খুঁজুন
সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়:সুজন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২০, ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময়:সুজন

খোরশেদ আলম সুজন

মানুষ মানুষের জন্য, মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এখনই উপযুক্ত সময় বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

তিনি শনিবার (২০ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ মত প্রকাশ করেন।

এ সময় জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা সুজন বলেন, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আমরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের নিকট অনুরোধ জানিয়েছিলাম চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় মানবতার হাত প্রসারিত করার জন্য। আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস.আলম গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যেভাবে মানবতার কাজে এগিয়ে এসেছেন সেজন্য তাদের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় চট্টগ্রামের আরো অনেক বড়ো বড়ো শিল্পগ্রুপ এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান যারা চট্টগ্রাম থেকে হাজার কোটি টাকা আয় করেছে অথচ নগরবাসীর এ দুঃসময়ে তাদের রহস্যজনক নীরবতা চট্টগ্রামবাসীকে প্রচন্ডভাবে হতাশ করেছে। তাদেরকে লোভের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে নিজস্ব চিন্তা ভাবনায় চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশে দাড়ানোর উদাত্ত আহবান জানান তিনি।

তাছাড়া দেখা যাচ্ছে যে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানী বিজ্ঞাপনের জন্য শত শত কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। বিভিন্ন উৎসবেও তাদের খরচের মাত্রা আমাদের অবাক করে। কিন্তু সেই মোবাইল কোম্পানীগুলোও জনগনের চিকিৎসা সেবার সংকটময় এ মূহুর্তে জনগনের পাশে নেই। কতোখানি নিষ্টুর নির্দয় বিবেকের মানুষ হলে মানুষের সংকটময় এ মূহুর্তে নীরব থেকে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকতে পারে? এদের দুঃখজনক নীরবতাও আমাদেরকে ব্যথিত করছে। তাদের প্রতিও আমাদের অনুরোধ থাকবে।

চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। সংক্রমণের দিক থেকেও চট্টগ্রামের মাত্রা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই চট্টগ্রামের মানুষকে বাঁচাতে আপনারা আর নিঃশ্চুপ হয়ে বসে থাকবেন না। এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করুন, আপনার উদ্যোগী হলে নিশ্চয়ই চট্টগ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য সেবার দুর্দশা কিছুটা লাঘব হবে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। এছাড়া নগরবাসী সোচ্চার হওয়ার ফলে চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থায় কিছুটা গতি এসেছে যেটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তাছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল এবং আইসোলেশন সেন্টারগুলোও নগরবাসীর চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তবে নগরীর পুরো চিকিৎসা সেবাকে উপযুক্ত সমন্বয় করে এক ছাতার নীচে নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের একজন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সরকারের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। যাতে করে রোগীর প্রয়োজন মাফিক চাহিদাটি এক ক্লিকেই পেতে পারে রোগীর স্বজনরা।

এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, মা ও শিশু হাসপাতাল, নগরীর বেসরকারি হাসপাতালসমূহ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কর্তৃক স্থাপিত ফিল্ড হাসপাতাল এবং আইসোলেশন সেন্টারে মোট কতখানি আইসিইউ-ভেন্টিলেশন বেড কিংবা সাধারণ বেড রয়েছে তার পরিসংখ্যান সরজমিনে পরিদর্শন পূর্বক একটি ডাটাবেইজে সংরক্ষণ করারও আহবান জানান তিনি।

রোগী সাধারণের ব্যবহারের পর কয়টা সিট অবশিষ্ট রয়েছে সে তালিকাও যদি রোগীর স্বজনরা চাহিবা মাত্র পেয়ে যায় তাহলে রোগী নিয়ে স্বজনদের হাসপাতালে দ্বারে দ্বারে দৌড়াদৌড়ি অনেকাংশে কমে আসবে বলেও মত প্রকাশ করেন সুজন। তখন শুধুমাত্র চাহিদা মাফিক সেবার জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালেই যোগাযোগ করবেন রোগীর স্বজনরা। এতে করে আইসিইউ-ভেন্টিলেশন নিয়ে চট্টগ্রামের রোগীদের সন্দেহ এবং অবিশ্বাসও নিরসন হবে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

এছাড়া লকডাউন পরিস্থিতি নিয়ে মত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন ১০নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশিত লকডাউন আজ তিনদিন অতিক্রান্ত হতে চলেছে। দেখা যাচ্ছে যে যেভাবে লকডাউন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা ঠিক সেভাবে সামাল দেওয়া হচ্ছে না। যেভাবে হটলাইনে জনগনের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল সেভাবে কাংখিত সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে জনগনের মনে কিছুটা ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। মানুষের চাহিদামতো জিনিসপত্র এবং ঔষধ সামগ্রী ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করার লক্ষ্যে দক্ষ কর্মপন্থা নির্ধারন করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিকট বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, অনেক অনুনয় বিনয় করা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের ইপিজেডসমূহ তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য নিজস্ব আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার স্থাপন করার কোন প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করেনাই। এতে করে ইপিজেডসমূহে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ছে। দেখা যাচ্ছে অনেকে করোনা উপসর্গ নিয়েই চাকুরি চালিয়ে যাচ্ছে জীবিকার তাগিদে। নিজস্ব আইসোলেশন সেন্টার এবং করোনা পরীক্ষাগার না থাকার ফলে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে। তাছাড়া ইপিজেড এলাকার পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহেও ইপিজেডে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের নিয়ে এক প্রকার অস্বস্তি লেগে রয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচানোর নাম করে তারা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করলেও সমাজ, রাষ্ট্র এমনকি যাদের শ্রম ঘামে তাদের এতো বিত্ত বৈভব সেই শ্রমিক কর্মচারীদের প্রতিও তাদের কোন প্রকার মমত্ব কিংবা দায়িত্ববোধ নেই।

তিনি গার্মেন্টস মালিকদের হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে শ্রমিকদের দুঃখ দুর্দশা উপলব্দি করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান।

২৪ ঘণ্টা/এম আর

Feb2

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলা

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এসময় ছাত্রদলের হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন নেতা-কর্মী আহত হন।

আজ শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে শহরের পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এই ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান।

তাদের মধ্যে কথা বলার এক পর্যায়ে হঠাৎ পেছন থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ করে এবং অতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় এনসিপির স্থানীয় কয়েকজন যুবক আহত হয়েছেন।

ভুক্তভোগী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে হামলার বিস্তারিত জানান। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জুমার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পরপরই পুলিশের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পোস্টে লেখেন, “প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা এ সময় তাদের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এবং মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর তারা থানায় অবস্থান নিয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান। একই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপি থানার সামনে আবারও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তিনি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন।

এই ঘটনার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বিক্ষোভ থেকে তারা স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

 

চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (শুক্রবার) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকলিয়া থানার এক কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশুর পিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেপ্তার মনিরকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় তিন বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে স্বজন ও স্থানীয়দের সন্দেহ হয়, সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিকেলের দিকে রাস্তায় নেমে আসেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত যুবকের নাম মনির। তিনি স্থানীয় একটি ডেকোরেশন দোকানে কাজ করেন। তাদের অভিযোগ, মনির তাদের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছেন।

অভিযুক্ত মনির নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে একটি তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয়রা অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করে ‘বিসমিল্লাহ ম্যানশন’ নামের একটি ভবন ঘেরাও করে রাখেন। একপর্যায়ে ভবনটির কলাপসিবল গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টাও করা হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। অন্যদিকে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা পথ আটকে দেয় এবং তাকে নিজেদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানায়। বিকেল সাড়ে চারটা থেকে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয়রা। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন স্থানীয়রা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয়দের বাধার মুখে তখন পুলিশ অভিযুক্ত নিয়ে যেতে পারেনি।

পরে রাত ১১টা সময় দিকে জনবল বাড়ায় পুলিশ। পরে বিদ্যুৎ বন্ধ করে অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় ফাঁকা গুলি, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে পুলিশ। এসময় স্থানীয়রা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেয়। এতে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ, কুলখানির জন্য ঢাকা ছাড়লেন বাবা-মা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও থামেনি মানুষের ক্ষোভ আর কান্না।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকেই পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ছোট-ছোট সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায় স্থানীয়দের।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১১টার পর থেকে রামিসাদের বাসার সামনের গলিতে একে একে জড়ো হন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ। অনেকের হাতে ছিল ‘রামিসার হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘শিশু ধর্ষণ ও হত্যার বিচার চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড।

এসময় এলাকাজুড়ে ছিল থমথমে পরিবেশ। স্থানীয়দের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।

একটি মানববন্ধনে অংশ নেওয়া লামিয়া খানম নামে এক নারী বলেন, আমরা নিজের সন্তানদের নিয়েই এখন আতঙ্কে আছি। একটা শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না।

এদিকে সন্তান হারানোর শোকে এখনও প্রায় নির্বাক রামিসার মা-বাবা। শুক্রবার (আজ) দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের কুলখানি ও মিলাদে অংশ নিতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন তারা। যাওয়ার আগে বাসার সামনে জড়ো হওয়া মানুষদের কান্না আর সান্ত্বনার শব্দে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

পরিবারের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে সিরাজদিখানে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রামিসার মা এখনও মেয়ের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন। আর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বারবার মেয়ের শেষ আবদারের কথা মনে করে ভেঙে পড়ছেন। দুই দিন আগে মেয়ের জন্য একটি বোরকা কিনে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বোরকা আর পরা হয়নি রামিসার।

গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় নিজ বাসার পাশ থেকে নিখোঁজ হয় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা। পরে প্রতিবেশী সোহেল রানার ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করেন। ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।