খুঁজুন
, ,

স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 25 September, 2026, 8:58 am
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

যেকোনো সংঘাতের স্থায়ী সমাধান যুদ্ধ বা অস্ত্র দিয়ে নয়, বরং আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই সুনির্দিষ্ট বার্তা দেন।

বিশ্বমঞ্চে দেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে তিনি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার প্রতি বাংলাদেশের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, জলবায়ু ন্যায়বিচার, নিরস্ত্রীকরণ এবং বৈশ্বিক বহুপাক্ষিকতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘস্থায়ী দুর্দশার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে এই সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের সকল ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ সবসময় অবিচল রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

এছাড়া বিগত নয় বছরের বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এর ফলে দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎস যেহেতু মিয়ানমারে, তাই এর একমাত্র সমাধানও তাদের নিজ দেশেই নিহিত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও জোরালো ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

Feb2
Feb2

একাত্তরের পরাজিত শক্তি আজও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: মীর হেলাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 25 September, 2026, 8:57 pm
একাত্তরের পরাজিত শক্তি আজও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত: মীর হেলাল

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেন- একাত্তরের পরাজিত শক্তি আজও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সব ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস নয়। বাংলাদেশ বিরোধী অপচেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

তিনি আজ ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল -স্বেচ্ছাসেবকদল -ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে সরকারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের প্রত্যেক্ষ ভোটে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনায় দায়িত্ব পেয়েছে বিএনপি সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুনঃগঠনে বিএনপি সরকার কাজ করে যাচ্ছে। পরাজিত ফ্যাসিস্ট দেশকে অস্থিতিশীল করার রাজনীতিতে লিপ্ত। নিষিদ্ধ সংগঠন কখনই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে না এদেশের প্রচলিত আইনে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিরোধী দল একেক সময় একেক কথা বলেন। সংসদে বলে এক রকম, সংসদের বাহিরে তাদের ভিন্নরূপ। তারাই বহুরূপী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলার জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ চট্টগ্রামের ছাত্র-যুব সমাজ সবসময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকালে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। আগামীতেও চট্টগ্রামের মানুষ শান্তি গণতন্ত্র উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবে। আমরাও চাই হাসিনা দেশে আসুক। দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে আদালতে আত্মসমর্পন করুক। আদালতই তার ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, আমরা কোন ধরণের নাশকতা সহিংসতা কিংবা বিশৃঙ্খলা চাই না, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু দেশের স্বার্থে সাবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারকে জ্বালাও পোড়ও আর ঝটিকা মিছিল দিয়ে ক্ষমতা থেকে সরানোর স্বপ্ন দ্বিবা স্বপ্নই থেকে যাবে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, আজকের সমাবেশ থেকে আমরা পরিস্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোন অপচেষ্টা জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোন ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ষড়যন্ত্র নয়, জনগণের ঐক্যই বাংলাদেশের শক্তি। বিভাজন নয়, জাতীয় ঐক্যই আমাদের অগ্রযাত্রার ভিত্তি। ভয় নয়, সাহস ও দায়িত্বশীলতাই আমাদের পথ দেখাবে। আগুন সন্ত্রাস রুখে দিতে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল-ছাত্রদল বদ্ধ পরিকর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, একটি মহল দেশের অগ্রযাত্রাকে বাঁধাগ্রস্থ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। নানা ধরণের গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উস্কানী এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মাধ্যমে তারা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাই। কিন্তু দেশের মানুষ আগের মত বোকা নয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন এর যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় ছাত্রদল সর্বদা রাজপথে সক্রিয় ভুমিকা পালন করবে।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ এর পরাজিত শক্তি সরকারকে হুমকি দিচ্ছে এক দফা আন্দোলনের কিন্তু যারা হুমকি দিচ্ছেন তারা দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, ইকবাল হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া, সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, রাজিব উদ্দিন আকন্দ, আসিফ চৌধুরী লিমন, জিএ সালাহউদ্দিন কাদের আসাদ, আরিফুর রহমান প্রমুখ।

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 25 September, 2026, 4:08 pm
জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক বিরল ইতিহাস গড়েছেন। এ বিশ্ব সংস্থার সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি তার প্রথম ভাষণ দেন।

সম্পূর্ণ বাংলায় দেওয়া তার এই প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ইতিহাসেও এক বিরল অধ্যায় রচনা করেছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে এর আগে কখনও একই পরিবারের তিন সদস্য- বাবা, মা ও ছেলে- রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেননি।

পারিবারিক সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব দরবারে নিজের মাতৃভাষায় কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চেতনার কথা তুলে ধরেছেন।

নিউইয়র্ক সময় বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে তিনি এ ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে ভাষণে সম্বোধন করে বলেন, ‘জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ ও জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এই ভাষণ তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।

তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন।

ওই ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছিলেন।

এছাড়া তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এর তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দেন।

জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।

এছাড়া খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

 

হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি রাখতে বললেন সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 25 September, 2026, 2:51 pm
হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি রাখতে বললেন সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গের প্রস্তুতি রাখতে সৌদি আরবের সেনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই এমন আহ্বান জানালেন তিনি।

শুক্রবার সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গ্র্যান্ড মুফতি বলেন, দেশের সুরক্ষা এবং এর ভূখণ্ডের এক ইঞ্চির ওপরও কেউ হস্তক্ষেপ করতে চাইলে তাকে প্রতিহত করা ‘সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ও সর্বোত্তম ইবাদতের কাজগুলোর’ মধ্যে পড়ে। এ দায়িত্ব পালনে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইয়েমেন সীমান্তে মোতায়েন সৌদি সেনাদের উদ্দেশে দেওয়া এই বিরল ও কঠোর ভাষার বার্তায় কোরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং আল্লাহ ও নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি আনুগত্য ও আত্মত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত হাদিসের উল্লেখ করা হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে রিয়াদ দাবি করেছে। এর জবাবে সৌদি আরবও হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হুতিরা ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা ও উপকূলীয় শহর ধুবাবও রয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপেও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে গোষ্ঠীটি।

বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। এর মাধ্যমে জাহাজগুলো সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপীয় বাজারে যেতে পারে। তাই এই এলাকায় হুতিদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিধিনিষেধের প্রভাবও রয়েছে। এর মধ্যে বাব আল-মান্দাব ঘিরে নতুন করে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে এই সংঘাতকে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা যুদ্ধ ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেখানে আবারও লড়াই তীব্র হয়েছে।

গ্র্যান্ড মুফতির বিবৃতিতে হুতিদের সম্পূর্ণ পরাজয়ের জন্য প্রার্থনা করা হয়। এতে বলা হয়, সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত সেনাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে, শাসক ও সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে চলতে হবে এবং সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি মসজিদে হুতিদের হামলার দাবি করে ভিডিও প্রচার করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, হুতিরা মক্কা লক্ষ্য করেও হামলা চালিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

গ্র্যান্ড মুফতি সৌদি সেনাদের পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, এ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সাহাবিদের পথ অনুসরণ করছেন।