খুঁজুন
, ,

চাঁদ দেখা যায়নি, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 10:08 pm
চাঁদ দেখা যায়নি, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী

বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) পবিত্র সফর মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এরপর শনিবার (১৫ আগস্ট) থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের গণনা শুরু হবে। রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ অনুযায়ী বুধবার (২৬ আগস্ট) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত হবে।

সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী নদভী, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক ড. মু. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, স্পারসোর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ শহিদুল ইসলামসহ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Feb2
Feb2

সামিটের টার্মিনাল বন্ধ, আরও বাড়ল এলএনজি সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 8:05 pm
সামিটের টার্মিনাল বন্ধ, আরও বাড়ল এলএনজি সংকট

দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট গ্রুপের টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় কক্সবাজারের মহেশখালীর সাগরে ভাসমান এই এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।

মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় গত দুদিন ধরে দেশীয় এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাত্র ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছিল। যেখানে টার্মিনালের সক্ষমতা ছিল ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন করে এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় সামিটের টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে মহেশখালীর ভাসমান দুটি টার্মিনালের মধ্যে আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট থেকে এলএনজি সরবরাহ আংশিক চালু আছে। সেই টার্মিনালের ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার বিপরীতে আজ বৃহস্পতিবার মিলেছে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গতকাল বুধবারও দেওয়া হয়েছিল ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বয়লার নষ্ট হওয়ায় সেই টার্মিনাল দিয়ে এর চেয়ে বেশি এলএনজি সরবরাহ এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। বয়লার মেরামত করতে ৭২ ঘণ্টা এই টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হবে। ফলে সামিটের টার্মিনাল চালু না হওয়া পর্যন্ত ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি দিয়ে চলা ছাড়া সরকারের হাতে কোনো বিকল্প নেই।

দেশে দুটি টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২১ জুলাই আমেরিকান কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের বয়লার আগুন লেগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসে। ৬ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জি আংশিক চালুর পর সরবরাহ বেড়েছিল। কিন্তু দুদিন আগে থেকে সামিটের টার্মিনাল দিয়ে এলএনজি সরবরাহ কমলে পুরো এলএনজি সরবরাহে ধস নামে।

এ বিষয়ে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আনোয়ারুল ইসলামকে একাধিক ফোন দেওয়া হলেও তার সাড়া না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

পরে প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন সামিট টার্মিনালের গ্যাস সরবরাহ বন্ধের বিষয়ে। তবে সুখবর হচ্ছে, সামিট টার্মিনালের জন্য এলএনজিবাহী জাহাজ ‘বিডিব্লউ লেসমেস’ আসছে আমেরিকা থেকে। মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের কাছাকাছি বঙ্গোপসাগর এলাকায় পৌঁছাবে আগামী ১৫ আগস্ট সকাল ৬টা। জাহাজটিতে ৬৬ হাজার টন এলএনজি আছে। সেই জাহাজ এলেই কেবল সামিট চালু হবে। তার মানে অন্তত দেড় দিন সামিটের টার্মিনাল বন্ধ থাকবে।

জাহাজের গতিবিধি জানানো আন্তর্জাতিক সংস্থা মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে (মাদাগাস্কারের কাছাকাছি) অবস্থান করছে এবং ১৮.৭ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলছে। ১৫ আগস্ট সকাল ৬টায় মহেশখালীতে পৌঁছাবে।

জাহাজের শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই জাহাজ সামিটের টার্মিনালেই ভিড়বে বলে মৌখিকভাবে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এদিকে এলএনজিবাহী আরেক ট্যাংকার ‘আল হামরা’ বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছে গত ১২ আগস্ট। সেই জাহাজ আনা হয়েছে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের জন্য। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তারা গত দু-দিন ধরে বলে আসছিলেন সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজিবাহী জাহাজ ভাসমান টার্মিনালে ভিড়িয়ে সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে এলএনজিবাহী জাহাজ না আসায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এটা কৌশল ছিল প্রতিষ্ঠানটির।

গণিতচর্চা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 7:18 pm
গণিতচর্চা বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে গণিত চর্চা ও গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতে সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড (আইএমও) এবং ইউরোপীয় বালিকা গণিত অলিম্পিয়াডের (ইজিএমও) বিজয়ী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, সাক্ষাৎকালে পদকজয়ী শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং গণিত অলিম্পিয়াডে তাদের অংশগ্রহণ, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জনের জন্য শুভকামনা জানান।

এ সময় বাংলাদেশ বালিকা গণিত ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্কুল পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে অর্থায়নে তাৎক্ষণিক সম্মতি জানান।

এছাড়া বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির (বিডিএমও) পক্ষ থেকে স্কুল পর্যায়ে অ্যাকটিভিটি ওরিয়েন্টেড ম্যাথমেটিকস চালুর প্রস্তাব করা হলে প্রধানমন্ত্রী তাতেও সম্মতি জানান।

স্কুল শিক্ষকদের গণিত দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাইয়ের আইইএলটিএস পরীক্ষার আদলে একটি পৃথক গণিত দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াডের জাতীয় কোচ মাহবুবুল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ বালিকা গণিত ফাউন্ডেশনের চেয়ার প্রফেসর সাদিয়া হামিদ কাজী এবং বাংলাদেশ ম্যাথমেটিক্যাল অলিম্পিয়াড কমিটির সদস্য মো. আব্দুল হাকিম খান।

আরও উপস্থিত ছিলেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদক এবং ইজিএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মনামী জামান, চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও রৌপ্য পদকজয়ী মো. রায়হান সিদ্দিকী, ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী জাওয়াদ হামীম চৌধুরী, ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী মোহাম্মদ মারজুক রহমান, আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী তাহসিন খান, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও আইএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী এম. জামিউল হোসেন, রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও ইজিএমও ব্রোঞ্জ পদকজয়ী সাজি সেহনাই।

গাড়ির চাকা চলছে না, চুলায় আগুন জ্বলছে না, অচল প্রায় কারখানা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 13 August, 2026, 6:33 pm
গাড়ির চাকা চলছে না, চুলায় আগুন জ্বলছে না, অচল প্রায় কারখানা

চট্টগ্রাম নগরে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে টানা ছয় ঘণ্টা গ্যাসের ফিলিং স্টেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সিএনজি অটোরিকশার চালক মোহাম্মদ মঞ্জুর (৪০)। ফিরিঙ্গী বাজার থেকে ট্রাফিকের দীর্ঘ সারি অতিক্রম করে যখন কর্ণফুলী প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেডের দিকে এগোচ্ছিলেন, আশা ছিল দ্রুত গ্যাস নিয়ে ট্রিপে বের হবেন। কিন্তু শত শত গাড়ির সেই দীর্ঘ লাইন ইঞ্চি পরিমাণও নড়ছে না।

গাড়ির ছাদে বৃষ্টির টুপটাপ শব্দের সঙ্গে মনখারাপের সুর মিলিয়ে মঞ্জুর আক্ষেপ করে বলেন, সকাল ৬টায় এসে লাইনে দাঁড়াইছি। এখন দুপুর ১২টা বাজে। শুরুতে নাকি অল্প গ্যাস ছিল, এখন চাপ একেবারেই নাই, পাম্পও বন্ধ। দিনটাই শেষ, কীভাবে গাড়ি চালাব জানি না।

গত কয়েক দিন ধরে পুরো চট্টগ্রাম নগরের পথঘাট, শিল্পাঞ্চল আর রান্নাঘরে গ্যাসের জন্য হাহাকারের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, মঞ্জুর যেন তারই প্রতীক। একদিকে গ্যাস সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিবহন ও শিল্পকারখানা, অন্যদিকে দফায় দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল অবস্থা বন্দরনগরীর বাসিন্দাদের।

পথেই কাটছে পুরো দিন, সুযোগ নিচ্ছেন চালকেরা!

নগরের কোতোয়ালী, জিইসি মোড় কিংবা কর্ণফুলীর মইজ্জ্যারটেক এলাকার সিএনজি স্টেশনগুলোর চিত্র হুবহু এক। দিন গড়িয়ে রাত নামলেও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মিনিবাসের লাইন শেষ হয় না।

স্টেশন মালিকরা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ বা প্রেসার মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চাপ যখনই সামান্য বাড়ে, তখনই পাম্প চালু করা হয়, আবার কমে গেলে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।

সড়কে এই জটলা আর জ্বালানি সংকটের কারণে অধিকাংশ গণপরিবহন এখন গ্যারেজে বসা। আর এই সুযোগটাকেই হাতিয়ার বানিয়েছেন একশ্রেণীর চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নগরীর ব্যস্ততম মোড়গুলোতে যানবাহন না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছেন অফিসগামী ও সাধারণ যাত্রীরা। কোনো মতে কোনো সিএনজি অটোরিকশা কিংবা রিকশার দেখা মিললেও গুনতে হচ্ছে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া।

এনজিওতে কর্মরত মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন (৪০) বলেন, সকাল ১০টায় অফিসে পৌঁছানোর কথা, অথচ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো বাসের দেখা নেই। যেগুলো আসছে, সেগুলোতে ওঠার মতো অবস্থা নেই, মানুষ দরজায় ঝুলছে। বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করতে গেলাম, কিন্তু অন্য দিনে যেখানে বহদ্দারহাট থেকে আগ্রাবাদ ১০০ থেকে ১২০ টাকা ভাড়া হতো, চালকেরা সরাসরি এখন ৩০০ টাকা দাবি করছেন। এই সুযোগসন্ধানী চালকদের কাছে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি।

নগরের মুরাদপুর থেকে কোতোয়ালি যাচ্ছিলেন স্কুলশিক্ষিকা ও অভিভাবক শারমিন সুলতানা। তিনি বলেন, আমার সঙ্গে ছোট বাচ্চা রয়েছে, তাকে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না, আর যে দু-একটা খালি গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে, ভাড়া শুনে মনে হচ্ছে আমরা কোনো দূরপাল্লার বাসে উঠছি। গ্যাস নাই বুঝলাম, কিন্তু তার দায় কেন সাধারণ মানুষকে এভাবে বাড়তি ভাড়া গুনে মেটাতে হবে, প্রশ্ন রাখেন তিনি।

কোতোয়ালি এলাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাইফুল আলম (৫০) বলেন, ব্যবসার মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রায় ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর একটি সিএনজি অটোরিকশা পেয়েছি। চালক মোড় ঘুরতেই দ্বিগুণ ভাড়া চেয়ে বসলেন। প্রতিবাদ করায় চালক বললেন, ভাই, সাত ঘণ্টা পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে যে সময় নষ্ট করেছি, সেই টাকা কে দেবে?

নগরের ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস চালক মো. হেলাল উদ্দীনের গলায় ক্ষোভ আর আক্ষেপ দুটোই স্পষ্ট। এই চালক বলেন, দেখেন, গ্যাসের দাম তো নতুন করে বাড়ে নাই। আমরাও বাড়তি টাকা পেতে চাই না। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি ট্রিপ দেওয়ার আগে সাত থেকে আট ঘণ্টা পাম্পে বসে থাকতে হয়। যে সময়ে তিন থেকে চারটা ট্রিপ দিতে পারতাম, সেই সময়টা পাম্পের লাইনে গেলে পেটে তো টান পড়ে। গাড়ি চালিয়ে ডাল-ভাত তো খাওয়া লাগবে, নাকি।

একই সুরে কথা বললেন আরেক অটোরিকশাচালক মো. জামশেদ আলম। স্বাভাবিক সময়ে ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে যে আয় হতো, এখন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গ্যাসের পেছনেই চলে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনের খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

রান্নাঘর থেকে কারখানা, সর্বত্রই ‘হাঁসফাঁস’ অবস্থা!

জ্বালানি সংকটের ঢেউ কেবল সড়কের চাকা থামিয়ে ক্ষান্ত হয়নি, তা আছড়ে পড়েছে সাধারণ রান্নাঘর থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের বৃহৎ শিল্পাঞ্চলগুলোতেও।

নগরের আকবরশাহ এলাকার বাসিন্দা আয়শা আক্তার বলেন, সকাল হলেই মনে হয় রান্নাঘরের সব প্রাণ উবে যায়। নিভু নিভু করে চুলা জ্বলে, কখনো একদমই থাকে না। বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হয়। তার ওপর দিনে ১০ বারের বেশি বিদ্যুৎ যায়। একবার গেলে দুই ঘণ্টার আগে আসার নাম নেই। আমরা তো একপ্রকার হাঁপিয়ে উঠেছি।

অন্য এলাকাগুলোর অবস্থাও ভিন্ন নয়। মুরাদপুরের গৃহিণী কুলসম আক্তার জানান, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সিলিন্ডারের এই নতুন খরচ পুরো সংসারের বাজেটে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রামের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত শিল্পকারখানাগুলো এখন গভীর মন্দার মুখোমুখি। চট্টগ্রাম অঞ্চলে রড উৎপাদন কারখানা, পোশাক শিল্প, জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড এবং স্টিল স্ট্রাকচার কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন নেমে এসেছে ৪০ শতাংশে।

দেশের অন্যতম বড় ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর তপন সেনগুপ্ত বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরে বলেন, গত প্রায় বিশ দিন ধরে আমরা কাঙ্ক্ষিত হারে গ্যাস পাচ্ছি না। সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে কারখানা পুরোপুরি চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার ৮০ শতাংশও পূরণ করা যাচ্ছিল না, যার কারণে বিপুল লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে। গ্যাস না থাকলে কারখানা চালু রাখা একরকম অসম্ভব।

উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও করুণ। রাউজান ও আনোয়ারা এলাকার একাধিক ২১০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে দৈনিক ৩৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে বিদ্যুতের এক নজিরবিহীন ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) উৎপাদন বিভাগের জেনারেল ম্যানজার উত্তম চৌধুরী বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশনায় গত ৪ মার্চ থেকে প্রায় ৫ মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কেজিডিসিএল থেকে যে পরিমাণ গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে কারখানা চালু রাখা বরাবরই অসম্ভব। কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা দীর্ঘায়িত হলে দেশের কৃষি খাতে সার সরবরাহে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন এই হঠাৎ বিপর্যয়?

চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্যাসের সিংহভাগ চাহিদাই নির্ভর করে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) টার্মিনালের ওপর। দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের সরবরাহ দিয়ে চট্টগ্রামের এই সুনির্দিষ্ট পরিকাঠামোগত চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ এবং দেশের ‘সামিট গ্রুপ’ পরিচালিত দুটি ভাসমান টার্মিনাল জাতীয় গ্রিডে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

কিন্তু বিপত্তি ঘটে গত ২১ জুলাই। সেদিন মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’র ভাসমান টার্মিনালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রোমানিয়া ও সিঙ্গাপুরের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল তা মেরামতের উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টা শেষে গত ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিক সচল হয়। তবে চাপ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

এক সংকট কাটিয়ে ওঠার আগেই শুরু হয় দ্বিতীয় সংকট, প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন। সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল উত্তাল ঢেউয়ের কারণে সিঙ্গাপুর থেকে এলএনজিবাহী নতুন কার্গো জাহাজ এলেও, তা টার্মিনালের সঙ্গে যুক্ত বা সেটআপ করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানি করা এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরের প্রচণ্ড উত্তাল পরিস্থিতির কারণে পাইপলাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ অন্তত ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে গেছে। কার্গো সেটআপের কাজ আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। সাগর কিছুটা শান্ত হলে এক-দুই দিনের মধ্যে এর সমাধান হতে পারে।

চাহিদা ও বরাদ্দের বিশাল ফারাক!

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের চাহিদা ও যোগানের মাঝে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়েছে।

কেজিডিসিএল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলে দৈনিক প্রকৃত গ্যাসের চাহিদা সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অথচ এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে স্বাভাবিক সময়ে বরাদ্দ মিলত মাত্র ২৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট। সাম্প্রতিক সংকটের কারণে এই সরবরাহ আরও কমে দাঁড়িয়েছে দিনে মাত্র ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তির হিসাব মেলালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৪৫ দশমিক ৭১ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (বিতরণ উত্তর) প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিক খান বলেন, বরাদ্দ কমে যাওয়ায় বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সংযোগ বজায় রাখতে। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে যতক্ষণ না সরবরাহ বাড়ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের এই সংকট পুরোপুরি দূর করা কঠিন।

সমাধান কোন পথে?

জাতীয় স্তরে গ্যাসের দৈনিক মোট চাহিদা প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ঘনফুট। অথচ দেশের সবকটি ক্ষেত্র মিলে সরবরাহ করা সম্ভব হয় সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ঘনফুট। যার একটি বিশাল অংশ, প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। মহেশখালীর সামিট টার্মিনাল একা কিছুটা অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করার চেষ্টা করলেও, তা চাহিদার তুলনায় সাগরে এক ফোঁটা পানির মতো।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের মতে, সমুদ্রের আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া এবং আমদানি করা এলএনজি খালাস প্রক্রিয়া পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত এই ভোগান্তি থেকে চট্টগ্রামের মানুষের তাৎক্ষণিক মুক্তির সম্ভাবনা কম।