খুঁজুন
, ,

টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 5 April, 2020, 8:39 pm
টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

টিসিবিকে জনগনের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারী নির্দেশনা মেনে বাসায় অবস্থান করা সুজন গতকাল শনাবার (৪ এপ্রিল) রাত ৯টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত আহবান জানান।

এ সময় সুজন বলেন বিশ্ব আজ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস পুরো বিশ্ব শাসন করছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক কিংবা টিকা আবিস্কার না হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ, এ যুদ্ধে মানুষের দায়িত্ব ঘরে থাকা। তিনি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নিয়মিতভাবে করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই পালনীয় ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাই জনগণকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং ঘরে থাকার আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন টিসিবি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আপদকালীন সময়ে জনগনের চাহিদা পূরণ করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধাণতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতেও টিসিবি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আইন শৃংখলা বাহিনীও জনগনকে ঘরে রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জনগনও সচেতন হয়ে অধিকতর প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন না। কিন্তু টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির যে উদ্যোগ সেটা কেবল মূল সড়কেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে প্রকৃত ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে পণ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই টিসিবি’র পণ্য সামগ্রীর গাড়ীগুলো যদি মূল সড়ক বাদ দিয়ে নগরীর বিভিন্ন অলি গলি কিংবা পাড়া মহল্লায় অবস্থান করে তাতে করে জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী যে উদ্দেশ্য তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া পণ্য বিক্রির সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও আহবান জানান জনাব সুজন। তাছাড়া অসাধু ডিলাররা পণ্য সামগ্রী জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে রমজানের জন্য মজুদ করছেন কিনা তাও নিয়মিত মনিটরিং করার আহবান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, অলি গলিতে আড্ডা মারা বন্ধ রাখা, সরকারী ত্রাণসামগ্রী সঠিকভাবে বিলি বন্টন করা, প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো সহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ দূরীকরণে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি সামাজিক দুরত্ব বজায় এবং ঘরে থাকার সরকারী নির্দেশনা মানার জন্য সকলের নিকট উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন বাঙ্গালি বীরের জাতি। ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার ফলে। ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে অর্ধাহারে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। এ সময়টিও বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন পুরো বিশ্বই আপনার হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আপনি সারাদিন পড়ালেখা, জ্ঞানার্জন, খবরাখবর এবং বিনোদনে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। যে কোন পণ্যের প্রয়োজনে অনলাইনে অর্ডার করলেই পেয়ে যাচ্ছেন কাংখিত পণ্য। এছাড়া জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের হেল্প লাইনে যোগাযোগ করলেও আপনি অনায়াসেই যে কোন অসুবিধা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

তিনি নগরবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে আড্ডা মারা বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার জন্য নগর পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার ও আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে কথা বলেন এবং উপরোক্ত বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে তিনি এও বলেন বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় যেভাবে জটলা প্রকট আকার ধারণ করছে তা সরানো পুলিশ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয় যদি না জনগন সজাগ হয়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মহল্লাবাসীকেও এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। দেখা যাচ্ছে যে যেসব এলাকায় জটলা বেশি সেসব এলাকায় করোনাভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন আমরা যদি নিজেরাই অতিমাত্রায় সচেতন না হই তাহলে এজন্য পুরো দেশবাসীকে চরম খেসারত দিতে হবে। তিনি যে কোন মূল্যে জনগনকে ঘরে থাকার বিনীত আহবান জানান।

তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকার ত্রাণ বিতরণকে প্রচারমূখী না করে মানবতামূখী করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া ত্রাণ সামগ্রী জেলা প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে বিলি করার আহবান জানান। তাছাড়া বেশী মানুষ জড়ো করে ত্রাণ বিতরণকে অনুৎসাহিত করে প্রয়োজনে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের নিকট বিনীত আহবান জানান তিনি। সরকারি ত্রাণসামগ্রীও সঠিকভাবে বিলি বন্টন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন দেশের বেশির ভাগ সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঠান্ড-সর্দি, জ্বর-কাশির কোনো রোগীকে তারা স্পর্শও করছেন না। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগীকে সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করছেন। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় শংকটপন্ন অবস্থায় পড়ছেন। এছাড়া বিভিন্ন চিকিৎসকগণও প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা থেকে বিরত থেকেছেন। এতে করে ডাক্তারদের উপর রোগীদের এক প্রকার অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় যেকোন দুর্যোগে আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বর্তমান সময়েও আমাদের চিকিৎসকগণ কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে এসে জনগনের পাশে দাড়াবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুজন।

জনাব সুজন পূণরায় নগরবাসীর যে কোন সমস্যা, দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তি নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক:

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=535032500765725&id=1445104285781340

 

 

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।