খুঁজুন
, ,

টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 5 April, 2020, 8:39 pm
টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

টিসিবিকে জনগনের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারী নির্দেশনা মেনে বাসায় অবস্থান করা সুজন গতকাল শনাবার (৪ এপ্রিল) রাত ৯টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত আহবান জানান।

এ সময় সুজন বলেন বিশ্ব আজ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস পুরো বিশ্ব শাসন করছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক কিংবা টিকা আবিস্কার না হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ, এ যুদ্ধে মানুষের দায়িত্ব ঘরে থাকা। তিনি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নিয়মিতভাবে করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই পালনীয় ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাই জনগণকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং ঘরে থাকার আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন টিসিবি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আপদকালীন সময়ে জনগনের চাহিদা পূরণ করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধাণতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতেও টিসিবি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আইন শৃংখলা বাহিনীও জনগনকে ঘরে রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জনগনও সচেতন হয়ে অধিকতর প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন না। কিন্তু টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির যে উদ্যোগ সেটা কেবল মূল সড়কেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে প্রকৃত ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে পণ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই টিসিবি’র পণ্য সামগ্রীর গাড়ীগুলো যদি মূল সড়ক বাদ দিয়ে নগরীর বিভিন্ন অলি গলি কিংবা পাড়া মহল্লায় অবস্থান করে তাতে করে জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী যে উদ্দেশ্য তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া পণ্য বিক্রির সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও আহবান জানান জনাব সুজন। তাছাড়া অসাধু ডিলাররা পণ্য সামগ্রী জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে রমজানের জন্য মজুদ করছেন কিনা তাও নিয়মিত মনিটরিং করার আহবান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, অলি গলিতে আড্ডা মারা বন্ধ রাখা, সরকারী ত্রাণসামগ্রী সঠিকভাবে বিলি বন্টন করা, প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো সহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ দূরীকরণে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি সামাজিক দুরত্ব বজায় এবং ঘরে থাকার সরকারী নির্দেশনা মানার জন্য সকলের নিকট উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন বাঙ্গালি বীরের জাতি। ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার ফলে। ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে অর্ধাহারে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। এ সময়টিও বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন পুরো বিশ্বই আপনার হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আপনি সারাদিন পড়ালেখা, জ্ঞানার্জন, খবরাখবর এবং বিনোদনে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। যে কোন পণ্যের প্রয়োজনে অনলাইনে অর্ডার করলেই পেয়ে যাচ্ছেন কাংখিত পণ্য। এছাড়া জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের হেল্প লাইনে যোগাযোগ করলেও আপনি অনায়াসেই যে কোন অসুবিধা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

তিনি নগরবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে আড্ডা মারা বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার জন্য নগর পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার ও আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে কথা বলেন এবং উপরোক্ত বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে তিনি এও বলেন বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় যেভাবে জটলা প্রকট আকার ধারণ করছে তা সরানো পুলিশ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয় যদি না জনগন সজাগ হয়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মহল্লাবাসীকেও এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। দেখা যাচ্ছে যে যেসব এলাকায় জটলা বেশি সেসব এলাকায় করোনাভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন আমরা যদি নিজেরাই অতিমাত্রায় সচেতন না হই তাহলে এজন্য পুরো দেশবাসীকে চরম খেসারত দিতে হবে। তিনি যে কোন মূল্যে জনগনকে ঘরে থাকার বিনীত আহবান জানান।

তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকার ত্রাণ বিতরণকে প্রচারমূখী না করে মানবতামূখী করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া ত্রাণ সামগ্রী জেলা প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে বিলি করার আহবান জানান। তাছাড়া বেশী মানুষ জড়ো করে ত্রাণ বিতরণকে অনুৎসাহিত করে প্রয়োজনে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের নিকট বিনীত আহবান জানান তিনি। সরকারি ত্রাণসামগ্রীও সঠিকভাবে বিলি বন্টন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন দেশের বেশির ভাগ সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঠান্ড-সর্দি, জ্বর-কাশির কোনো রোগীকে তারা স্পর্শও করছেন না। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগীকে সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করছেন। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় শংকটপন্ন অবস্থায় পড়ছেন। এছাড়া বিভিন্ন চিকিৎসকগণও প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা থেকে বিরত থেকেছেন। এতে করে ডাক্তারদের উপর রোগীদের এক প্রকার অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় যেকোন দুর্যোগে আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বর্তমান সময়েও আমাদের চিকিৎসকগণ কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে এসে জনগনের পাশে দাড়াবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুজন।

জনাব সুজন পূণরায় নগরবাসীর যে কোন সমস্যা, দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তি নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক:

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=535032500765725&id=1445104285781340

 

 

Feb2
Feb2

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 9:45 pm
জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নের এক বিশেষ সভা অদ্য বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় চট্টগ্রামস্থ একটি রেস্টুরেন্ট’র হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস এর সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তানভীর মল্লিকের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেকেএ এর নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ সেলিম।

সভায় জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন (জেকেএ) চট্টগ্রাম রিজিয়নাল কমিটি গঠনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতীয় কমিটির প্রস্তাবনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রামের বিশেষ ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ শাহেদ-কে চট্টগ্রাম রিজিয়নের নতুন চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা হয়।

বরণ অনুষ্ঠানে জাপান কারাতে অ্যাসোসিয়েশন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রতন তালুকদার নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ-কে জেকেএ-এর টাই পরিয়ে দেন এবং টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তুলুশ শামস ব্যাজ পরিয়ে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হাসান মুকুল, পিআরইউর সদস্য সচিব ইমরান এমি, অরুপ বড়ুয়া, মোহাম্মদ আলী সাকী, সেলিম উদ্দিন রাসেল, জাফর আহমেদ খোকন, জিল্লুর রহমান জুয়েল, আতিকুর রহমান, জহিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম বাবু, মেজবাহ উদ্দিন মিন্টু, রাশেদুল কলিম, শাবাব ইয়াজদানী, মঞ্জুর আলম মঞ্জুসহ কারাতের খেলোয়াড় বৃন্দ।

সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শাহেদ আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দেন।

জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 7:47 pm
জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে হচ্ছে পুলিশ একাডেমি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা’ এবং ‘চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা’ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা জানান মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাজশাহীর সারদার আদলে প্রায় ৩০০ একর জায়গায় পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে। পাশাপাশি ৭২ একর জায়গায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের অবৈধ অধিবাসীদের পুনর্বাসন এবং সরকারি জমিতে নিয়মতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় পাহাড়কেন্দ্রিক অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা রোধে রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে দুটি সেনাবাহিনী ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণ, সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অপরাধ দমনে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

তিনি জানান, এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এতে অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী নিরাপত্তা জোরদারের বিধান বহাল রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস করে।

ইভিনিং মার্কেটের মাধ্যমে হকার সমস্যার সমাধান করা হবে: মেয়র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Thursday, 8 October, 2026, 7:40 pm
ইভিনিং মার্কেটের মাধ্যমে হকার সমস্যার সমাধান করা হবে: মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে মেয়র বলেন, নগরীর ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকার ব্যবসা পরিচালনার কারণে সাধারণ নাগরিকদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে হকারদের জীবিকা ও বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। এ কারণে শুধু উচ্ছেদ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, হকারদের জন্য পরিকল্পিতভাবে ইভিনিং মার্কেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় ও নির্ধারিত স্থানে হকাররা যাতে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন হকারদের জীবিকার সুযোগ অব্যাহত থাকবে, অন্যদিকে নগরীর ফুটপাত ও সড়কে নাগরিকদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে একটি শৃঙ্খলিত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। নগরবাসীর চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো স্থাপনা বা কার্যক্রম অনুমোদন করা হবে না। তবে হকারদের পুনর্বাসন ও বিকল্প ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অভিযানকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, নগরীর ফুটপাত ও সড়ক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা কিংবা সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে জনদুর্ভোগ তৈরি করতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চসিক ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে। একদিকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে, অন্যদিকে উচ্ছেদ করা জায়গা যাতে পুনরায় দখল না হয়, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি থাকবে।

মেয়র আরও বলেন, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকার ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। ব্যবসায়ীদেরও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং নির্ধারিত জায়গা ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।

নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের স্থান দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে বলে জানান মেয়র।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ।