খুঁজুন
, ,

সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 17 February, 2020, 8:23 pm
সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে সাতপাই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ

শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ॥ নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড়ে ওঠা সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাতপাই স্কুল এন্ড কলেজটি বর্তমান সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতায় এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনিত হয়েছে।

সভাপতির একগুয়েমি আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় অভিভাবক সদস্যদের বিবাদ এবং প্রধান শিক্ষক নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে না আসা ও ক্লাস না নেওয়ায় নিয়মিত পাঠদান চরমভাবে ব্যহত হওয়াসহ নানা সমস্যায় পতিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ চরম দুরাবস্থার মধ্যে পড়েছে।

ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাওয়া, পরীক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয় এবং সার্বিকভাবে শিক্ষার পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। তাদের দুরভিসন্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটির কলেজ শাখা ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গসহ পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিভাবক সদস্য মোঃ ইলিয়াস আলী জানান, বর্তমান সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরীর সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রধান শিক্ষকের সাথে আতাত করে জোড় পূর্বক দায়িত্ব নিয়েছেন। এ কারণে সভাপতি অভিভাবক সদস্যসহ অন্যান্য সদস্যদের দেখতে পারেন না। তাই তিনি বিগত ৮ মাস যাবত কোন মিটিং করেন নাই।

যতদূর জানি তিনি আমাদের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া রেজুলেশন করেছেন। এর প্রতিবাদ করলেই তিনি স্কুল থেকে আমাদের অপমান করে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। আর তার কথাতেই প্রধান শিক্ষকও আমাদের এড়িয়ে চলেন। প্রধান শিক্ষক কখনই নিয়মিত স্কুলে আসেন না। একদিন এসেই তিনি পুরো সপ্তাহের স্বাক্ষর করেন হাজিরা খাতায়। এমনকি নতুন কমিটি হওয়ার পর থেকে তিনি তার পাঠদানের বিষয় বিজ্ঞানের একটি ক্লাসও নেননি। একারণে আমার ছেলে পঞ্চম শ্রেনীতে জিপিএ-৫ নিয়ে পাশ করলেও এখন জেএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিষয়ে কম নম্বর পাওয়ায় মাত্র ৩.২৪ মার্ক পেয়ে পাশ করেছে। এমনকি এ বিজ্ঞান বিষয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছে।

প্রধান শিক্ষকের এ ধরণের আরও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাকে এগুলো পরিহার করে প্রতিষ্ঠানের প্রতি নজর দিয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বলায় তিনি সভাপতির সাথে আতাত করে সকল অভিভাবক সদস্যসহ অন্যান্য সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণ করাসহ তাদের উৎখাতে লিপ্ত রয়েছেন। যা ১৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার জেলা শিক্ষা অফিস থেকে অডিটে আসা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়েছে। তিনি নিজেই এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমান পেয়েছেন এবং প্রধান শিক্ষককে হুশিয়ার করে দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক আমার উপর চড়াও হয় এবং উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রধান শিক্ষক তাকে মারধর করা হয়েছে মর্মে মিথ্যে অভিযোগ দেওয়ার জন্য থানায় গিয়েছেন।

একইভাবে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের পুরাতন বিল্ডিংয়ের ইট, টিন ও রডের এঙ্গেলসহ সবকিছু বিক্রি করে অর্থ পকেটস্থ করার অভিযোগ করেন অভিভাবক সদস্য মোঃ মশিউর রহমান, সেকেন্দার আলী, খাদিজা বেগম ও রুপক।

তারা আরও বলেন, নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতেও সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে নিম্নমানের কাজ করছেন। একারণে বাধা দেওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে। একইভাবে তারা দুজনে মিলে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি তসরুপের অপকৌশল করছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

স্কুলের শিক্ষক মেহের উদ্দিনও একইভাবে অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক এ পর্যন্ত নানা অনিয়ম করেছেন। সভাপতির সাথে গোপন আতাতে তারা প্রতিষ্ঠানের বারোটা বাজিয়ে ফেলেছে। আমরা শিক্ষকরা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাথে সভাপতির বিরোধের খেসারত দিচ্ছি। বিগত প্রায় ৩ মাস যাবত আমাদের বেতন পাচ্ছিনা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এ থেকে উত্তরণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ খুবই প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিষ্ঠানটি রসাতলে যাবে।

অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষকের মতামত জানতে ১৭ ফেব্রুয়ারী সোমবার দুপুর ২ টায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গেলে দেখা যায় বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে।

উপস্থিত স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা জানান, প্রধান শিক্ষক স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ হিসেবে তারা জানান, প্রধান শিক্ষক গত সপ্তাহে ৫ দিন এবং চলতি সপ্তাহে ৩ দিন আসেন নাই। কিন্তু আজ এসেই তিনি অনুপস্থিতির দিনগুলোর হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করছিলেন।

এসময় অভিভাবক সদস্য মোঃ ইলিয়াস আলী বিষয়টি ধরেন এবং জবাবদিহি করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক তাৎক্ষনিক স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে চলে যান।

পরে প্রধান শিক্ষক মোঃ লুৎফর রহমানের সাথে তার সৈয়দপুর শহরস্থ বাসায় গিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে সেখানেও পাওয়া যায়নি। এমতাবস্থায় তার মুঠোফোনে বার বার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরীর মন্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কল কেটে দেন। তারপর বার বার কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

Feb2
Feb2

৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে : নাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 3:25 pm
৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে : নাহিদ

সরকারের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দিতে হবে। তা না হলে জনগণ নিজেরাই জাদুঘর খুলে প্রবেশ করবে।

বুধবার (১ ‍জুলাই) রায়েরবাজারে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গণকবর জিয়ারত শেষে তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচার ধীরগতিতে হচ্ছে। এটা আরও দ্রুত করতে হবে। ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দেশে ফেরাতে হবে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু নামকাওয়াস্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পালন করলে চলবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার করতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সরকার এখনো কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। আশা করছি, সরকার দ্রুতই কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এ সময় ১৪ দলীয় নেতা হাসানুল হক ইনুকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী উল্লেখ করে এই এনসিপির নেতা বলেন, ইনুর ১০ বছরের সাজা হতে পারে না। আমরা আপিলের মাধ্যমে তার কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করছি।

৪০ বছর পর নকআউটে জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকো

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 3:12 pm
৪০ বছর পর নকআউটে জিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকো

স্বপ্নের যাত্রা অব্যাহত রেখে শেষ ষোলোয় উঠেছে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। বজ্রঝডের কবলে পড়ে এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হওয়া শেষ ৩২–এর ম্যাচে তারা ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। ৪০ বছরে প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেক্সিকো।

এ নিয়ে নিজেদের সর্বশেষ ৭ ম্যাচেই জিতেছে মেক্সিকো, ২০২৬ সালে ১২ ম্যাচ খেলে জয় ১০টিতে। এ ছাড়া ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির পর মেক্সিকো প্রথম দল হিসেবে টানা চার জয় পেয়েছে কোনো গোল হজম না করেই। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে তাদের দাপুটে জয়ের পর শেষ ষোলোয় তারা লড়বে ইংল্যান্ড-গণতান্ত্রিক কঙ্গোর মাঝে বিজয়ী দলের সঙ্গে, ৬ জুলাই।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকো দুটি গোলই করেছে প্রথমার্ধে। ম্যাচের ২২ মিনিটে দলটির হয়ে প্রথম গোল করেছিলেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। ৯ মিনিট পর স্বাগতিকদের আবার এগিয়ে দেন রাউল হিমেনেজ। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলায় ইকুয়েডরের পিয়েরো ইনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখেন।

খেলার শুরু থেকেই গতিময় ফুটবল খেলায় ইকুয়েডরকে চেপে ধরে মেক্সিকো। গ্যালারির উচ্ছ্বাসকে তারা শক্তিতে রূপ দেয় এবং ম্যাচের একেবারে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ তৈরি করে। লুইস রোমোর নিখুঁত ক্রসে রাউল হিমেনেস ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে হেড নিলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। এরপর ১৭ বছরের কিশোর মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল উপহার দেওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন। দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া তার শক্তিশালী শট ইকুয়েডরের গোলরক্ষক হার্নান গালিনদেসকে পরাস্ত করলেও দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।

শুরুর চাপ সামলে ধীরে ধীরে ইকুয়েডর ম্যাচে ফেরে। পাল্টা আক্রমণে গঞ্জালো প্লাতার দ্রুতগতির মুভ থেকে জন ইয়েবোয়া নিজের মার্কারকে কাটিয়ে কোণাকুণি শট নেন। তবে সেটি পোস্টের বাইরের অংশে লেগে ফিরে আসে, ফলে স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়। মেক্সিকো কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ২২ মিনিটে, আর তাতেই আজতেকা স্টেডিয়াম জুড়ে শুরু হয় উল্লাস।

ইকুয়েডরের হাই-প্রেস ভেঙে নিখুঁত থ্রু পাস বাড়িয়ে দেন রবার্তো আলভারাদো। সেই পাস ধরে উইলিয়ান পাচোকে শক্তির লড়াইয়ে হারিয়ে নিজের শরীর ঘুরিয়ে দুর্দান্ত এক শটে বল জালে জড়ান কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস। এটি ছিল চলতি আসরে তার তৃতীয় গোল। এর মাত্র নয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। কিনিয়োনেসের সঙ্গে ওয়ান-টুস পাস বিনিময়ের পর হিমেনেস দুর্দান্ত এক শটে জালের ওপরের প্রান্তে বল জড়ান। জাতীয় দলে এটি তার ৪৭তম গোল, আছেন সর্বোচ্চ গোলদাতা থেকে ৫ গোলের দূরত্বে।

শেষ পর্যন্ত উভয় দল আক্রমণ চালিয়ে গেলেও আর কেউ ২-০ স্কোরলাইনে পরিবর্তন আনতে পারেনি। ফলে লাতিন অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া ইকুয়েডর আসর থেকে ছিটকে গেল।

সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Wednesday, 1 July, 2026, 8:27 am
সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস, আজ থেকে কার্যকর

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস হয়েছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন আজ ১ জুলাই থেকে এ বাজেট কার্যকর হচ্ছে। তিন সপ্তাহের আলোচনা, সমালোচনা ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর কণ্ঠভোটে গতকাল মঙ্গলবার বাজেট পাস হয়। তার আগে সোমবার অর্থবিলে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়েছে। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর সংসদ সদস্যরা টানা তিন সপ্তাহ বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। বিরোধী দলের সদস্যরা করনীতি, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিয়ে সমালোচনা করেন।

বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলার একটি সমন্বিত রূপরেখা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী বাজেটে তিন বছর মেয়াদি রোড ম্যাপ দিয়েছেন। এর আওতায় অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, স্থিতিশীলতা এবং গতিশীলতার জন্য পুনর্গঠনের কাজ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার। ধাপে ধাপে এ কৌশল বাস্তবায়ন করা হবে। বাজেট পাসের আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্যে বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।

সোমবার সংসদে অর্থ বিল-২০২৬ পাস হয়। এর মাধ্যমে শুল্ক-করের পরিবর্তনগুলো কার্যকর করা হয়। এ বিলে যেসব সংশোধনী আনা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করা। অন্যদিকে ব্যাংক হিসাব খুলতে টিআইএন দাখিলের শর্ত থেকেও ফিরে এসেছেন অর্থমন্ত্রী। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ, যাদের করযোগ্য আয় নেই, তারা বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাবেন। বহুল আলোচিত আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছে সরকার। এসব পরিবর্তনসহ বেশকিছু পরিবর্তন এনে সোমবার সংসদে অর্থবিল পাস করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রেও বেশকিছু ছাড় দেওয়া কিংবা নতুন আরোপিত কর বা শুল্ক বাতিল করেছেন অর্থমন্ত্রী, যা সংসদে পাস হয়েছে। অবশ্য বিস্তর ছাড় দেওয়ার পরও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। ক্ষুদ্র মুদি দোকানদারদের প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন তিনি। তবে অপেক্ষাকৃত বড়দের ওপর এই প্যাকেজ ভ্যাট থাকবে।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বাজেট পাস হয়। বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। দাবিগুলো কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। মঞ্জুরি দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে কণ্ঠভোটে সব প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

পাস হওয়া বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ৮ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এবারের বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।