্ট্রপতি তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”