খুঁজুন
শনিবার, ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাহে রমজানের শেষ দশকে শাইখ সুদাইসের বিশেষ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২০, ৪:২২ পূর্বাহ্ণ
মাহে রমজানের শেষ দশকে শাইখ সুদাইসের বিশেষ নির্দেশনা

মক্কা-মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইস।

পবিত্র মাহে রমজানের শেষ দশক উপলক্ষ্যে মক্কার মসজিদুল হারামে মক্কা-মদিনা বিষয়ক অধিদফতরের প্রেসিডেন্ট শাইখ আব্দুর রহমান সুদাইস গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।

বুধবার এশার পর মসজিদুল হারামে রমজানের শেষ দশকের আগমনে গুরুত্বপূর্ণ নসিহত প্রদান করেন।

তার বক্তব্যের চুম্বুকাংশ পাঠকের জন্যতুলে ধরা হলো-

আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলের ওপর দরুদ পাঠ করছি। শেষ দশকের আগমনে সবার প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ রইলো। আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলীর মাধ্যমে তার কাছে ফরিয়াদ করছি, তিনি যেন এই শেষ দশককে আমাদের সকলের জন্য বরকতের কারণ বানান।

আর আমাদের দিনের রোজা এবং রাতের নামাজকে কবুল করে নেন। সঙ্গে যেন লাইলাতুল কদরে ইবাদত ও তা পাওয়ার সৌভাগ্য দান করেন। যারা পূণ্যময় এই রজনীতে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে দাঁড়াবে, তাদের অর্ন্তভূক্ত করেন।

প্রিয় মুসলমানগণ!

রমজানের শেষ দশ দিনের মর্যাদার কথা আমাদের কারোরই অজানা নয়। এ সময়টি রাসুল (সা.) ইবাদতের জন্য নির্ধারণ করতেন, যেমনটি অন্য দিনকে করতেন না।

হজরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) রমজানের শেষ দশকে এতো পরিমাণ ইবাদত করতেন, যেমনটি তিনি অন্য সময় করতেন না। (মুসলিম: ১১৭৫)

অন্য এক হাদিসে হজরত আয়েশা (রাজি.) হতে বর্ণিত, যখন রমজানের শেষ দশকের আগমন হতো, রাসুল (সা.) সেসব রাত্রিগুলোতে বিনিদ্র থাকতেন, পরিবারের লোকদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলতেন এবং (অধিক আমলের জন্য) শক্তভাবে কোমর বেঁধে নিতেন। (বুখারী: ২০২৪)

তাই, আমাদের জন্য অধিকতর সমীচিন হলো শেষ দশকের দিন-রাতের পুরো সময়কে কাজে লাগানো।

এসব রাতের মাঝে লাইলাতুল কদর নামে একটি মহিমন্বিত রাত রয়েছে, তা হাজারো মাস অপেক্ষা উত্তম। তাই এই রাতকে পেতে যথাযথভাবে রোজা পালন, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, কল্যানমূলক কাজ, দান-সদকা এবং দোয়ার মাধ্যমে এ সময়গুলোকে মূল্যবান করতে হবে।

শেষ দশ দিনে আমরা যেন বেশি বেশি দোয়ায় আগ্রহী হই। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! কোন রাতটি লাইলাতুল কদর আমি যদি তা বুঝতে পারি; তাহলে সে রাতে আমি কি দোয়া করব?

রাসুল (সা.) বললেন, তুমি এই দোয়া করবে, আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফা’ফু আন্নী’। অর্থাৎ হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল-মহানুভব। আপনি ক্ষমা কতে ভালোবাসেন; তাই (অনুগ্রহপূবর্ক) আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজী: ৩৫১৩)

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া। এই দোয়াটি অধিক পরিমাণে পাঠ করা উচিত। আর আমাদের উচিত হলো নিজেদের জন্য দোয়া করা এবং সব মুসলমানদের জন্য দোয়া করা; যাতে আমাদের উপর আপতিত এ মুসিবত বিদায় নেয়।

হে মুসলিমগণ! বরকতের এ দিনগুলোতে আমাদের উচিত হলো সময়ের প্রতি যত্মবান হওয়া। কারণ সময় হলো সংরক্ষণের বিবেচনায় অতি মূল্যবান বস্তু। আর আমরা খুব সহজেই তা বিনষ্ট করে ফেলি।

আজ সবচেয়ে প্রবঞ্চনা ও দূর্ভাগ্যের কারণ হলো, লোকজন আজ এমন কাজে নিজেদের সময় নষ্ট করে, যাতে তার কোন লাভ নেই। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আমাদের আরো সতর্ক থাকা উচিত।

তাই আমাদের কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, তাওবা, ইসতেগফার এবং দোয়ার প্রতি মনোনিবেশ করা দরকার।

আল্লাহর ইরশাদ, ‘(হে নবী) আর আমার বান্দারা যখন আমার ব্যাপারে আপনার কাছে জিজ্ঞেস করে, বস্তুত আমি তাদের সন্নিকটেই আছি। প্রার্থনাকারী যখন প্রার্থনা করে, তখন আমি তার প্রার্থনা কবুল করে থাকি। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎ পথে আসতে পারে।’ (সূরা বাকারা: ১৮৬)

দোয়া মুমিনের মহান হাতিয়ার। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্বে চলমান করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সংকট হতে উত্তরণের জন্য।

এসব দিনে মসজিদুল হারামে লাখো মুসল্লি ইতেকাফের জন্য অবস্থান করতেন। বর্তমান প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে না আসতে পারলেও নিঃসন্দেহে তারা সেসব আমল ও সওয়াবের ভাগিদার হবেন।

আমি নিজেকে এবং সকলকে খোদাভীতি এবং বরকতের এই দিন-রাতগুলোতে অধিক পরিমাণে ইবাদতের অসিয়ত করছি।

এসবের ভেতর দিয়ে আশা করি আমরা লাইলাতুল কদর পাবো, ইনশাআল্লাহ এবং জাহান্নাম হতে মুক্তির পরোয়ানাও পেয়ে যাবো।

পরিশেষে আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তিনি আমাদের আমলসমূহকে কবুল করে নেন এবং লাইলাতুল কদর প্রাপ্তির সৌভাগ্য দান করেন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে

দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের মঞ্চ প্রস্তুত। ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও ভারত। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ শুধু ট্রফির লড়াই নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও লড়াই। বাংলাদেশের সামনে বিরল কীর্তি গড়ার হাতছানি। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর এবারও শিরোপা জিতলে টানা তৃতীয়বার সাফের চ্যাম্পিয়ন হবেন লাল-সবুজের মেয়েরা। স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা।

ফাইনালে ওঠার পথে দুদলের যাত্রা ছিল ভিন্ন। গ্রুপপর্বে ভারত বাংলাদেশের অপরাজেয় পথচলায় ধাক্কা দেয় ৩-০ গোলের জয়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ছন্নছাড়া দেখালেও সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ২-১ গোলের জয় তুলে নেয় পিটার বাটলারের দল। অন্যদিকে ভারত ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে। ফাইনালের আগে বাংলাদেশ শিবিরে আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। কোচ পিটার বাটলার শুরু থেকেই বলে আসছেন, ভারতের বিপক্ষে তার দল ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামবে। গ্রুপপর্বের পরাজয়কে তিনি দেখছেন শিক্ষার অংশ হিসাবে। তার বিশ্বাস, ভারতের আক্রমণাত্মক ফুটবল বাংলাদেশের জন্য পালটা আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সেই কৌশল রপ্ত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে দল। বাংলাদেশের ফুটবলাররাও জানেন, ফাইনাল একেবারেই আলাদা ম্যাচ। গ্রুপপর্বের ফল এখানে কোনো মূল্য বহন করে না। বড় ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করার সামর্থ্য আগেও দেখিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয় আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ভারতও সতর্ক। কোচ ক্রিসপিন চেত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের মতো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার মতে, ফাইনালে দুদলের সম্ভাবনাই সমান। ভুটানের বিপক্ষে জয় পেলেও নিজের দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন তিনি। ভারতেরও লক্ষ্য নিজেদের সেরাটা উপহার দেওয়া।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন দুদলের তারকা ফুটবলাররা। বাংলাদেশের আক্রমণভাগে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর থাকবে বাড়তি দায়িত্ব। ভারতের আশা থাকবে সানফিদা নংরুম, মালাভিকা এবং গোলরক্ষক পন্থোই চানুকে নিয়ে।

একদিকে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে ভারতের হারানো সিংহাসন পুনরুদ্ধারের আকাক্সক্ষা। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে গোয়ার ফাইনাল আজ রূপ নেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণে। অপেক্ষা শেষ বাঁশির। কার হাতে উঠবে সাফের সোনালি ট্রফি। কার মাথায় শোভা পাবে দক্ষিণ এশিয়ার রানির মুকুট।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮টি পুশইন অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধভাবে পুশইনের ৮টি পৃথক অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি।

শনিবার (৬ জুন) সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের (৫৮ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ যাদবপুর সীমান্তে ৩ জন ব্যক্তি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল সীমান্তের শূন্য লাইনে অবস্থান নিয়ে তাদের বাধা প্রদান করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ করমুডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় ভারত কর্তৃক ১৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করা হয়। বিজিবি টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বড়খাতা ও পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ২১ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ফলে তাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেনি।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (১৫ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ দিঘলটারী সীমান্ত এলাকায় ৭ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হলে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। একই ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বর্তমানে উক্ত ব্যক্তিরা ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় অবস্থান করছে এবং বিজিবি সেখানে নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় ভারত থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে সীমান্তের কাঁটাতারের বাইরে এনে অবস্থান করায়। এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফ উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করলেও তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বিজিবি বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

এছাড়া নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের মহাদেব থানাধীন বলিশী গিতারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্বে জড়ো করে রাখা ১৬-১৭ জন ব্যক্তিকে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেখান থেকে সরিয়ে লেংগুড়া সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফের চিকনী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিজিবি উক্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করছে যে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি কোনো ধরনের পুশইন প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা

হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ ভূপাতিত করার দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, ড্রোনগুলো ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত করার পর পরবর্তী সম্ভাব্য হামলা রুখতে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশনগুলোতে যৌথ হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী।

তবে এই হামলার ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কয়েক দিন আগে হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নতুন করে এই উত্তেজনা দেখা দিল। এতে দুই দেশের মধ্যে থাকা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

তবে বিমান বন্দরে এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার (ইন্টারসেপ্টর) ভুলের কারণেই এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

সেন্টকম অবশ্য ইরানের এই দাবিকে মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান পরিকল্পিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অন্যায়ভাবে কুয়েতের ওই বিমানবন্দরে এই হামলা চালিয়েছে।

এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির আলোচনা যখন পুরোপুরি স্থবির এবং যুদ্ধ অবসানের চুক্তিটি যখন আলোর মুখ দেখছিল না, ঠিক তখন আবার এই হামলার ঘটনা ঘটল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ব্যাপক বিমান হামলা চালালে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যে পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হয়। ইরানের এই পদক্ষেপের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বেড়ে যায়।

গত এপ্রিলের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পরপরই ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছানো, তা প্রত্যয়িত করা এবং চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগপর্যন্ত এই বন্দর অবরোধ কর্মসূচি পুরোপুরি বহাল থাকবে।