খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানসিকভাবে সুস্থ প্রজন্মই পারে জাতিকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১০:১৫ অপরাহ্ণ
মানসিকভাবে সুস্থ প্রজন্মই পারে জাতিকে সার্বিকভাবে উন্নত করতে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের নতুন প্রজন্মের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য তাদেরকে সৃজনশীল বই পড়ার ব্যাপারে উৎসাহী করে তুলতে হবে। কেননা, মানসিকভাবে সুস্থ প্রজন্মই পারে একটি দেশ ও জাতিকে সার্বিকভাবে উন্নত করে তুলতে।

আজ সোমবার বিকেলে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনাসিয়াম হলে চট্টগ্রামে অমর একুশের বইমেলা উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে মেধা, মনন ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নিয়ে যাওয়া। আমরা আরো আগেই এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারতাম। গত ১১ বছরে দেশ আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে পারতো, যদি দেশে নেতিবাচক ও সংঘাতের রাজনীতি না থাকতো।

অমর একুশের বইমেলার উদ্বোধন। ছবি: দেব প্রসাদ দেবু

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপির বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে নালিশ জানানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন নির্বাচন নিয়ে তাদের যদি নালিশ থাকলে তারা নির্বাচন কমিশনে যেতে পারতো, আদালতে যেতে পারতো।

ভোটারদের কাছে নালিশ জানাতে পারতো। কিন্তু তা না করে বিদেশিদের কাছে নালিশ দিয়ে বিদেশে বিএনপি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্যের অপচেষ্টা করছে এবং এটা তারা বারবারই করছে। তারা বিদেশি রাষ্ট্রগুলোকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দিতে চায়। এটি কখনো আমাদের দেশের জন্য সম্মানজনক নয়।

তিনি এ ধরণের কর্মের মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে আর ছোটো না কার জন্য বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানান।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো সম্মিলিত বইমেলা আয়োজনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. হাছান বলেন, আগে বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্নভাবে বইমেলা হতো। এতে সাধারণ্যের মধ্যে আগ্রহ কম ছিল। গতবছর থেকে সবাইকে নিয়ে মেলা আয়োজনের কারণে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এবারের মেলা গতবারের চেয়েও গুছানো বলে তিনি মন্তব্য করেন। একটি সময় এটি ঢাকার বইমেলার মতো অনেক বড় আঙ্গিকে আয়োজন হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি চত্বরে চাদর বিছিয়ে বইমেলার যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন সেখানে ৮ লক্ষ বর্গফুট এলাকজুড়ে মেলা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, চার/পাঁচ হাজার বছর আগেও মানুষ ও অন্য প্রাণীর মধ্যে তেমন পার্থক্য ছিল না। মানুষের সাথে প্রাণীর লড়াই হতো। অনেক প্রাণী আছে যারা মানুষের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। কিন্তু মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আস্তে আস্তে অন্যান্য প্রাণী থেকে বহুদূর এগিয়ে গেছে। মানুষ তার আবিষ্কার লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষণে রাখে এবং এই সংরক্ষণের বড় মাধ্যম হচ্ছে বই। পরে আবার সেই ডকুমেন্টেড বিষয়গুলোকে চর্চার মাধ্যমে চরম উৎকর্ষ সাধন করেছে। এতেই প্রাণী থেকে মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। যেমন ১৫০ বছর আগে মানুষ গাড়ি বানিয়েছিল। পরে অনেক গবেষণার পর গাড়ি আজকের পর্যায়ে এসেছে। একইভাবে বিমান আবিষ্কারের পরও ক্রমাগত গবেষণার মধ্য দিয়ে বিমান বর্তমান অবস্থানে উঠে এসেছে।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু এতে অনেকটা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে মানুষ। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। এ আত্মকেন্দ্রিকতায় মানুষের স্বাভাবিক মূল্যবোধ লোপ পাচ্ছে। কিন্তু কোনোভাবেই মানুষের মানবিক মূল্যবোধকে নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। এ মানবিক মূল্যবোধকে ধরে রাখা ও এর উৎকর্ষ সাধনের জন্য মানুষকে সৃজনশীল বই পড়তে হবে।

ড. হাছান বলেন, আজকাল অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন। কিন্তু যিনি এর প্রবক্তা সেই বিল গেটস ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তাঁর কোনো সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেননি। আমরা স্মার্ট ফ্যামিলিগুলো বুঝতেও পারি না শিশুসন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়ে আমরা তার কতো বড় ক্ষতি করছি। সে এ ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ঢুকে যা ইচ্ছে তা দেখতে পারছে।

মন্ত্রী নিজের ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করে বলেন, আমার বাসা ছিল হেমসেন লেনে। সেখান থেকে কয়েক বন্ধু মিলে হেঁটে মুসলিম হাইস্কুলে যেতাম। আমাদের কিছু বন্ধু ছিল যারা হাঁটতে হাঁটতে বই পড়তো। আমাদের কাজ ছিল এ চলন্ত অবস্থায় বই পড়তে গিয়ে তারা যেন নালা-নর্দমায় পড়ে না যায় তা দেখা। আজকাল এরকম দৃশ্য দেখাই যায় না।

তিনি বলেন, আমাদের ছোটোবেলায় দস্যু বনহুর মাসুদ রানার মতো কিছু আকর্ষক ধারাবাহিক বই ছিল। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে শিক্ষনীয় তেমন কিছু ছিল না। এসবের পাশাপাশি শিক্ষনীয় এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বহু বই ছিল। এসব বই পড়েই মানবিক মানুষ হওয়া যায়।

তিনি ক্ষয়িষ্ণু মূল্যবোধ থেকে বের হয়ে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিশুদের বই পড়ার উৎসাহ সৃষ্টির জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খেয়াল রাখতে হবে শিশুদের হাতে তুলে দেয়া এসব বই যেন মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হতে হবে অর্থনৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নত একটি রাষ্ট্র, যেটি দেখে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো আমাদের অনুকরণ করবে।

মন্ত্রী আয়োজকদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, সিটি কর্পোরেশনেরও অনেক স্কুল কলেজ আছে। এগুলোসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বইমেলায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা এবং বই পড়ার ক্ষেত্রে তাদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এতে তারা বই পড়ায় উৎসাহী হয়ে উঠবে।

সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে এটি দ্বিতীয় সম্মিলিত মেলা। ভবিষ্যতে এ মেলাকে আরো বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উৎসাহী করে তুলতে মন্ত্রীর পরামর্শকে সাধুবাদ জানিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুদ্দোহা। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক ও মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম নিপু।

এর আগে, জিমনাসিয়াম প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে ২০ দিনব্যাপী অমর একুশে বইমেলা ২০২০-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’