খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রাণ ভিক্ষা নয়, চিকিৎসা সহায়তা চাই;চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট সুজনের করুণ আকুতি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২০, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
ত্রাণ ভিক্ষা নয়, চিকিৎসা সহায়তা চাই;চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট সুজনের করুণ আকুতি

খোরশেদ আলম সুজন

করোনা দুর্যোগের সময় বাংলাদেশ অর্থনীতির হৃৎপিন্ড খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের অমানবিক নিস্পৃহতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি আজ সোমবার (১ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগলিক সুবিধার উপর গড়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দরের হাত ধরে বাংলাদেশ সম্পদের সমৃদ্ধির উচ্চশিখরে আরোহণ করেছে। বন্দরের আয় দিয়েই অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। কিন্তু বাপ-দাদার ভিটেমাটির বিনিময়ে যেই বন্দর তৈরি, চট্টগ্রামবাসীর কোনো বিপদ আসলে সেই বন্দরের দরজা সাধারণত বন্ধই থাকে।

তিনি বলেন, অনেক চট্টগ্রামবাসীই বাপ-দাদার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে, তবু তাদের মনে সান্তনা, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ জাতীয় সমৃদ্ধির উচ্চসোপানে আরোহন করছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনাকালে এখন পৃথিবীর বাকি দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশও বিপর্যস্ত।

সুজন বলেন, আমাদেরই চট্টগ্রাম নগরী এখন করোনা হটস্পটে পরিণত হয়েছে। শত শত চট্টগ্রামবাসী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে প্রত্যহ, প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। চট্টগ্রাম বন্দরেরই পাঁচজন কর্মচারী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট মানুষ এই পর্যন্ত মারা গিয়েছে করোনাক্রান্ত হয়ে। ঘরে ঘরে যখন দূর্যোগরূপী করোনা মৃত্যুর কড়া নাড়ছে, তখন চট্টগ্রামবাসীর আত্মত্যাগে প্রতিষ্ঠিত বন্দর যাদের হাজার কোটি টাকা অলস পড়ে আছে, তারা এই দুর্যোগে সামান্য মানবিক সহযোগিতা দেখায়নি কাউকে। যেটি খুবই দুঃখ, ক্ষোভ ও লজ্জার বিষয়। চট্টগ্রাম বন্দরের এই নীরব অবহেলা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন চট্টগ্রামের মানুষ বন্দরের কাছে ত্রাণ ভিক্ষা চায় না। এই চরম দুর্যোগের সময় মানুষ আশা করে যে মানুষের জীবন বাঁচাতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের হাজার কোটি টাকার সম্পদ হতে কিছু অর্থ চিকিৎসা সহযোগিতায় ব্যয় করবে। বন্দরের অলস পড়ে থাকা হাসপাতালের দরজা চাইলেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষেই সম্ভব।

এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত হাসপাতালে বন্দরের কর্মচারীদের জন্য কিছু সংখ্যক সিট সংরক্ষিত রেখে বাকি সিটগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। বেসরকারী উদ্যোগে পরিচালিত মা ও শিশু হাসপাতালের বিশাল ভবন ৫০০ রোগী ধারনের ক্ষমতা রাখে, কিন্তু উপযুক্ত সহযোগিতার অভাবে খালি পড়ে রয়েছে। হাসপাতালে করোনা সংকটকালীন যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়ে বন্দরের তহবিল হতে ব্যয়ভারও গ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া বন্দর সংশ্লিষ্ট ও বন্দরে চাকুরিরত প্রত্যেক শ্রমিকের পৃথক নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান জনাব সুজন। এই করোনা মহামারির সময় যেসব বন্দর কর্মচারী প্রাণ হারিয়েছেন তাদের পরিবারকে উপযুক্ত সহায়তার আহ্বানও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় সমৃদ্ধির মূলকেন্দ্র। উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জনগনের আকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা রয়েছে, প্রত্যাশা পূরণে বন্দরের মানবিক সাড়াও প্রত্যাশা করেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

আমিরাতে প্রবাসী সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
আমিরাতে প্রবাসী সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি গঠন

ইউএই প্রতিনিধি : সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন “প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি (প্রসাস)”-এর ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কমিটিতে ডিবিসি নিউজ ও ডেইলি অবজারভারের আরব আমিরাত প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম তালুকদার পুনরায় সভাপতি এবং বাংলা টিভি ও সিপ্লাস টিভি প্রতিনিধি এম আব্দুল মান্নান পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-
সহ-সভাপতি নাসিম উদ্দিন আকাশ (দৈনিক সূর্যোদয়), সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ছালাহউদ্দিন (দৈনিক ইনকিলাব), সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন সিকদার (বিবিসি একাত্তর), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন মান্না (প্রবাসের প্রহর), দপ্তর সম্পাদক মইনুল ইসলাম তালুকদার (ডিবিসি নিউজ, আবুধাবি), প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক মানিক (৫২ টিভি), সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম (বঙ্গ টিভি), অর্থ সম্পাদক ওবায়দুল হক (দৈনিক দেশকাল), সহ-অর্থ সম্পাদক নুরুল্লাহ শাহাজাহান খান (কে টিভি), সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুব সরকার (বিশ্ব বাংলা টিভি), তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সাহেদ ছরোয়ার (কলম টিভি, কলম বিডি নিউজ)।
এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন- মোহাম্মদ আলী রেজা (ঢাকা গেজেট), আব্দুল মান্নান (চট্টগ্রাম মঞ্চ), আলী রশিদ (নিউজ ২৪ চট্টগ্রাম), মো. আরমান চৌধুরী (দৈনিক আমার সময়) এবং আরশাদুল হক (দৈনিক সূর্যোদয় দুবাই)।

সভায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী সাংবাদিক সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রথম সংগঠন হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা ও অধিকার নিয়ে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত প্রবাসীদের পাশে থেকে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের কল্যাণে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শত ব্যস্ততার মাঝেও মানবিকতার আলো ছড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ
শত ব্যস্ততার মাঝেও মানবিকতার আলো ছড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদ

ব্রেইন স্ট্রোকের পর কিডনিতে পাথর। শরীরের একের পর এক জটিলতা, সঙ্গে চরম অর্থকষ্ট। এমনকি মাথা গোঁজার ঘরটিও বৃষ্টির সময় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। জীবনের এমন কঠিন বাস্তবতায় চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে না পেরে শেষ আশ্রয় হিসেবে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছিলেন মোঃ মনির উদ্দিন। সেই আবেদনেই মিলেছে মানবিক সাড়া।

চট্টগ্রামের পাঠানটুলী রোডের মরহুম রাজা মিয়া ও মোস্তফা খাতুন দম্পতির ছেলে মনির উদ্দিন। পরিবহন শ্রমিক হিসেবে পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করছিলেন তিনি। কিন্তু গত ১৫ মে ২০২৫ হঠাৎ ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাঁর জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। ধারদেনা করে চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। পরে অর্থ সংকটের কারণে নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে পারেননি।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ডা. মোঃ কামরুল হাসানের শরণাপন্ন হন মনির উদ্দিন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর কিডনিতে পাথর হয়েছে এবং দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন। কিন্তু অপারেশনের ব্যয়ভার বহনের মতো সামর্থ্য ছিল না তাঁর।

এরপর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন মনির উদ্দিন। আবেদন নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে দেখা করলে শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন গ্রহণ করেই দায়িত্ব শেষ করেননি তিনি।

ব্যস্ততার মাঝেও ধৈর্য নিয়ে মনির উদ্দিনের কষ্টের কথা শোনেন জেলা প্রশাসক নিজেই। খোঁজ নেন তাঁর পরিবারের সদস্যদের, জানতে চান সংসারের বর্তমান অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে মনির উদ্দিনের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তিনি।

এ বিষয়ে মনির উদ্দিন বলেন, “ডিসি স্যার তাঁর ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে দীর্ঘক্ষণ সময় দিয়েছেন। আমার কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। আমার মতো একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন—এটাই আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া।”

মনির উদ্দিনের স্ত্রী আসমা আক্তার বলেন, “স্বামীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি। কিন্তু আশানুরূপ সাহায্য পাইনি। আজ আমার ভাতিজা তারেক হোসেনের সঙ্গে ডিসি স্যারের কাছে যাই। ডিসি স্যার আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাধ্যমতো সহায়তা করেছেন। আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অলি আহম্মেদ বলেন, “এই ডিসি স্যার সব সময় অসহায়, গরিব ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাই গত বুধবার সড়ক নিরাপত্তা দিবসের অনুষ্ঠানে স্যারকে অনুরোধ করেছিলাম মনির উদ্দিনকে সহায়তা করার জন্য। সে অনুযায়ী আজ মনির উদ্দিন তার ভাতিজা তারেক হোসেনকে সাথে নিয়ে ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা সহায়তা দেন।”

তিনি আরও বলেন, “ডিসি স্যার সত্যিই একজন মানবিক জেলা প্রশাসক। আগে অন্যদের মুখে শুনেছি, আজ নিজেই তার প্রমাণ পেলাম।”

স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অসহায় মানুষের ব্যক্তিগত দুর্দশার কথা ধৈর্যসহকারে শোনা, পরিবারের খোঁজ নেওয়া এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা করা মানবিক প্রশাসনের অনন্য উদাহরণ।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জনবান্ধব ও ব্যতিক্রমী নানা উদ্যোগের কারণে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অসুস্থ পরিবহন শ্রমিক মনির উদ্দিনের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাও সেই মানবিক প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে চালু হচ্ছে ‘ল্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস’

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে চালু হচ্ছে ‘ল্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস’

সরকারের ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি বলেছেন, ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই ‘ল্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস’ চালু করা হবে। নতুন ল্যান্ড কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসের মাধ্যমে ভূমিসেবা নিয়ে যে কোনো অভিযোগ অনলাইনে করা যাবে। অভিযোগ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারী এসএমএসের মাধ্যমে প্রাপ্তিস্বীকার বার্তা পাবেন। পরবর্তীতে তদন্তের অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত ফলাফলও তাকে জানিয়ে দেওয়া হবে। এতে ভূমিসেবার মান উন্নয়ন ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।

আজ ২১ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা ২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিসেবা মেলার এবারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল-‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।

মেলায় ১০ জন ভূমিহীনকে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের কবুলিয়ত ও সেবা প্রত্যাশীদের হাতে খতিয়ান এবং মেলা উপলক্ষে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভূমিসেবা সংশ্লিষ্ট আবৃত্তি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লোক সংগীত ও নাট্যধারা-গম্ভীরা পরিবেশন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন,জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব হলো তাদের সম্মান, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা প্রদান করা। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, জনগণ যেন সরকারি দপ্তরে এসে সেবার মান ও আন্তরিকতা অনুভব করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করতে হবে।

মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, বর্তমানে দেশের ১৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নামমাত্র ফি দিয়ে অনলাইন ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও ডিজিটাল সেবার আওতায় আসছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ লেনদেন ইতোমধ্যে ই-পেমেন্ট ব্যবস্থার আওতায় এসেছে। পাশাপাশি কৃষিজমি ও বনভূমি সংরক্ষণে ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমির শ্রেণি অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ভূমি খাতে দুর্নীতি কমানো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেবা সহজীকরণ এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে । প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ভূমিসেবাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করা হবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে ও বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ভূমিসেবা মেলা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মনিরুজ্জামান ও চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক-অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাখাওয়াত জামিল সৈকত। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেবাগ্রহীতা, প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ, মানবাধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এবারের ভূমিসেবা মেলায় জেলার ১৫ উপজেলা ও বিভাগীয়-জেলা পর্যায়ের মেলায় ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ভূমি উন্নয়ন কর আদায় করা হয়েছে, জেলা প্রশাসন এতে সহযোগিতা করেছে। প্রায় ১০ হাজার সেবাপ্রত্যাশী মেলায় এসে সরাসরি সেবা নিয়েছে। মেলায় ১০ জন ভূমিহীনকে কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের কবুলিয়ত ও সেবা প্রত্যাশীদের হাতে খতিয়ান বিতরণ করা হয়েছে।

সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় মোট ১২টি স্টলে ভূমি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সেবা প্রদান করা হয়েছে।