খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ কি মৃত্যুপুরীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Friday, 29 May, 2020, 4:36 pm
বাংলাদেশ কি মৃত্যুপুরীর দিকে অগ্রসর হচ্ছে?

অ আ আবীর আকাশ:খুব দ্রুতই বুঝি বাংলাদেশ মৃত্যুপুরীতে রূপান্তরিত হতে যাচ্ছে? মানুষের হেয়ালিপনায় মহামারী ভাইরাস ঝড়ের বেগে ছুটছে। করোনা জাল বিস্তার লাভ করছে দেশের আনাচে-কানাচে, পল্লী-গ্রাম-গঞ্জের পরতে পরতে,চর- চরাঞ্চল, নদীতে বসবাস করা বেদে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কোন শ্রেণি-পেশার মানুষ বাদ যাচ্ছে না এই ছোঁয়াচে বালাই থেকে। চরম দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে ঈদ-উল ফিতরের দিনেই খবর এসেছে একদিনে বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এই ঘাতক ভাইরাসের সংক্রমিত হয়ে। মহান আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কোন উপায় নেই। করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে মর্মে প্রতিদিনই খবরে আসতে থাকে। এদেশ ওদেশ করে প্রকৃতপক্ষে এখনো চূড়ান্ত প্রতিষেধক কোন দেশেই আবিষ্কৃত হয়নি। তবে আভাস যে হারে আসছে তাতে করে খুব শিগগিরই আশা করা যাচ্ছে যে এ প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হবেই ইনশাল্লাহ।

অতীতে এরকম বহু প্রাণঘাতী ভাইরাস ছিল, তার সবগুলো ভাইরাস এখন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে প্রতিষেধক আবিষ্কারের মাধ্যমে। আল্লাহর রহমতে বিশ্বের সব নামিদামি গবেষণাগারেই রাতদিন করে এই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের নিরন্তর প্রয়াস চলছে।

সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসনিক নির্দেশনা মেনে চলার মন ও মানসিকতা আমাদের হারিয়ে গেছে। তবে কেন তা বোঝা যায় না। তাহলে কি আমরা চোখের সামনে চরম অবহেলায় আত্মীয়-স্বজনদের মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী চরম অবহেলা দেখতে যাচ্ছি? পরম আপন জনের মৃত্যুতে শোক সন্তপ্ত প্রকাশ না করে আতঙ্কের মাধ্যমে দিনযাপন করতে যাচ্ছি? আমাদের মন-মানসিকতা ভালোবাসা স্নেহ মায়া-মমতাকে বিসর্জন দিয়ে দিনকে দিন পাথরে পরিণত হতে যাচ্ছি? তবে কি হবে আমাদের! কি হবে পরিবার-পরিজনের? কি হবে সমাজ ব্যবস্থার? কি হবে রাষ্ট্রব্যবস্থার? এর থেকে উত্তরণের পথ কী আমাদের জানা আছে?

একদিকে যেমন জনগণ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করে না, কোন বাধা, নিষেধ মানতে চায় না অপরদিকে সরকার ব্যবস্থায় যেসব নির্দেশনা দেয়া হয় তা জনগণের মাঝে তেমন একটা প্রয়োগ হতে দেখা যায় না। যেমন লকডাউন দিনে কোনরকম থাকলেও রাতে তেমনটা মানা হয়না। হোম কোয়ারেন্টিন মানা হয়না। ঘরে থাকে না, জনগণ দলাদলি-জমায়েত, দোকানপাট, প্রকাশ্যে চলাফেরা, কোনটাই ঠেকানো সম্ভব হচ্ছেনা। আইন-কানুন যেমন মানা হচ্ছে না তেমনি চলাফেরা স্ববিরোধী হওয়াতে নিজের বিপদ, পরিবার-পরিজনের বিপদ, পরম আপনজনের বিপদ হাতে ধরে নিজেরাই আনছে ডেকে। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে! স্বাধীনতার সময়ে পশ্চিমাদের হামলায় এদেশে মানুষের মৃত্যু হয়েছিল নির্বিচারে পাখির মতো, লাশের পর লাশ পড়েছিল, কবরস্থ করার কেউ ছিলনা। শেয়াল কুকুরের আহারে পরিণত হয়েছিল মানুষ! আমরা কি সেরকম পরিস্থিতির দিকে অগ্রসর হচ্ছি?

শপিং মল মার্কেট দোকানপাট খোলার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা শিথিল করার সিদ্ধান্ত খুবই বিপদজনক হয়েছে। যে বা গোষ্ঠীর সুবিধার্থে এমন সিদ্ধান্ত শিথিল করা হয়েছে তা মোটেও সঠিক হয়নি। গার্মেন্টস মালিক সমিতির চাপে হোক বা শিল্পপতিদের চাপেই হোক এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সরকারের ঠিক হয়নি। ২৪ ঘন্টায় যেখানে পুরো দেশে প্রায় শ’খানেক করোনা শনাক্ত হতো সেখানে গার্মেন্টস শপিংমল মার্কেট খোলার সাথে সাথেই দুই হাজার ছাড়িয়ে যায় করোনা শনাক্ত রোগী।এ বড় খারাপ খবর নিঃসন্দেহে।

পুঁজিবাদ সুদি ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের আরো মোটা লাভের জন্য লকডাউন শিথিল করে আপামর জনসাধারণকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে বৈকি। এর প্রতিবাদ করার ক্ষমতা কারোর নেই এই দুঃসময়ে। তবে কেউ কেউ হয়তো বিষয়টি টের পেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বোধহয়।

ঈদের ছুটি ঘোষণা করে সরকারি সিদ্ধান্ত এসেছে গণপরিবহন বন্ধ তবে ব্যক্তিগত পরিবহনে মানুষ বাড়ি যেতে পারবে। এ সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে এইজন্য, যে মন্ত্রী বলেন -‘ নিজস্ব পরিবহনে বাড়ি যাওয়া যাবে তবে গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।’ অপরদিকে পুলিশের আইজি বেনজীর আহমেদ বলেছেন -‘ কেউ যেন ঈদের ছুটিতে বাড়ি না যায়। যে যেখানে আছে সেখানেই থাকবে।’ তবে কার নির্দেশনা মানবে জনগণ?

অপরদিকে বড় দুঃখ জাগিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। অর্থাৎ শ্রমজীবী অসহায় মানুষগুলো এসব সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য। ধনীরা নিজস্ব গাড়ী হাঁকিয়ে অসহায় মানুষের চোখে মুখে ধুলো উড়িয়ে গ্রামে যাবে শরীর জুড়াতে, ছেলেমেয়ে মা-বাবা ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনের কাছে যেতে না পেরে শ্রমজীবী অসহায় মানুষেরা হাঁসফাঁস করবে, নিজেকে ধিক্কার দেবে ‘কেন তারা গরীব হয়ে জন্মেছে’? এই কি তবে দেশ? এই কি তবে রাষ্ট্রব্যবস্থা? যাদের নিজস্ব গাড়ি আছে তারাই বাড়ী যাবে যাদের নেই তারা যেতে পারবেনা গ্রামে। প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় সরকারের ভেতরে এমন সিদ্ধান্ত কে দিয়েছেন ও কেমন করে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তিনি? সাধারণ মানুষের কথা একটুও ভাবেননি। তিনি কি বাংলাদেশে কতজন মানুষের গাড়ি আছে তার হিসাব রাখেন?

এই বিষয়ে একটা গল্পের কথা মনে পড়ে। এক রাজ্যের রাজা ও মন্ত্রীর কথার সাথে মিলে যায় এমন সিদ্ধান্তগুলো। রাজা তার মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন -‘মন্ত্রী আপনি তো রাজ্যের সকল কিছুর হিসেব রেখেছেন ঠিকঠাক? মন্ত্রী মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলেন -‘জি হুজুর’। রাজা প্রশ্ন করলেন তাহলে বলুনতো -এ রাজ্যে কতগুলো পাখি আছে? মন্ত্রী খানিকটা থ বনে গেলেন। চতুর মন্ত্রী পরক্ষণেই সরব হয়ে বলে উঠলেন -‘সে হিসেবেও আমি দেখেছি হুজুর,আপনার রাজ্যে বেতাল্লিশ হাজার তেতাল্লিশ’শ চোতাল্লিশটি পাখি আছে। এর চেয়ে একটা কম হলে বুঝবেন অন্য এলাকায় বেড়াতে গিয়েছে আর একটা বেশি হলে বুঝবেন অন্য এলাকা থেকে এলাকায় বেড়াতে এসেছে।’

এমন চতুর মন্ত্রী বাংলাদেশে অনেকেই রয়েছেন। মুক্তমত প্রকাশে সেসব মন্ত্রী সবসময় বাধা হয়ে দাঁড়ান। তারা আইনজারি করেন একের পর এক। গলা টিপে ধরেন মুক্তমনাদের, যেন দ্বিতীয় কেউ আর সাহস না করে মত প্রকাশে।

হোম কোয়ারেন্টিন ও লকডাউন শব্দ দুটো করোনাভাইরাস এর সাথে নতুন করে বাংলাদেশের মানুষ শুনতে শুরু করেছে। এর আগে বোধ হয় এত প্রচলিত ছিল না। আগে অনেক কলামে আমি এ শব্দদুটো নিয়ে বলেছি। বাঙালি শব্দ-দু’টো তেমন বোঝেনা। না বুঝলে দেশে করোনা ভাইরাস ছড়াবে দ্রুত গতিতে। সত্যিই, তাই হয়েছে। বাঙালিকে বোঝাতে হলে কারফিউ জারি করতে হবে। অনির্দিষ্টকালীন সময়ের জন্য যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে তেমনি করে গার্মেন্টস শপিং মল মার্কেট কল কারখানা সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে দেশে কি পুরো এক মাসের জন্য কারফিউ জারি করা যাবে না? যদি পুরো একমাস কারফিউ জারি করা যায় তাহলে শীঘ্রই করোনা শনাক্ত শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এক মাসের আহারের অভাবে কোন ব্যক্তি মারা যাবে না। কমবেশ সবার ঘরেই অন্তত এক মাসের খাদ্য মজুদ আছে। যদি নেহাত প্রয়োজন হয় প্রশাসনকে জানালে তা যদি ব্যবস্থা করা যায়, আমার বিশ্বাস বাংলাদেশ করোনা পূর্বের পরিবেশে ফিরে যেতে পারবে। মানুষ না খেয়ে থাকতে রাজি তবু পুঁজিবাদের লালসায় গার্মেন্টস কলকারখানা শপিং মল খুলে চরম অবহেলায় দুর্ভাগ্য নিয়ে মরতে চায় না।

লেখক : কবি প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল
২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2
Feb2

রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 7:52 pm
রাঙ্গুনিয়ায় রাহাতিয়া দরবারে জশনে জুলূস ও মীলাদ মাহ্ফিল

আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ প্রাঙ্গণ থেকে ৯ রবীউল আউয়াল ২৩ আগস্ট সকাল ১১ টায় পবিত্র জশনে জুলূসে ঈদে মীলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও মীলাদ মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জুলূসে নেতৃত্ব দেন রাহাতিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন, পীরে কামিল শাহ্ সূফী আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ আবুল বয়ান শাহ্ নঈমী আশরাফী নকশবন্দী (মু.যি.আ.)।

রাঙ্গুনিয়া রাহাতিয়া দরবার শরীফ যিয়ারতের মাধ্যমে জুলূস শুরু হয়। রাঙ্গুনিয়া সরকারি কলেজ রোড হয়ে রাহাতুল্লাহ্ নকশবন্দী সড়ক হয়ে মরিয়ম নগর চৌমুহনী শাহী জামে মসজিদ সামনে সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও মুনাজাত হয়। পুনরায় কাপ্তাই সড়ক প্রদক্ষিণ করে রাঙ্গুনিয়া কলেজ গেট হয়ে
রাহাতিয়া দরবার শরীফ পার্শস্থ রাহাতিয়া শাহী ঈদগাহ্ ময়দানে এসে জড়ো হয়। জুলূসে অংশ নেওয়া সুন্নী জনতার হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার পতাকা, প্লেকার্ড ও ফেস্টুন।

জলূসে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে “ইয়া নবী সালাম আলাইকা”, “মুস্তফা জানে রহমত পেহ্ লাখো সালাম” ইত্যাদি হামদ, না’তে রাসূল (সা.) এবং “না’রায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবর”, “না’রায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ্ (দ.)”।

রাহমাতুল্লিল আলামীন (সা.)-এর শুভাগমণের শুকরগুযার সম্পর্কিত স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

রাহাতিয়া দরবার শরীফের নায়েবে সাজ্জাদানশীন, পীরযাদাহ্ মাওলানা সৈয়্যদ মুহাম্মদ গোলাম রসুল শাহ্ নঈমী (মু.যি.আ.)-এর সার্বিক তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায় এতে প্রধান মেহমান ছিলেন ভারত থেকে আগত পীরযাদাহ্ মাওলানা মুহাম্মদ বায়েজীদ আশরাফী।

বক্তব্য রাখেন আনজুমান-এ আহলে তাসাওউফ বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা গাজী মুঈনুদ্দীন রিজভী, বায়েজীদ দায়রায়ে মঈনিয়া রহমানিয়ার মুনতাজিম, মাওলানা মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আশরাফী মাইজভান্ডারী, বাংলাদেশ সূফীবাদী ঐক্য ফোরাম বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ রানা, আনজুমান-এ রাহাতিয়া বিসমিল্লাহ্ শাহ্ বয়ানিয়ার মহাসচিব মুহাম্মদ নঈম উদ্দিন প্রমুখ।

না’তে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন শায়ের ওমর ফারুক ইরন, শায়ের আলভী হাসান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, না’তে রাসূল (সা.) শেষে মীলাদ, ক্বিয়াম ও মুনাজাতের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্’র শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দু’আ করা হয়।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 2:52 pm
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করার নামে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

তিন সাংবাদিক হলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এ মামলায় তিনজনকেই গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চান তিনি।

শুনানি শেষে প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করে শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন তাকে প্রশ্ন করার নামে কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন কয়েকজন সাংবাদিক। এর পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা ও রাজাকারের নাতিপুতি বলেছিলেন শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই উসকানিমূলক প্ররোচনার ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়। এ মামলায় ১৪ জুলাইয়ের ওই ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 24 August, 2026, 1:11 pm
নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ জন খালাস

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড, ১০ আসামিকে খালাস ও চার আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে যে দুই আসামির তারা হলেন-সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা (৫৭) এবং শাহাদাত হোসেন শামীম(২০)।

আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দিয়েছিলেন। রায়ে মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।