খুঁজুন
, ,

টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 5 April, 2020, 8:39 pm
টিসিবিকে জনগণের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে সুজনের আহবান

টিসিবিকে জনগনের দোরগোড়ায় পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সরকারী নির্দেশনা মেনে বাসায় অবস্থান করা সুজন গতকাল শনাবার (৪ এপ্রিল) রাত ৯টায় উত্তর কাট্টলীস্থ নিজ বাসভবনে তার ফেসবুক পেইজে লাইভে নগরবাসীর সাথে আলাপচারিতায় উপরোক্ত আহবান জানান।

এ সময় সুজন বলেন বিশ্ব আজ কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে। এক অদৃশ্য ভাইরাস পুরো বিশ্ব শাসন করছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও করোনাভাইরাসের থাবায় বিপর্যস্ত। এ পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোন প্রতিষেধক কিংবা টিকা আবিস্কার না হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সচেতনতার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে বলেছেন করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ, এ যুদ্ধে মানুষের দায়িত্ব ঘরে থাকা। তিনি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই নিয়মিতভাবে করোনাভাইরাস কেন্দ্রিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই পালনীয় ৩১ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাই জনগণকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা এবং ঘরে থাকার আহবান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন টিসিবি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আপদকালীন সময়ে জনগনের চাহিদা পূরণ করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধাণতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতেও টিসিবি তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার সকলকে ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আইন শৃংখলা বাহিনীও জনগনকে ঘরে রাখার সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে জনগনও সচেতন হয়ে অধিকতর প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে বের হচ্ছেন না। কিন্তু টিসিবি’র মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির যে উদ্যোগ সেটা কেবল মূল সড়কেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে প্রকৃত ভোক্তাগণ ন্যায্যমূল্যে পণ্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই টিসিবি’র পণ্য সামগ্রীর গাড়ীগুলো যদি মূল সড়ক বাদ দিয়ে নগরীর বিভিন্ন অলি গলি কিংবা পাড়া মহল্লায় অবস্থান করে তাতে করে জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রির সরকারী যে উদ্দেশ্য তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া পণ্য বিক্রির সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখারও আহবান জানান জনাব সুজন। তাছাড়া অসাধু ডিলাররা পণ্য সামগ্রী জনগনের কাছে স্বল্পমূল্যে বিক্রি না করে রমজানের জন্য মজুদ করছেন কিনা তাও নিয়মিত মনিটরিং করার আহবান জানান তিনি।

লাইভে নগরবাসী বিভিন্ন দুর্ভোগের কথা সুজনকে অবহিত করেন। বেশীরভাগ নগরবাসীই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখা, অলি গলিতে আড্ডা মারা বন্ধ রাখা, সরকারী ত্রাণসামগ্রী সঠিকভাবে বিলি বন্টন করা, প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়ানো সহ বিভিন্ন জনদুর্ভোগ দূরীকরণে সুজনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তিনি সামাজিক দুরত্ব বজায় এবং ঘরে থাকার সরকারী নির্দেশনা মানার জন্য সকলের নিকট উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন বাঙ্গালি বীরের জাতি। ১৯৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা এ দেশকে স্বাধীন করেছি। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুকে মাথা উচুঁ করে দাড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠার ফলে। ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে অর্ধাহারে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশকে স্বাধীন করেছে। এ সময়টিও বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি মুক্তিযুদ্ধ। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে বাংলাদেশ এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন পুরো বিশ্বই আপনার হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেটের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে আপনি সারাদিন পড়ালেখা, জ্ঞানার্জন, খবরাখবর এবং বিনোদনে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। যে কোন পণ্যের প্রয়োজনে অনলাইনে অর্ডার করলেই পেয়ে যাচ্ছেন কাংখিত পণ্য। এছাড়া জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের হেল্প লাইনে যোগাযোগ করলেও আপনি অনায়াসেই যে কোন অসুবিধা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

তিনি নগরবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নগরীর বিভিন্ন অলিগলিতে আড্ডা মারা বন্ধ, সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার জন্য নগর পুলিশের বিশেষ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার ও আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে কথা বলেন এবং উপরোক্ত বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। তবে তিনি এও বলেন বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় যেভাবে জটলা প্রকট আকার ধারণ করছে তা সরানো পুলিশ প্রশাসনের একার পক্ষে সম্ভব নয় যদি না জনগন সজাগ হয়। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং মহল্লাবাসীকেও এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। দেখা যাচ্ছে যে যেসব এলাকায় জটলা বেশি সেসব এলাকায় করোনাভাইরাসটি ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন আমরা যদি নিজেরাই অতিমাত্রায় সচেতন না হই তাহলে এজন্য পুরো দেশবাসীকে চরম খেসারত দিতে হবে। তিনি যে কোন মূল্যে জনগনকে ঘরে থাকার বিনীত আহবান জানান।

তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকার ত্রাণ বিতরণকে প্রচারমূখী না করে মানবতামূখী করার জন্য অনুরোধ জানান। এছাড়া ত্রাণ সামগ্রী জেলা প্রশাসন অথবা পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে বিলি করার আহবান জানান। তাছাড়া বেশী মানুষ জড়ো করে ত্রাণ বিতরণকে অনুৎসাহিত করে প্রয়োজনে ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সকলের নিকট বিনীত আহবান জানান তিনি। সরকারি ত্রাণসামগ্রীও সঠিকভাবে বিলি বন্টন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান সুজন।

তিনি আরো বলেন দেশের বেশির ভাগ সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ঠান্ড-সর্দি, জ্বর-কাশির কোনো রোগীকে তারা স্পর্শও করছেন না। বেসরকারি হাসপাতালগুলো এসব রোগীকে সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করছেন। এতে অনেক রোগী বিনা চিকিৎসায় শংকটপন্ন অবস্থায় পড়ছেন। এছাড়া বিভিন্ন চিকিৎসকগণও প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা থেকে বিরত থেকেছেন। এতে করে ডাক্তারদের উপর রোগীদের এক প্রকার অনাস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জাতীয় যেকোন দুর্যোগে আমাদের দেশের চিকিৎসকগণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। বর্তমান সময়েও আমাদের চিকিৎসকগণ কাধে কাধ মিলিয়ে এগিয়ে এসে জনগনের পাশে দাড়াবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সুজন।

জনাব সুজন পূণরায় নগরবাসীর যে কোন সমস্যা, দূর্যোগ কিংবা ভোগান্তি নাগরিক উদ্যোগের ফেইসবুক পেইজ Nagorik Uddog Chattogram অথবা ০১৭৭২-৫০০৭০০ এই নাম্বারে জানানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানান।

ফেসবুক লাইভের লিঙ্ক:

https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=535032500765725&id=1445104285781340

 

 

Feb2
Feb2

হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 12:09 pm
হাঁটুপানিতে নেমে ত্রাণ বিতরণ করলেন জামায়াত আমির

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। সকালে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে দুর্গত পরিবারের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন, দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাঁশখালীর গুনাগরী ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন দেখেন।

দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। বিপদে-আপদে অসহায় মানুষের পাশে থাকা সবার কর্তব্য। সামর্থ্য অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামী বন্যাকবলিত মানুষের পাশে থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহযোগিতায় কাজ অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষ ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে নেমে একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান, তাদের প্রয়োজনের কথা শোনেন এবং প্রত্যেক পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় তিনি দুর্গত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাতকানিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 10:25 am
চট্টগ্রামে সাড়ে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি ও খাদ্য সংকটে

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম জেলার অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। সেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীর বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সব উপজেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দিতে কাজ চলছে।

এদিকে সাতকানিয়ায় মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। অসংখ্য বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাতকানিয়া আদালত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পৌরসভা কার্যালয় ও থানায়ও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

বাঁশখালীতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ বন্যার পানিতে পাঁচ শতাধিক মাটির ঘর ভেঙে গেছে। বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বৈলছড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম-বাঁশখালী প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে গেলে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে বাঁশখালীর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ। দুর্গত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাঁচ শতাধিক মাটির বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও অনেকে এখনো পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পুইছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা পারভেজ মোশারফ বলেন, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও সমুদ্রের জোয়ারের ফলে পুইছড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ মাটির ঘরও ভেঙে পড়েছে। বসতঘর পানিতে ডুবে যাওয়া রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই খাবারের জন্য কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

এদিকে সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বুড়ির দোকান এলাকা, বাজালিয়া অলি আহমেদ বীর বিক্রম কলেজের সামনে এবং দস্তিদারহাটের পূর্ব পাশে সড়কের ওপর দিয়ে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বন্যার কারণে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

ডলু নদী দিয়ে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে পৌরসভার রামপুর এলাকায় কয়েকশ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। উপজেলার অধিকাংশ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো পানি বাড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

চন্দনাইশেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশের হাশিমপুর এলাকায় প্রায় দেড় ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ছোট যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ধীরগতিতে যান চলাচলের কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চন্দনাইশের বাসায় আবু নাসের আলিফ বলেন, ‘দিনেদিনে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অনেক মানুষ না খেয়ে আছে।’

মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 July, 2026, 9:28 am
মরক্কোকে বিদায় করে সবার আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি হলো অনেকটা একপেশে। ফরাসিদের দাপুটে ফুটবলের কাছে অসহায় লেগেছে আশরাফ হাকিমিদের। একক আধিপত্য বিস্তার করা ফ্রান্স আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কোকে হারিয়েছে ২-০ গোল ব্যবধানে। তাতেই প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিলেন দিদিয়ের দেশামের শিষ্যরা।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ব্যবধানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে ফ্রান্স। সেই সুবাদে ম্যাচের ৬০তম মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মাহেদ্রক্ষণ। ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বিদ্যুৎগতির শট নেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার সেই নিখুঁত ও জোরালো শটটি মরক্কোর রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিকের পোস্ট ঘেঁষে জালের ভেতরে আশ্রয় নেয়। তাতেই গোল উদযাপনে মেতে ওঠে ফরাসি শিবির।

এদিকে ৭১তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের চমৎকার এক পাস থেকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান উসমান দেম্বেলে। শটটি খুব একটা জোরালো না হলেও মরক্কোর ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বলটি কোনোমতে ডান দিকের নিচের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। তাতেই ব্যবধান দ্বিগুণ হয়।