খুঁজুন
বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কদমফুল প্রকৃতির অলঙ্কার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২০, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
কদমফুল প্রকৃতির অলঙ্কার

অ আ আবীর আকাশ : বর্ষা যেমন প্রকৃতিতে সূচি শুদ্ধতা দিয়ে আসে তেমনি বর্ষার অলংকার হিসেবে কদমফুল তার আপন মহিমায় নিজেকে সৌন্দর্যের সবটুকু দিয়ে মেলে ধরে। কদম্ব বা কদম ফুল যে নামেই ডাকা হোক অন্যান্য ফুলের এত নামডাক নেই বর্ষা ঋতুতে।

বর্ষা ঋতুর প্রথম প্রহরেই কবি-সাহিত্যিকদের মাঝে, প্রকৃতি প্রেমীদের মাঝে কদম ফুল নিয়ে বেশ মাতামাতি হয়। লেখালেখি হয় কবিতা ছড়া গল্প। বর্ষায় কদম ফুল এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আছে। কদম ফুলের রূপ-সৌন্দর্যে মাতোয়ারা হয়ে আবেগ-অনুভূতি ভালোলাগা ভালোবাসা ঢেলে দিয়ে তৈরি করেন কদম ফুলের সম্মোহনী উপখ্যান। কদম ফুল নিয়ে আমার যেমন শৈশব-কৈশোরে বহু স্মৃতি রয়েছে তেমনি কদম ফুল নিয়ে নানা তথ্য উপাত্ত জেনেছি এই সময়ে এসে।

ঝমঝম বৃষ্টিতে ভিজে কদমফুল নিয়ে যেমন মাতামাতি করেছি তেমনি কদম ফুলে গাছের ছাল পাতার ঔষধি ব্যবহার জেনেও অবাক হয়েছি। বর্ষায় কদম ফুলের পাপড়ি আলাদা করে একে অপরের গায়ে ছিটিয়ে কি যে আনন্দ উদ্দীপনায় মেতে থাকতাম সে কথা কি ভাষায় প্রকাশ করে বোঝানো সম্ভব?

কমদফুলের রুপে মজে আমার লেখা-

“সেবার আসমানে মেঘ দেইখা/মাস্টররা ইশকুল ছুটি দিয়া দিছে।/বইগুলান ব্যাগে পুইরা কাধে ফালাইয়া দিলাম ছুট!/খাল পাড়ে আইসা কদমফুলে চোখ পড়তেই/ব্যাগ রাইখাই প্রতিযোগ শুরু হইছে-/কে কার আগে কদমফুল লইবো।/পাশের গাছ দিয়া বাইয়া উঠে ডাল-ডুল ভাইঙ্গা/দশ-বারোটা কদমফুলের গোল্লা
কান্ডসহ ছিঁড়া লইছি।/বাড়ীত যাইয়া ভাত-টাত না খাইয়াই
কদমফুলের পাপড়ি খুইলা মালাতে/জমাইলাইছি- ভেতরের মনোহর বলে/শলা ডুকাই আম পাতায় জোড়া লাগাই/রেল গাড়ী বানাইয়া খোলে বাইন্ধা এলাকায় ঘোরাঘুরি।/এমন স্মৃতি মনে রাইখাই বাঁইচা আছি/কদমফুল তুমি ভালোবাসা/মনের গহীনে অন্ধকারে কদমফুল/ডীনলাইট হইয়া জ্বইলা আছে।”
শিরোনাম “কদমফুলের গাড়ী”।

বর্ষাকে স্বাগত জানিয়ে কদম ফুলকে নিবেদন করে কবি’র এই আহ্বান। বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম ফুল। কদম যেন বর্ষার দূত! আষাঢ়ের সঙ্গে কদমের সম্পর্ক নিবিড়। সাধারণত আষাঢ়ের প্রথম বৃষ্টিতেই কদম ফোটে। প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। গোলাকার সাদা-হলুদ রঙের ফুলটি দেখতে ছোট বলের মত। গাছ ভরে এই ফুলের সমাহার ঘটে। সেই মুহূর্তটি এক অপূর্ব সৌন্দর্যের।
কদম ফুল নীপ নামেও পরিচিত।

এ ছাড়া বৃত্তপুষ্প, মেঘাগমপ্রিয়, কর্ণপূরক, ভৃঙ্গবল্লভ, মঞ্জুকেশিনী, পুলকি, সর্ষপ, ললনাপ্রিয়, সুরভি, সিন্ধুপুষ্পও কদমের নাম। এর আদি নিবাস ভারতের উষ্ণ অঞ্চল, চীন ও মালয়ে। বিশ্বের নানা দেশে কদমগাছ দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা, কম্বডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়ায় এই বৃক্ষ রয়েছে।

বর্ষার আগমন যখন চারপাশে, তখন তার সঙ্গী হতে গাছে গাছে দেখা মিলে আরেক অতিথির। গ্রীষ্মের প্রখরতা কমাতে যখন আম, জামসহ নানা ফলের ঘ্রাণে মুখর চারপাশ, তার পরই আগমন ঘটে বর্ষার সঙ্গী কদম ফুলের।

কদমের সংস্কৃত নাম কদম্ব। কদম্ব মানে হলো দয়া, বিরহীকে দুঃখী করে! প্রাচীন সাহিত্যের একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে কদম ফুল। মধ্যযুগের বৈষ্ণব সাহিত্য জুড়ে রয়েছে কদমের সুরভী মাখা রাধা-কৃষ্ণের বিরহগাঁথা! ভগবত গীতা থেকে শুরু করে লোকগাঁথা, পল্লীগীতি ও রবীন্দ্র-কাব্য পর্যন্ত কদম ফুলের উল্লেখ রয়েছে। ভানুসিংহের পদাবলি, বৈষ্ণব পদাবলি ও শ্রীকৃষ্ণ কীর্তনে নানাভাবে নানা আঙ্গিকে এসেছে কদম গাছের কথা। বহুল উপমায় বিভূষিত তার গুণগাথা।

কদম গাছ নিয়ে গ্রামবাংলার নানা ছড়া-কবিতাও রয়েছে। ‘চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে কদম তলায় কে/হাতি নাচছে ঘোড়া নাচছে সোনামণির বে’- এমন বহু ছড়ায় এখনও কদমের সুষমা প্রকাশ পায় মানুষের মুখে মুখে। কদমগাছ বৌদ্ধধর্মের একটি পবিত্র গাছ। ভারতের পূর্বাংশে ভগবান কৃষ্ণের সঙ্গে জড়িত কদমগাছ। শ্রীকৃষ্ণের লীলাখেলা থেকে শুরু করে রাধা-কৃষ্ণের বিচ্ছেদ- সবকিছুতেই রয়েছে কদম গাছের নাম। আকাশজুড়ে কখনও কালো মেঘের ঘনঘটা কিংবা এক চিলতে রোদের মুখ কালো মেঘের ভিড়ে অথবা হঠাৎ করেই মুষলধারায় বৃষ্টি! জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদের পরে এমন প্রশান্তিই বলে দেয় বর্ষাকালের আগমন বার্তা। আষাঢ়-শ্রাবণ মূলত এ দুই মাস বর্ষাকাল। বাংলার পল্লী প্রান্তরে কদম গাছ দেখতে যায়। কদম গাছ দীর্ঘাকৃতি এবং বহুশাখাবিশিষ্ট। রূপসী তরুর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কদম। কদমের কা- সরল, উন্নত, ধূসর থেকে প্রায় কালো এবং বহু ফাটলে রুক্ষ, কর্কশ। শাখা আজর এবং ভূমির সমান্তরালে প্রসারিত। পাতা হয় বড় বড়, ডিম্বাকৃতি, উজ্জ্বল-সবুজ, তেল-চকচকে। এর বোঁটা খুবই ছোট। নিবিড় পত্রবিন্যাসের জন্য কদম ছায়াঘন। এই গাছের উচ্চতা ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। শীতে কদমের পাতা ঝরে এবং বসন্তে কচি পাতা গজায়। কদমের কচি পাতার রঙ হালকা সবুজ। কদমের একটি পূর্ণ মঞ্জরিকে সাধারণত একটি ফুল বলেই মনে হয়।
কদম ফুল দেখতে বলের মতো গোল, মাংসল পুষ্পাধারে অজস্র সরু সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। এই ফুলের রং সাদা-হলুদে। তবে পাপড়ি ঝরে গেলে শুধু হলুদ রঙের গোলাকার বলের মত দেখা যায়। এই গাছের ফল মাংসল, টক এবং বাদুড় ও কাঠবিড়ালীর প্রিয় খাদ্য। যদিও কাঠ বিড়ালী এখন বিলুপ্ত প্রাণী। বাদুড় এ অঞ্চল থেকে প্রায় বিলুপ্তির পথে।কদম গাছের ফুল ছাড়া আরও রয়েছে ফল। এ ফলগুলো দেখতে অনেকটা লেবুর মতো। কদম গাছের পাতা শীতকালে ঝরে যায় আর কচি সবুজ পাতা নিয়ে আগমন ঘটে বসন্তের। কদম ফুলের আছে আরও অনেক নাম। ললনাপ্রিয়, সুরভী, কর্ণপূরক, মেঘাগমপ্রিয়, বৃত্তপুষ্প ছাড়াও নীপ মানে পরিচিত এ কদম ফুল। কদমের একেকটি গাছ ৪০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর সবুজ ঝরঝরে পাতার মাঝে থাকা গোলাকার কদম ফুল বর্ষা স্নানে আরও রূপসী হয়ে উঠে। কদম ফুল ছাড়া কদম গাছও বেশ উপকারী। সরু সবুজ পাতার ডালে ডালে গোলাকার মাংসলো পুষ্পাধার আর তার থেকে বের হওয়া সরু হলুদ পাপড়ির মুখে সাদা অংশ কদমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্নভাবে।

একটি ফুলের মাঝে এত ভিন্নতার ছোঁয়াতে কদমফুলকে করে তুলেছে আরও গ্রহণযোগ্য। ফুলে ভরা কদমগাছ দেখতে অসাধারণ হলেও এর আর্থিক মূল্য তেমন একটা নেই। তাই কেউ গুরুত্ব দিয়ে কদম গাছ লাগায় না। প্রাকৃতিকভাবে যে গাছগুলো হয়ে থাকে অনেকে সেগুলোও কেটে ফেলে। কাঠ নরম বলে আসবাবপত্র তৈরি করা যায় না। কাঠ দিয়ে দেয়াশলাই ও বাক্সপেটরা তৈরি হয়ে থাকে। গাছের ছাল জ্বরের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতার রস ছোটদের কৃমির জন্য খাওয়ানো হয়। ছাল ও পাতা ব্যথানাশক। মুখের ঘায়েও পাতার রস কার্যকর। কোনো কোনো অঞ্চলে কদম ফুল তরকারি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়।

‘কদম’ শব্দটির যদিও বহুবিধ ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়-মানুষের নাম থেকে শুরু করে মিষ্টি, চুলের ছাঁট, জায়গার নাম পর্যন্ত। বাংলাদেশের এমন কোনো অঞ্চল হয়তো পাওয়া যাবে না, যেখানে একটা-দুটো কদমতলী নেই। হাঁটা বা পা অর্থেও কদম শব্দের বহুল ব্যবহার আছে। কিন্তু সবরকম অর্থে ব্যবহার পেরিয়ে এই ‘কদম’ বাংলায় সর্বাধিক পরিচিত ফুলের নাম হিসেবেই। ফুল হিসেবেই কদম ছড়িয়ে আছে বাংলার আনাচে-কানাচে। তবে নাম যা-ই হোক, বাংলার বাদল দিনের কদমের কথা রবীন্দ্রনাথের চেয়ে সুন্দর করে আর কে-ই বা বলতে পেরেছে।

‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই প্রকৃতি পর্যায়ের গানের চরণ যেন দিনে দিনে আধুনিক জীবনে বর্ষা আবাহনের অনন্য ব্যঞ্জনায় পরিণত হয়েছে। যদিও সেই প্রথম কদম ফুল আজ আর বাদল দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকে না। দিনপঞ্জির হিসেবে বর্ষা আসার আগেই সে প্রস্তুত হয়ে থাকে বাদল দিনের আগমনী বারতা নিয়ে। বাংলার বনে বনে বর্ষার বারিধারায় কদম ফুলের রেণু হয়তো এখনও ভেসে যায়। ভেসে ভেসে নদী-নালা-খাল-বিলে মিশে যায় কদমের অজস্র পাপড়ি। গাছে গাছে বর্ষার বাহারি ফুলের সঙ্গে ভিজে আরও দ্বিগুণ স্নিগ্ধতায় হেসে উঠে কেয়া-কদম। কদম গাছ ছাড়া কি গ্রাম হয়! সেখানে এরা অবহেলা-অনাদরেই বাড়ে ও বাঁচে। একসময় লোকালয়ের অগভীর বন-বাদাড়ে অঢেল ছিল। এখন সংখ্যায় কমে গেলেও বর্ষা এলেই কদম গাছের দিকে চোখ না ফেলে উপায় থাকে না। গাছজুড়ে একটা সুষম সমন্বয়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকে হলদে শরীরে সাদা সাদা বৃষ্টির মতো পাপড়ি নিয়ে বর্ষার কদম। খাল-বিলের উপচেপড়া জল যেমন শাপলাকে সাজিয়ে তোলে, ভাসিয়ে রাখে, তেমনি পরিবেশকে মাতিয়ে তোলে বর্ষার কদম ফুল। বর্ষা মানেই গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের মিষ্টি সুবাস। তৃষ্ণায় কাতর বৃক্ষরাজি বর্ষার অঝোর ধারায় ফিরে পায় প্রাণের স্পন্দন। প্রাণীকুলও হয়ে ওঠে সজীব ও সতেজ। কিংবা বৃষ্টির অঝোর ধারায় মেঘের বিছানা পেতে দেওয়া আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ আজও হয়ে ওঠে স্মৃতিকাতর।

সবুজ পাতার মধ্যে সাদা-হলুদ মঞ্জরির ফুলের চিরচেনা কদম গাছ এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। ধীরে ধীরে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কদম ফুল। বাংলার বিভিন্ন জেলায় এক সময় প্রচুর কদম গাছ চোখে পড়ত। যান্ত্রিক সভ্যতা ও নগরায়নের যুগে মানুষের সামান্য প্রয়োজনে কদম গাছকে তুচ্ছ মনে করে কেটে ফেলছে। কদম ছাড়া বর্ষা একরকম বেমানান। প্রকৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে অন্য গাছের পাশাপাশি কদম গাছ রোপণ করা প্রয়োজন।

এসেছে কদম ফুলের দিন। চলছে আষাঢ়। বৃষ্টি যদিও থেকে থেকে ঝরেছে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠে। তবুও বর্ষার নিজের মাস আষাঢ়। আর আষাঢ়ের বর্ষা-প্রকৃতির অনন্য অলঙ্কার কদম ফুল। কদম যেন বর্ষা ঋতুর প্রতীক। এবারের গ্রীষ্ম আগুন নিয়ে এসেছিল শহর-গ্রামে সবখানে। সেই অগ্নিদগ্ধ দিন পেরিয়ে এসেছে কাক্সিক্ষত বৃষ্টিধারার আষাঢ়। আষাঢ়ে দেখা যায় গাছের পাতায়, টিনের চালে কিংবা ছাদের রেলিং ছুঁয়ে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ার দিন। বর্ষা মানেই কর্দমাক্ত রাস্তা আর গাঁয়ের দস্যি ছেলেদের কদম ফুল নিয়ে হৈ-হুল্লোড়। পাপড়ি গুলো আলাদা করে একে অপরের গায়ে ছিটানো, গাড়ি বানিয়ে মেঠো রাস্তায় চালানো, কি যে আনন্দ উদ্দীপনা হায়রে লাফালাফি ঝাপাঝাপি এই কদমফুল নিয়ে।

লেখক কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক।
সম্পাদক : আবীর আকাশ জার্নাল

Feb2

বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
বিরোধী দলের এলাকাতেও সমান উন্নয়ন হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের সুষম উন্নয়নে বিশ্বাস করে। তাই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের মতো বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকাতেও সমানভাবে উন্নয়ন কাজ করা হবে। একইসঙ্গে গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার তা গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।

আজ (বুধবার) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

সংসদে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের এলাকার উন্নয়ন ও কর্মপরিধি নিয়ে কথা বলেন। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আসন থাকলেও নারী সংসদ সদস্যদের সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্ট কোনো আসন নেই। তবে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে দলীয় অবস্থান থেকে তাদের কাজের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এলাকার উন্নয়নে সরাসরি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং নারী সংসদ সদস্য—উভয়েরই কাজ করার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের বিষয়ে সরকারি নিয়মানুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকলে জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য আনিছুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী দেশের সুষম উন্নয়ন এবং বিরোধী দলের প্রতি সরকারের সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

স্পিকারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে সংসদ কীভাবে চলবে সে বিষয়ে কমিটির একটি বৈঠক ছিল। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতাও ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, ঈদের আগে সরকারের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু সহযোগিতা হয়তো বিরোধীদলীয় অনেক সংসদ সদস্য পাননি। আমি ওই বৈঠক থেকে বেরিয়েই এলজিইডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী উভয়কেই সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা দিয়েছিলাম, বিরোধীদলীয় কোনো সংসদ সদস্য যদি না পেয়ে থাকেন, তবে যাতে দ্রুত সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশের সম-উন্নয়নে বিশ্বাস করে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা যেভাবে এলাকার উন্নয়ন করবেন, ঠিক একইভাবে সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ যারা আছেন, তাদের এলাকাতেও। আমরা সমানভাবে কাজ করার চেষ্টা করব।’

সরকারের পক্ষ থেকে উন্নয়ন সহযোগিতা দেওয়ার পরও সরকারি দলের বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার হয়, সেগুলো বন্ধে বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না—সাংসদ আনিসুর রহমান এমনটি জানতে চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। সবেমাত্র শুরু হলো, লেট আস ওয়েট অ্যান্ড সি।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এই সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার। কাজেই যদি গঠনমূলক কোনও সমালোচনা থাকে, অবশ্যই সেটি আমরা গ্রহণ করব এবং সেভাবে আমরা পদক্ষেপ নেব।’

সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
সালমান শাহর দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ

হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। দেহাবশেষ উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ এ আবেদন করেন।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) দেহাবশেষ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করব।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সে সময় সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। সবশেষ গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন— শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। দ্রুত তারা বাসায় ফিরে দেখেন, সালমান শয়নকক্ষে নিথর পড়ে রয়েছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তারা সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান। পরে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

মোহাম্মদ আলমগীর আরও উল্লেখ করেন, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। এতে তিনি রমনা থানার অপমৃত্যু মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানান।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর আলমগীর তার বোনের পক্ষ থেকে মামলাটি পরিচালনা করছেন। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মৃত্যুবরণ করে থাকলে প্রমাণ সাপেক্ষে তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন।

প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি, ঝরে পড়াদের পাশে মানবিক ডিসি জাহিদ

সাধারণত প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র। কিন্তু চট্টগ্রামে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ছয় মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সনদের পাশাপাশি চাকরির নিয়োগপত্রও পেলেন ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীরা। অষ্টম শ্রেণির পর বিভিন্ন কারণে শিক্ষার মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৪৬ জন তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।

বুধবার (১০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বিশেষ কার্যক্রম—কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক্-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ শীর্ষক কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “আমরা শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। প্রশিক্ষণের বাস্তব ফলাফল দেখতে চাই। একজন তরুণ যখন প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, তখন তার জীবন যেমন বদলায়, তেমনি বদলে যায় একটি পরিবার, একটি সমাজ।”

তিনি বলেন, সমাজের অনেক শিশু-কিশোর নানা বাস্তবতায় শিক্ষার মূলধারা থেকে ঝরে পড়ে। কিন্তু ঝরে পড়া মানেই জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে তারাই দেশের গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কাটিরহাট উচ্চবিদ্যালয় ও হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চারটি ট্রেডে মোট ৭৭ জন ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নে অংশ নেওয়া ৭৩ জনই উত্তীর্ণ হন।

প্রশিক্ষণের বিষয় ছিল টেইলারিং অ্যান্ড ড্রেস মেকিং, মোবাইল ফোন সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন এবং রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানের দিনই ৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থীর চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০ জনের সবাইকে গ্রামীণ বুটিকস ও প্রোডাকশন হাউসে চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চাকরির শুরুতে তাঁদের মাসিক বেতন ৫ হাজার টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন মাস পর চাকরি স্থায়ী হলে তাঁদের বেতন হবে ১০ হাজার টাকা, পাশাপাশি যাতায়াত ভাতাও বহাল থাকবে।

রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৭ জনকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষানবিশকালীন তাঁদের মাসিক ভাতা হবে ৫ হাজার টাকা। মোবাইল ফোন সার্ভিসিং ট্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৯ জনকে হাটহাজারীর বিভিন্ন সার্ভিসিং সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মাসিক ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাবেন। কম্পিউটার ও গ্রাফিক ডিজাইন ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রশিক্ষণ মানেই কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। প্রশিক্ষণ শেষে একজন তরুণ যাতে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে না যায়, সেটি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”

তরুণ জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি তরুণ রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যাও এর চেয়ে কম। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, “সমাজে কোনো সৎ কাজ ছোট নয়। দক্ষতা, পরিশ্রম, সততা ও নৈতিকতাই একজন মানুষকে বড় করে। আজ যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তারা আর ঝরে পড়া নয়; তারা এখন দক্ষ জনশক্তি।”

চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, তরুণদের শুধু শ্রমশক্তি হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাঁদের ন্যায্য মূল্যায়ন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “প্রথম বেতনের অঙ্ক বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো দক্ষতা অর্জন। দক্ষতা বাড়লে আয়ও বাড়বে, সুযোগও বাড়বে। শেখার কোনো শেষ নেই। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি, বিভিন্ন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও চাকরির নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে সরাসরি চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার এই উদ্যোগ ঝরে পড়া তরুণ-তরুণীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।