খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার নাসিরের এক্স গার্লফ্রেন্ড সুবাহ’র আবেগঘন স্ট্যাটাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
ক্রিকেটার নাসিরের এক্স গার্লফ্রেন্ড সুবাহ’র আবেগঘন স্ট্যাটাস

২০১৯ জুড়ে আলোচনায় ছিলেন ক্রিকেটার নাসিরের এক্স গার্লফ্রেন্ড হুমায়রা সুবাহ। নতুন বছরেও সেই রেষ কাটেনি। কখনো রঙ বেরঙের ছবি প্রকাশ করে, আবার স্ট্যাটাস দিয়ে খবরের শিরোনামে নাম লেখান তিনি।এবারও তেমন কিছু নিয়ে আলোচনায়। সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে যেন প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য টিপস দিলেন সুবাহ।

যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘পরিবারের চাপে বা পরিবারের ভয়ে কোনোদিন ভালোবাসার মানুষটিকে ছেড়ে যাবেন না। কারণ, পরিবার আজ নয়তো কাল ঠিকি আপনাদের মেনে নেবে। কিন্তু পরিবারের চাপে বা পরিবারের ভয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে ছেড়ে চলে গেলে আর কোনোদিনও সেই মানুষটিকে ফিরে পাবেন না। ‘আপনি হয়তো ঠিকই নতুন মানুষটিকে পেয়ে গভীর রাতে অনুভূতির সুখে হারাবেন।

কিন্তু যে মানুষটি আপনাকে পাগলের মতো ভালবেসেছে, সেই মানুষটি হয়তো সেই রাতের পর থেকে আর কোনোদিন কিছু অনুভব করতে পারবে না। প্রতি রাতে চোখের নোনা জলে ভাসতে থাকবে। একটা হাসিখুশি সুন্দর জীবন নষ্ট করার আগে অন্তত একটু ভেবে দেখবেন।

সুবাহ

তাই ভালবাসলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা নিয়ে ভালবাসুন। যেন মৃত্যু ছাড়া কেউ দুজনকে আলাদা করতে না পারে।’প্রসঙ্গত, সুবাহ-নাসিরের বিচ্ছেদ হয়েছে অনেক দিন হলো। যদিও এ নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি ক্রিকেটার নাসির হোসেন। তবে সুবাহ বেশ কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিলেন সক্রিয়।

ওই পাঠ চুকিয়ে দু’জনের পথ এখন যেন পুরোই ভিন্ন। সিনেমা নিয়ে ব্যস্ত সুবাহ। আর নাসির জাতীয় দলের বাহিরে থাকলেও ব্যাট-বল ছাড়েননি। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। খুঁজছেন আবারও জাতীয় দলে ফেরার রাস্তাও। নাসির হোসেন আর হুমায়রা সুবাহ। এই দুই নামের মধ্যে লুকিয়ে আছে কত কথা। মাঝে ক্রিকেটপাড়ায় এ নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। বেশ ছুটিয়ে প্রেম ছিল তাদের। ফোনালাপ, ভিডিও কিংবা রেকর্ড, স্থিরচিত্র সবই তো দেখা শেষ।

নাসির-সুবাহর শুরুটাও হয়েছিল সিনেমার ধাঁচে। সেখান থেকে মন দেওয়া-নেওয়া। ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখা। একটা সময় সেই ঘর ভেঙে যাওয়া। দুই জনের ছাড়াছাড়ি হওয়া। সব কিছুই হয়তো সিংহভাগ পাঠকের মাথায় আছে। তবে সুবাহর সিনেমায় আসা নিয়ে সম্প্রতি তুমুল সমালোচনা। যদিও তিনি নিজ মুখেই বলেছেন ছোটবেলা থেকে বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন। সেই সুযোগ এতদিন পর পেয়ে লুফে নিয়েছেন। সাদরে গ্রহণ করেছেন প্রিয় অঙনকে। এখন দেখার অপেক্ষা এই অঙনে তিনি কতটা আলো ছড়াতে পারেন।

Feb2

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একইসঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

আজ (বুধবার) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সংসদ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তাদের এলাকাতেও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনও সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দেহাবশেষ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে রয়েছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।

প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

সাধারণত প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদের পাশাপাশি চাকরির নিয়োগপত্রও পেলেন ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীরা। অষ্টম শ্রেণির পর বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৪৬ জন তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশেষ কার্যক্রম—কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক্-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ শীর্ষক কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই। একজন তরুণ যখন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তখন তার জীবন যেমন বদলায়, তেমনি বদলে যায় একটি পরিবার, একটি সমাজ।”

তিনি বলেন, সমাজের অনেক শিশু-কিশোর নানা বাস্তবতায় শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়ে। কিন্তু ঝরে পড়া মানেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চারটি ট্রেডে মোট ৭৭ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৭৩ জনই উত্তীর্ণ হন।

প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানের দিনই ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জনের সবাইকে গ্রামীণ বুটিকস ও প্রোডাকশন হাউসে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির শুরুতে তাঁদের মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন মাস পর চাকরি স্থায়ী হলে তাঁদের বেতন হবে ১০ হাজার টাকা, পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বহাল থাকবে।

রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৭ জনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষানবিশকালীন তাঁদের মাসিক ভাতা হবে ৫ হাজার টাকা। মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯ জনকে হাটহাজারীর বিভিন্ন সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মাসিক ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণ মানেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ যাতে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি তরুণ রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যাও এর চেয়ে কম। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, “সমাজে কোনো সৎ কাজ ছোট নয়। দক্ষতা, পরিশ্রম, সততা ও নৈতিকতাই একজন মানুষকে বড় করে। আজ যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তারা আর ঝরে পড়া নয়; তারা এখন দক্ষ জনশক্তি।”

চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের ন্যায্য মূল্যায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রথম বেতনের অঙ্ক বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো দক্ষতা অর্জন। দক্ষতা বাড়লে আয়ও বাড়বে, সুযোগও বাড়বে। শেখার কোনো শেষ নেই। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি, বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার এই উদ্যোগ ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।