খুঁজুন
, ,

কদমফুল প্রকৃতির অলঙ্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Monday, 22 June, 2020, 12:31 am
কদমফুল প্রকৃতির অলঙ্কার

অ আ আবীর আকাশ : বর্ষা যেমন প্রকৃতিতে সূচি শুদ্ধতা দিয়ে আসে তেমনি বর্ষার অলংকার হিসেবে কদমফুল তার আপন মহিমায় নিজেকে সৌন্দর্যের সবটুকু দিয়ে মেলে ধরে। কদম্ব বা কদম ফুল যে নামেই ডাকা হোক অন্যান্য ফুলের এত নামডাক নেই বর্ষা ঋতুতে।

বর্ষা ঋতুর প্রথম প্রহরেই কবি-সাহিত্যিকদের মাঝে, প্রকৃতি প্রেমীদের মাঝে কদম ফুল নিয়ে বেশ মাতামাতি হয়। লেখালেখি হয় কবিতা ছড়া গল্প। বর্ষায় কদম ফুল এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আছে। কদম ফুলের রূপ-সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হয়ে আবেগ-অনুভূতি ভালোলাগা ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে তৈরি করেন কদম ফুলের সম্মোহনী উপখ্যান। কদম ফুল নিয়ে আমার যেমন শৈশব-কৈশোরে বহু স্মৃতি রয়েছে তেমনি কদম ফুল নিয়ে নানা তথ্য উপাত্ত জেনেছি এই সময়ে এসে।

ঝমঝম বৃষ্টিতে ভিজে কদমফুল নিয়ে যেমন মাতামাতি করেছি তেমনি কদম ফুলে গাছের ছাল পাতার ঔষধি ব্যবহার জেনেও অবাক হয়েছি। বর্ষায় কদম ফুলের পাপড়ি আলাদা করে একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে কি যে আনন্দ উদ্দীপনায় মেতে থাকতাম সে কথা কি ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো সম্ভব?

কমদফুলের রুপে মজে আমার লেখা-

“সেবার আসমানে মেঘ দেইখা/মাস্টররা ইশকুল ছুটি দিয়া দিছে।/বইগুলান ব্যাগে পুইরা কাধে ফালাইয়া দিলাম ছুট!/খাল পাড়ে আইসা কদমফুলে চোখ পড়তেই/ব্যাগ রাইখাই প্রতিযোগ শুরু হইছে-/কে কার আগে কদমফুল লইবো।/পাশের গাছ দিয়া বাইয়া উঠে ডাল-ডুল ভাইঙ্গা/দশ-বারোটা কদমফুলের গোল্লা
কান্ডসহ ছিঁড়া লইছি।/বাড়ীত যাইয়া ভাত-টাত না খাইয়াই
কদমফুলের পাপড়ি খুইলা মালাতে/জমাইলাইছি- ভেতরের মনোহর বলে/শলা ডুকাই আম পাতায় জোড়া লাগাই/রেল গাড়ী বানাইয়া খোলে বাইন্ধা এলাকায় ঘোরাঘুরি।/এমন স্মৃতি মনে রাইখাই বাঁইচা আছি/কদমফুল তুমি ভালোবাসা/মনের গহীনে অন্ধকারে কদমফুল/ডীনলাইট হইয়া জ্বইলা আছে।”
শিরোনাম “কদমফুলের গাড়ী”।

বর্ষাকে স্বাগত জানিয়ে কদম ফুলকে নিবেদন করে কবি’র এই আহ্বান। বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম ফুল। কদম যেন বর্ষার দূত! আষাঢ়ের সঙ্গে কদমের সম্পর্ক নিবিড়। সাধারণত আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতেই কদম ফোটে। প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। গোলাকার সাদা-হলুদ রঙের ফুলটি দেখতে ছোট বলের মত। গাছ ভরে এই ফুলের সমাহার ঘটে। সেই মুহূর্তটি এক অপূর্ব সৌন্দর্যের।
কদম ফুল নীপ নামেও পরিচিত।

এ ছাড়া বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্পও কদমের নাম। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে। বিশ্বের নানা দেশে কদমগাছ দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, কম্বডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়ায় এই বৃক্ষ রয়েছে।

বর্ষার আগমন যখন চারপাশে, তখন তার সঙ্গী হতে গাছে গাছে দেখা মিলে আরেক অতিথির। গ্রীষ্মের প্রখরতা কমাতে যখন আম, জামসহ নানা ফলের ঘ্রাণে মুখর চারপাশ, তার পরই আগমন ঘটে বর্ষার সঙ্গী কদম ফুলের।

কদমের সংস্কৃত নাম কদম্ব। কদম্ব মানে হলো দয়া, বিরহীকে দুঃখী করে! প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্য জুড়ে রয়েছে কদমের সুরভী মাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাঁথা! ভগবত গীতা থেকে শুরু করে লোকগাঁথা, পল্লীগীতি ও রবীন্দ্র-কাব্য পর্যন্ত কদম ফুলের উল্লেখ রয়েছে। ভানুসিংহের পদাবলি, বৈষ্ণব পদাবলি ও শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে নানাভাবে নানা আঙ্গিকে এসেছে কদম গাছের কথা। বহুল উপমায় বিভূষিত তার গুণগাথা।

কদম গাছ নিয়ে গ্রামবাংলার নানা ছড়া-কবিতাও রয়েছে। ‘চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে কদম তলায় কে/হাতি নাচছে ঘোড়া নাচছে সোনামণির বে’- এমন বহু ছড়ায় এখনও কদমের সুষমা প্রকাশ পায় মানুষের মুখে মুখে। কদমগাছ বৌদ্ধধর্মের একটি পবিত্র গাছ। ভারতের পূর্বাংশে ভগবান কৃষ্ণের সঙ্গে জড়িত কদমগাছ। শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলা থেকে শুরু করে রাধা-কৃষ্ণের বিচ্ছেদ- সবকিছুতেই রয়েছে কদম গাছের নাম। আকাশজুড়ে কখনও কালো মেঘের ঘনঘটা কিংবা এক চিলতে রোদের মুখ কালো মেঘের ভিড়ে অথবা হঠাৎ করেই মুষলধারায় বৃষ্টি! জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদের পরে এমন প্রশান্তিই বলে দেয় বর্ষাকালের আগমন বার্তা। আষাঢ়-শ্রাবণ মূলত এ দুই মাস বর্ষাকাল। বাংলার পল্লী প্রান্তরে কদম গাছ দেখতে যায়। কদম গাছ দীর্ঘাকৃতি এবং বহুশাখাবিশিষ্ট। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কা- সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ। শাখা আজর এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা হয় বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে। এর বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। এই গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। কদমের কচি পাতার রঙ হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়।
কদম ফুল দেখতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। এই ফুলের রং সাদা-হলুদে। তবে পাপড়ি ঝরে গেলে শুধু হলুদ রঙের গোলাকার বলের মত দেখা যায়। এই গাছের ফল মাংসল, টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালীর প্রিয় খাদ্য। যদিও কাঠ বিড়ালী এখন বিলুপ্ত প্রাণী। বাদুড় এ অঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে।কদম গাছের ফুল ছাড়া আরও রয়েছে ফল। এ ফলগুলো দেখতে অনেকটা লেবুর মতো। কদম গাছের পাতা শীতকালে ঝরে যায় আর কচি সবুজ পাতা নিয়ে আগমন ঘটে বসন্তের। কদম ফুলের আছে আরও অনেক নাম। ললনাপ্রিয়, সুরভী, কর্ণপূরক, মেঘাগমপ্রিয়, বৃত্তপুষ্প ছাড়াও নীপ মানে পরিচিত এ কদম ফুল। কদমের একেকটি গাছ ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর সবুজ ঝরঝরে পাতার মাঝে থাকা গোলাকার কদম ফুল বর্ষা স্নানে আরও রূপসী হয়ে উঠে। কদম ফুল ছাড়া কদম গাছও বেশ উপকারী। সরু সবুজ পাতার ডালে ডালে গোলাকার মাংসলো পুষ্পাধার আর তার থেকে বের হওয়া সরু হলুদ পাপড়ির মুখে সাদা অংশ কদমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্নভাবে।

একটি ফুলের মাঝে এত ভিন্নতার ছোঁয়াতে কদমফুলকে করে তুলেছে আরও গ্রহণযোগ্য। ফুলে ভরা কদমগাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য তেমন একটা নেই। তাই কেউ গুরুত্ব দিয়ে কদম গাছ লাগায় না। প্রাকৃতিকভাবে যে গাছগুলো হয়ে থাকে অনেকে সেগুলোও কেটে ফেলে। কাঠ নরম বলে আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও বাক্সপেটরা তৈরি হয়ে থাকে। গাছের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতার রস ছোটদের কৃমির জন্য খাওয়ানো হয়। ছাল ও পাতা ব্যথানাশক। মুখের ঘায়েও পাতার রস কার্যকর। কোনো কোনো অঞ্চলে কদম ফুল তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

‘কদম’ শব্দটির যদিও বহুবিধ ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়-মানুষের নাম থেকে শুরু করে মিষ্টি, চুলের ছাঁট, জায়গার নাম পর্যন্ত। বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল হয়তো পাওয়া যাবে না, যেখানে একটা-দুটো কদমতলী নেই। হাঁটা বা পা অর্থেও কদম শব্দের বহুল ব্যবহার আছে। কিন্তু সবরকম অর্থে ব্যবহার পেরিয়ে এই ‘কদম’ বাংলায় সর্বাধিক পরিচিত ফুলের নাম হিসেবেই। ফুল হিসেবেই কদম ছড়িয়ে আছে বাংলার আনাচে-কানাচে। তবে নাম যা-ই হোক, বাংলার বাদল দিনের কদমের কথা রবীন্দ্রনাথের চেয়ে সুন্দর করে আর কে-ই বা বলতে পেরেছে।

‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই প্রকৃতি পর্যায়ের গানের চরণ যেন দিনে দিনে আধুনিক জীবনে বর্ষা আবাহনের অনন্য ব্যঞ্জনায় পরিণত হয়েছে। যদিও সেই প্রথম কদম ফুল আজ আর বাদল দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে না। দিনপঞ্জির হিসেবে বর্ষা আসার আগেই সে প্রস্তুত হয়ে থাকে বাদল দিনের আগমনী বারতা নিয়ে। বাংলার বনে বনে বর্ষার বারিধারায় কদম ফুলের রেণু হয়তো এখনও ভেসে যায়। ভেসে ভেসে নদী-নালা-খাল-বিলে মিশে যায় কদমের অজস্র পাপড়ি। গাছে গাছে বর্ষার বাহারি ফুলের সঙ্গে ভিজে আরও দ্বিগুণ স্নিগ্ধতায় হেসে উঠে কেয়া-কদম। কদম গাছ ছাড়া কি গ্রাম হয়! সেখানে এরা অবহেলা-অনাদরেই বাড়ে ও বাঁচে। একসময় লোকালয়ের অগভীর বন-বাদাড়ে অঢেল ছিল। এখন সংখ্যায় কমে গেলেও বর্ষা এলেই কদম গাছের দিকে চোখ না ফেলে উপায় থাকে না। গাছজুড়ে একটা সুষম সমন্বয়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকে হলদে শরীরে সাদা সাদা বৃষ্টির মতো পাপড়ি নিয়ে বর্ষার কদম। খাল-বিলের উপচেপড়া জল যেমন শাপলাকে সাজিয়ে তোলে, ভাসিয়ে রাখে, তেমনি পরিবেশকে মাতিয়ে তোলে বর্ষার কদম ফুল। বর্ষা মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের মিষ্টি সুবাস। তৃষ্ণায় কাতর বৃক্ষরাজি বর্ষার অঝোর ধারায় ফিরে পায় প্রাণের স্পন্দন। প্রাণীকুলও হয়ে ওঠে সজীব ও সতেজ। কিংবা বৃষ্টির অঝোর ধারায় মেঘের বিছানা পেতে দেওয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ আজও হয়ে ওঠে স্মৃতিকাতর।

সবুজ পাতার মধ্যে সাদা-হলুদ মঞ্জরির ফুলের চিরচেনা কদম গাছ এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কদম ফুল। বাংলার বিভিন্ন জেলায় এক সময় প্রচুর কদম গাছ চোখে পড়ত। যান্ত্রিক সভ্যতা ও নগরায়নের যুগে মানুষের সামান্য প্রয়োজনে কদম গাছকে তুচ্ছ মনে করে কেটে ফেলছে। কদম ছাড়া বর্ষা একরকম বেমানান। প্রকৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে অন্য গাছের পাশাপাশি কদম গাছ রোপণ করা প্রয়োজন।

এসেছে কদম ফুলের দিন। চলছে আষাঢ়। বৃষ্টি যদিও থেকে থেকে ঝরেছে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে। তবুও বর্ষার নিজের মাস আষাঢ়। আর আষাঢ়ের বর্ষা-প্রকৃতির অনন্য অলঙ্কার কদম ফুল। কদম যেন বর্ষা ঋতুর প্রতীক। এবারের গ্রীষ্ম আগুন নিয়ে এসেছিল শহর-গ্রামে সবখানে। সেই অগ্নিদগ্ধ দিন পেরিয়ে এসেছে কাক্সিক্ষত বৃষ্টিধারার আষাঢ়। আষাঢ়ে দেখা যায় গাছের পাতায়, টিনের চালে কিংবা ছাদের রেলিং ছুঁয়ে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ার দিন। বর্ষা মানেই কর্দমাক্ত রাস্তা আর গাঁয়ের দস্যি ছেলেদের কদম ফুল নিয়ে হৈ-হুল্লোড়। পাপড়ি গুলো আলাদা করে একে অপরের গায়ে ছিটানো, গাড়ি বানিয়ে মেঠো রাস্তায় চালানো, কি যে আনন্দ উদ্দীপনা হায়রে লাফালাফি ঝাপাঝাপি এই কদমফুল নিয়ে।

লেখক কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল

Feb2
Feb2

১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 9:06 pm
১ দিনে ১৩৫ টন বর্জ্য সরিয়ে রেকর্ড গড়লেন ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক জেলায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের প্রথম দিনেই ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে শনিবার (২৫ জুলাই) জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এ অভিযানে অংশ নেন প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, এক দিনে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সম্পৃক্ত করে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণের মধ্য দিয়ে বড় পরিসরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে জেলার সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসিক এলাকা, উপজেলা পর্যায়ের ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে চলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কারও ওপর চাপ সৃষ্টি করে বা জোরপূর্বক এটি করাতে চাই না। আমরা পরিচ্ছন্নতাকে অভ্যাসে পরিণত করতে চাই।’

৩,২২৫ ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অভিযানের আওতায়

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের আওতায় রয়েছে ১৩১টি সরকারি দপ্তরের ৪১৬টি ভবন, আটটি সরকারি আবাসিক এলাকার ১০৮টি ভবন, উপজেলা পর্যায়ের ৪০৬টি ভবন এবং ২ হাজার ২৯৫টি বিদ্যালয়। সব মিলিয়ে ৩ হাজার ২২৫টি ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এসব ভবন ও বিদ্যালয়ের ছাদ, আঙিনা এবং আশপাশের জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রথম দিনের কার্যক্রমে সব মিলিয়ে ১৩৫ টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

অভিযানটি শুধু উদ্বোধনী দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। পুরো কার্যক্রম চলবে মাসব্যাপী। প্রতি শনিবার কোথা থেকে কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করা হলো, তার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভবন ও এলাকার পরিচ্ছন্নতার আগের ও পরের ছবিও সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘কী পরিমাণ ময়লা অপসারণ ও সংগ্রহ করা হলো, তার প্রতিবেদন নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভবনের আগের চিত্র কী ছিল এবং পরিচ্ছন্নতার পর কী পরিবর্তন হলো, সেই ছবিগুলোও আমরা সংগ্রহ করছি। সে অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

শোভাযাত্রায় মেয়র, বিভাগীয় কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

দিনের কর্মসূচির শুরুতে সার্কিট হাউস থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। সেটি কাজীর দেউড়ি, চট্টগ্রাম অফিসার্স ক্লাব ও রেডিসন ব্লু এলাকা প্রদক্ষিণ করে আবার সার্কিট হাউসে এসে শেষ হয়।

পরে কোর্ট হিলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আঙিনা, আইনজীবী ভবন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ছাদেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়।

কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

‘সুস্থ জাতি গড়তে প্রয়োজন সুস্থ পরিবেশ’

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্দেশ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা অপসারণ নয়। একটি সুস্থ জাতি ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার স্থায়ী অভ্যাস তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ চিন্তার জন্য সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন প্রয়োজন। আর পরিবেশ যদি অস্বাস্থ্যকর হয়, সেখানে সুস্থ চিন্তা, সুস্থ শরীর ও সুস্থ মন—কোনোটিই সম্ভব নয়।’

আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ বাংলাদেশ ও একটি সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে আমরা এই কার্যক্রম শুরু করেছি।’

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে নয়, মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সম্পৃক্ত করেই পরিচ্ছন্নতাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশে পরিণত করতে চান তাঁরা।

বিশ্বায়নের যুগে একটি দেশের পরিবেশ ও নাগরিক জীবনযাত্রা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গেও যুক্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ চাই। আমরা বাংলাদেশকে পরিবর্তন করতে চাই। বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশের একটি দৃঢ় অবস্থান, একটি সুস্থ পরিবেশ এবং একটি সুন্দর সমাজের চিত্র তুলে ধরার জন্য আমরা কাজ করছি।’

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম দিনের ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরও অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাসজুড়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সরকারি আবাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতি শনিবার অপসারণ করা বর্জ্যের পরিমাণ এবং পরিচ্ছন্নতার আগে ও পরের ছবি সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হবে।

চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 8:26 pm
চন্দনাইশে ১৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকার ১৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে চন্দনাইশের পশ্চিম হারলা এলাকায় স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ হতদরিদ্র ১৫০০ শতাধিক পরিবারের হাতে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। বিতরণকৃত খাদ্য তালিকার মধ্যে চাল, ডাল, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা খাবার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় মানুষের কষ্ট লাঘবে আমরা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করছি এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে। বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই দল মত নির্বিশেষে বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মেয়র বলেন, জনগণের কল্যাণই আমাদের অঙ্গীকার। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ইখতিয়ার হোসেন ইফতুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মনজুর আলম তালুকদার, জেলা বিএনপি নেতা আবদুল মাবুদ মাহাবু, সৌদি আরব বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মাঈন উদ্দিন মাঈনু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদ খান, বাহাউদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল করিম, পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক অলি হোসেন মুন্সি, জহিরুল আলম শহিদ, মোরশেদুল আলম, পৌরসভা বিএনপির সদস্য হাবিব রহমান, আবু ছালেহ, সাইফুল, মোহাম্মদ শওকত, উপজেলা বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, মাহাবুল করিম সোহেল, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মজিদ, আবু বক্কর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাদ্দাম হোসেন, মো. আসাদ, জিল্লুর রহমান খোকন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মোনায়েম খান, পলিটেকনিক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইন্জিনিয়ার আবুল কালাম, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম, পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মো. সেলিম, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল নেতা সেলিম আলদীন, পৌরসভা শ্রমিকদলের সভাপতি হাজী মো. আবু সিদ্দিক, মো, ফারুক মিয়া, আবদুর রহমান, পৌরসভা যুবদল নেতা আব্দুল মান্নান, আকবর, সিরাজুল ইসলাম, আবদুল আজিজ, মো. মানিক, রাজিব উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার উদ্দিন, আবু তৈয়ব রিপন, এবিএম রহিম, আবদুল আজিজ, বিএনপি নেতা সায়েম সেলিম, হামিদ, মান্নান, জেলা ছাত্রদলের সদস্য জাভেদ চৌধুরী রহিম, এরফান চৌধুরী, ছাত্রদলনেতা অভি, আজিজ, মিসবাহ, আমিন, হেফাজ প্রমুখ।

আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: Saturday, 25 July, 2026, 6:05 pm
আনোয়ারায় একমাত্র ছেলের ছুরিকাঘাতে মা-বাবা নিহত, ঘাতক আটক

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিয়ে না দেওয়ায় কথা কাটাকাটির জেরে ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে স্বপন দাশগুপ্ত (৬৫) ও কল্পনা দাশগুপ্ত (৫৫) নামের এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। 

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের মহাজন বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তকে (৩০) আটক করে আনোয়ারা থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর পৌনে ২টার দিকে নিজ বাড়িতে বিয়ে না দেওয়ার জেরে ছেলে রোমি রাজ দাশগুপ্তের সঙ্গে তার মা কল্পনা দাশগুপ্তের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে কাঁচি দিয়ে মায়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান রোমি রাজ। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়। স্ত্রীকে বাঁচাতে বাবা স্বপন দাশগুপ্ত এগিয়ে এলে তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনে লুটিয়ে পড়েন।

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর স্বপন দাশগুপ্তের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত রোমি রাজ দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। এর আগেও তাকে একাধিকবার পাবনার একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় তিন-চার মাস আগে তিনি বাড়িতে ফিরেছিলেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দীন বলেন, আহত অবস্থায় স্বপন দাশগুপ্তকে আনা হয়। তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল, তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।