খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুবার্ষিকীতে নুসরাতের ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
মৃত্যুবার্ষিকীতে নুসরাতের ভাইয়ের আবেগঘন স্ট্যাটাস

ফেনীর সোনাগাজীতে দেশব্যাপী আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নৃশংসভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার এক বছর আজ। বোনকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন নুসরাতের ছোটভাই রাশেদুল হাসান রায়হান।

সেই স্ট্যাটাসটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো:

‘একটি বছর অশ্রুগঙ্গা বহে নিরবধি উপলব্ধি করছি আমার একমাত্র বোন- নুসরাত আপুকে হারানোর যন্ত্রণা।

আজ আমার শহীদা আপুর মৃত্যুবার্ষিকী ৷ দেখতে দেখতে একটি বছর পার হয়ে গেল। যদিও এই তিনশ পয়ষট্টি দিন আমাদের কাছে ছিল তিনশ পয়ষট্টিটি রক্তগঙ্গা পাড়ি দেয়ার সমান। প্রতিদিন অবিরত অশ্রুর ধারা বহে গেছে নিরবধি। জানিনা আর কতদিন এই উপলব্ধি আমাদের তাড়িয়ে বেড়াবে।

গত বছর ১০ এপ্রিল- এই দিনে আমার আপু হায়েনাসদৃশ কিছু নরপশুর রক্তলোলুপতার শিকার হয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানিয়েছে। সবাই জানেন, এর আগে জেলে থাকা সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজের নির্দেশে ৬ এপ্রিল নিজের মাদ্রাসায় আমার আপুর গায়ে কেরোসিন ঢেলে নির্মমভাবে পুড়িয়ে দেয় খুনিরা। কিন্তু আমার বোন মাথা নত করেনি। আমার আপু হয়ে উঠেছিল বিদ্রোহী এক প্রতীক।

আপুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আপুকে উৎসর্গ করে আমার লেখা।

হে আপুনি,

হায়েনাদের নিক্ষিপ্ত অগ্নিবাণের দুঃসহ যন্ত্রনায় জর্জরিত হয়েছে আপনার সারা দেহ।

আপনার অসহ্য শারীরিক ও মানুষিক যন্ত্রনার অবসান করেছিল মৃত্যু এসে কিন্তু আপনার এ মৃত্যু লাখো-কোটি মানুষের বিবেককে দিয়েছে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি। এ মৃত্যু বিবেকবান সকল মানুষকে করেছে হায়েনাদের প্রতি ক্রোধান্বিত, ক্ষুব্ধ।

পাশাপাশি তাদের অন্তর কে করেছে বেদনায় ভারাক্রান্ত। আপনার এ মৃত্যু কাঁদিয়েছে সারাদেশকে।

হে আপুনি, আপনার এ বিদায় সারাদেশসহ পৃথিবীর মানুষকে করেছে তীব্র শোকাকুল

অনেকেই জানিয়েছে মাতৃবিয়োগের মত শোকের বেদনায় নিমজ্জিত ছিলেন তারা।

তাদের অন্তর কে করেছে শূন্যতার হাহাকারে পরিপূর্ণ। আপনি মৃত্যুর মধ্য দিয়ে হয়ে উঠেছেন আমাদের সাহসের আরেক নাম। বাংলাদেশের নিপীরিত হাজারো অভাগীর কাছে হয়ে উঠেছেন বলিষ্ঠ প্রেরণা।

হে আপুনি, আপনার হত্যাকারকদের উদ্দেশ্যে দেশবাসী দিয়েছে অভিশস্পাত, আর করেছে তাদের মনের ঘৃনার উদগীরণ।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় রোগ পীড়িত শরিরেও অনেকেই এসেছে আপনার জন্মভূমিতে, আপনার অন্তিম শয়ানের স্থান সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ায়।

আপনি প্রতিদিন যে পথে যেতেন আপনার বিদ্যাপীঠে, যে পথে ছিল আপনার চলাচল, বাড়ির আঙিনায় যেখানে নিত্য পড়ত আপনার পদচিহ্ন। সবাই হেঁটেছে সেসব পথে। যেন তারা খুঁজছে তাদের প্রিয় স্বজনকে। পেতে চেয়েছিলো তারা আপনার স্মৃতির স্পর্শ।

হে আপুনি, আপনি এক আত্মবিশ্বাসী, সাহসী প্রতীবাদী নারী। এ কথা প্রধানমন্ত্রীসহ আখ্যায়িত করেছে সকলেই।

আপনি এ যুগের সুলতানা রাজিয়া, আপনি একালের বেগম রোকেয়া।

আপনার সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ কত কথা যে বলেছে আপনার সাথে। বেদনার নীল রঙে আর প্রচন্ড আবেগে আক্রান্ত হয়ে, এক বুক শূন্যতার হাহাকার নিয়ে উত্তর চরচান্দিয়া ছেড়ে লাখো মানুষ ফিরে গিয়েছে তাদের নিজ আবাসে। কিন্তু তারা আপনাকে একটুও ভুলেনি ।

আপনি মানুষের মনে আছেন চির জাগরূক হয়ে। এ দেশের প্রতিবাদী নারীদের তালিকায় লেখা রবে আপনার নাম।

আপুনি,

আমার হাত টা কাঁপছে,

আর লিখতে পারছিনা।

আপনার অজস্র স্মৃতির ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছি আমি।

মাথার ভিতর তোলপাড় করছে ঘটনা প্রবাহ। ভেবে পাচ্ছিনা কি লিখবো । বোধহয় এই লেখাটিতে আপনাকে কোন সম্ভাষণ জানাতে পারলাম না। কারণ, আপনাকে কোন সম্ভাষণে সম্ভাষিত করবো আমি বুঝতে পারছিনা। যাই করি না কেন তা আপনার জন্য অতি নগন্য হয়ে যাবে আপুনি।

আপনি বীরাঙ্গনার মতো জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে গেছেন। আপনার এই আত্মদান, এই লড়াইকে দেশবাসী ব্যর্থ হতে দেয়নি। আপনার খুনীরা সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায়। প্রধানমন্ত্রী, প্রশাসন, আদালত, পিবিআই, গোয়েন্দা পুলিশ, সাংবাদিক এবং দলমত নির্বিশেষে সারাদেশ এই অপরাধের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদে উচ্চকিত হয়েছে। জানিনা আল্লাহর দরবারে সিজদায় পড়ে কতটুকু অশ্রু ঝরালে এবং কোন ভাষায় শোকরগোজার করলে এর যথাযথ শুকরিয়া আদায় হবে!

আপুনি আপনার হত্যাকরকদের বিনাশ অবশ্যম্ভাবী। আপনাকে পুড়িয়ে হত্যার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আপনাকে বাঁচাতে তিনি সর্বচ্ছ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য, আপনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তবে আপনার শেষ ইচ্ছার বাস্তবায়ন-খুনিদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন বিচারালয়।

নিম্ম আদালতের ফাঁসির রায় উচ্চ আদালতেও বহাল থাকবে এ ব্যাপরে তিনি শতভাগ আশাবাদী।

টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত চোখের জল নামিয়ে আপনার হত্যার বিচারের দাবিতে লাখো কন্ঠের আওয়াজ বৃথা যাইনি। আপুনি, আপনি অমর হয়ে থাকবেন চিরদিন। মাদ্রাসার সামনে আপনার প্রতিকৃতি গড়ে তাতে জনগণ আজীবন শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। মানব ইতিহাসে সংযোজিত হবে আরেকটি যুগান্তকারী অধ্যায়।

দেশ কাঁপানো প্রতিবাদি কন্যা হিসেবে আপনি আজ আখ্যায়িত। সমগ্র জাতিকে জাগিয়ে তুলে আজ আপনি চিরনিদ্রায় শায়িত।আপনার মত হাজারো নুসরাতের সম্ভ্রম রক্ষা করতে আমরাও আজ প্রতিবাদী। আপু, গত বছরের এই দিনে কখন যে আপনি দু চোঁখ বন্ধ করেছিলেন বুঝতেই পারিনি ।’

আপনাকে আজ মনে পড়ে- এ কথা বলবো না ! বরং প্রতিদিন প্রতিক্ষনে আপনাকে মনে পড়ে । আপনার অভাব আমি সব সময় অনুভব করি। আপনাকে নিয়ে কিছু লিখতে বসলে, চোঁখে অশ্রু ধরে রাখতে পারি না। আজ ও তার ব্যতিক্রম হয় নি।

একটি বছর কেটে গেল চোখের জল ও হ্নদয়ের অবিশ্রান্ত রক্তক্ষরণে। আজও দু’চোখে ভাসে আপনার শেষ দিনগুলোর নির্মম কষ্টের দৃশ্যটি। কতই বর্বর ও নিষ্ঠুর ছিল! সেই দিনই সব স্বপ্ন কাচেঁর মত ভেঙ্গে চুরমার হয়েগেয়েছিল।সেই দিন মনে হয়েছিল, আমি আপনাকে ছেড়ে হয়তো বাচঁবোনা। সেদিন আকাশ ভারি হয়েছিল, মা বাবা ভাইয়ার আহাজারিতে, হাসপাতালের ফ্লোরে পা দিয়ে আঘাত করেছিলাম। নিজের চুল নিজে ছিড়েছিলাম। কিন্তু আপনি জেগে ওঠেননি, আর সাড়া দেননি।

আপুনি, আমি না খুব নিষ্ঠুর হয়ে বুকে পাথর বেঁধে এখনো আপনাকে ছাড়া বেঁচে আছি। আপনি প্রায়শ বলতেন, মরে গেলে দেখবি আমাকে ছাড়া তোদের কি অবস্থা হয়? দেখছেন ত এইবার তাহলে ফিরে আসুন আপু। জানি আপনি আর ফিরে আসবেন না। অকারণে তবু কেন আপনাকে কাছে ডাকি! আপনাকে আবার ও ফিরে পাওয়ার সব যুক্তির কাছে যখন আমি হেরে যাই, তখন একটা আর্তনাদ ও আশ্রু ছাড়া আর কিছুই থাকে না।

আপনি নেই আমাদের মাঝে অনুভব করতেই দমবন্ধ হয়ে আসে। আপনার মায়াভরা স্পর্শের ভালোবাসাটুকু পেতে দিবারাত্রিতে আমার বুকের গহীন উপকূল কেমন যেন পুড়ে পুড়ে যায়।

মৃত্যুর যন্ত্রনা কত কঠিন, তা আপনাকে দেখেই বুঝেছি। আপনাকে হারানোর শোকটা কতটা কষ্টের তা পৃথিবীর কাউকে বোঝাতে পারবোনা।

যোগত্যার বিচারে ফ্যামিলির সবার চেয়ে আপনি মেধাবী ও অনন্য।এভাবেই আপনি চিরবিদায় নিবেন তা একেবারেই কল্পনাতীত।

এখনো ঘুমের ঘরে জেগে উঠি আপনার শেষ দিনগুলির নির্মম কষ্টের কথা স্বপ্নে দেখে। স্বপ্নেই জেগে থাকবেন আপনি আমার মাঝে আজীবন,

আপনার স্মৃতিভার আমি বয়ে যাব সারা জীবন। শেষ রাতে চোখে একফোঁটা ঘুম আসেনা আপনার কথা ভেবে।

জানো আপুনি এখন আমি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছি। নিজের স্বপ্নের সাথে বাস্তবতার অনেক অমিল তা এখন বুঝতে পারছি। চারদিকে অজস্র মিথ্যার ভিড়ে একটা সত্যের পিছনে ছুটছি নিরন্তর।

পৃথিবীতে এত মানুষ কিন্তু একজন মানুষই মিলেনা, যে কিনা আমাকে একটু অকৃত্রিম ভালবাসা উপহার দেবে!আপু, ঠিক তক্ষুনি আপনার কথা মনে পড়ে আমার।

আপুনি, আপনি আমার অস্তিত্বে মিশে আছেন। কত কত আনন্দের মুহূর্তে অবিচল থেকে আপনি, আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতেন ভবিষ্যতের কথা।

মাঝেমধ্যে আপনি যখন আমার উপর রেগে যেতেন তখন বুঝতে পারতাম না, যে আপনার ঐ সাময়িক রাগের ভিতরেও যে পরিমাণ ভালবাসা লুকায়িত ছিলো পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা জড়ো করলেও তার সমতুল্য হতে পারেনা। আপনার অকৃত্রিম ভালোবাসা আমার কাছে অতুলনীয়।

আপনার সাথে পথ চলার সময়গুলকে খুব অনুভব করছি। জীবন চলার পথে আপনার স্নেহের পরশেই বড় হয়েছি। এ ঋণ আমি মেটাবো কিভাবে!

আপনি বিহীন প্রতিটি দিন ও মুহূর্ত ছিল বিষাদময়, প্রতিটি একাকিত্ব সময় ছিল হাহাকার ও অশ্রুসিক্তে ভরা। প্রতিটি রাত ছিল র্নিঘুম ও আপনাকে কাছে না পাওয়ার অতৃপ্ত যন্তণার!

আপনার ভালোবাসা, আপনার স্নেহ, আপনার আদর আজও আমার স্মৃতিতে সতেজ হয়ে ভাসে।

সারা জীবন আপনাকে মিস করবো আপুনি।। আপনার কথা মনে পরলে এখনো চোখে পানি চলে আসে।

আপুনি, আমি স্বর্গ দেখিনি। তবে আপনাকে পেয়ে স্বর্গকে আমি পেয়েছি, যা আজ আমি হারিয়ে ফেলেছি। প্রতিদিন কিছু টা হলেও ভালো কাজ করার চেষ্টা করি আপনার আত্মার শান্তি কামনা করে আপনার হত্যাকারিদের ফাঁসির আদেশ হাইকোর্টে বহাল থেকে দ্রুত যেমন কার্যকর হওয়া চাই তেমনি আপনার মত লাখো নুসরাতের নিরাপদ ও সুস্থ জীবন কামনা করি।

একজন প্রতিবাদীর মৃত্যুতে যেন বিশ্ব লিখে, ‘আমাদের চোখের জল ঝরিয়ে, নুসরাত তুমি কি ভাবে চলে গেলে মাটির নিকষ অন্ধকারে?

গত রাত ছিল পবিত্র শবেবরাতের রাত। আমার বোনের আত্মার শান্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছি। এই দুর্যোগময় সময় প্রার্থনা করি

স্রষ্টার সকল সৃষ্টি ভালো থাকুক… করোনার মহামারী থেকে আল্লাহ বাংলাদেশের মানুষ কে নিরাপদে রাখুক।

আর আজকে আমার আপুর এই বিদায়ের দিনে-বেদনার দিনে দেশবাসী সকলের নিকট আমার আপুর জন্যে আন্তরিক দোয়া কামনা করছি ৷ মহান আল্লাহ্ যেন আমার আপুর সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে, তাঁর কবরের জীবন ও পরকালের জীবন শান্তিময় করেন৷’

Feb2

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একইসঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

আজ (বুধবার) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সংসদ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তাদের এলাকাতেও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনও সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দেহাবশেষ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে রয়েছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।

প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

সাধারণত প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদের পাশাপাশি চাকরির নিয়োগপত্রও পেলেন ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীরা। অষ্টম শ্রেণির পর বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৪৬ জন তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশেষ কার্যক্রম—কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক্-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ শীর্ষক কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই। একজন তরুণ যখন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তখন তার জীবন যেমন বদলায়, তেমনি বদলে যায় একটি পরিবার, একটি সমাজ।”

তিনি বলেন, সমাজের অনেক শিশু-কিশোর নানা বাস্তবতায় শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়ে। কিন্তু ঝরে পড়া মানেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চারটি ট্রেডে মোট ৭৭ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৭৩ জনই উত্তীর্ণ হন।

প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানের দিনই ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জনের সবাইকে গ্রামীণ বুটিকস ও প্রোডাকশন হাউসে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির শুরুতে তাঁদের মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন মাস পর চাকরি স্থায়ী হলে তাঁদের বেতন হবে ১০ হাজার টাকা, পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বহাল থাকবে।

রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৭ জনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষানবিশকালীন তাঁদের মাসিক ভাতা হবে ৫ হাজার টাকা। মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯ জনকে হাটহাজারীর বিভিন্ন সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মাসিক ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণ মানেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ যাতে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি তরুণ রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যাও এর চেয়ে কম। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, “সমাজে কোনো সৎ কাজ ছোট নয়। দক্ষতা, পরিশ্রম, সততা ও নৈতিকতাই একজন মানুষকে বড় করে। আজ যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তারা আর ঝরে পড়া নয়; তারা এখন দক্ষ জনশক্তি।”

চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের ন্যায্য মূল্যায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রথম বেতনের অঙ্ক বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো দক্ষতা অর্জন। দক্ষতা বাড়লে আয়ও বাড়বে, সুযোগও বাড়বে। শেখার কোনো শেষ নেই। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি, বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার এই উদ্যোগ ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।