খুঁজুন
রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রত্যেক ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে মানবকল্যাণ করা: চসিক প্রশাসক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
প্রত্যেক ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে মানবকল্যাণ করা: চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, প্রত্যেক ধর্মের মর্মবাণী হচ্ছে মানবকল্যাণ করা। পৃথিবীতে যত ধরণের ভাল কাজ আছে তার মধ্যে সর্বোত্তম হল অনাহারীকে অন্ন দেওয়া ও রোগীর সেবা করা।

আজ সকালে টায়গারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে গোলপাহাড় মহাশশ্মান নবনির্বাচিত পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীরা যদি তাদের স্ব-স্ব ধর্ম ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করে তাহলে দেশের মধ্যে কোন সাম্প্রদায়িকতা, অরাজকতা ও হানাহানি থাকবে না। সবধর্মের মানুষের মৃত্যু অবধারিত। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষ যাত্রা স্থল হল শশ্মান। মন্দির এবং শশ্মান একটি পবিত্র স্থান। তাই এ শশ্মান ও মন্দির সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং তা পরিচর্যা করার জন্য পরিষদের নেতৃবৃন্দকে পরামর্শ দেন প্রশাসক।

তিনি নব নির্বাচিত পরিষদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই মন্দিরে অতীতে যে সুনামের সাথে বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন মন্দির। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনাদের। মহাশশ্মান উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন কিছু প্রণোদনা দিচ্ছে তবে এটা যথেষ্ট নয়- তারপরও এগিয়ে এসেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কিছু সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। তাদের সহযোগে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শেষ যাত্রার স্থানটিকে সিটি কর্পোরেশনের সামর্থ অনুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, গোলপাহাড় মহশশ্মান নবনির্বাচিত পরিচালনা পরিষদে সভাপতি মাইকেল দে, সাধারণ সম্পাদক কাজল কান্তি দেব, যুগ্ম সম্পাদক সঞ্জয় ভৌমিক কাঞ্চন, মুনমুন দত্ত মুন্না, মহিলা সম্পাদক সুচিত্রা গুহ টুম্পা, রাজিন চৌধুরী রাজু, নারায়ন দাশ, প্রদীপ দাশ, অমিত চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসকের সাথে চিটাগাং শপিং মলের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্প যোজন/বিয়োজন/সমন্বয় সংশোধন বিষয়ে আজ বিকেলে টাইগাপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে শপিং কমপ্লেক্সের মালিক সমিতি ও ব্যবসায়ীদের মতবিনিম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় প্রশাসক বলেন, সৌন্দর্যবর্ধন বা আধুনিকায়নের নামে আমি কোন জঞ্জাল দেখতে বা রাখতে চাই না। শপিং মলের তৃতীয় তলা ঝুঁকিমুক্ত রাখা এবং মলের পাকিং এর জায়গা উন্মুক্ত রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রশাসক।

তিনি শপিং মলে আলো বাতাস চলাচলে যাতে বিঘ্ন না ঘটে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দেন। সিটি কর্পোরেশনের আইন বহির্ভূত কোন কিছু যাতে না হয় সে ব্যাপারে নজরদারী করার জন্য প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। প্রশাসক জন চলাচলের রাস্তায় কোন পণ্যসামগ্রী না রাখার জন্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতোমধ্যে তাদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান প্রশাসক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, এস্টেট অফিসার মো কামরুল ইসলাম, ডেভলাপার মো ইসমাইল , চিটাগাং সপিং কমপ্লেক্সের সহ সভাপতি আজম খান, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক এস এম আবু নাছের চৌধুরী,আ ন ম সাইফুর রহমান সিদ্দিকী, আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল, মোমিনুল হক মো নজরুল আনসারী, মঈনুল ইসলাম, মোরশেদ উদ্দিন আহমদ, জি এম আজমল খান প্রমূখ।

তিন সংসদ সদস্যে’র সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, সাবেক মন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আফসারুল আমিন চৌধুরী এমপি ও এম.এ লতিফ এমপি’র সুস্থতা কামনায় আজ বিকেলে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে দোয়া মাহফিল ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া মাহফিলে তাদের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়।

এ সময় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমদ, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিদা ফাতিমা, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম, এস্টেট অফিসার মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী, মাওলানা হারুন উর রশিদ চৌধুরী, মাওলানা কারী ইউনুচ কাদেরী, আবদুর রহমান, মাহবুবুর রহমান, আবদুল গাফ্ফার, ওয়াহিদুল আলম, আব্দুল্লাহ আল ছালেহ, জামাল উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মো. সোহেল আরমান, মাওলানা করিম উদ্দিন নূরী, মাওলানা সেলিম কাদেরী উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া মাহফিল শেষে মুনাজাত পরিচালনা করেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।

২৪ ঘণ্টা/রিহাম

 

Feb2

মাজারে স্বচ্ছতার উদ্যোগের মধ্যেই ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার, নানা প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
মাজারে স্বচ্ছতার উদ্যোগের মধ্যেই ডিসি সারওয়ারকে প্রত্যাহার, নানা প্রশ্ন

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার করাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নেওয়া তার উদ্যোগের সঙ্গে এই প্রত্যাহারের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

যদিও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এটিকে সরকারি কর্মচারীদের নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন।

রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে এতে প্রত্যাহারের কারণ বা তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সোমবারের মধ্যেই তাকে মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের ঘটনায় নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সম্প্রতি সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেন তিনি।

গত ১২ জুন দুই মাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের কথা জানান। এর ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার মাজারের পুরোনো দানবাক্সগুলো সিলগালা করা হয় এবং নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। গতকাল শনিবার ডেগের ওপর সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের কাজ চলাকালে মাজারের আয়-ব্যয়ের অসচ্ছতার বিষয়টি সামনে আসে। পরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় দুই মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে হিসাব চাওয়া হলে তারা কোনো সন্তোষজনক হিসাব দেখাতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাজারের দান-খয়রাতের অর্থের একটি অংশ কয়েকটি প্রভাবশালী পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

মাজারের আয়ে স্বচ্ছতা আনার অংশ হিসেবেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সারওয়ার আলম। তবে মাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি, মাজারবিরোধী একটি চক্রের ইন্ধনে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও রেওয়াজ ভেঙে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবে এটি করা হয়েছে। এর মধ্যেই আজ সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, মাজার–সংক্রান্ত পদক্ষেপের কারণেই কি তাকে সরিয়ে দেওয়া হলো?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, তাকে পরবর্তীতে পদায়নের জন্য সংযুক্ত করা হয়েছে। এরপর পদায়ন দেওয়া হবে।

মাজার ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই প্রত্যাহার নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মচারীদের বদলি একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা আসবে, যাবে; অনেকেই তো বদলি হচ্ছে, আরও হবে। এটা চলমান (প্রক্রিয়া)। এটা তো আর ব্যতিক্রম কিছু না। আর এসব পদে তো সবসময় এগুলো (বদলি/প্রত্যাহার) হচ্ছে। নতুন কিছু না এটা।

২৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম একসময় র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দুর্নীতি ও ভেজালবিরোধী অভিযানের কারণে আলোচনায় আসেন। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট তিনি উপসচিব পদে পদোন্নতি পান।

পরে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জাফলং ও সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুট নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার করেছিল সরকার। এরপর সেখানে নিয়োগ পান সারওয়ার আলম।

কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (২১ জুন) সকালে দেশটির আল শাহানিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ভারতীয় এক নাগরিকও নিহত হন।

নিহত পাঁচ বাংলাদেশি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন- জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে প্রবাসীরা একটি পিকআপ ভ্যানে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথে আল শাহানিয়া এলাকায় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ মরদেহ উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রেখেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস ও প্রবাসী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতারের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক।

তিনি বলেন, কাতারে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে কানাইঘাট প্রেসক্লাবের সহসভাপতি তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের এলাকার পাঁচজন প্রবাসীর মৃত্যুতে পুরো কানাইঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রবাসী সংগঠন ও বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে স্বজনরা শেষবারের মতো তাদের দেখতে পারেন এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করা যায়।

এদিকে, বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই সংকটাপন্ন মুহূর্তে সরকার নিহতের পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে।

মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়া পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি সফরে কুয়ালালামপুর পৌঁছেছেন।

রোববার (২১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুরে পৌঁছান তিনি। তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া দেওয়া হয় গার্ড অব অনার। সুসজ্জিত বাহিনীর দেওয়া গার্ড অব অনারের সময়ে দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

বিমানবন্দরে ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জুবাইদা রহমানকে।

এসময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়; সফরে প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ও সফর সঙ্গীরা এই হোটেলে থাকবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়ক পথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

এর আগে বিকেল পৌনে তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।

এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। এই সফরে তিনি একত্রে দুটি দেশে যাবেন। ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া এবং ২৩-২৬ জুন চীন সফর করবেন তিনি। সফর শেষে ২৬ জুন দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

সফরটিকে ঢাকা, কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শ্রমবাজার, বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপক্ষীয় দলিল সই হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), দুটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল রয়েছে।