কোন অজুহাতেই চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করা যাবে না:সুজন
কোন অজুহাতেই চাল ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি না করার জন্য পাহাড়তলী বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে নগরীর পাহাড়তলী বণিক সমিতির ব্যবসায়ীদের সাথে সমিতির কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুুুজন বলেন, সকাল থেকেই আমরা বিভিন্ন সূত্রে খবর পাচ্ছিলাম করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই আজকে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের মনে রাখতে হবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন। আমাদের সবাইকে কাঁধে কাধ রেখে এ দুর্যোগকে মোকাবেলা করতে হবে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করছে।

তিনি বলেন,এরই মধ্যে কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী মাস্ক, হেক্সিসল, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস, এবং তরল স্যাভলনসহ বিভিন্ন সার্জিক্যাল ঔষধের দাম বৃদ্ধি করে জনগনকে অহেতুক ভোগান্তিতে ফেলার অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তাদের সেসব অপতৎপরতার পাশাপাশি জনগনের নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যমূল্য নিয়েও কারসাজি শুরু হয়ে গিয়েছে যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একশ্রেণীর অসাধু, মজুতদার, মুনাফাখোর ব্যবসায়ীগণ জনগনের চাহিদাকে পুঁজি করে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে জনগনের বিপুল সংখ্যক টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে। এরা দেশ জাতির কাছে গণদুশমন হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মত প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে জনসম্মুখে লজ্জাজনক শাস্তি প্রদানের আহবান জানান তিনি।
এছাড়া ঐসব অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কোনভাবেই সরকারের কোন প্রকার অনুকম্পা না পায় সেজন্য সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।
তিনি আরো বলেন, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি হতে পারে ভেবে অনেকেই চাহিদার অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী মজুত করার জন্য কেনাকাটা বাড়িয়ে দিয়েছেন যা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে তাই বিক্রেতাদের অতিরিক্ত পণ্যসামগ্রী বিক্রয় না করার বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

এছাড়া ক্রেতাসাধারণকেও সর্বোচ্চ তিনদিনের বেশী পণ্যসামগ্রী ক্রয় না করার আহবান জানান। তাছাড়া বিক্রেতাদের পণ্য বিক্রির রশিদ দেওয়ার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি।
পাহাড়তলী বণিক সমিতির ব্যবসায়ীগণ সুজনের প্রতিটি দাবীর সাথে সমহত পোষন করেন এবং অধিক দামে পণ্যসামগ্রী বিক্রয় হতে বিরত থাকবেন বলে অঙ্গীকার করেন। এছাড়া তারা অভিযোগ করেন হঠাৎ করেই ডিলার এবং কল মালিকরা ধানের অজুহাতে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে যে কারণে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীবৃন্দ যাদের নিকট খাদ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স আছে তাদের কাছে চাল সরবরাহের জন্য সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান। এর ফলে বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকবে এবং ক্রেতাগণও সঠিকদামে পণ্যসামগ্রী ক্রয় করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময়ের একপর্যায়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ এবং সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান মতবিনিময় সভায় উপস্থিত হন। কর্মকর্তাবৃন্দ হঠাৎ করেই নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসমাগ্রীর দাম বৃদ্ধির পায়তারাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ঠ সজাগ আছে বলে ব্যবসায়ীদের অবহিত করেন। তারা দ্রব্যমূল্যের দাম জনগনের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য অনুরোধ জানান।
কর্মকর্তাবৃন্দ নাগরিক উদ্যোগের বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকান্ডের জন্য নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন এবং দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি সহ যে কোন অনিয়মের খবর অবহিত করার জন্য আহবান জানান।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাহাড়তলী বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল সাত্তার কোং, সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন, সহ-সভাপতি রহমত উল্লাহ, জাফর আলম, হাজী মোঃ ইলিয়াছ, আব্দুর রহমান মিয়া, নিজাম উদ্দিন, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী মোঃ হোসেন, মোরশেদ আলম, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সদস্য নুরুল কবির, মোঃ শাহজাহান, মহানগর নগর ছাত্রলীগ সভাপতি এম ইমরান আহমেদ ইমু, দিদারুল হক, মোঃ আবু তালেব, নাছির খান, ফিরোজ শাহ প্রমূখ।
মতবিনিময় সভা শেষে জনাব সুজন পাহাড়তলী বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বাজার পরিদর্শন করেন এবং অধিকহারে পণ্যসামগ্রী বিক্রয় থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।


আপনার মতামত লিখুন