খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২০, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়:সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি শনিবার (২০ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মত প্রকাশ করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নিকট অনুরোধ জানিয়েছিলাম চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় মানবতার হাত প্রসারিত করার জন্য। আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস.আলম গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যেভাবে মানবতার কাজে এগিয়ে এসেছেন সেজন্য তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় চট্টগ্রামের আরো অনেক বড়ো বড়ো শিল্পগ্রুপ এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যারা চট্টগ্রাম থেকে হাজার কোটি টাকা আয় করেছে অথচ নগরবাসীর এ দুঃসময়ে তাদের রহস্যজনক নীরবতা চট্টগ্রামবাসীকে প্রচন্ডভাবে হতাশ করেছে। তাদেরকে লোভের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজস্ব চিন্তা ভাবনায় চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাড়ানোর উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

তাছাড়া দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানী বিজ্ঞাপনের জন্য শত শত কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। বিভিন্ন উৎসবেও তাদের খরচের মাত্রা আমাদের অবাক করে। কিন্তু সেই মোবাইল কোম্পানীগুলোও জনগনের চিকিৎসা সেবার সংকটময় এ মূহুর্তে জনগনের পাশে নেই। কতোখানি নিষ্টুর নির্দয় বিবেকের মানুষ হলে মানুষের সংকটময় এ মূহুর্তে নীরব থেকে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে? এদের দুঃখজনক নীরবতাও আমাদেরকে ব্যথিত করছে। তাদের প্রতিও আমাদের অনুরোধ থাকবে।

চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। সংক্রমণের দিক থেকেও চট্টগ্রামের মাত্রা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই চট্টগ্রামের মানুষকে বাঁচাতে আপনারা আর নিঃশ্চুপ হয়ে বসে থাকবেন না। এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করুন, আপনার উদ্যোগী হলে নিশ্চয়ই চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার দুর্দশা কিছুটা লাঘব হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। এছাড়া নগরবাসী সোচ্চার হওয়ার ফলে চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কিছুটা গতি এসেছে যেটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তাছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল এবং আইসোলেশন সেন্টারগুলোও নগরবাসীর চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তবে নগরীর পুরো চিকিৎসা সেবাকে উপযুক্ত সমন্বয় করে এক ছাতার নীচে নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। যাতে করে রোগীর প্রয়োজন মাফিক চাহিদাটি এক ক্লিকেই পেতে পারে রোগীর স্বজনরা।

এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, নগরীর বেসরকারি হাসপাতালসমূহ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কর্তৃক স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল এবং আইসোলেশন সেন্টারে মোট কতখানি আইসিইউ-ভেন্টিলেশন বেড কিংবা সাধারণ বেড রয়েছে তার পরিসংখ্যান সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক একটি ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করারও আহবান জানান তিনি।

রোগী সাধারণের ব্যবহারের পর কয়টা সিট অবশিষ্ট রয়েছে সে তালিকাও যদি রোগীর স্বজনরা চাহিবা মাত্র পেয়ে যায় তাহলে রোগী নিয়ে স্বজনদের হাসপাতালে দ্বারে দ্বারে দৌড়াদৌড়ি অনেকাংশে কমে আসবে বলেও মত প্রকাশ করেন সুজন। তখন শুধুমাত্র চাহিদা মাফিক সেবার জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালেই যোগাযোগ করবেন রোগীর স্বজনরা। এতে করে আইসিইউ-ভেন্টিলেশন নিয়ে চট্টগ্রামের রোগীদের সন্দেহ এবং অবিশ্বাসও নিরসন হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে মত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশিত লকডাউন আজ তিনদিন অতিক্রান্ত হতে চলেছে। দেখা যাচ্ছে যে যেভাবে লকডাউন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা ঠিক সেভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে না। যেভাবে হটলাইনে জনগনের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল সেভাবে কাংখিত সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে জনগনের মনে কিছুটা ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। মানুষের চাহিদামতো জিনিসপত্র এবং ঔষধ সামগ্রী ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে দক্ষ কর্মপন্থা নির্ধারন করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, অনেক অনুনয় বিনয় করা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের ইপিজেডসমূহ তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য নিজস্ব আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন করার কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করেনাই। এতে করে ইপিজেডসমূহে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে অনেকে করোনা উপসর্গ নিয়েই চাকুরি চালিয়ে যাচ্ছে জীবিকার তাগিদে। নিজস্ব আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার না থাকার ফলে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। তাছাড়া ইপিজেড এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহেও ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়ে এক প্রকার অস্বস্তি লেগে রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর নাম করে তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করলেও সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি যাদের শ্রম ঘামে তাদের এতো বিত্ত বৈভব সেই শ্রমিক কর্মচারীদের প্রতিও তাদের কোন প্রকার মমত্ব কিংবা দায়িত্ববোধ নেই।

তিনি গার্মেন্টস মালিকদের হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশা উপলব্দি করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মানবিক ডিসি জাহিদের কাছে সাহায্যপ্রার্থীদের ঢল

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ভিড় বাড়ছেই মানবিক সহায়তা প্রত্যাশী মানুষের। অসুস্থতা, দারিদ্র্য, কর্মহীনতা ও চরম আর্থিক সংকটে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শেষ আশ্রয়ের খোঁজে। এসব আবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে—প্রতিটি কাগজের আড়ালে লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার তীব্র আর্তি।

ক্যানসারে আক্রান্ত লাভলী দাস গুপ্তা ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তার পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পেরে তিনি আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) সারা দেশে মানবিক ডিসি হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে জেনে জেলা প্রশাসক তাকে আর্থিক সহয়তা প্রদান করেন তাৎক্ষণিকভাবে।

৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ সুমন গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন। রোগ নির্ণয়ের জন্য তাকে একাধিক পরীক্ষা করাতে হয়েছে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এসব পরীক্ষার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি এখন আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। জেলার অভিভাবককে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার আর নেই। তাকেও নিরাশ করলেন না মানবিক ডিসি।

একইভাবে ৬৫ বছর বয়সী হাছিনা বেগমও চিকিৎসা ব্যয়ের ভারে ন্যুব্জ। বয়সজনিত অসুস্থতায় ভুগলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে পারছেন না। জীবনের এই শেষ সময়ে চিকিৎসা সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানান জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাকে।

জামিলা বেগম নামের এক নারী জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে হাজির হয়ে ডিসি জাহিদুল ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের আয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস না থাকায় তিনি এখন সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসকের আর্থিক সহয়তা পেয়ে উচ্ছ্বসিত জামিলা।

অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারানোর কথা জানিয়েছেন মো. মনজুর আলম আরেক নাগরিক। আগে উপার্জন করে পরিবার চালালেও বর্তমানে কাজ করতে না পারায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বহনের পাশাপাশি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ জোগানোও এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয় জেলা প্রশাসককে। তার পাশেও দাড়ালেন মানবিক ডিসি।

মো. নুরুল ইসলাম আরেক অসহায় নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। ধার-দেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তিনি জেলা প্রশাসকের জরুরি সহায়তা কামনা করেছিলেন। তাকেও ফিরিয়ে দেননি ডিসি জাহিদুল ইসলাম।

একই নামে আরেক প্রবীণ নাগরিক নিজেকে বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও অসহায় উল্লেখ করে চিকিৎসা সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানান, শারীরিক দুর্বলতা ও অসুস্থতার কারণে তিনি সম্পূর্ণ অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তাকেও নিরাশ করেন নাই ডিসি।

রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বাসিন্দা, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাসরত মো. সামাদ আলী জেলা প্রশাসককে বলেন, দারিদ্র্য ও অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ অসহায় উল্লেখ করে ডিসির সহযোগিতা কামনা করেছিলেন। তাকেও নগদ অর্থ সাহায্য করলেন জেলা প্রশাসক।

গণশুনানিতে জমা পড়া আবেদনগুলোর সার্বিক চিত্রে দেখা যায়, অধিকাংশ আবেদনকারী দীর্ঘমেয়াদি বা জটিল রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারিয়ে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে এ ধরনের আবেদন সরাসরি শোনা হচ্ছে এবং তাৎক্ষণিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রক্রিয়া প্রশাসনকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং জরুরি সহায়তা প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর তারা একান্তে আলোচনা করেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের আঞ্চলিক ও দ্বীপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আজ বিকেলে আতিথেয়তা দিতে পেরে আনন্দিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতে সম্মত।’

গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করে বিএনপি। নতুন সরকারের আমলে এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।

এ শুভেচ্ছা সফরে গতকাল দিল্লিতে পৌঁছান খলিলুর রহমান। ভারতে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

এরপর আজ সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগদান করেন। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে।

২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়ে। তবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আগামী ১১ ও ১২ তারিখ মরিশাসের পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারত সফরে যান তিনি।

বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৯ অপরাহ্ণ
বিসিবিতে বাপের দোয়া, মায়ের দোয়া কমিটি করিনি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কমিটি ভেঙে মঙ্গলবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি। এই কমিটি এখন গোটা বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের আলোচনার বিষয়। এই আলোচনা আজ জায়গা করে নিয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশনেও।

সেখানেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তিনি একজন খেলোয়াড়। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

মূলত, আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবেই এসব কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডসহ সারাদেশের ক্লাবগুলোতে প্রভাব বিস্তার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ইনকোয়ারি করেছে, তদন্তের পর বোর্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। পরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। এখানে বাপের দোয়া মায়ের দোয়া কমিটি করিনি।’

এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বিসিবি এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নাই, এটা এখন বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে পরিণত হয়ে গেছে।’