খুঁজুন
, ,

করোনা লকডাউনে সাম্পান মাঝিদের ঘাটছাড়া করছে চসিক,অবৈধ বোট জব্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 13 April, 2020, 4:32 pm
করোনা লকডাউনে সাম্পান মাঝিদের ঘাটছাড়া করছে চসিক,অবৈধ বোট জব্দ

২৪ ঘণ্টা ডট নিউজ। চট্টগ্রাম ডেস্ক || মরণঘাতী করোনা ভয়াবহতার মধ্যে সাম্পান মাঝিদের ঘাট থেকে বিতাড়িত করছে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা।

করোনার কারণে লকডাউনে গত ১৬ দিন ধরে ঘাটে সাম্পান রেখে বেকার দিন কাটাচ্ছিল সাম্পান মাঝিরা। এর মাঝেও আজ সোমবার সকালে লাইটার জাহাজ মালিক সমিতির সভাপতি হাজী সফির মালিকানাধীন বোট যাত্রী নিয়ে পারাপার করছে দেখে মাঝিরা হতভম্ব হয়ে যায়।

যাত্রী নিয়ে বড় বোট ইছানগর ঘাটে গেলে সেটি আটক করে কর্ণফুলী থানায় অবহিত করে সাম্পান মাঝিরা। পরে মুসলেকা নিয়ে বোটটি ছেড়ে দেয়া হয়।

সাম্পান মাঝিরা অভিযোগ করে বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে লাইটার জাহাজ মালিক সমিতির সভাপতিকে ঐতিহ্যবাহী বাংলাবাজর ঘাট হস্তান্তর করা হয়েছে।

তারা জানিয়েছে বাংলাবাজার ঘাটে বর্তমানে তিন শতাধিক সাম্পান মাঝি আছে। তারা পালা করে যাত্রী পারাপার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল।

এখন ইজারাদার সাম্পানের পরিবর্তে দুইটা বোট দিয়ে যাত্রী পারাপার করলে ঘাট থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে তিনশতাধিক সাম্পান। পেশা হারাবে মাঝিরা।

এই বিষয়ে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি আলীউর রহমান বলেন, সাম্পান ও সাম্পানমাঝি চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের প্রতীক।

মাঝিদের পেশা টিকিয়ে রাখতে আমরা ব্যর্থ হলে সাম্পান ও মাঝিরা চিরতরে হারিয়ে যাবে। আমরা কিছুতেই তা হতে দেবোনা।

তিনি বলেন, ২০০৩ সালে প্রদত্ত পাটনিজীবি আইনে উল্লেখ আছে, আগ্রহী জন্মগত পেশাদার পাটনীগণকে (সাম্পানমাঝি) ফেরীঘাট ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হইবে।

পেশাদার পাটনীমাত্র একজন থাকিলে তাহার অনুকূলে সম্ভাব্য মূল্যে ফেরীঘাট ইজারা প্রদান করিতে হইবে।

ফেরীঘাট ইজারা (পাটনিজীবি) নীতিমালার ১(চ)৩ ধারায় উল্লেখ আছে ” ফেরীঘাটের একটি পাড় ইউনিয়নের সীমার মধ্যে এবং অপর পাড়টি পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় অবস্থিত হইলে সেই ফেরীঘাট নিম্নবর্ণিত কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও সহকারী কমিশনার ভূমিকে সদস্য করে ঘাট ইজারা দিবেন।

চট্টগ্রাম ইছানগর বাংলাবাজার ঘাটটি একপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অপরপারে কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা।
গত ৩১ জানুয়ারি ২০২০ তারিখ ঘাট ইজারা ঘোষণার পূর্বে চরপাথরঘাটা চেয়ারম্যান ও কর্ণফুলী উপজেলা সহকারী ভূমিকে ইজারা কমিটির সদস্য করা হয়নি।

এই ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাবের আহমেদ বলেন, সিটি কর্পোরেশন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আমাদের সদস্য করে কমিটি গঠন ছাড়াই ঘাট ইজারা দিয়েছে। যা অবৈধ।

এই বিষয়ে রিটকারী এডভোকেট মনজিল মোরশেদ বলেন, উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন। করোনার কারণে কোর্ট বন্ধ থাকার বিষয়টি সিটিকর্পোরেশনের রাজস্ব কর্মকর্তাকে আমি লিখিতভাবে অবহিত করেছি।

ইছানগর বাংলাবাজার সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ লোকমান বলেন, আমরা সাম্পান মাঝি। সাম্পান চালিয়ে জীবন নির্বাহ করা ছাড়া অন্য কাজ জানা নাই। সিটি কর্পোরেশনের এই অনৈতিক কাজে এখন আমরা দিশেহারা। আমাদের পেশা রক্ষায় আমরা প্রয়োজনে আমরন অনশন করবো।

২৪ ঘণ্টা/ আর এস পি

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।