খুঁজুন
, ,

সৈয়দপুরে আত্মসমর্পনের সময় স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামীদের নিয়ে বাদির পলায়ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 6 October, 2019, 5:28 am
সৈয়দপুরে আত্মসমর্পনের সময় স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামীদের নিয়ে বাদির পলায়ন

.jpg

নিজ স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টার প্রত্যক্ষ আসামীরা পুলিশে আত্মসমর্পনের জন্য থানায় যাওয়ার পথে তাদের ধরে নিয়ে পালিয়ে গেছে মামলার বাদি।

ঘটনাটি ঘটেছে ৫ অক্টোবর শনিবার বিকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে। এখন পর্যন্ত আসামীদের ও বাদির কোন হদিস করতে পারেনি পুলিশ। এ ব্যাপারে পুলিশ তাদের পলাতক উল্লেখ করে ১০ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। এতে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে পুরো শহর জুড়ে।

জানা যায়, শহরের গোলাহাটের ঘোড়াঘাট মহল্লার সাবেক ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি কাউন্সিলর হিটলার চৌধুরী ভলুর দ্বিতীয় স্ত্রী সুরভী ইসলাম চৌধুরী পপি কে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে গলা কেটে হত্যার চেস্টা করে হিটলার চৌধুরীর হয়ে কাজ করা জীবন ও রাজা নামের দুই যুবক।

এসময় মায়ের গোঙ্গানীর শব্দে পপির মেয়ে আদ্রিতা টের পেয়ে চিৎকার করলে আশে পাশের লোকজন ছুটে আসে। কিন্তু তার আগেই পালিয়ে যায় হামালাকারীরা। এসময় ধ্বস্তা-ধ্বস্তির মধ্যেই গলায় ও হাতে গুরুত্বরভাবে জখম হয় পপি।

পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে তাৎক্ষনিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

সেখানে চিকিৎসাধিন থাকা অবস্থায় ১৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকালে হিটলার চৌধুরী বাদি হয়ে জীবন ও রাজা কে আসামী করে মামলা করেন। এরপর থেকে আসামীরা পলাতক থাকায় হিটলার চৌধুরী তাদের বাবা-মা কে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে জীবন ও রাজা কে তার হাতে তুলে দিতে।

এসময় তাদের আস্বস্ত করা হয় যে, রাজা ও জীবন যেহেতু খুন করেনি শুধুমাত্র হাত কেটে গেছে তাই তাদের কঠিন কোন শাস্তি হবেনা। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের হাতে তুলে দিলেও শাস্তি কম করার জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালাবে হিটলার চৌধুরী ভলু। সে অনুযায়ী গোপনে গোপনে আসামীদের নিয়ে পরিবারের লোকজন সৈয়দপুরের পাশ^বর্তী রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার একটি খাবারের হোটেলে হিটলার চৌধুরীর হাতে হস্তান্তর করে।

পরে আসামীদের তারাগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাস যোগে সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার বাংলা হাইস্কুল মাঠ সংলগ্ন মোটর সাইকেল মেকার লাল্লুর বাড়িতে নেয়ার পথে রাজার মা পারভীন বেগম-১ ও জীবনের মা পারভীন বেগম-২ কে সৈয়দপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে নামিয়ে দিয়ে যায় হিটলার চৌধুরীর লোকজন।

এমন সময় পুলিশ খবর পেয়ে লাল্লুর বাড়িতে হানা দিলে হিটলার চৌধুরী পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে আসামীদের নিয়ে মাইক্রোবাস যোগে বাইপাস সড়ক দিয়ে তার গোলাহাটস্থ বাড়িতে নিয়ে যায়।

পরে পুলিশ সেখানে গেলে ভলুর লোকজন পুলিশকে বাধা দেয় এবং বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে হিটলার চৌধুরী আসামীদের নিয়ে পালিয়ে যায়।

এখন পর্যন্ত পুলিশ তাদের কোন খোজ খবর পায়নি। এ ঘটনায় সৈয়দপুর থানার এসআই আবু বকর সিদ্দিকী বাদি হয়ে হিটলার চৌধুরীসহ তার সহযোগি ৯ জনের বিরুদ্ধে আসামীদের পলায়নে সহযোগিতার অভিযোগে এজাহার দায়ের করেছেন।

অন্যান্য আসামীরা হলেন, ইয়াকুব, কাজল, বাবু, সমসের আলী, ইব্রাহিম, আরমান, মোছাঃ ফাতেমা বেগম চৌধুরী, সোহাগ সরকার চৌধুরী। মামলা নং-১০।

এদিকে রাজার মা পারভীন বেগম-১ জানান, হিটলার চৌধুরী মিটিং বসিয়ে আস্বস্ত করেন তোমাদের ছেলেকে আমার হাতে তুলে দাও। তাদের কোন কিছু হবেনা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হবে। তার আস্বাসের প্রেক্ষিতে গত শনিবার রাজা ও জীবনকে তারাগঞ্জ বাজারের একটি খাবার হোটেলে হিটলার চৌধুরী ভলু ও তার লোকজনের হাতে তুলে দেই। তারা সেখান থেকে সৈয়দপুর টার্মিনালে এসে আমাকে ও জীবনের মাকে নামিয়ে দেয়। পরে জানতে পারি হিটলার চৌধুরী ভলু আমার ছেলে রাজা ও জীবনকে পুলিশে না দিয়ে তাদের নিয়ে পালিয়ে গেছে। এখন আমাদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা এখন চরম জীবনের নিরাপত্তা হীনতার মধ্যে বসবাস করছি। পাশাপাশি ছেলেরা বেঁচে আছে কি না সে ব্যাপারে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি।

এ ব্যাপারে হিটলার চৌধুরী ভলুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, পুলিশ আসামী ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা কখনও বলে আসামীরা ভারতে আবার কখনও বলে দেশে আছে। কিন্তু তাদের কোন খোজ দিতে পারেনি। অথচ আমি আসামীদের ধরতে পেরেছি এবং সময় মত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আসামীদের পুলিশে হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু তার আগেই পুলিশ অন্যায়ভাবে আমার বাড়িতে ঢুকে আমার বৃদ্ধ মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং অস্ত্র বের করে আমাকে গুলি করার প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছে। আমি পলাতক কথাটা সত্য নয়, আমি আমার বাড়িতেই অবস্থান করছি।

Feb2
Feb2

চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 10:12 am
চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লংমার্চ’ শুরু

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘লংমার্চ’ শুরু হয়েছে।

এর আগে আজ (শনিবার) সকাল ৭টায় রাজধানীর শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশ করেন ১১ দলীয় ঐক্য। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সমাবেশ শেষে চট্টগ্রাম অভিমুখী এ ‘লং মার্চ’ শুরু হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়ায়াতরে মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।

এতে বক্তব্য রাখছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের বহর রওনা হয়।

লং মার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরের সরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:57 am
সিফাতকে ছেড়ে দেন, ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ উলটপালট হয়ে যাওয়ার মতো করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় নিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে। ওকে ছেড়ে দেন। ভালোই ভালোই ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদিকে একদম ওলটপালট করে দিয়েছিল। কখন যে পচা শামুকে পা কাটবে, কেউ বলতে পারবে না।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, সিফাতের মুখের ভাষা দিয়ে নয়, কিন্তু যে বিষয়ে সে প্রতিবাদ করেছে, এই বিষয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ প্রয়োজনে সিফাত হয়ে গর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি স্পষ্ট, ছয় দফা দাবি আপনারা দেখেছেন। তার সাথে সপ্তম দফা হবে, কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বাংলাদেশে আমরা বরদাস্ত করব না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ চাঁদাবাজদের জ্বালায় অতিষ্ঠ। দুর্নীতিবাজদের হাতে জনগণের অধিকার লুণ্ঠিত। গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই। কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে। কারেন্টের ভূতুড়ে বিল আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না।

তিনি বলেন, ঢাকাবাসী আপনারা দোয়া করবেন। আমরা আপনাদের এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই অঙ্গীকার পূরণ করতেই আমরা এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ঔষধ ইতোমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ক্রিয়া হলে মোবারকবাদ। প্রতিক্রিয়া হলে আমরা বলে দিচ্ছি। আপনারা বলছেন, এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ কোনো দল, ব্যক্তিগোষ্ঠীর জন্য এই রাস্তায় নামিনি। আমরা নেমেছি বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে। আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি। জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। আমাদের এই আন্দোলন চলবে রাস্তায়, রাজপথে এবং জাতীয় সংসদে। সমান্তরালে আন্দোলন চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে।

আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 5 September, 2026, 9:12 am
আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক, আমাদের লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আজকে যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, আমাদের এই লং মার্চ চট্টগ্রাম পৌঁছাবেই পৌঁছাবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বাংলাদেশের মানুষ লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে সবাই ঢাকায় একত্রিত হয়ে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল। এবার আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বিভাগের উদ্দেশ্যে লং মার্চের যাত্রা শুরু করেছি। নতুন করে যারা স্বৈরাচার হতে যাচ্ছে, সেই স্বৈরাচার হওয়ার পথ বন্ধ করার জন্য আমাদের এই লং মার্চ।’

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মতিঝিলে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী শান্তিপূর্ণ লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই লং চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ। এই লং মার্চ যারা ৭০ শতাংশ জনগণের গণরায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে লং মার্চ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা দলে দলে এই লং মার্চে অংশগ্রহণ করুন। এই লং মার্চ কোনো ১১ দলের লং মার্চ নয়। এই লং মার্চ বাংলাদেশের আপামর সাধারণ মানুষের লং মার্চ।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা লং মার্চ শান্তিপূর্ণভাবে পালন করব। যদি সরকার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, এই লং মার্চের ছয় দফা এক দফাতে পরিণত হবে।’