মিরসরাইয়ে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত, ৯ জনের নমুনা সংগ্রহ
আশরাফ উদ্দিন, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:::মিরসরাইয়ে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত এক মহিলা রোগী (২৭) শনাক্ত হয়েছেন। তিনি উপজেলার খৈয়াছরা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের নীচতালুক গ্রামের মৌলভী সৈয়দুর রহমান বাড়ির বাসিন্দা।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ওই মহিলার সংস্পর্শে থাকা ৮জন ও এ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভারের নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)তে পাটিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক টিম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খৈয়াছরা ইউনিয়নের ২টি বাড়ী লকডাউন ও ২টি মুদি দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, শনিবার রাতে ওই মহিলা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর আমরা জানতে পেরেছি। রবিবার সকালে গিয়ে ওই মহিলার বাড়ী সহ পাশ্ববর্তী ১টি বাড়ি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। ওই বাড়ীর এক যুবক সকালে খৈয়াছড়া ইউনিয়নের নয়দুয়ার এলাকার ২টি দোকানে কেনাকাটা করতে যাওয়ায় ওই দোকানগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লকডাউন নিশ্চিত করবে। মহিলার সংস্পর্শে থাকা ৮ জন ও এ্যাম্বুলেন্সের চালকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, স্বামীর চাকুরীর সুবাধে ওই মহিলা যশোর ক্যান্টনমেন্ট ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট ছিলেন। ১ মাস পূর্বে তিনি ঢাকা ক্যান্টেমেন্ট থেকে খৈয়াছরা ইউনিয়নে স্বামীর বাড়ীতে আসেন। ধারণা করা হচ্ছে যশোর কিংবা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে ভিন্ন মত প্রকাশ করতে আক্রান্তের এক আত্মীয় বলেন, আক্রান্তের স্বামী ১১ মার্চ মিশনে চলে গিয়েছেন আর তিনি আক্রান্ত হয়েছেন এপ্রিলের ৭ থেকে ৮ তারিখের দিকে যদি তার স্বামী থেকে সংক্রমিত হতো তাহলেতো প্রথম সাপ্তাহের মধ্যেই আক্রান্ত হতেন কিন্তু উনি তো চতুর্থ সাপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছেন।
জানা গেছে এই মহিলা অসুস্থ এক নিকট আত্মীয়কে দেখতে ঢাকার এক হাসপাতালে গিয়েছিলেন তাও এক মাস পূর্বে।
তবে তিনি অসুস্থ হওয়ার সপ্তাহ খানেক পূর্বে বড়তাকিয়া পূবালী ব্যাংকে গিয়েছিলেন টাকা উত্তোলন করার জন্য। টাকা উত্তোলনের বিষয়টিকে সন্দেহ করছেন নিকট আত্মীয়রা।
আক্রান্ত মহিলা ১৫ এপ্রিল স্থানীয় একটি এ্যাম্বুলেন্স করে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে যান। গত ৮ এপ্রিল থেক ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিন অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতেই অবস্থান করেন এবং পরিবার ও বাড়ির অন্যান্যদের সংস্পর্শে আসেন।
ইতি মধ্যে ঢাকায় দেখতে যাওয়া রুগি মারা যান গত ১৭ মার্চ, আর জানাযায় উপস্থিত হন কয়েকশত আত্মীয়স্বজন যারা ওই বাড়িতে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা অন্য সদস্যদের সংস্পর্শে আসেন এবং জানাযা শেষে স্বাভাবিক ও সাধারণ নিয়মেই যার যার ঠিকানায় ফিরে যান ও পরিবার পরিজন সহ জনসাধারণের সংস্পর্শে যান। আক্রান্ত মহিলা ১৫ এপ্রিল সিএমএইস হাসপাতালে ভর্তি হলেও তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে ১৮ এপ্রিল রাতে। কাজেই এই সময়ে ব্যাপক সংক্রমণের সুযোগ থেকে যায় কয়েকশ আত্মীয়স্বজন ও আশপাশের মানুষের মাঝে। ফলে আতঙ্ক বিরজ করছে এখন সবার মাঝে।
স্থানীয় প্রশাসন উপস্থিত ৯ জনের নমুনা গ্রহণ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রাম প্রেরণ করে, সন্দেহ জনক দুটি দোকান ও দুটি ঘর লকডাউন করলেও শঙ্কা কাটছেনা এলাকার মানুষ ও প্রতিবেশীদের মনে।


আপনার মতামত লিখুন