খুঁজুন
শনিবার, ২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“আওয়ামী লীগ নেতা রাসেলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ভ্রাম্যমান ফ্রী সবজি ভ্যান”

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
“আওয়ামী লীগ নেতা রাসেলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ভ্রাম্যমান ফ্রী সবজি ভ্যান”

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির সাবেক সদস্য মোঃ রাশেদুল ইসলাম রাসেলের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যে “ফ্রী সবজি বাজার” চালু করেন তিনি এর নাম দেন “ভালবাসার ভ্যানগাড়ি”!

স্থানীয় প্রান্তিক কৃষক যারা সব সময় ন্যায্য মূল্য পান না তাদের নিকট হতে প্রকৃত দামের চেয়ে কিছু বেশী দামে সবজি কিনে নিয়ে বিনামূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে বিতরণ করছেন তিনি।

চট্টগ্রাম-৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত হাটহাজারী উপজেলায় প্রশাসনের নির্দেশে স্কুল মাটে বসছে কাঁচা বাজার। সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ। আপদকালীন এই সময়ে সাধারন মানুষের জন্য ব্যতিক্রমী ” ফ্রী সবজি বাজার” চালু করলেন তরুণ এই আওয়ামী লীগ নেতা।

কাঁচা বাজারগুলো বসে বেলা ১১টা পর্যন্ত, রাসেলের ভ্রাম্যমাণ সবজি বাজার তথা ভ্যানগুলো এরপর উপজেলার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় চলে যায় এবং ফ্রীতে সবজি সরবরাহ করে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “বাজার টাইমে এই ভ্যানগুলো বাজারের মুখে বসবে, বাজার বন্ধ হলে বিভিন্ন আবাসিক বা জনবসতি এলাকায় যাবে আর আহ্বান জানাবে প্রয়োজনীয় সবজি সংগ্রহ করার”।

বাজারের এই ফ্রী সবজি বিতরণের স্থানে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমীন উপস্থিত হয়ে এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “রাসেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই কাজ করে আসছেন আর এখন বাজারের কৃষকদের নিকট হতে সবজি ক্রয় করে বিনামূল্যে সাধারন মানুষের নিকট বিতরণ আসলেই খুব ভাল উদ্যোগ এবং এটি সত্যি অনুসরণীয়”।

সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা রাসেল টেলিফোনে যুক্ত হয়ে বলেন, ” আমরা সবজি বিনামূল্যে দিচ্ছি পাশাপাশি কারো প্রয়োজনের অতিরিক্ত সবজি থাকলে তা আমাদের অনুদান হিসেবে দেওয়ারও অনুরোধ করছি যাতে একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ মানবিক সমাজ তথা পরষ্পরের প্রতি ভালবাসার, শ্রদ্ধার, আবেগের সম্পর্ক গড়ে উঠে এই আপদকালীন সময়ে”।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় আওয়ামী লীগের এই নেতার উদ্যোগ যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার জন্য ভ্যান গাড়িগুলোর সামনে তিন ফুট দুরুত্বে ছক করে দাঁড়ানোর স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যার ফলে সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও হাত ধোয়ার জন্য বাজারের বিভিন্ন স্থানে পানির ড্রাম ও কলের ব্যবস্থা করা হয় সাথে সাবান ও হ্যান্ড সেনিটাইজারও রয়েছে।

ভ্যানগুলোতে দায়িত্বরত ভলান্টিয়াররা সবজি নিতে আসা মানুষদের ওয়াদা করান তারা যেন অতি প্রয়োজন ব্যতিত ঘর থেকে বের না হন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখেন।

স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দকে বাজারের বিভিন্ন স্থানে জীবাণু নাশক স্প্রে করতেও দেখা যায়।

এখানে উল্লেখ্য সাবেক এই ছাত্রনেতা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রথম থেকেই মাটে সক্রিয় ছিলেন।

শুরুতে তিনি সচেতনতা সৃষ্টির জন্য লিফলেট বিতরণ করেছিলেন, এরপর ফেস মাস্ক, হ্যান্ড সেনিটাইজার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের অন্তর্গত ১৪টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভা ও চট্টগ্রাম নগরের ২টি ওয়ার্ডে। পুরো মার্চ মাস জুড়েই ছিল এই কার্ক্রম। এরপর ৩১শে মার্চ হতে ১৬০০ গৃহে অবস্থানকারী পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী উপহার স্বরূপ প্রেরণ করেন।

২য় ধাপে আবারো ৬০০ পরিবারের জন্য “বৈশাখী উপহার” প্রেরণ করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং, তাই আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে প্রকৃত ভুক্তভোগী পরিবারের তালিকা সংগ্রহ করে সেখানে আমার স্বেচ্ছাসেবক দলের মাধ্যমে সরাসরি এই খাদ্য সামগ্রী পাঠাচ্ছি”।

আর আজ নতুন ধাপে তিনি ভ্রাম্যমাণ ফ্রী সবজি বাজার চালু করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ” আমি চাই এমন মন মানসিকতা গড়ে তুলতে যেখানে যার আছে সে দিবে যার নাই সে নিবে, এভাবে পরষ্পরের প্রতি ভালবাসায় ও সহযোগিতায় গড়ে উঠবে মানবিক হাটহাজারী আর এতে সরকারের উপর ত্রাণ সরবরাহের চাপও কমবে”।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ” আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ফুড ব্যাংক চালু করা যেখান থেকে মানুষ বিনামূল্যে খাবার সংগ্রহ করবে আর কেউ অতিরিক্ত খাবার নষ্ট না করে ব্যাংকে জমা দিবে, উন্নত দেশগুলোতে এই ফুড ব্যাংক খুবই জনপ্রিয়!”

তিনি আরো উল্লেখ করেন, “আমরা যদি সারা দেশে স্থায়ী ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলে ক্ষুধা মুক্ত দেশ গড়ে তুলতে পারবো এছাড়াও জাতি সংঘের ২০৩০ সালের মধ্যে যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ক্ষুধামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রটিও অনেকাংশে অর্জন করতে পারবো”।

আজ ভ্রাম্যমাণ এই সবজি ভ্যানে ছিল আলু, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, শসা, লাল শাক, পুঁই শাক, নারিস শাক ইত্যাদি।

বাজার বন্ধ হওয়ার পর ভ্যান গাড়িগুলো পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড পদক্ষিণ করে ও ভলান্টিয়াররা বিনামূল্যে সবজি বিতরণ করে।
রাসেলের ভলান্টিয়ার দলে ছিল কো-অর্ডিনেটর রাশেদুল আলম জিসান, এস এম মুহিন উদ্দিন, ইব্রাহিম রানা, রাশেদ, আব্দুল মান্নান সুমন, সবুজ মেহের, মোরশেদ, তানভিনসহ আরো অনেকে।

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।