খুঁজুন
, ,

মৃত্যুবার্ষিকীতে নুসরাতের ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 10 April, 2020, 12:49 pm
মৃত্যুবার্ষিকীতে নুসরাতের ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ফেনীর সোনাগাজীতে দেশব্যাপী আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নৃশংসভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার এক বছর আজ। বোনকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নুসরাতের ছোটভাই রাশেদুল হাসান রায়হান।

সেই স্ট্যাটাসটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘একটি বছর অশ্রুগঙ্গা বহে নিরবধি উপলব্ধি করছি আমার একমাত্র বোন- নুসরাত আপুকে হারানোর যন্ত্রণা।

আজ আমার শহীদা আপুর মৃত্যুবার্ষিকী ৷ দেখতে দেখতে একটি বছর পার হয়ে গেল। যদিও এই তিনশ পয়ষট্টি দিন আমাদের কাছে ছিল তিনশ পয়ষট্টিটি রক্তগঙ্গা পাড়ি দেয়ার সমান। প্রতিদিন অবিরত অশ্রুর ধারা বহে গেছে নিরবধি। জানিনা আর কতদিন এই উপলব্ধি আমাদের তাড়িয়ে বেড়াবে।

গত বছর ১০ এপ্রিল- এই দিনে আমার আপু হায়েনাসদৃশ কিছু নরপশুর রক্তলোলুপতার শিকার হয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছে। সবাই জানেন, এর আগে জেলে থাকা সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে ৬ এপ্রিল নিজের মাদ্রাসায় আমার আপুর গায়ে কেরোসিন ঢেলে নির্মমভাবে পুড়িয়ে দেয় খুনিরা। কিন্তু আমার বোন মাথা নত করেনি। আমার আপু হয়ে উঠেছিল বিদ্রোহী এক প্রতীক।

আপুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আপুকে উৎসর্গ করে আমার লেখা।

হে আপুনি,

হায়েনাদের নিক্ষিপ্ত অগ্নিবাণের দুঃসহ যন্ত্রনায় জর্জরিত হয়েছে আপনার সারা দেহ।

আপনার অসহ্য শারীরিক ও মানুষিক যন্ত্রনার অবসান করেছিল মৃত্যু এসে কিন্তু আপনার এ মৃত্যু লাখো-কোটি মানুষের বিবেককে দিয়েছে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি। এ মৃত্যু বিবেকবান সকল মানুষকে করেছে হায়েনাদের প্রতি ক্রোধান্বিত, ক্ষুব্ধ।

পাশাপাশি তাদের অন্তর কে করেছে বেদনায় ভারাক্রান্ত। আপনার এ মৃত্যু কাঁদিয়েছে সারাদেশকে।

হে আপুনি, আপনার এ বিদায় সারাদেশসহ পৃথিবীর মানুষকে করেছে তীব্র শোকাকুল

অনেকেই জানিয়েছে মাতৃবিয়োগের মত শোকের বেদনায় নিমজ্জিত ছিলেন তারা।

তাদের অন্তর কে করেছে শূন্যতার হাহাকারে পরিপূর্ণ। আপনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন আমাদের সাহসের আরেক নাম। বাংলাদেশের নিপীরিত হাজারো অভাগীর কাছে হয়ে উঠেছেন বলিষ্ঠ প্রেরণা।

হে আপুনি, আপনার হত্যাকারকদের উদ্দেশ্যে দেশবাসী দিয়েছে অভিশস্পাত, আর করেছে তাদের মনের ঘৃনার উদগীরণ।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় রোগ পীড়িত শরিরেও অনেকেই এসেছে আপনার জন্মভূমিতে, আপনার অন্তিম শয়ানের স্থান সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ায়।

আপনি প্রতিদিন যে পথে যেতেন আপনার বিদ্যাপীঠে, যে পথে ছিল আপনার চলাচল, বাড়ির আঙিনায় যেখানে নিত্য পড়ত আপনার পদচিহ্ন। সবাই হেঁটেছে সেসব পথে। যেন তারা খুঁজছে তাদের প্রিয় স্বজনকে। পেতে চেয়েছিলো তারা আপনার স্মৃতির স্পর্শ।

হে আপুনি, আপনি এক আত্মবিশ্বাসী, সাহসী প্রতীবাদী নারী। এ কথা প্রধানমন্ত্রীসহ আখ্যায়িত করেছে সকলেই।

আপনি এ যুগের সুলতানা রাজিয়া, আপনি একালের বেগম রোকেয়া।

আপনার সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ কত কথা যে বলেছে আপনার সাথে। বেদনার নীল রঙে আর প্রচন্ড আবেগে আক্রান্ত হয়ে, এক বুক শূন্যতার হাহাকার নিয়ে উত্তর চরচান্দিয়া ছেড়ে লাখো মানুষ ফিরে গিয়েছে তাদের নিজ আবাসে। কিন্তু তারা আপনাকে একটুও ভুলেনি ।

আপনি মানুষের মনে আছেন চির জাগরূক হয়ে। এ দেশের প্রতিবাদী নারীদের তালিকায় লেখা রবে আপনার নাম।

আপুনি,

আমার হাত টা কাঁপছে,

আর লিখতে পারছিনা।

আপনার অজস্র স্মৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছি আমি।

মাথার ভিতর তোলপাড় করছে ঘটনা প্রবাহ। ভেবে পাচ্ছিনা কি লিখবো । বোধহয় এই লেখাটিতে আপনাকে কোন সম্ভাষণ জানাতে পারলাম না। কারণ, আপনাকে কোন সম্ভাষণে সম্ভাষিত করবো আমি বুঝতে পারছিনা। যাই করি না কেন তা আপনার জন্য অতি নগন্য হয়ে যাবে আপুনি।

আপনি বীরাঙ্গনার মতো জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। আপনার এই আত্মদান, এই লড়াইকে দেশবাসী ব্যর্থ হতে দেয়নি। আপনার খুনীরা সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায়। প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন, আদালত, পিবিআই, গোয়েন্দা পুলিশ, সাংবাদিক এবং দলমত নির্বিশেষে সারাদেশ এই অপরাধের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদে উচ্চকিত হয়েছে। জানিনা আল্লাহর দরবারে সিজদায় পড়ে কতটুকু অশ্রু ঝরালে এবং কোন ভাষায় শোকরগোজার করলে এর যথাযথ শুকরিয়া আদায় হবে!

আপুনি আপনার হত্যাকরকদের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। আপনাকে পুড়িয়ে হত্যার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আপনাকে বাঁচাতে তিনি সর্বচ্ছ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য, আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তবে আপনার শেষ ইচ্ছার বাস্তবায়ন-খুনিদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বিচারালয়।

নিম্ম আদালতের ফাঁসির রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে এ ব্যাপরে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত চোখের জল নামিয়ে আপনার হত্যার বিচারের দাবিতে লাখো কন্ঠের আওয়াজ বৃথা যাইনি। আপুনি, আপনি অমর হয়ে থাকবেন চিরদিন। মাদ্রাসার সামনে আপনার প্রতিকৃতি গড়ে তাতে জনগণ আজীবন শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। মানব ইতিহাসে সংযোজিত হবে আরেকটি যুগান্তকারী অধ্যায়।

দেশ কাঁপানো প্রতিবাদি কন্যা হিসেবে আপনি আজ আখ্যায়িত। সমগ্র জাতিকে জাগিয়ে তুলে আজ আপনি চিরনিদ্রায় শায়িত।আপনার মত হাজারো নুসরাতের সম্ভ্রম রক্ষা করতে আমরাও আজ প্রতিবাদী। আপু, গত বছরের এই দিনে কখন যে আপনি দু চোঁখ বন্ধ করেছিলেন বুঝতেই পারিনি ।’

আপনাকে আজ মনে পড়ে- এ কথা বলবো না ! বরং প্রতিদিন প্রতিক্ষনে আপনাকে মনে পড়ে । আপনার অভাব আমি সব সময় অনুভব করি। আপনাকে নিয়ে কিছু লিখতে বসলে, চোঁখে অশ্রু ধরে রাখতে পারি না। আজ ও তার ব্যতিক্রম হয় নি।

একটি বছর কেটে গেল চোখের জল ও হ্নদয়ের অবিশ্রান্ত রক্তক্ষরণে। আজও দু’চোখে ভাসে আপনার শেষ দিনগুলোর নির্মম কষ্টের দৃশ্যটি। কতই বর্বর ও নিষ্ঠুর ছিল! সেই দিনই সব স্বপ্ন কাচেঁর মত ভেঙ্গে চুরমার হয়েগেয়েছিল।সেই দিন মনে হয়েছিল, আমি আপনাকে ছেড়ে হয়তো বাচঁবোনা। সেদিন আকাশ ভারি হয়েছিল, মা বাবা ভাইয়ার আহাজারিতে, হাসপাতালের ফ্লোরে পা দিয়ে আঘাত করেছিলাম। নিজের চুল নিজে ছিড়েছিলাম। কিন্তু আপনি জেগে ওঠেননি, আর সাড়া দেননি।

আপুনি, আমি না খুব নিষ্ঠুর হয়ে বুকে পাথর বেঁধে এখনো আপনাকে ছাড়া বেঁচে আছি। আপনি প্রায়শ বলতেন, মরে গেলে দেখবি আমাকে ছাড়া তোদের কি অবস্থা হয়? দেখছেন ত এইবার তাহলে ফিরে আসুন আপু। জানি আপনি আর ফিরে আসবেন না। অকারণে তবু কেন আপনাকে কাছে ডাকি! আপনাকে আবার ও ফিরে পাওয়ার সব যুক্তির কাছে যখন আমি হেরে যাই, তখন একটা আর্তনাদ ও আশ্রু ছাড়া আর কিছুই থাকে না।

আপনি নেই আমাদের মাঝে অনুভব করতেই দমবন্ধ হয়ে আসে। আপনার মায়াভরা স্পর্শের ভালোবাসাটুকু পেতে দিবারাত্রিতে আমার বুকের গহীন উপকূল কেমন যেন পুড়ে পুড়ে যায়।

মৃত্যুর যন্ত্রনা কত কঠিন, তা আপনাকে দেখেই বুঝেছি। আপনাকে হারানোর শোকটা কতটা কষ্টের তা পৃথিবীর কাউকে বোঝাতে পারবোনা।

যোগত্যার বিচারে ফ্যামিলির সবার চেয়ে আপনি মেধাবী ও অনন্য।এভাবেই আপনি চিরবিদায় নিবেন তা একেবারেই কল্পনাতীত।

এখনো ঘুমের ঘরে জেগে উঠি আপনার শেষ দিনগুলির নির্মম কষ্টের কথা স্বপ্নে দেখে। স্বপ্নেই জেগে থাকবেন আপনি আমার মাঝে আজীবন,

আপনার স্মৃতিভার আমি বয়ে যাব সারা জীবন। শেষ রাতে চোখে একফোঁটা ঘুম আসেনা আপনার কথা ভেবে।

জানো আপুনি এখন আমি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি। নিজের স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার অনেক অমিল তা এখন বুঝতে পারছি। চারদিকে অজস্র মিথ্যার ভিড়ে একটা সত্যের পিছনে ছুটছি নিরন্তর।

পৃথিবীতে এত মানুষ কিন্তু একজন মানুষই মিলেনা, যে কিনা আমাকে একটু অকৃত্রিম ভালবাসা উপহার দেবে!আপু, ঠিক তক্ষুনি আপনার কথা মনে পড়ে আমার।

আপুনি, আপনি আমার অস্তিত্বে মিশে আছেন। কত কত আনন্দের মুহূর্তে অবিচল থেকে আপনি, আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতেন ভবিষ্যতের কথা।

মাঝেমধ্যে আপনি যখন আমার উপর রেগে যেতেন তখন বুঝতে পারতাম না, যে আপনার ঐ সাময়িক রাগের ভিতরেও যে পরিমাণ ভালবাসা লুকায়িত ছিলো পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা জড়ো করলেও তার সমতুল্য হতে পারেনা। আপনার অকৃত্রিম ভালোবাসা আমার কাছে অতুলনীয়।

আপনার সাথে পথ চলার সময়গুলকে খুব অনুভব করছি। জীবন চলার পথে আপনার স্নেহের পরশেই বড় হয়েছি। এ ঋণ আমি মেটাবো কিভাবে!

আপনি বিহীন প্রতিটি দিন ও মুহূর্ত ছিল বিষাদময়, প্রতিটি একাকিত্ব সময় ছিল হাহাকার ও অশ্রুসিক্তে ভরা। প্রতিটি রাত ছিল র্নিঘুম ও আপনাকে কাছে না পাওয়ার অতৃপ্ত যন্তণার!

আপনার ভালোবাসা, আপনার স্নেহ, আপনার আদর আজও আমার স্মৃতিতে সতেজ হয়ে ভাসে।

সারা জীবন আপনাকে মিস করবো আপুনি।। আপনার কথা মনে পরলে এখনো চোখে পানি চলে আসে।

আপুনি, আমি স্বর্গ দেখিনি। তবে আপনাকে পেয়ে স্বর্গকে আমি পেয়েছি, যা আজ আমি হারিয়ে ফেলেছি। প্রতিদিন কিছু টা হলেও ভালো কাজ করার চেষ্টা করি আপনার আত্মার শান্তি কামনা করে আপনার হত্যাকারিদের ফাঁসির আদেশ হাইকোর্টে বহাল থেকে দ্রুত যেমন কার্যকর হওয়া চাই তেমনি আপনার মত লাখো নুসরাতের নিরাপদ ও সুস্থ জীবন কামনা করি।

একজন প্রতিবাদীর মৃত্যুতে যেন বিশ্ব লিখে, ‘আমাদের চোখের জল ঝরিয়ে, নুসরাত তুমি কি ভাবে চলে গেলে মাটির নিকষ অন্ধকারে?

গত রাত ছিল পবিত্র শবেবরাতের রাত। আমার বোনের আত্মার শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি। এই দুর্যোগময় সময় প্রার্থনা করি

স্রষ্টার সকল সৃষ্টি ভালো থাকুক… করোনার মহামারী থেকে আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ কে নিরাপদে রাখুক।

আর আজকে আমার আপুর এই বিদায়ের দিনে-বেদনার দিনে দেশবাসী সকলের নিকট আমার আপুর জন্যে আন্তরিক দোয়া কামনা করছি ৷ মহান আল্লাহ্ যেন আমার আপুর সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে, তাঁর কবরের জীবন ও পরকালের জীবন শান্তিময় করেন৷’

Feb2
Feb2

সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 1:24 pm
সিআরএ’র নেতৃত্বে রুবেল-রমিজ

চট্টগ্রামে কর্মরত পেশাদার সংবাদকর্মীদের সংগঠন চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (সিআরএ)। সংগঠনের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দুই বছরের পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন করে গঠন করা হয়েছে আহবায়ক কমিটি।

শনিবার (১ আগষ্ট) সিআরএ-এর আগের কমিটির সভাপতি সোহাগ আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক নুরু আমিন খোকনসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের ভার্চুয়াল মিটিং ও মতামতের ভিত্তিতে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নতুন আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত কমিটিতে নিউজডে২৪ সম্পাদক মোঃ রুবেল আহ্বায়ক ও দৈনিক সকালের সময় এবং নিউজ ২১ বাংলা টিভির চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সাইফুদ্দিন রমিজকে সদস্য সচিব করা হয়।

এছাড়া দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি মোহাম্মদ শাকিল অর্থ সম্পাদক, নিউজ ডে২৪ প্রতিনিধি সাফায়েত মোরশেদ, দৈনিক একুশে সংবাদের রিয়াজ উদ্দিন, দৈনিক সূর্যোদয় পত্রিকার রতন বড়ুয়া ও চট্টগ্রাম পোস্ট’র মাল্টিমিডিয়ার ইনচার্জ কামরুল সিফাত উল্লাহ কার্যকরী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মো:রুবেল বলেন, সকলের মতামত ও আস্থার ভিত্তিতে আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা সততা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে পালন করব। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব।

সদস্য সচিব সাইফুদ্দিন রমিজ বলেন, চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সকল সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেন অংশগ্রহণমূলক,স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়,সে বিষয়ে আহ্বায়ক কমিটি আন্তরিকভাবে কাজ করবে। সকল সদস্যের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি।

এ সময় আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, সংগঠনের গঠনতন্ত্র মোতাবেক আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Sunday, 2 August, 2026, 9:18 am
বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে দলের করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি।

শনিবার (০১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের সার্বিক সাংগঠনিক বিষয়গুলো বৈঠকে প্রাধান্য পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়াই ছিল বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে দলের উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই ন্যস্ত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণা হলে দলের পক্ষ থেকে কে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবেন, সেই দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্থায়ী কমিটি ন্যস্ত করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো নাম প্রস্তাব বা এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমরা দলের চেয়ারম্যানের ওপরই ন্যস্ত করেছি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে যদি একক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। আর একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আমরা চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত আছি। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে।’

বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির অন্তত দুই সদস্য জানান, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন দলের চেয়ারম্যান। পরে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আসন্ন বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপি প্রধান।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার পরই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।

রেলের জমি লিজ নয়, বাতিল হবে বিদ্যমান লিজও: রেলপ্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 1 August, 2026, 10:50 pm
রেলের জমি লিজ নয়, বাতিল হবে বিদ্যমান লিজও: রেলপ্রতিমন্ত্রী

রেলের সম্পত্তি নতুন করে আর লিজ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন করে রেলের কোনো জমি লিজ দেওয়া হবে না। বর্তমানে যেসব লিজ রয়েছে, সেগুলো পর্যবেক্ষণ করা হবে।

যেখানে আইনি বাধা থাকবে না, সেখানে লিজ বাতিল করে জমিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। রেলের অনেক জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চট্টগ্রামে রেলের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেসব স্থাপনা ভাড়া দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহিতা রয়েছে। তাই যেকোনো অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, বর্তমান ব্যবস্থায় দলীয়করণের সুযোগ নেই। এরপরও কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীসেবা বাড়াতে সরকার কাজ করছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমবে এবং ভ্রমণ সময় প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট কমে আসবে। এছাড়া ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এসময় রেলওয়ে পূর্বাচঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।