খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২০, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

টিসিবিকে জনগনের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারী নির্দেশনা মেনে বাসায় অবস্থান করা সুজন গতকাল শনাবার (৪ এপ্রিল) রাত ৯টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত আহবান জানান।

এ সময় সুজন বলেন বিশ্ব আজ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস পুরো বিশ্ব শাসন করছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক কিংবা টিকা আবিস্কার না হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ, এ যুদ্ধে মানুষের দায়িত্ব ঘরে থাকা। তিনি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নিয়মিতভাবে করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই পালনীয় ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাই জনগণকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং ঘরে থাকার আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন টিসিবি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আপদকালীন সময়ে জনগনের চাহিদা পূরণ করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধাণতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতেও টিসিবি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আইন শৃংখলা বাহিনীও জনগনকে ঘরে রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জনগনও সচেতন হয়ে অধিকতর প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন না। কিন্তু টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির যে উদ্যোগ সেটা কেবল মূল সড়কেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে প্রকৃত ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে পণ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই টিসিবি’র পণ্য সামগ্রীর গাড়ীগুলো যদি মূল সড়ক বাদ দিয়ে নগরীর বিভিন্ন অলি গলি কিংবা পাড়া মহল্লায় অবস্থান করে তাতে করে জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী যে উদ্দেশ্য তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া পণ্য বিক্রির সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও আহবান জানান জনাব সুজন। তাছাড়া অসাধু ডিলাররা পণ্য সামগ্রী জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে রমজানের জন্য মজুদ করছেন কিনা তাও নিয়মিত মনিটরিং করার আহবান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, অলি গলিতে আড্ডা মারা বন্ধ রাখা, সরকারী ত্রাণসামগ্রী সঠিকভাবে বিলি বন্টন করা, প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো সহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ দূরীকরণে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি সামাজিক দুরত্ব বজায় এবং ঘরে থাকার সরকারী নির্দেশনা মানার জন্য সকলের নিকট উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন বাঙ্গালি বীরের জাতি। ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার ফলে। ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে অর্ধাহারে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। এ সময়টিও বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন পুরো বিশ্বই আপনার হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আপনি সারাদিন পড়ালেখা, জ্ঞানার্জন, খবরাখবর এবং বিনোদনে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। যে কোন পণ্যের প্রয়োজনে অনলাইনে অর্ডার করলেই পেয়ে যাচ্ছেন কাংখিত পণ্য। এছাড়া জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের হেল্প লাইনে যোগাযোগ করলেও আপনি অনায়াসেই যে কোন অসুবিধা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

তিনি নগরবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে আড্ডা মারা বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার জন্য নগর পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার ও আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে কথা বলেন এবং উপরোক্ত বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে তিনি এও বলেন বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় যেভাবে জটলা প্রকট আকার ধারণ করছে তা সরানো পুলিশ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয় যদি না জনগন সজাগ হয়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মহল্লাবাসীকেও এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। দেখা যাচ্ছে যে যেসব এলাকায় জটলা বেশি সেসব এলাকায় করোনাভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন আমরা যদি নিজেরাই অতিমাত্রায় সচেতন না হই তাহলে এজন্য পুরো দেশবাসীকে চরম খেসারত দিতে হবে। তিনি যে কোন মূল্যে জনগনকে ঘরে থাকার বিনীত আহবান জানান।

তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকার ত্রাণ বিতরণকে প্রচারমূখী না করে মানবতামূখী করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া ত্রাণ সামগ্রী জেলা প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে বিলি করার আহবান জানান। তাছাড়া বেশী মানুষ জড়ো করে ত্রাণ বিতরণকে অনুৎসাহিত করে প্রয়োজনে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের নিকট বিনীত আহবান জানান তিনি। সরকারি ত্রাণসামগ্রীও সঠিকভাবে বিলি বন্টন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন দেশের বেশির ভাগ সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঠান্ড-সর্দি, জ্বর-কাশির কোনো রোগীকে তারা স্পর্শও করছেন না। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগীকে সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করছেন। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় শংকটপন্ন অবস্থায় পড়ছেন। এছাড়া বিভিন্ন চিকিৎসকগণও প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা থেকে বিরত থেকেছেন। এতে করে ডাক্তারদের উপর রোগীদের এক প্রকার অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় যেকোন দুর্যোগে আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বর্তমান সময়েও আমাদের চিকিৎসকগণ কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে এসে জনগনের পাশে দাড়াবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুজন।

জনাব সুজন পূণরায় নগরবাসীর যে কোন সমস্যা, দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তি নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক:

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=535032500765725&id=1445104285781340

 

 

Feb2

জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে হামলার ঘটনায় নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করলেন র‍্যাব মহাপরিচালক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন বাহিনীর অতর্কিত হামলার ঘটনায় আগে থেকে যথাযথ নজরদারি করতে না পারার কথা স্বীকার করেছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব এবং পুলিশের চৌকি ছিল। ঠিকভাবেই কাজ করা হচ্ছিল। তবে আমাদের কিছু দুর্বলতা ছিল। সেভাবে মনিটর করতে পারিনি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘কোনোভাবেই ইয়াসিন বাহিনী বা অবৈধ দখলদার কেউ জঙ্গল সলিমপুরে প্রবেশ করতে পারবে না, টিকতেও পারবে না। আমরা তাদেরকে যেভাবেই হোক উচ্ছেদ করবই। এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন কোনো শক্তি নেই যে, সেখানে নতুন করে ঢুকতে পারবে।’

ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানান র‍্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, ঈদের জামাত ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল ও নিরাপত্তা চৌকি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক জোরপূর্বক কোনো হাটে নিতে না পারে, সে বিষয়েও র‍্যাব সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি ফাঁকা ঢাকায় চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে দিন-রাত বাড়তি পেট্রোল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

পবিত্র হজ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র হজ আজ

আজ মঙ্গলবার পবিত্র হজের দিন। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্‌দা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্‌ক, লা শারিকা লাক’… ধ্বনি-প্রতিধ্বনিতে মুখরিত পবিত্র আরাফাতের ময়দান। যার অর্থ: ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ! আমি হাজির। তোমার কোন শরিক নেই। সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধুই তোমার। সাম্রাজ্য তোমারই। তোমার কোন শরিক নেই।’

বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মিলন পবিত্র হজ। আজ প্রভাত থেকে আরাফার আদিগন্ত মরু প্রান্তর এক অলৌকিক পুণ্যময় শুভ্রতায় ভরে উঠেছে। সফেদ-শুভ্র দুই খণ্ড কাপড়ের এহরাম পরিহিত হাজিদের অবস্থানের কারণে সাদা আর সাদায় একাকার। পাপমুক্তি আর আত্মশুদ্ধির আকুল বাসনায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এই পবিত্র হজ পালন করছেন।

আজ ফজরের পর গোটা দুনিয়া থেকে আগত ২০ লক্ষাধিক মুসলমান ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীর সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

আজ ৯ জিলহজ মূল হজের দিন তারা এখানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করবেন। চার বর্গমাইল আয়তনের এই বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরো প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত। মুসলমানদের অতি পবিত্র এই ভূমিতে যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে তারা ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। আরাফার ময়দানের মসজিদে নামিরায় জোহরের নামাজের আগে এ বছর পবিত্র হজের খুতবা দেবেন মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ আলী বিন আবদুর রহমান আল-হুজাইফি।

সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে আল্লাহ তা’আলার জিকির আসকার ইবাদতে মশগুল থাকবেন। অতঃপর মুযদালিফার উদ্দেশ্যে আরাফার ময়দান ত্যাগ করবেন এবং মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ এশার ওয়াক্তে একত্রে পড়বেন এবং সমস্ত রাত অবস্থান করবেন। মিনায় জামরাতে নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কংকর এখান থেকে সংগ্রহ করবেন। মুযদালিফায় ফজরের নামাজ পড়ে পুনরায় মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন। ১০ জিলহজ মিনায় পৌঁছার পর হাজিদের পর্যায়ক্রমে চারটি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। প্রথমে মিনাকে ডান দিকে রেখে হাজিরা দাঁড়িয়ে শয়তানকে (জামারা) পাথর নিক্ষেপ করবেন। দ্বিতীয় কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করা। অনেকেই মিনায় না পারলে মক্কায় ফিরে গিয়ে পশু কোরবানি দেন। তৃতীয় পর্বে মাথা ন্যাড়া করা। চতুর্থ কাজ তাওয়াফে জিয়ারত। জিলহজের ১১ তারিখ মিনায় রাত যাপন করে দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হাজিরা বড়, মধ্যম ও ছোট শয়তানের ওপর সাতটি করে পাথর নিক্ষেপ করবেন। আর এ কাজটি করা সুন্নত।

মহান আল্লাহ হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে (আ.) নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কিছু আল্লাহর জন্য কোরবানি করেন। পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের সবচেয়ে প্রিয়। মিনার এই স্থানে তিনি আল্লাহকে খুশি করতে যখন নিজের সবচেয়ে প্রিয় পুত্রকে নিয়ে যান, তখন সেখানে উপস্থিত হয় শয়তান। যেটি নবি ইব্রাহিমকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করতে প্ররোচনা দিচ্ছিল। ঐ সময় ইব্রাহিম (আ.) শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন। এখন হাজিরা এ স্থানে প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মারেন।

মক্কায় পৌঁছার পর হাজিদের একটি কাজ অবশিষ্ট থাকে। সেটি হচ্ছে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। একে বলে বিদায়ি তাওয়াফ। স্থানীয়রা ছাড়া বিদায়ি তাওয়াফ অর্থাত্ কাবা শরিফে পুনরায় সাত বার চক্কর দেওয়ার মাধ্যমে হাজিরা সম্পন্ন করবেন পবিত্র হজব্রত পালন।

এদিকে গতকাল সারা দিন ও রাতে হজযাত্রীরা মিনায় অবস্থান করেন। সেখানেই শুরু হয় পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতি বছর হজের সময় মুসলিমদের অস্থায়ী আবাস হিসেবে মিনায় বসানো রাখা হয়েছে লাখ লাখ তাঁবু। পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার অদূরের মিনা যেন তাঁবুর শহর। যেদিকে চোখ যায়, তাঁবু আর তাঁবু। তাঁবুতে প্রত্যেকের জন্য আলাদা ফোম, বালিশ, কম্বল বরাদ্দ। ফোমের নিচে বালু। মিনায় অবস্থান করা হজের অংশ। হজযাত্রীরা নিজ নিজ তাঁবুতে নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র হজ উপলক্ষ্যে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদি সরকার। মোতায়েন আছে ১ লাখের বেশি নিরাপত্তাকর্মী।

এদিকে সৌদিতে গতকাল গড় তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। প্রখর রোদ আর প্রচণ্ড গরম। সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছিল, তীব্র গরমে ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজিরা। গত বছরের প্রাণঘাতী গরমের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার কাজ করছে ৪০টিরও বেশি সরকারি সংস্থা এবং আড়াই লাখ কর্মকর্তা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছে ড্রোন ক্যামেরা ও বিশাল তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার দেবে এডিবি

বাংলাদেশের জন্য আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বার্ষিক ঋণসহায়তা প্রায় ২০ শতাংশ বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয় তুলে ধরেন এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা। সাক্ষাৎকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এডিবি সভাপতির সফরকালে ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিশ্রুতি কর্মসূচির আওতায় প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তিও সই হয়েছে।

এডিবি সভাপতি মাসাতো কান্দা বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অর্জিত স্থিতিশীলতা ধরে রাখা, নতুন প্রবৃদ্ধির উৎস তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি সহায়তা করবে।’

এডিবি জানিয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামে নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন দেওয়া হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তার কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার। মধ্য মেয়াদে তা বাড়িয়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এডিবি জানিয়েছে, বাড়তি অর্থায়ন বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে সহায়তা করবে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে।

এডিবি আরও জানিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।