খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুরে ইটভাটায় পুড়ল কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমির ধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২০, ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
সৈয়দপুরে ইটভাটায় পুড়ল কৃষকের প্রায় ৫০ একর জমির ধান

নীলফামারী প্রতিনিধি:::নীলফামারীর সৈয়দপুরে তিনটি ইটভাটার নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে ও কালো ধোঁয়ায় প্রায় ৫০ একর জমির ইরি-বোরো ধান সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকেরাা সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা, সৈয়দপুর উপজেলার চার নম্বর বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের পাশে পশ্চিমে তিন ফসলি আবাদি জমির একবারে পাশাপাশি তিনটি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।

এ সব ইটভাটা হচ্ছে আলহাজ্ব মনছুর আলী সরকারের এমএএস ব্রিকস ও তাঁর ছোট ছেলে আনিছুর রহমান সরকারের এআরএস ব্রিকস্ এবং মোস্তফা ফিরোজের এমবিএস ব্রিকস্।

আর বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের উল্লিখিত ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ওই তিনটি ইটভাটার আশপাশে থাকা জমির মালিকরা প্রতি বছরের মতো চলতি ইরিবোরা মৌসুমেও তাদের জমিতে বিআর-২৮, বিআর- ২৯ সব বিভিন্ন জাতের ধান চাষ করেছেন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকদের লাগানো ইরি-বোরো ধানের ক্ষেতগুলো বেশ ভাল হয়েছে। কৃষকদের লাগানো এ সব ধানক্ষেতের কোনটির শীষ বের হওয়ার উপক্রম হয়েছে, কোনটির শীষ বের হওয়া সম্পন্ন হয়েছে, আবার কোনটির শীষে পাক ধরেছে। আর মাত্র কয়েক দিন পরে কৃষকরা তাদের শ্রমে ও কষ্ট এবং অর্থে চাষাবাদ করা সোনালী ফসল ঘরে তুলবেন এমন অপেক্ষার প্রহর গুনছিল। তাদের স্বপ্ন ছিল চাষ করা ধান ঘরে তুলে তা বিক্রি করে ধারদেনা পরিশোধসহ সংসারের দৈনন্দিন অন্যান্য ব্যয়ভার মেটাবেন। এ অবস্থায় ওই তিন ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাসের ওই মাঠের আবাদকৃত প্রায় ৫০ একর জমির উঠতি ইরি-বোরা ধান পুরোপুরি পুড়ে বিবর্ণ ও কালো হয়ে গেছে।

কৃষকরা অভিযোগ করেন গত ২৪ এপ্রিল থেকে গত ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ওই ধানক্ষেতগুলো পুড়ে যায়। আর ক্রমান্বয়ে এর আশপাশের ক্ষেতগুলো পুড়ে বিবর্ণ ও কালচে হয়ে যাচ্ছে। আর চোখের সামনে উঠতি ধানক্ষেত পুড়ে যাওয়া কৃষকদের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতই অবস্থা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উঠতি ইরি-বোরো ধানক্ষেতগুলো পুড়ে বিবর্ণ ও কালো হয়ে গেছে। ইউনিয়নের মাঝাপাড়ার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৫) জানান, অন্যের কাছ থেকে ৪৫ শতক জমি বর্গা দিনে ইরি- বোরা ধান চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি জমির মালিককে পুরো টাকায় পরিশোধ করে দিয়েছে। এছাড়াও তার ওই পরিমাণ জমি আবাদে ৭/৮ হাজার টাকা ব্যয়ও হয়। এখন ইটভাটার ধোঁয়া তাঁর জমির পুরো ক্ষেত পুড়ে গেছে। এখন তিনি কি করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

ইউনিয়নের তেলিপাড়ার অপর কৃষক আব্দুল মান্নান (৫৮) বলেন, তিনি তাঁর নিজের ৩৬ শতক জমিতে বিআর-২৮ জাতের ধান লাগিয়েছেন। তারও পুরো ক্ষেত ভাটার নির্গত কালো ধোঁয়া পুড়ে গেছে। একই অবস্থা এলাকার সরকারপাড়ার কৃষক আইয়ুব আলী সরকার, আব্দুল মালেক,বাবুল হোসেন, বিপুল চন্দ্র রায়,মোজাহার হোসেন, ধীরেন চন্দ্র রায়, সামিউল বশির, জিয়াউল হক বাবুসহ আরও অনেক কৃষকেরই।

এ ব্যাপারে জানতে এমএএস ব্রিকসের স্বত্তাধিকারী আলহাজ্ব মনছুর আলী সরকারকে তাঁর ইটভাটায় গিয়ে পাওয়া যায়নি।

তবে এমবিএস ব্রিকসের স্বত্ত্বাধিকারী মোস্তফা ফিরোজ বলেন, আমার ইটভাটার ধোঁয়া ওই সব জমির ইরি-বোরা ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। আমার ইটভাটায় ইট পোঁড়ানো কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহিনা বেগম জানান, এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আসলে ইটভাটার ধোঁয়ায় নাকি অন্য কোন কারণে ওই সব ইরিবোরো ধান ক্ষেত পুঁড়ে গেছে তা নিয়ে আমার বিভাগের সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা কাজ করছেন। তাদের কাজ শেষে আমরা তদন্ত প্রতিবেদনসহ ক্ষতিগ্রস্থ জমি ও কৃষকদের তালিকা তৈরি করে ইউএনও বরাবরে দাখিল করব। পরবর্তীতে ইউএনও মহোদয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসিম আহমেদ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। তারা ঘটনার বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন। তদন্তে ইটভাটার কারণে ধান ক্ষেত নষ্ট হয়েছে থাকলে ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে।

২৪ ঘণ্টা/এম আর/সুজন

Feb2

অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সময়সূচি জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইনে ক্লাস ও বাকি ৩ দিন সশরীরে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, সপ্তাহের শনিবার, সোমবার ও বুধবার অফলাইন বা সশরীরে ক্লাস নেয়া হবে। আর রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে ঢাকা মহানগরীতে চালু হচ্ছে এই পদ্ধতি। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই তথ্য জানান।

এছাড়াও মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত পরে জানানো।

জানা যায়, আগামী সপ্তাহে তা শুরু হবে । ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মতো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ পদ্ধতি চালু হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ের পর আসামিদের হট্টগোল, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল করেছেন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা।

দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা পরে ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কি করেন।

এ সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বলেন, আমরা এ রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

এই মামলার ৩০ আসামির মধ্যে তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যর মৃত্যুদণ্ড, অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।

এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিস্তারিত আসছে…